![]()
ঘুষ নেওয়ার সময় ওড়িশায় খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর গ্রেপ্তার, বাসা থেকে মিলল আলমারি ভর্তি টাকা-স্বর্ণ


মাজহারুল ইসলাম।।দেশবাসী আবারও স্তম্ভিত। ঢাকায় ছয় বছরের শিশুকে পাশবিকভাবে হত্যা করা হলো; নরসিংদীতে ১৫ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা করা হলো; হাজারিবাগে স্কুল ছাত্রীকে হত্যা করা হলো।এসব ঘটনায় শুধু অপরাধীর নৃশংসতা নয়, আমরা দেখছি রাজনৈতিক শাসন ও প্রশাসনের শৈথিল্যের নগ্ন চিত্র।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে,যেসব ঘটনার মূল দায়িত্ব প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের,তারা দোষীদের রক্ষা করে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে,এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে। শিশু তাহিয়া হত্যার পরই ঘটনা ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; এখন সেই মামলার পেছনে চাপ সৃষ্টি করে পরিবারকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এ ধরনের কৌশল ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনো সভ্য দেশে সহ্য করা যায় না।
দলীয় পদবির ছত্রছায়ায় নির্যাতিতদের দমিয়ে রাখা,অপরাধীকে রক্ষা করা এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করা সভ্য ও গনতান্ত্রিক দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
আমাদের স্পষ্ট দাবি:
১. অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা।
২. স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রদান করা।
শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।সমাজকে রক্ষা করতে হলে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর এবং নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ ছাড়া কোনো পথ নেই।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন যে দেশের সব বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এবং হাইস্পিড ট্রেনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন,বর্তমান যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী,জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে।সরকারের লক্ষ্য ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
মন্ত্রী সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।সভায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক,পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত এবং জেলার অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তা।
এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
![]()
নরসিংদী প্রতিনিধি।।নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনা বেগমকে হত্যার ঘটনা শোকে দাগ কাটছে।ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় তাকে জোরপূর্বক বাবা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে কিশোরীকে নূরার নেতৃত্বে ৫–৬ জন বখাটে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচারকের দায়িত্ব নেন। অভিযোগ উঠেছে,তিনি অপরাধীদের সঙ্গে আর্থিক রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং ধর্ষিতার বাবা ও পরিবারের ওপর গ্রাম ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করেন।
ধর্মীয় ও প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে,অপরাধীরা ১৫ দিন পর কিশোরীকে পুনরায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গণধর্ষণের পর মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরিবারের অভিযোগ,প্রভাবশালী অপরাধীরা টাকা ও ক্ষমতার বিনিময়ে আইনের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে।ফলে ভিকটিম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ঘটনার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতেই মাধবদী থানায় মৃত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। লনরসিংদীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
আহম্মদ আলী দেওয়ান, মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি তার ছেলে ইমরান দেওয়ান,ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব,এবায়দুল্লাহ,মোঃ গাফ্ফার মিয়া।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানায়,ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, নরসিংদীর পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সরজমিনে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত কাজ তদারকি করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি,উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তৎপর নজরদারি ছাড়া এই ধরনের প্রভাবশালী চক্রের দমন সম্ভব হবে না।তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১:৫২ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৫.৩।
ইউরোপীয়-মধ্যপ্রাচ্যীয় ভূ-তাত্ত্বিক কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী,ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো খুলনা জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিলো ৩৫ কিলোমিটার।ভারতের কলকাতা থেকে উৎপত্তিস্থল ১০২ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন।তবে,তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পনের রেশ অনুভূত হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
![]()
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার এক নারীর অভিযোগ,তার ফুফাতো ভাই ঘুমন্ত অবস্থায় তার প্রতি জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেছে।ঘটনার পর ধর্ষক হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নারীটি স্থানীয় মানুষ এবং পরিবারকে ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে জানায়। তিনি আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে,ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যে কোনো দেরি করা উচিত নয় এবং মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলা দায়ের করা যাবে।
মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
![]()
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে “আগামীর রাজনীতি ও করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও -৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজিব আহসান। তিনি বক্তৃতায় আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন।
উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দলীয় কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সম্প্রসারণ ও আগামীর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।বিচারককের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন, আদালতকক্ষে হট্টগোল,সরকারি নথিপত্র ও মালামাল ভাঙচুর—বরিশালে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।
