![]()



আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সংঘাত টানা ১৪ দিন ধরে চলতে থাকায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া ও চীন শক্ত অবস্থান নিয়ে ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্কে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়। তবে রাশিয়া ও চীনের প্রতিবাদ সত্ত্বেও বৈঠকে ১১–২ ভোটে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। দুই দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং পারমাণবিক পরিদর্শনের পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে না। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসে সমর্থন বিশ্বনিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগকে অযথা আতঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। চীনের প্রতিনিধি ফু ছং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই সংকটের উসকানিদাতা এবং দ্বিচারিতার কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুর্বল হয়েছে।
এদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ মোকাবিলায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংঘাত এখনও চলমান এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
![]()
বগুড়া প্রতিনিধি।।গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও টিকিয়ে রাখতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন,রাষ্ট্রের কার্যক্রম জনগণের সামনে আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব,আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সময়োপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী করা হবে।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক অনুদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হলে অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়ত না।বর্তমান সরকার রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।সব সম্প্রচার মাধ্যমে মূল্যবোধভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,রাষ্ট্রীয়ভাবে সাংবাদিকদের দেওয়া অর্থ কোনো অনুদান নয়,এটি তাঁদের প্রাপ্য।গত ১৭ বছরে সাংবাদিকেরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং ফ্যাসিস্টবিরোধী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।তাই সাংবাদিকদের জন্য নেওয়া এসব উদ্যোগ গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করারই প্রচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন,সাংবাদিকতা এমন একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক পেশা,যার মাধ্যমে বিত্তবান হওয়া সম্ভব নয়। এ পেশায় সৎ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।এজন্য সাংবাদিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন,গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বগুড়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে।বগুড়াবাসীর বঞ্চিত অধিকারগুলো তালিকা করে ধাপে ধাপে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রেসক্লাব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন।এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, কৃষক কার্ড চালুর কার্যক্রম চলছে এবং কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান,সরকারের কোনো সংসদ সদস্য সরকারি গাড়ি বা প্লট নেবেন না।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান (রুমন)।এ সময় আরও বক্তব্য দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান,জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা),বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ,দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক (লালু),জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৫১ জন সাংবাদিককে আর্থিক সহায়তা এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।তবে ইতিহাস বলছে,বাংলাদেশের সংসদের উদ্বোধনী দিনে এমন ঘটনা নতুন নয়।স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সংসদের প্রথম দিনেই বাগ্বিতণ্ডা,ওয়াকআউট,শপথ বর্জন,এমনকি অধিবেশন বর্জনের মতো ঘটনা ঘটেছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গঠিত গণপরিষদ থেকে শুরু করে গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ পর্যন্ত উদ্বোধনী অধিবেশন ঘিরে বহু নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে।এর মধ্যে রয়েছে সংসদ কক্ষে ধূমপান, শপথ না দিয়ে সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকা,উন্মুক্ত অধিবেশন আয়োজন,সাংবাদিকদের বর্জনসহ নানা ঘটনা।
গণপরিষদে লুঙ্গি পরে অধিবেশন
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আইনসভা গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয় ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল।ওই অধিবেশনে নোয়াখালীর সদস্য খাজা আহমদ লুঙ্গি-শার্ট পরে অংশ নেন,যা সে সময় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।অধিবেশন কক্ষে ধূমপানের ঘটনাও ঘটে। মাইক সংকট এবং স্পিকারের হাতুড়ি না থাকার মতো ঘটনাও সেদিনের অধিবেশনে দেখা যায়।
দ্বিতীয় সংসদে শপথ বর্জন
১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।বিরোধী দলের ৫৩ জন সদস্য অস্থায়ী স্পিকারকে ‘নিযুক্ত’ উল্লেখ করে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান।পরে তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই অধিবেশন পরিচালিত হয়।
সামরিক আমলে সংসদের বাইরে ‘উন্মুক্ত অধিবেশন’
১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল সংসদ ভবনের বাইরে ‘উন্মুক্ত সংসদ’ পরিচালনা করে।একই সময় বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে রাজপথে আন্দোলন চালায়।
সাংবাদিকদের বর্জন
