![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিএনপির দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।তারা বৃহস্পতিবার প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন।
দুজনেই পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন,সংসদে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দলীয় পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব পালনের সময় দলীয় অবস্থান ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হয়।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।র্যাব-৬ এর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে।উদ্ধারকৃতকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী জানান,অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন,বর্তমান আর্মি প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের সময় এবং বঙ্গভবনে চুপ্পুর পদত্যাগ আন্দোলনের সময় উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ চুপ্পুর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে,এবং এতে বিএনপির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগের কিছু পদাধিকারী স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা হারানো সত্ত্বেও বর্তমানে তাদের পুনর্বাসন হচ্ছে।সংসদীয় পরিস্থিতিকে তিনি “খিচুড়ি” হিসেবে বর্ণনা করে জানান,রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের,প্রধানমন্ত্রী বিএনপির, আর বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের নেতৃত্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।পাটওয়ারী সতর্ক করেছেন,যদি সংসদে সমস্যার সমাধান না হয়,তবে রাজপথে আন্দোলন করা হতে পারে।
এছাড়া তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দেশপ্রেমিক নাগরিকদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন রাশেদ খান।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন,বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ” জারি করার প্রস্তাব ছিল জামায়াতে ইসলামী পক্ষের।নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন,এবং জামায়াত ও এনসিপির চাপের কারণে কিছু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেছেন,২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তার বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে,কিন্তু নাহিদ ইসলামদের ভুলের খেসারত বিএনপিকে নিতে হতে পারে।গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বয়কট করার মাধ্যমে জামায়াত ও এনসিপি সংসদ ও রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার চেষ্টা করেছে।তার মতে,এই হটকারিতার কারণে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করাকে স্ববিরোধিতা বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী দল ৫ আগস্টের পর আলোচনা করেছে এবং যার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন,তাঁর ভাষণের বিরোধিতা করা কেন—সে প্রশ্ন তাদেরই করা উচিত।
এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির প্রতিবাদ জানান।পরে বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রায় পাঁচ মিনিট প্রতিবাদের পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,সংসদ সদস্যরা বিধি অনুযায়ী ওয়াকআউট করতে পারেন।এটি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন,বিরোধী দল আবার সংসদে ফিরে আসবে এবং আলোচনায় অংশ নেবে।
সংসদকে অর্থবহ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি বলেন,জাতীয় সব সমস্যার সমাধানে সংসদ হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে তা ধরে রেখে দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন,দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
আগামী রোববার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন আবার বসবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসের শাসনামলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রথম দিনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করেন।
সংসদ কার্যকর না থাকায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের অধীনে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী,সংসদ অধিবেশন না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।তবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এগুলো উত্থাপন করতে হয় এবং অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে পাস না হলে অধ্যাদেশগুলোর আইনি বৈধতা বাতিল হয়ে যায়।
যাচাই-বাছাইয়ে বিশেষ কমিটি
অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন।
কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন।কমিটি অধ্যাদেশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেবে।
বিভিন্ন খাতে আইন সংশোধন
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা,মানবাধিকার,প্রশাসন,তথ্যপ্রযুক্তি,পরিবেশ,শিক্ষা ও উন্নয়ন খাতসহ নানা বিষয়ে আইন সংশোধন ও নতুন বিধান।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ হলো—
বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ
জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা) সংশোধন অধ্যাদেশ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশোধন অধ্যাদেশ
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ
গণভোট অধ্যাদেশ
ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ
জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ
ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ
বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ
মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ
বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ
বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধ্যাদেশ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ
কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ
এছাড়া রাজস্ব, নির্বাচন,প্রশাসনিক কাঠামো,পরিবেশ সংরক্ষণ, ব্যাংকিং ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনসহ মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
নিচে সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের পূর্ণ তালিকা ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো—
২০২৪ সালের অধ্যাদেশ
১. বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
২. জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৩. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৪. স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৫. স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৬. শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৭. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৮. বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৯. জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১০. পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১১. সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪
১২. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৩. বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৪. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৫. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৬. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৭. বাংলাদেশ ল অফিসারস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
২০২৫ সালের অধ্যাদেশ
১৮. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
১৯. The Excises and Salt (Amendment) Ordinance, 2025
২০. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫
২১. International Crimes (Tribunals) (Amendment) Ordinance, 2025
