![]()



নেত্রকোনা প্রতিনিধি।।২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই চার্টার গণভোটের প্রাথমিক ফলাফলে নেত্রকোনা জেলার কয়েকটি আসনে ভোটসংখ্যা নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।নির্বাচন কমিশন (ইসি) পরে বিষয়টিকে “কেরানিজনিত ভুল” বলে ব্যাখ্যা দিলেও ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী,নেত্রকোনা-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬ জন। তবে ফলাফল শিটে দেখা যায়, শুধুমাত্র “হ্যাঁ” ভোটই পড়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি, যা মোট ভোটারের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় মহলে প্রশ্ন ওঠে।
পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন এক ব্যাখ্যায় জানায়,এটি তথ্য সংকলনের সময় হওয়া একটি কেরানিজনিত ভুল (Clerical Error)। ইসি সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করে জানায়,ওই আসনে গণভোটে মোট কাস্টিং ভোট ছিল ২ লাখ ১ হাজার ৩৫৮টি।এর মধ্যে “হ্যাঁ” ভোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ এবং “না” ভোট ৬০ হাজার ৭৮৭টি।
শুধু নেত্রকোনা-৩ নয়, একই ধরনের অসঙ্গতি নেত্রকোনা-৪ ও নেত্রকোনা-৫ আসনের প্রাথমিক ফলাফলেও দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এসব আসনেও মোট ভোটারের তুলনায় বেশি ভোট প্রদর্শিত হওয়ায় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ইসি জানিয়েছে,সংশোধিত ফলাফলই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।তবে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন,এমন ভুল জনআস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে,তাই ফলাফল ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিগত যাচাই জোরদার করা প্রয়োজন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় নিহতদের পরিসংখ্যান ও ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মহল নিহতদের প্রকৃত পরিচয়,দায়ী ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী,মোট প্রায় ১,৪০০ জন নিহতের মধ্যে ৬৬ শতাংশ বা আনুমানিক ৯২৬ জন ৭.৬২ মিলিমিটার মিলিটারি গ্রেড বুলেটের আঘাতে নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ৮৪৬ জন ছাত্র ও সাধারণ জনগণ হলেও অবশিষ্ট ব্যক্তিরা কারা—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,প্রায় ১২ শতাংশ বা আনুমানিক ১৬৮ জন শর্টগানের গুলিতে নিহত হন।শর্টগান কারা ব্যবহার করেছে এবং নিহতদের পরিচয় কী—সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে সমালোচনা উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,প্রায় ২ শতাংশ নিহত পিস্তলের গুলিতে মারা গেছেন এবং ২০ শতাংশ ব্যক্তি অন্যান্য সহিংসতার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।তবে এসব ক্ষেত্রে হামলাকারী কারা এবং কীভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে—তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
অন্যদিকে,প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও তাদের নাম,পদ-পদবি ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বিভিন্ন মামলায় বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্য ও পেশাজীবীদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কিছু ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি ও তদন্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,আওয়ামী লীগের ৪৬ জন নেতাকর্মী এবং ৭ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায় প্রমাণিত হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা,ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়েও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে,নিহতদের প্রকৃত পরিচয়,ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং দায়ী ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরা হলে চলমান বিতর্ক কমবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়বে।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ আগামীকাল সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।শপথ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়,বিভাগ,জেলা প্রশাসন, পুলিশ,সশস্ত্র বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বগুড়ার একজন গ্রাহক তার মৃত বাবার গ্রামীণফোন সিম কার্ড পুনঃরেজিস্ট্রেশনের জন্য অফিসে গেলে অযৌক্তিক ও শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হন।গ্রাহক জানান, তার মা—যিনি ডায়াবেটিস রোগী—প্রায় তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং washroom ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।অফিস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে,জন্ম সনদ,মৃত্যু সনদ,মৃত ব্যক্তির আগের NID ও ওয়ারিশদের NID original আনা বাধ্যতামূলক, শুধুমাত্র ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়।
গ্রাহক অভিযোগ করেছেন,দেশে NID ও পাসপোর্ট সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও মৃত ব্যক্তির সিমের বিষয়টি নিয়ে এত জটিলতা ও অযৌক্তিক আচরণ করা হয়েছে।তিনি বলেন,কর্মচারীদের এই আচরণ ও অসহায় অবস্থায় মায়ের অসুবিধার কারণে তিনি গুরুতর অসন্তুষ্ট।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মিস্টি জান্নাত নামের ব্যবহারকারী এই অভিযোগ শেয়ার করেছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশে এক বা একাধিক জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।তবে তারা জানিয়েছে, এটি জাতীয় স্তরে জাল ভোটের হার নয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সোমবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সদস্যই দায় বা ঋণে যুক্ত থাকায় মোট দায়ের পরিমাণ ১১,৩৫৬ কোটি টাকা,যা গত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। বিএনপিতে ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ সদস্যের ঋণ রয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,নির্বাচিত সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী পেশার,যা দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ৫ শতাংশ কম,কিন্তু নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।