১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন সাংবাদিকেরা বর্জন করেন।সংবাদপত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদকর্মীরা অধিবেশন কাভারেজ থেকে বিরত থাকেন।
নব্বইয়ের পর রাজনৈতিক দ্বৈরথ
১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ থেকে শুরু হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা।সংসদ নেতা খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার দ্বৈরথ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে “ব্যাটলিং বেগমস” নামে পরিচিতি পায়।
‘বুড়ো আঙুল’ বিতর্ক
১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রবের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সদস্যদের ‘বুড়ো আঙুল’ দেখানোর অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন বর্জন ও বিতর্ক
২০০১ সালের অষ্টম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি।২০০৯ সালের নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে বিএনপি ওয়াকআউট করে।
বিতর্কিত নির্বাচন ও সংসদ
২০১৪ সালের দশম সংসদ এবং ২০১৯ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই যাত্রা শুরু করে।বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করায় সংসদে কার্যত শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দেখা যায়।
সাত মাসেই শেষ দ্বাদশ সংসদ
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘ডামি নির্বাচন’ নামে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।নির্বাচনের মাত্র সাত মাসের মাথায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
নতুন সংসদেও উত্তাপ
দুই বছর ছয় দিনের বিরতির পর এবার শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ।উদ্বোধনী অধিবেশনেই বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও সংসদীয় রাজনীতির উত্তাপ সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে উদ্বোধনী অধিবেশনগুলো প্রায়ই দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।তাই নতুন সংসদের যাত্রাও সেই ধারার ব্যতিক্রম নয়।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে কাতারে আটকে পড়া মোট ৪৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফিরেছেন।
রোববার (তারিখ) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তাদের বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দেশে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে ট্রানজিটে আটকে পড়া যাত্রী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছু কর্মীও ছিলেন।
রাগীব সামাদ বলেন,মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছিলেন না।পরে বাংলাদেশ সরকার কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অনেক যাত্রী এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাগেরহাটের মোংলা—খুলনা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনকে একই কবরস্থানে পাশাপাশি নয়টি কবরে দাফন করা হয়েছে।তাদের জানাজার নামাজে অংশ নিতে লাখো মুসল্লির ঢল নামে। জানাজায় সরকারের মন্ত্রী,সংসদ সদস্য,জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নিহতদের মধ্যে ৪ জনকে খুলনার কয়রা উপজেলায় দাফন করা হয়েছে।আর মাইক্রোবাস চালক নাইমের মরদেহ দাফন করা হয় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়।
জানাজার নামাজে অংশ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি।দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হবে এবং নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে।”
বিয়ে শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনা
জানা যায়,বুধবার ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের নতুন বউ আনতে পরিবারের সদস্যরা খুলনার কয়রা উপজেলায় যান।রাতে সেখানে অবস্থান করে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়।বিকেলে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুকে নিয়ে বর সাব্বির মোংলার উদ্দেশে রওনা হন।একই মাইক্রোবাসে দুই পরিবারের মোট ১৪ জন যাত্রী ছিলেন।
পথিমধ্যে মোংলা—খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বর–কনে বহনকারী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন।পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়।
এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া
মোংলায় দাফন করা ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে কয়রায় দাফন করা ৪ জন হলেন—নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু,তার ছোট বোন লামিয়া,তাদের নানী ও দাদি।
এদিকে আবদুর রাজ্জাকের এক ছেলের স্ত্রী বর্তমানে খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
তদন্তের দাবি
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এর ভাষণ চলাকালীন জুতা উঁচিয়ে ‘জুতাপেটা’ করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি এমন আচরণকে অনেকেই সংসদীয় শালীনতা,সাংবিধানিক শপথ ও আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন।
সংসদ সূত্রে জানা যায়,রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী বেঞ্চের কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ জুতা উঁচিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কথিতভাবে ‘জুতাপেটা’ করার হুমকি দেন।বিষয়টি সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং পরে এটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সাংবিধানিক শপথ ও সংসদীয় রীতির প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফশিল অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন যে তারা সংবিধানের প্রতি আনুগত্য রাখবেন এবং ভীতি,অনুগ্রহ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতি অবমাননাকর আচরণ সেই শপথের নৈতিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের ভেতরে শৃঙ্খলা, সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন এ ধরনের আচরণকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং স্পিকার চাইলে বিষয়টি সংসদীয় বিশেষাধিকার কমিটিতে পাঠাতে পারেন।