অভিযোগ অনুযায়ী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনসহ একাধিক আইনজীবী আদালতকক্ষে প্রবেশ করে বিচারককে হুমকি দেন,শুনানিতে বাধা সৃষ্টি করেন,এজলাস ভাঙচুর করেন এবং সরকারি কর্মচারীদের ওপর হুমকি প্রদর্শন করেন।ঘটনাস্থলেই বিচারককে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
এ ধরনের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; এটি আইনশৃঙ্খলা,বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আদালতের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। বাংলাদেশের সংবিধান ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে না পারলে,বিচারকরা সুশৃঙ্খল পরিবেশে মামলার শুনানি করতে পারবেন না এবং নাগরিকদের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা কমে যাবে।
বরিশাল মহানগর দায়রা জজরা তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছেন যে,আইনজীবীরা আদালতের কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন।এজন্য জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।এটি শুধু শাস্তি নয়; এটি একটি প্রতীকী পদক্ষেপ,যা আইনজীবী সমাজকে সতর্ক করছে—আদালতকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দিয়ে প্রভাবিত করা যাবেনা।
অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল আইনজীবীরা বিচারক এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষায় প্রথম সারিতে থাকা উচিত।কিন্তু ক্ষমতার প্রদর্শনী বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতে হট্টগোল সৃষ্টি করা হলে তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক।
এই ঘটনায় রাষ্ট্র ও আদালত দুটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে:
১. আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করা যাবে না।
২. পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে সনদ বাতিল ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল আদালতের ঘটনা শুধুই বরিশালের নয়; এটি দেশের সমস্ত আইনজীবী সমাজকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান।আইন,শৃঙ্খলা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলের সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং সতর্কতা অপরিহার্য।
অতএব,আদালতের মর্যাদা বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।ক্ষমতার প্রদর্শনী বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য আদালতকক্ষকে হুমকির জায়গায় পরিণত করা হলে,আইনের শাসনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে,এবং তা ভবিষ্যতে নাগরিকদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর, বিচারককে হুমকি এবং বিচারকার্যে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ জন সদস্যের পেশাদার সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।একই ঘটনায় হাইকোর্ট নয়জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে।মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
📌 ঘটনার বিস্তারিত
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে একটি জামিন মামলার শুনানির সময় আইনজীবীরা হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
আদালতের বেঞ্চ,টেবিল,মাইক্রোফোন ভাঙচুর করা হয় এবং কজলিস্ট ও মামলা নথি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
আইনজীবীরা বিচারকের উদ্দেশ্যে হুমকি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
সরকারি কর্মচারীদের ওপর ধাক্কাধাক্কি ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে বিচারক নিরাপত্তার কারণে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
⚖️ মামলা ও আইনি ব্যবস্থা
থানা: কোতয়ালী মডেল থান, বরিশাল
মামলা নম্বর: ৪৬/২০২৬, জিআর নং ১০৫
আইন:
৪/৫ ধারা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২
১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮, ৩৫৩ ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০
প্রধান আসামি: এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন
মামলায় আরও ১১ জন আইনজীবীসহ আনুমানিক ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
👮 গ্রেফতার ও আদালতে প্রেরণ
পুলিশ জানায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:১৫ মিনিটে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে সাদিকুর রহমান লিংকনকে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে গ্রেফতার করা হয়।
পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার বা তদন্তে বাধা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
🧾 তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ
বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:
ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের পেশাদার সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও বার কাউন্সিলকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সুপ্রীম কোর্টও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার প্রতি “অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত” উল্লেখ করে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
📌 হাইকোর্টের পদক্ষেপ
হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন।
১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
রুল জারি হওয়া আইনজীবীরা হলেন:
সাদিকুর রহমান লিংকন, মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, নাজিমুদ্দিন পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ, হাফিজ উদ্দিন বাবলু।
🔍 বিশ্লেষণ
আদালতকক্ষে আইনজীবীর হট্টগোল বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য শঙ্কাজনক।
পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সনদ বাতিলের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা হচ্ছে।
বরিশাল আদালতের এই ঘটনা আইনজীবী সমাজকে সতর্ক করেছে যে, বিচারের পথে বাধা প্রদানের চেষ্টা করলে পেশাগত শাস্তি এবং সনদ বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ ও মন্তব্য করেছেন,যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন,শেখ হাসিনার সরকারের পতন কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ছিল না; বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অংশ।তার ভাষ্য অনুযায়ী,এই প্রক্রিয়ায় ড. ইউনূস জড়িত ছিলেন বলে তিনি মনে করেন।