২২. বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৩. শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৪. শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৫. বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৬. বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৮. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৯. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩০. শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩১. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩২. পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৩. পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৪. সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৫. Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025
৩৬. ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৭. International Crimes (Tribunals) (Second Amendment) Ordinance, 2025
৩৮. সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৯. গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪০. জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪১. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪২. সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৩. সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৪. বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৫. অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৬. জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৭. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৮. নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৯. নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫০. অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫১. Protection and Conservation of Fish (Amendment) Ordinance, 2025
৫২. আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৩. Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025
৫৪. সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৫. মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৬. ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ
৫৭. জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৮. Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025
৫৯. বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬০. স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬১. স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬২. স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৩. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৪. স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৫. গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৬. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৭. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৮. নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৯. অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় আইন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭০. International Crimes (Tribunals) (Third Amendment) Ordinance, 2025
৭১. সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭২. Civil Courts (Amendment) Ordinance, 2025
৭৩. Representation of the People (Amendment) Ordinance, 2025
৭৪. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৫. কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৬. আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৭. জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৮. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ
৭৯. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮০. জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮১. আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮২. বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৩. মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৪. গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৫. বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৬. ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৭. রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৮. স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৯. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯০. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯১. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯২. Representation of the People Order (Second Amendment) Ordinance, 2025
৯৩. পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৪. বৈদেশিক অনুদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৫. সরকারি চাকরির বয়সসীমা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৬. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৭. ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২০২৬ সালের অধ্যাদেশ
৯৮. বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬
৯৯. বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০০. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০১. Registration (Amendment) Ordinance, 2026
১০২. মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৩. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৪. আইনগত সহায়তা প্রদান (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৫. বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৬. বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৭. বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৮. বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৯. ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১০. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১১. বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১২. ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৩. রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৫. জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৬. মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৭. বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৮. Protection and Conservation of Fish (Amendment) Ordinance, 2026
১১৯. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২০. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২১. Registration (Second Amendment) Ordinance, 2026
১২২. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৩. ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৪. বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৫. বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৬. জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৭. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৮. বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৯. কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১৩০. নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১৩১. Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026
১৩২. Bangladesh House Building Finance Corporation (Amendment) Ordinance, 2026
১৩৩. বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ, ২০২৬
আইনি বাধ্যবাধকতা