আইনি দৃষ্টিকোণ
আইনবিদদের মতে,সংসদের বাইরে একই ধরনের আচরণ ঘটলে তা দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation) বা আক্রমণের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে সংসদের ভেতরের ঘটনায় সাধারণত সংসদীয় দায়মুক্তি বা পার্লামেন্টারি প্রিভিলেজ প্রযোজ্য হওয়ায় বিষয়টি প্রধানত সংসদের নিজস্ব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী স্পিকার চাইলে অভিযুক্ত সদস্যকে—
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংসদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেনশন)
বিষয়টি তদন্তের জন্য বিশেষাধিকার কমিটিতে পাঠানো
গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে কঠোর সংসদীয় তিরস্কার
—এর মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অন্যরা বলছেন,রাষ্ট্রপতির প্রতি এমন হুমকি সংসদীয় গণতন্ত্রের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা সরকারের নীতির সমালোচনা করা স্বাভাবিক হলেও শারীরিক হুমকি বা অপমানসূচক আচরণ সংসদীয় সংস্কৃতির জন্য অশুভ নজির তৈরি করতে পারে।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান।এখানে যে আচরণ প্রদর্শিত হয় তা জনগণের কাছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন হয়ে ওঠে।ফলে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি এমন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত বা দলীয় বিতর্ক নয়,বরং গণতান্ত্রিক শালীনতা ও সাংবিধানিক সংস্কৃতির প্রশ্নও উত্থাপন করে।
ঘটনার বিষয়ে সংসদের স্পিকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।তবে বিষয়টি নিয়ে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
![]()
আশুগঞ্জ(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি।।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জাতীয় গ্রিড লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুইটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাময়িকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর আড়াইটা থেকে ইউনিট দুটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক (পরিচালন ও সংরক্ষণ) মোহা. আব্দুল মজিদ জানান,কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে তিনটি ইউনিট উৎপাদনে রয়েছে। তবে দুপুরে হঠাৎ করে জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নর্থ ইউনিট এবং ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইস্ট ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,ইতোমধ্যে কারিগরি দল ত্রুটি নিরসনে কাজ শুরু করেছে।৪৫০ মেগাওয়াট নর্থ ইউনিটটি প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে চালু করার চেষ্টা চলছে।তবে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইস্ট ইউনিটে যান্ত্রিক জটিলতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে জার্মানির সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে কমপক্ষে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হঠাৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের কিছু এলাকায় লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ⚡
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈমকে ঘিরে পুরনো একটি নির্যাতনের ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে।অভিযোগ রয়েছে,আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে তাকে থানায় নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়।এমনকি নিজেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দেওয়ার পরও তার মুখে আঘাত করা হয় এবং দাঁত তুলে ফেলার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়।সেই সময় ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
অভিযোগের তীর ছিল তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা—এডিসি হারুনের দিকে।সমালোচকদের দাবি,তিনি তখন ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকেও ছাড় দেননি।এ ঘটনাকে অনেকে সেই সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ক্ষমতার এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রশ্ন উঠেছে—তৎকালীন সময়ে পুলিশের এমন দুঃসাহসের উৎস কোথায় ছিল? কে বা কারা তাদের সেই ক্ষমতা দিয়েছিল? একজন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতার দাঁত উপড়ে ফেলার মতো নির্যাতনের সাহস তারা কার ছত্রচ্ছায়ায় পেয়েছিল? একইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে,সে সময় বিভিন্ন ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ার’-এর ঘটনাও ঘটেছে।
সমালোচকরা বলছেন,রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেয়নি; বরং বহু ক্ষেত্রে দলটির নেতাকর্মীরাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার শিকার হয়েছেন।বরগুনায় এক ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে,এক এএসপি আওয়ামী লীগের অফিসে ঢুকে স্থানীয় এমপির সামনেই ছাত্রলীগের অন্তত ১৬ জন নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেন এবং ২১ জনকে গ্রেফতার করেন।এমনকি নির্বাচিত এমপিকেও আঙুল তুলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এ ধরনের ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যদি ক্ষমতাসীন দলই নিজেদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে,তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তখন কার হাতে ছিল?