আলোচনায় তিনি ড. ইউনূসকে “আসল ফ্যাসিস্ট” বলেও মন্তব্য করেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদকে “বৈধ সরকার” হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোহসিন রশীদ আরও দাবি করেন,শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ায় বিদেশি একটি জনসংযোগ (পিআর) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছিল।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠন,রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়েও তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন।তার মতে,রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল,যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এ ধরনের বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে,যেখানে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ওই বক্তব্যে দাবি করা হয়,রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার আগে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,আগস্টের পর দায়ের হওয়া কথিত ‘মিথ্যা মামলা’ বাতিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির উদ্যোগ নিতে পারেন।এতে বলা হয়েছে,এমন সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। একতরফাভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আদালত বিলুপ্ত কিংবা মামলা বাতিল করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির সরাসরি নেই—এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সরকার, সংসদ বা বিচার বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক পদধারীদের উদ্দেশ করে নানা মতামত ও দাবি সামনে আসছে, যা দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কেরই অংশ।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ঢাকা বিভাগ) মেট্রো-১ এর সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডলকে ঘিরে ছড়ানো একটি গুজব এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি অনলাইনে প্রচার করা হয় যে,তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করতে পারলেও বর্তমান বিএনপি সরকারের চাপের কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।তবে এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টিকে “গুজব” আখ্যা দেন।ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেও তিনি একই বক্তব্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক লেখায় দাবি করা হয়েছে,এসব গুজব বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।লেখাটিতে অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে বিভিন্ন প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়েছে।
উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে— জুলাই মাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াতকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলির কারণ,ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের স্থাপনা ভাঙার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণা।
লেখাটিতে আরও বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আদর্শ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন এবং অতীতের ঘটনাগুলো বুঝে মতামত দেওয়া উচিত।
তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন,সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের প্রবণতা বাড়লেও গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা জরুরি।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ভূমিসেবার সরকার নির্ধারিত ফিগুলো উপজেলা,সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসের দৃশ্যমান স্থানে স্থায়ী সাইনবোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।চার ফুট × আড়াই ফুট আকারের সাইনবোর্ডে এসব ফি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়,ভূমি উন্নয়ন করসহ সব ধরনের ভূমিসেবা ফি এখন থেকে শুধুমাত্র অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।কোনো ধরনের নগদ লেনদেন না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে ১৬১২২ নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন সেবার নির্ধারিত ফি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নামজারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ১ হাজার ১৭০ টাকা।এতে কোর্ট ফি ২০ টাকা,নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালনাগাদ ফি ১ হাজার টাকা এবং প্রতি কপি খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া খতিয়ানের সার্টিফায়েড বা অনলাইন কপির জন্য ফি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ডাকযোগে গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাকমাশুল দিতে হবে। মৌজা ম্যাপের প্রতি শিটের জন্য ফি ৫৪৫ টাকা এবং ডাকযোগে সংগ্রহ করতে চাইলে অতিরিক্ত ১১০ টাকা ডাকমাশুল প্রযোজ্য হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে,নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনো অর্থ আদায়যোগ্য নয়।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এ পদে নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।শুরুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা থাকলেও ফিলিস্তিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল।তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়।
জাতিসংঘের আঞ্চলিক রোটেশন নীতিমালা অনুযায়ী এবারের সভাপতি নির্বাচিত হবেন এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে।আগামী সেপ্টেম্বরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মে মাসে বর্তমান অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক প্রার্থীদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা আয়োজন করবেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে,প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