সংবিধান অনুযায়ী,এসব অধ্যাদেশ সংসদে বিল হিসেবে পাস হলে তা স্থায়ী আইন হিসেবে কার্যকর থাকবে।অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে সেগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাই বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)কে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ৮ মার্চ দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়া তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ‘ফারহান-০৪’ নামের লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ওই শিক্ষার্থী।তাকে লঞ্চে তুলে দেন তার বাবা।একই সময় যাত্রী হিসেবে লঞ্চে ওঠেন অভিযুক্ত দুই যুবক।
লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তারা শিক্ষার্থীর কেবিনের দরজায় নক করে এবং তার বাবাকে চেনেন বলে পরিচয় দেয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল বিক্রির টাকা কেবিনে রাখার অনুরোধ করে। সরল বিশ্বাসে শিক্ষার্থী দরজা খুললে তারা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়,কেবিনে ঢুকে তারা শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।এতে রাজি না হওয়ায় তারা জোরপূর্বক তার মুখ ও গলা চেপে ধরে।এসময় নুরুজ্জামান মিঠু শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে পাহারায় থাকেন এবং সাকিব উদ্দিন কেবিনের ভেতরে তাকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনি সতর্কতা: আইন অনুযায়ী ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সংবাদে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম শোকপ্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এবং তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন।
এর আগে সকাল ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হন।পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করান।
এরপর স্পিকার সংসদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া,ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং,ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি,সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের নেতা মতিয়া চৌধুরীসহ মোট ৩১ জনের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন।
এ সময় বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন,শোকপ্রস্তাবটি একপেশে।তিনি জামায়াত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী,মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,মীর কাসেম আলী ও কাদের মোল্লাসহ বিভিন্ন নেতার নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শোকপ্রস্তাবে শরিফ ওসমান বিন হাদি,আবরার ফাহাদ এবং ফেলানী খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন,বিরোধী দলের প্রস্তাবিত নামগুলো এবং যাদের নাম বাদ পড়েছে সেগুলো পরবর্তীতে শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) প্রদত্ত ভাষণকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।ভাষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা তুলে ধরা হলে সংসদে হট্টগোল শুরু হয় এবং কয়েকটি বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।
বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভাষণ প্রদান করেন।এ সময় তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা,রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অতীত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ডকে “ফ্যাসিবাদী প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।এতে সংসদ কক্ষে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা তৈরি হয়।কিছু বিরোধী সদস্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং পরে ওয়াকআউট করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন,সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে অশোভন এবং ইতিহাসের বিকৃতি।
অন্যদিকে সরকারপক্ষের কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সরকারের নীতিগত অবস্থান ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেছে।অতীত সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে,সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত সরকারের প্রস্তুত করা নীতিগত বক্তব্য হয়ে থাকে।সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে এই বিতর্ক দেশের ইতিমধ্যেই মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে বিতর্ক বা বিরোধী দলের প্রতিবাদ নতুন নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে ভাষণ শেষে সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানগতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। যদিও কার্যত নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা, তবুও রাষ্ট্রপতির ভাষণ,আচরণ এবং অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে প্রতীকী ও নৈতিক গুরুত্ব বহন করে।সেই কারণে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সব সময়ই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) যে ভাষণ দিয়েছেন,সেটিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে ভাষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ডকে “ফ্যাসিবাদী প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন।তবে এই ভাষণের বিষয়বস্তু সাধারণত সরকারের নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রতিফলিত করে।অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সরকারের প্রস্তুতকৃত বক্তব্য,রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত মতামত নয়—এটি সাংবিধানিক রীতি।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।ফলে রাষ্ট্রপতির ভাষণে যদি কোনো রাজনৈতিক সমালোচনা বা মূল্যায়ন উঠে আসে,সেটি বাস্তবে সরকারের নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন বলেই ধরা হয়।
রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের একটি অংশ এটিকে রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে।তাদের মতে,শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া একজন ব্যক্তি যদি পরবর্তীতে সেই সরকারের সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করেন,তবে তা রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্ন তুলতে পারে।
অন্যদিকে সরকারপক্ষের সমর্থকদের যুক্তি ভিন্ন।তারা মনে করেন,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অতীত সরকারের সমালোচনা বা মূল্যায়ন রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। নতুন সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরতেই রাষ্ট্রপতির ভাষণে এমন মন্তব্য থাকতে পারে।
সংসদীয় রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।সংসদে হট্টগোল,ওয়াকআউট বা প্রতিবাদ বাংলাদেশের সংসদীয় সংস্কৃতিতে নতুন নয়।অতীতেও বিভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ দেখা গেছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
বাংলাদেশের রাজনীতি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং ব্যক্তি-কেন্দ্রিক।ফলে রাজনৈতিক নেতাদের মূল্যায়ন বা সমালোচনা প্রায়ই ব্যক্তিগত আনুগত্য ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সাথে জড়িয়ে যায়।রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সেই আবেগকে আরও উসকে দিতে পারে।
তবে গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সাংবিধানিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে আলোচনা হওয়াই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্বের অনেক সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধান সংসদে ভাষণ দেন, যেমন যুক্তরাজ্যে “King’s Speech” বা ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণ।এসব ক্ষেত্রেও ভাষণ মূলত সরকারের নীতিমালা তুলে ধরে,এবং বিরোধী দল প্রায়ই এর সমালোচনা করে থাকে। ফলে বাংলাদেশের ঘটনাটিও আন্তর্জাতিক সংসদীয় প্রথার বাইরে নয়।
উপসংহার
রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে,তা মূলত বাংলাদেশের তীব্র মেরুকৃত রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতভেদ স্বাভাবিক,কিন্তু সেই মতভেদ যেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করে—এটি নিশ্চিত করা সকল রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্ব।
অতীতের সরকার,বর্তমানের সরকার কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা—সবই গণতান্ত্রিক আলোচনার অংশ।তবে সেই আলোচনা যদি তথ্য,আইন ও যুক্তির ভিত্তিতে হয়,তবেই তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,উপজেলার শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।পরে অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০২০ সাল থেকে একাধিকবার তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি,পরীক্ষার্থী সংখ্যা,পাসের হার,শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ পদ্ধতি ও যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করেনি। এমনকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংরক্ষণ করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন খানকে শিক্ষক নিয়োগ ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করেন।এ সময় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ মোল্লা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর দায় চাপিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,চলতি বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী (বাছাই) টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও প্রতিটি বিষয়ে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে।এ সময় প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
বিষয়টি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে।জানা গেছে,মেহেন্দিগঞ্জের ৬টি বিদ্যালয়সহ সারাদেশের মোট ৭৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি,অনিয়ম,কোচিং ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে।
বিস্তারিত আসছে—প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।এর অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।প্রয়োজনে কার-পুলিং (শেয়ারিং) পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো
🔹 এসির তাপমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।
🔹 বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে।
🔹 দিনের আলো ব্যবহার: অফিসে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
🔹 জ্বালানি সাশ্রয়: ব্যক্তিগত গাড়ি কম ব্যবহার করে গণপরিবহন বা কার-পুলিং ব্যবহার করতে হবে।
🔹 আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ: ব্যাংকের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও ডিসপ্লে বোর্ড সীমিত করতে হবে।
🔹 জেনারেটর ব্যবহারে সাশ্রয়: জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেন এই নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে,বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📅 বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
⚖️ ব্যাংক কোম্পানি আইন,১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
![]()
মোংলা প্রতিনিধি।।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ক্যালিপসো এন নামের একটি জাহাজ মোংলা বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি–০৩ এর আওতায় এ গম আমদানি করা হয়েছে।
এর আগে জি-টু-জি–০১ ও জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত সব গম দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জি-টু-জি–০১ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন—মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়,দেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন।এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন।বাকি চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশ থেকে গম আমদানি করা হয়।
মোংলা বন্দরে পৌঁছানো জাহাজের গমের নমুনা পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
![]()
মোংলা(বাগেরহাট)প্রতিনিধি।।বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে ডিউটি পালনকালে নিজের অস্ত্রের গুলিতে সালেহ আহমেদ (৪২) নামে এক কোস্ট গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্য ও কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনার উপশম হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান,কোস্ট গার্ড সদস্য সালেহ আহমেদ নিজের হাতে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ⛽🌍
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।বুধবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,ভারতকে ইতোমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।একই ধরনের সুযোগ বাংলাদেশকেও দেওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন,“আমরা বলেছি, যদি ভারতের জন্য এমন সুযোগ থাকে, তাহলে বাংলাদেশও সেই সুযোগ পাওয়া উচিত। আমাদের অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী সমর্থন প্রয়োজন।”
অর্থমন্ত্রী জানান,বাংলাদেশের এই অনুরোধ ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা,বিনিয়োগ,সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে,রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি আমদানির সুযোগ পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ⚖️📊
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২) অনুযায়ী,সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সরকারি সূত্র জানায়,অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ৫৫৯ দিনের শাসনামলে এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল।এখন সেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করে আইন হিসেবে পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন,প্রতিটি অধ্যাদেশই সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশ পাস করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধান অনুযায়ী,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরে চাইলে সরকার সেই বিষয়গুলো আবার নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে পারবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,সরকার সংবিধান মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংবিধানের বাইরে কোনো আইন পাস করা হবে না।তিনি বলেন,সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদের এখতিয়ার,এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংস্কার করা হবে
অন্যদিকে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এটি বাতিল হয়নি।বরং বিএনপি ও বর্তমান সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।তবে তিনি সতর্ক করে বলেন,এই সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া যাবে না; সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এর মধ্য দিয়েই নতুন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের গতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে পারে। 📜⚖️
![]()
গাজীপুর প্রতিনিধি।।ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাকভর্তি ১৯টি গরু উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে গাজীপুর মহানগর এলাকার একটি স্থান থেকে ট্রাকসহ গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়,মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ট্রাকভর্তি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে।ডাকাতরা ট্রাকে থাকা গরুর মালিক, রাখাল,হেলপার ও চালককে হাত-পা বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ট্রাকটি নিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা দ্রুত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায়।এক পর্যায়ে ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে পুলিশ টহল দল ট্রাকটি থামার সংকেত দেয়।