অন্যদিকে সাম্প্রতিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সমালোচকদের দাবি,ওই সময় দেশজুড়ে সহিংসতার ঘটনায় ৪৬৮টি থানায় হামলা,ভাঙচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে।অভিযোগ করা হচ্ছে,এসব ঘটনায় বহু পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে।একইসঙ্গে মেট্রোরেল,পুলিশ বক্স, বিটিভি ভবন ও পদ্মা সেতুসহ বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস হয়েছে,যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে।
৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতিও সমালোচনার মুখে।অভিযোগ রয়েছে,পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িঘরে ভাঙচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।পাশাপাশি শিল্প-কারখানায় মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি উঠেছে।
গণমাধ্যম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।তাদের অভিযোগ,প্রায় ৪৫টি মিডিয়া হাউসে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।ফলে সাংবাদিক,শিক্ষক, শিল্পী,সাহিত্যিক এমনকি বিভিন্ন পেশার মানুষকেও হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি অধ্যায়েই যদি প্রতিশোধ,সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের দমন-পীড়ন দেখা যায়,তবে গণতন্ত্রের মূল চেতনাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।তাদের ভাষায়, “ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক কর্তব্য।”
তাদের মতে,রাষ্ট্রের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৩ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৩৭ দিনের পূর্ণ ছুটি চলাকালীন সময়ে অতিরিক্ত বেঞ্চ গঠনের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
বার এসোসিয়েশনের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহফুজুর রহমান উল্লেখ করেছেন,ইতিমধ্যেই কিছু অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করা হলেও,শুধুমাত্র একটি ফৌজদারী এবং একটি রীট বেঞ্চ রাখা হয়েছে,যা বিদ্যমান মামলার সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল।দীর্ঘ ছুটির সময় আইনজীবীরা মামলার পরিচালনা করতে ব্যস্ত থাকেন এবং পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকলে বিচারপ্রার্থীরা সময়মতো আইনী সেবা পেতে পারবেন না।
বার এসোসিয়েশন আরও ২টি ফৌজদারী ও ২টি রীট ডিভিশন মোশন বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা সুফলভোগী হবেন।
চিঠিটি প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল, রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারদের অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় ১২ হাজার বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানতসহ ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি,যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টির তুলনায় প্রায় ১২ হাজার বেশি।
মাত্র তিন মাসেই (সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর ২০২৫) এই সংখ্যা ৫,৯৭৪টি বেড়েছে।এসব হিসাবের মধ্যে মোট আমানতের পরিমাণও বেড়ে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন,এই হিসাব মানেই সব ব্যক্তি কোটিপতি নয়; অনেক হিসাব প্রতিষ্ঠান বা একই ব্যক্তির একাধিক হিসাব হতে পারে।
বিশ্লেষণ:
অর্থনীতিবিদরা বলছেন,কোটিপতি হিসাব বৃদ্ধির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্যের সম্পর্ক আছে।ধনী মানুষ আরও ধনী হচ্ছেন,কিন্তু দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমছে না।বিশেষজ্ঞরা বৈষম্য কমাতে বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,এটি দেশের অর্থনীতির স্বাভাবিক সম্প্রসারণেরই চিহ্ন,যেখানে মানুষের গড় আয় বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধিও বড় অংকের আমানতের সংখ্যা বাড়াচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি ট্রেন্ড:
২০২০: ৯৩,৮৯০টি কোটিপতি হিসাব
২০২৫: ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি
পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে দেশের আর্থিক সম্পদ একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন ও ক্ষমতার লড়াই সবসময়ই জাতীয় সংলাপের মূল ধারা নির্ধারণ করেছে।কিন্তু গত দুই দশক ধরে দেখা গেছে,নির্বাচনের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়েছে বিরোধী দলের বর্জন,প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে।
২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি হওয়া নির্বাচনই এর প্রাথমিক উদাহরণ।ওই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হন।প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করায় আসনগুলোতে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপি ও তাদের মিত্ররা।পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং নির্বাচন বাতিল করা হয়।এটি প্রমাণ করে,ভোটের কার্যকারিতা শুধু ভোটগ্রহণ নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবেশ এবং অংশগ্রহণের উপরও নির্ভরশীল।
দুর্নীতির ক্ষেত্রেও বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ধারাবাহিক দ্বন্দ্ব দেখা যায়।টিআই-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়,বিএনপি শাসনামলে দেশ টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিল।যদিও বিএনপি অভিযোগ করে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ শাসনকালের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল,আন্তর্জাতিক সূচকের দৃষ্টিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা,বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপই মূল সমস্যা।