সূত্র আরও জানায়,বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই এ পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করে আসছিল।শেষ মুহূর্তে ফিলিস্তিন প্রার্থী হওয়ায় কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও পরে তারা সরে দাঁড়ায়। কূটনৈতিক সূত্র মতে,যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বাংলাদেশকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দিয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর করা মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রেজাউল করিম বাদশা বলেন, এটি তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ।তিনি বলেন,বগুড়া-৬ আসন সবসময় জিয়া পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত।আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন,সবার দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে আসনের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করতে চান।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী,বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।অভিযোগ ওঠা আসনগুলো হলো— ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আবেদন দাখিলের পর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট তিন আসনের সব ব্যালট পেপার,রেজাল্ট শিটসহ নির্বাচনি নথিপত্র হাইকোর্টের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়ম সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে ‘নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়।এ বিষয়ে একই দিন প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের শুনানি করবেন।
উল্লেখ্য,গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ২৯৯টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।পরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় দুটি আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে।এর মধ্যেই নতুন করে আরও তিনটি আসনের ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হলো।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর হাজারীবাগে সাবেক প্রেমিকের সন্দেহ ও ক্ষোভের জেরে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে হত্যা করা হয়েছে।রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়,নিহত শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হাজারীবাগের রায়ের বাজার হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত সিয়াম তাকে ফোন করে বাসা থেকে বাইরে ডেকে নেয়।পরে হাজারীবাগ থানার চরকঘাটার পাকা রাস্তায় তার পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বিন্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বিল্লাল হোসেন হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ডিসি মাসুদ আলম জানান,বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে সিয়াম ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়,বিন্তি ও সিয়াম আগে একই স্কুলে পড়াশোনা করত এবং তাদের মধ্যে প্রায় চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।সম্প্রতি সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে সিয়াম সন্দেহ করে যে বিন্তি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে।এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সে ছুরিকাঘাত করে হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
ডিসি আরও জানান,সিয়াম পরিকল্পিতভাবে ছুরি সঙ্গে নিয়ে এসেছিল।কথার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সে চরম পথ বেছে নেয়।পুলিশ জানিয়েছে,ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার।
বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন কমিশনার যোগদান না করা পর্যন্ত তিনি চলতি দায়িত্ব হিসেবে ডিএমপির সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
![]()
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।।দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান,নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি মনিটরিং জোরদার করা হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে নিয়মিত রোগী দেখতে হবে। হাসপাতালকে জনগণের নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনে করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অন্যায় দেখলে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করারও আহ্বান জানান।
এ সময় সিরাজগঞ্জে মহাসড়কের পাশে নির্মিত ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনের আগে প্রতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু,জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু,সিভিল সার্জন নুরুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার।নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন,সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সময়নিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।এখন থেকে দেরি বা দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদাহরণ দেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই দপ্তরে উপস্থিত হন। রাজধানীর যানজট এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে অনেক সময় তিনি প্রটোকল ছাড়াই ভোরে সচিবালয়ে পৌঁছে যান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সময়ানুবর্তিতা সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক চাপ ও সচেতনতা তৈরি করেছে বলে জানান সচিব। এতে সামগ্রিক কর্মপরিবেশেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হয়।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত অফিস করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অফিস রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।তবে এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গনি বলেন,প্রশাসনিক পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ের প্রয়োজনেই তা দৃশ্যমান হতে পারে।
এদিনের ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়,এখন থেকে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ জনপ্রশাসনে জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধান সংস্কারের জন্য অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল সংশোধন করে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত ফলাফলে প্রায় ১১ লাখ ভোট কমানো হয়েছে।
সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী:
‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০
‘না’ ভোট: ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১
মোট ভোট: ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭
বাতিল ভোট: ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬
মোট বৈধ ভোট: ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১
আগের গেজেটের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট ≈ ৯ লাখ ৭৪ হাজার, ‘না’ ভোট ≈ ১ লাখ ১১ হাজার কমেছে,এবং মোট ভোট ≈ ১০ লাখ ৭৩ হাজার কমানো হয়েছে।ইসি সংশোধনীর বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি।
গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা ও জনগণের সম্মতি চূড়ান্ত করা হবে।
![]()
![]()


সর্বশেষ সংবাদ :———