প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৭:৫৭:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ।।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় স্পষ্ট করেছেন,তিনি দ্বৈত নাগরিক নন এবং বিদেশে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই।এতে ২০১৫ সাল থেকে চলমান ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বিতর্কে আপাতত ‘ইতি’ টানা হয়েছে।তবে একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সরকারি Companies House–এর নথিতে তিনি একজন British National ও England-এর স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধিত,যা এই বিতর্ককে নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে।

হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ৬,৭৬,৩৫৩ টাকা,মোট সম্পদ ১,৯৬,৮০,১৮৫ টাকা,নগদ ৩১,৫৮,৪২৮ টাকা,ব্যাংক আমানত ৯০,২৪,৩০৭ টাকা এবং শেয়ার ও কোম্পানির মালিকানায় ৬৮,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।তার নিজ নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই।স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের মোট সম্পদ ১,০৫,৩০,১৯১ টাকা এবং বার্ষিক আয় ৩৫,৬০,৯২৫ টাকা।যৌথ মালিকানায় ১১১.২৫ শতাংশ জমি এবং একটি ৮০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন রয়েছে।
আইনগত দিক থেকে বিষয়টি খুবই জটিল।সংবিধান ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ ও Representation of the People Order 1972–এর আওতায় প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্যতা আছে।হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে দণ্ডবিধি ১৮১,১৯৩ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে—ব্রিটিশ জাতীয়তা তথ্য সঠিক হলে,হলফনামা কি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করছে? অন্যদিকে,হলফনামার তথ্য সঠিক হলে, কেন Companies House–এর নথিতে ভিন্ন পরিচয়?
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই দ্বৈত তথ্য দেশের গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলেছে। দেশের প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার সম্পদ,নাগরিকত্ব এবং মামলা-সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ জনগণ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সামনে স্বচ্ছ হওয়া জরুরি।গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্ত হলো স্বচ্ছতা,আর সেই স্বচ্ছতার পরীক্ষা এখন তারেক রহমানের প্রার্থীতা।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী,মনোনয়নপত্র বাছাই ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত,আপিল ৫-৯ জানুয়ারি,প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।এই সময়ের মধ্যে প্রার্থী ও কমিশনের আইনগত জটিলতা ও তথ্য যাচাইই দেশের ভোটাধিকার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতার দিক নির্ধারণ করবে।
এই প্রেক্ষাপটে,নাগরিকত্ব বিতর্ক কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি দেশের সংবিধান ও নির্বাচন আইনের চ্যালেঞ্জ, যেখানে সত্য নির্ধারণ হবে আইনি যাচাই,নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এবং আদালতের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
উপসংহার: তারেক রহমানের হলফনামা বনাম ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক,আইনি ও সামাজিক স্বচ্ছতার পরীক্ষা।গণতান্ত্রিক সমাজে নেতার তথ্যগত স্বচ্ছতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ,তা এই ইস্যুর মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে।





