২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক এখনও তাত্পর্যপূর্ণ।বিএনপি মনে করে,ওই সরকার তাদের ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়েছে,অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ দেখায় যে ওই সরকার কিছু দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে, যেমন ভোটার তালিকা সংস্কার।এ থেকে স্পষ্ট হয় যে রাজনৈতিক আন্দোলন ও ক্ষমতার লড়াইয়ে “সত্য” প্রায়শই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার পেছনে মূল কারণ ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হওয়া।তাদের দাবি ছিল শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারবে না। ২০১৮ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও দলটি ব্যর্থ হয়। বিএনপির অভিযোগ কারচুপি ও হামলা-প্রতিহিংসার,সরকারের মতে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতার অভাব ছিল।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক,২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি।আওয়ামী লীগ একতরফা বিজয়ী হলেও আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ‘ডামি’ প্রার্থীর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আড়ম্বর সৃষ্টি করা হলেও ভোটাররা অসন্তুষ্ট।এটি প্রমাণ করে,শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনের প্রভাব ও গণতান্ত্রিক বৈধতা কমে যায়।
বাংলাদেশের রাজনীতি দেখায়,গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ শুধুমাত্র সংবিধান নয়; রাজনৈতিক সহনশীলতা,বিরোধী দলের অংশগ্রহণ,সুষ্ঠু প্রশাসন এবং স্বচ্ছ নির্বাচনই প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত করে।যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো অব্যাহত থাকে,ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশকে আরও বড় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।
সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশের গণতন্ত্র পরীক্ষা চিহ্নিত করছে।একপক্ষের একতরফা বিজয় কিংবা অন্যপক্ষের বর্জন কোনো সমাধান নয়।রাজনৈতিক দলগুলোর সতর্কতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঘটনাগুলো প্রায়শই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব এই প্রেক্ষাপটে প্রায়শই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১. ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের পরিস্থিতি
২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ মহাজোট ওই নির্বাচন বর্জন করায় মূলত বিএনপি ও তাদের মিত্রদের প্রার্থীরাই এই আসনগুলোতে জয়ী ঘোষিত হয়েছিলেন।তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ১১ জানুয়ারি (১/১১) জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়।
২. দুর্নীতিতে বিএনপি ও বিতর্ক
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর তালিকায় বিএনপি শাসনামলে (২০০১-২০০৬) বাংলাদেশ টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে শীর্ষস্থানে ছিল।বিএনপির দাবি ছিল যে,এই তালিকায় ১৯৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী লীগ শাসনামলের দুর্নীতির তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।তবে বাস্তবতা অনুসারে,টিআই-এর প্রতিবেদনের সূচক প্রশাসনিক স্বচ্ছতা,রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ওই সময়ের সুশাসনের অভাবকে মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়।
৩. সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিতর্ক
২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার (ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীন সরকার) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও চলছে।বিএনপির অভিযোগ ছিল,ওই সরকার আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছে এবং বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়েছে। অন্যদিকে,আওয়ামী লীগের পক্ষ দাবি করে যে ওই সরকারের কিছু সংস্কার,যেমন ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।সেই সময় আওয়ামী লীগও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল এবং শেখ হাসিনাকে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হয়েছে।
৪. ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও বিএনপির অনুপস্থিতি
২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের জোট অংশগ্রহণ না করার প্রধান কারণ ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাতিল। ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনের দায়িত্ব দলীয় সরকারের অধীনে আনা হয়।বিএনপি দাবি করেছিল,শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।
৫. ২০১৮ সালের নির্বাচন ও বিএনপির অংশগ্রহণ ও পরাজয়
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার এবং আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। দলটির তৃণমূল কর্মীরা দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় কোণঠাসা ছিল।তবে বিএনপির জন্য এই নির্বাচন ভরাডুবি হিসেবে রেকর্ড করা হয়।বিএনপির অভিযোগ ছিল ব্যালট বাক্স পূরণ,ব্যাপক কারচুপি এবং নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা। অন্যদিকে সরকারের মতে,বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতার অনুপস্থিতিই তাদের ভরাডুবির মূল কারণ।
৬. ২০২৪ সালের নির্বাচন ও আওয়ামী লীগ একতরফা বিজয়