তবে ডাকাতরা পুলিশের সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।এ সময় ডাকাতরা মহাসড়কের পাশে ট্রাক ও গরু ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ট্রাকসহ ১৯টি গরু উদ্ধার করে এবং সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 🚔🐄
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জনসম্মুখে অশালীন আচরণ, শারীরিক আঘাত,জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাশিয়ান নাগরিক ও মডেল মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস (জান্নাত) বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও সংবাদ সূত্রে জানা যায় যে,মনিকা কবির বিভিন্ন পাবলিক স্থানে অশালীন ও উসকানিমূলক আচরণ করে তা ভিডিও আকারে ধারণ করে অনলাইনে প্রচার করছেন,যা দেশের সামাজিক শালীনতা ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়,তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে—জনসম্মুখে রাস্তায় পোশাক পরিবর্তন করে অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা,মেট্রোরেলের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের কোলে শুয়ে পড়ে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা,বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা,একটি ভিডিও ধারণের সময় একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আঘাত করা,এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা সহ বেশকয়েকটি অভিযোগ।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,এসব কর্মকাণ্ড The Dhaka Metropolitan Police Ordinance, 1976 এর Section 75, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২৯৪, ৩২৩ ও ৩৫২, এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ধারা ২৫, ২৯ ও ৩১ লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
নোটিশে মনিকা কবিরকে ৭ দিনের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও কনটেন্ট অপসারণ করা এবং ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
অন্যথায়,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।এছাড়া বিদেশি নাগরিক হিসেবে দেশের আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তার ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার (Deportation) করার ক্ষমতা রাখে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান,সচেতন নাগরিক মহলের অনুরোধে তিনি এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন।তবে এ সিদ্ধান্তে বিরোধী দল সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে,যা রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র করছে।
আইনগতভাবে,সংবিধানের ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সংবিধান ও সরকারের কার্যক্রম উপস্থাপন করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।কিন্তু বিরোধী দল দাবি করছে,বর্তমান প্রস্তুত ভাষণ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের স্বাধীনতার সীমা অতিক্রম করতে পারে।আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,এটি যদি বাধ্যতামূলক নির্দেশ বা রাজনৈতিক প্রভাব প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়,তবে তা সংবিধান ভঙ্গের শামিল হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে,এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে দেশের বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস কতটা গভীর।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৌশলগতভাবে ব্যবহার হয়,তবে সংসদের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হবে।
সামাজিক প্রভাবও কম নেই।এই ধরনের অবস্থান জনমতের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।জনগণ যদি মনে করে রাষ্ট্রপতি পদ রাজনৈতিক চালের অংশ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে,তা সামাজিক সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে পারে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও এটি গুরুত্ব বহন করছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিতর্ক যদি হঠাৎ রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তবে ভিত্তি প্রস্তুত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাপের মুখে পড়তে পারে।এছাড়া,আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মহলও এ ঘটনার দিকে সতর্ক নজর রাখছে,কারণ এটি দেশটির গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
সংক্ষেপে,রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর লিখিত ভাষণ বিতর্ক শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়,এটি দেশের আইনি,রাজনৈতিক,সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতিবিম্ব,যা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি কমজোরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,“সংবিধান ও আইন মেনে চলা না হলে,রাষ্ট্রপতির পদও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে বাধ্য।”
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়,বরং দেশের আইনি ও সংবিধানিক কাঠামোর ওপরও পরীক্ষা।কিন্তু বিরোধী দলের আপত্তি স্পষ্ট করে দেয়,এই ভাষণ প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে,যা সংবিধান ও আইন উভয়ের দিক থেকে সমস্যা তৈরি করে।
সংবিধানিক দিক
বাংলাদেশের সংবিধান,ধারা ৭০ ও ৭১ অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হলো সংসদে সরকারী কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রদান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক নির্দেশনা বা নীতিমালা নির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।যদি ভাষণে নির্ধারিত রাজনৈতিক নির্দেশনা বা মত প্রকাশ থাকে,তা সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, কারণ ধারা ৭১(৩) স্পষ্টভাবে বলেছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নেই।
আইনগত দিক
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের দালিলিক আইন (Evidence Act, 1872 – Sections 3, 5 & 64) অনুসারে,রাষ্ট্রপতির লিখিত বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে দালিলিকভাবে গ্রহণযোগ্য,তবে এর ব্যবহার যদি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে হয়, তা সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে ধরা যেতে পারে।বিশেষ করে, Public Servants (Conduct) Act, 2018 অনুযায়ী,সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ভাষণ বিতর্ক একদিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে বাড়াচ্ছে,অন্যদিকে জনগণের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে।রাষ্ট্রপতির পদ যদি রাজনৈতিক আদেশ বা সরকারের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়,তা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক দায়বোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চোখেও গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সমালোচনা
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুধু সংবিধানিক প্রতিবেদন ও সরকারি কার্যক্রম উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।তা অতিক্রম করলে তা দলীয় আচার-ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আইন লঙ্ঘনের অনৈতিক precedent তৈরি করবে।
আমাদের রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান,সংবিধান ও আইনকে সম্মান করুন,রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে বক্তৃতা প্রদান করুন। গণতন্ত্রের এই পরীক্ষায়,যদি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখানো হয়,তবে এটি শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়—দেশের নৈতিক ও সংবিধানিক ইতিহাসের উপর লজ্জার দাগ হিসেবে রয়ে যাবে।
![]()
![]()
সর্বশেষ সংবাদ :———