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি।বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদ উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচন করেছে।অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ দাবি করে যে,সংবিধান রক্ষার জন্য এই নির্বাচন করা হয়েছে।নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে,আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসে।তবে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনের বৈধতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থান এবং তাদের নীতি ও কৌশল পরস্পর বৈষম্যমূলক।নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বর্জনের পেছনে রাজনৈতিক বাস্তবতা,প্রশাসনিক পরিবেশ এবং নেতৃত্বের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এই দ্বন্দ্ব দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)।তিনি ২০১১–২০১৬ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ছিলেন।সেই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত ও চার্জশিট অনুমোদনের দায়িত্ব ছিল তার হাতে।
আজ যখন রাষ্ট্রপতির চেয়ারেই বসেছেন,তখন সেই মামলার দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতার ব্যবহার অবশ্য বৈধ।কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—একই ব্যক্তি কি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মামলার তদারকি করেছেন,আর রাষ্ট্রপতি হয়ে সেই মামলার দণ্ড মওকুফ করাটা নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য?
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির রাজনীতি-আইনের দ্বন্দ্বকে প্রমাণ করছে না,বরং দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নও উন্মোচিত করেছে।আদালত খালেদা জিয়ার প্রতি অভিযোগকেই “প্রতিহিংসামূলক” হিসেবে অভিহিত করেছে।অথচ রাষ্ট্রপতি পদে বসার পর দণ্ড মওকুফের মাধ্যমে সে বিষয়কে মসৃণভাবে সমাধান করা হয়েছে।এটি কিছু অংশে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ভাঁজ ফুটিয়ে তোলে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার সবসময়ই নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের সাথে যুক্ত।প্রশাসনিক দায়িত্ব,বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে তা জনগণের আস্থাকে হুমকিতে ফেলে।সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও খালেদা জিয়ার মামলার ঘটনা তাই আমাদের সতর্ক করে—রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও ক্ষমতার ব্যবহার কখনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হয়ে চলতে পারে।
এক্ষেত্রে আমাদের আশা থাকা উচিত,প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ,ন্যায়সঙ্গত ও জনগণের বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে হোক।না হলে,রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতার অভাব দেশকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতায় ঠেলে দিতে পারে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষাপটে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন,এই ঘটনাপ্রবাহে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা “নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ”। ⚖️
দুদকে দায়িত্বকাল ও মামলার সময়কাল
তথ্য অনুযায়ী,মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।সেই সময়েই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান ছিল।
দুদকের কমিশনার হিসেবে সাহাবুদ্দিন ওই মামলাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও চার্জশিট অনুমোদনের কাঠামোর অংশ ছিলেন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন।
মামলার সূচনা ও রায়
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা নিম্নরূপ—
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা
মামলা দায়ের: ৩ জুলাই ২০০৮
নিম্ন আদালতের রায়: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা
মামলা দায়ের: ৮ আগস্ট ২০১১
নিম্ন আদালতের রায়: ২৯ অক্টোবর ২০১৮
এই দুই মামলায় নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেওয়া হয়,যা দেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খালাস
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্চ আদালতে মামলাগুলোর নতুন করে শুনানি হয়।
২৭ নভেম্বর ২০২৪ হাইকোর্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে খালাস দেন।
৩ মার্চ ২০২৫ আপিল বিভাগও সেই খালাস বহাল রাখে।
একই দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতেও তাকে খালাস দেওয়া হয় এবং আদালত মামলাটিকে “প্রতিহিংসামূলক” বলে মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত
এর আগে,৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফের নির্দেশ দেন,যার ফলে তিনি মুক্তি পান।পরে খালেদা জিয়া আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে পূর্ণ খালাস লাভ করেন।
সমালোচকদের তীব্র প্রশ্ন
এই ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য—
যে ব্যক্তি দুদকের কমিশনার হিসেবে মামলার সময় দায়িত্বে ছিলেন,
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেই মামলার দণ্ড মওকুফ করলেন,
এটি “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন” তৈরি করেছে। 🤔
কিছু বিশ্লেষক আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, “বাংলাদেশের বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দ্বৈত ভূমিকার একটি বিতর্কিত উদাহরণ হয়ে থাকবে এই ঘটনা।”
তবে রাষ্ট্রপতির সমর্থকদের দাবি,সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা সম্পূর্ণ বৈধ,এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মানবিক বিবেচনায়।
রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত
এই ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে এখনও আলোচনা ও বিতর্ক থামেনি।অনেকেই মনে করেন,দুদক,বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যবহারের সীমা ও নৈতিকতা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গভীর বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।
বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়,একই দিনে খাদেম,পুরোহিত,সেবায়েত,বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের জন্য সম্মানী প্রদান কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হবে।
ধর্মীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করেননি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।অভিযোগে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।তবে অভিযোগের বিষয়টি শুনে ও পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি আমলে নেননি।
মামলার বাদী জালাল হোসেন।তিনি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার জাংগিরাই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
যাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছিল তারা হলেন— আসিফ মাহমুদ,আব্দুল কাদের,আবু বাকের মজুমদার,আব্দুল হান্নান মাসুদ,আদনান আবির,জামান মৃধা,মোহাম্মদ সোহেল মিয়া,রিফাত রশিদ,হাসিব আল ইসলাম,আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন,লুৎফর রহমান,আহনাফ সাঈদ খান,মোয়াজ্জেম হোসেন, ওয়াহিদুজ্জামান,তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা),হামজা মাহবুব,রেজোয়ানা রিফাত,তরিকুল ইসলাম,নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি,মুমতাহীনা মাহজাবিন মোহনা,আনিকা তাহসিনা,উমামা ফাতেমা,তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী, নিশিতা জামান নিহা,মেহেদী হাসান,মো. আবু সাঈদ, সানজানা আফিফা আদিতি,তানজিনা তামিম হাফসা,আলিফ হোসাইন, কাউসার মিয়া,সাইফুল ইসলাম,আরিফ সোহেল (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়),আব্দুর রশিদ জিতু (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়),স্বর্ণা রিয়া (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), রাসেল আহমেদ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়),আসাদুল্লাহ আল গালিব (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়),মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়),গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়),নাজমুল হাসান (ঢাকা কলেজ),শাহিনুর সুমী (ইডেন মহিলা কলেজ) এবং সিনথিয়া জাহিন আয়েশা (বদরুন্নেসা কলেজ)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে,অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিএনপির দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।তারা বৃহস্পতিবার প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন।
দুজনেই পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন,সংসদে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দলীয় পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব পালনের সময় দলীয় অবস্থান ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হয়।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।র্যাব-৬ এর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে।উদ্ধারকৃতকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী জানান,অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন,বর্তমান আর্মি প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের সময় এবং বঙ্গভবনে চুপ্পুর পদত্যাগ আন্দোলনের সময় উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ চুপ্পুর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে,এবং এতে বিএনপির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগের কিছু পদাধিকারী স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা হারানো সত্ত্বেও বর্তমানে তাদের পুনর্বাসন হচ্ছে।সংসদীয় পরিস্থিতিকে তিনি “খিচুড়ি” হিসেবে বর্ণনা করে জানান,রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের,প্রধানমন্ত্রী বিএনপির, আর বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের নেতৃত্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।পাটওয়ারী সতর্ক করেছেন,যদি সংসদে সমস্যার সমাধান না হয়,তবে রাজপথে আন্দোলন করা হতে পারে।
এছাড়া তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দেশপ্রেমিক নাগরিকদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন রাশেদ খান।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন,বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ” জারি করার প্রস্তাব ছিল জামায়াতে ইসলামী পক্ষের।নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন,এবং জামায়াত ও এনসিপির চাপের কারণে কিছু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেছেন,২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তার বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে,কিন্তু নাহিদ ইসলামদের ভুলের খেসারত বিএনপিকে নিতে হতে পারে।গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বয়কট করার মাধ্যমে জামায়াত ও এনসিপি সংসদ ও রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার চেষ্টা করেছে।তার মতে,এই হটকারিতার কারণে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসবে।
![]()
![]()



সর্বশেষ সংবাদ :———