নির্বাচনী আচরণ ও সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা রয়েছে।প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্যের মধ্যে অনিয়ম এবং নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী আচরণবিধি মানার অঙ্গীকার রাখলেও তা পালন করেনি এবং প্রার্থীরা নির্ধারিত নির্বাচনী খরচের সীমা অতিক্রম করেছে।
টিআইবি বলেছে,এই প্রতিবেদন নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রার্থীদের আর্থিক দায় এবং নির্বাচনী আচরণ পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৩৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭৯.৪৬ শতাংশ কোটিপতি এবং ১৩ জন শতকোটিপতি।
রিপোর্টটি প্রকাশ করে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান,নির্বাচনের মোটামুটি গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তবে প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়মও দেখা গেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৭৫ শতাংশ জাল ভোটের চেষ্টা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে,অন্তর্ভুক্ত ৪০ শতাংশ কেন্দ্রে একাধিক অনিয়ম ঘটেছে।নির্বাচনে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ গড় ব্যয়সীমা ৪৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা হলেও তারা গড়ে ১ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন।অর্থাৎ গড়ে ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে।
গবেষণায় আরও প্রকাশ,৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।এছাড়া, ভোটারদের ৪৬.৪ শতাংশকে হুমকি দেখিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়,আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকরা পুরোপুরি নির্বাচন বয়কট করেনি,এবং অনেকেই বিএনপির হয়ে নির্বাচনে সক্রিয় ছিলেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের পর নতুন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকায় প্রথম অধিবেশন পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারই অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সংবিধানের সব ধারা আক্ষরিকভাবে মানা সবসময় সম্ভব নয়।সংসদ সদস্যদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একজন প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করতে পারবেন এবং নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ আহ্বান করবেন এবং ভাষণ দেবেন।সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখা ও অযথা আইনী বিতর্ক এড়িয়ে চলাই জরুরি।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানিয়েছেন,৩৭টি সরকারি বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই বাড়িগুলো মূলত মিন্টো রোড, হেয়ার রোড,ধানমন্ডি ও গুলশানে অবস্থিত।প্রয়োজনে আরও বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা চলছে।
তিনি জানান,এই ৩৭টির মধ্যে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বসবাস করা বাসাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আবাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত উনার ইচ্ছা অনুযায়ী নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন,আগামী সরকার তাদের বিবেচনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলো চালাবেন।তিনি তিনটি মন্ত্রণালয় থেকে সাকসেসরস নোট তুলে দিচ্ছেন,যাতে নতুন সরকার আগে করা কাজ এবং অর্জনগুলো দেখতে পারেন।
দুর্নীতির হার কমেছে কি না জানতে চাইলে তিনি টিআইবি রিপোর্টের ওপর মন্তব্য করেন,পযদিও জনগণের অভিজ্ঞতা ও রিপোর্ট সবসময় মিল নাও করতে পারে।
এর আগে,জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বগুড়া–৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি লিখিতভাবে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা–১৭ ও বগুড়া–৬—এই দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই বিজয়ী হন।তবে আইন অনুযায়ী,একজন প্রার্থী একাধিক আসনে নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত একটি আসনই ধরে রাখতে পারেন।সেই বিধান অনুসারেই তিনি বগুড়া–৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা–১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইনি বিধান
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী,ধারা ১৯(১)(খ) অনুসারে একজন ব্যক্তি একই নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে প্রার্থী হতে ও নির্বাচিত হতে পারেন।তবে ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, একাধিক আসনে নির্বাচিত হলে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয় কোন আসন তিনি রাখতে চান।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে অবশিষ্ট আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
ভোটের ফলাফল
বগুড়া–৬ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।
অন্যদিকে ঢাকা–১৭ আসনে তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট।ফলে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
ঢাকা–১৭ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন।এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৮টি; বাতিল হয়েছে ২ হাজার ২১১টি এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৭।
বগুড়া–৬ আসন শূন্য ঘোষণার পর সেখানে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নবগঠিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।আগামী মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন,রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ ভবনেই এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে একই স্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হবে।
দেশি–বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি
শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় ১,২০০ জন দেশি ও বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে,ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা,পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসারের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকায় পৌঁছেছেন।যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
আইন উপদেষ্টা জানান,সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিশেষ শপথ
এবারের শপথ অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ সংযোজন থাকছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাধারণ শপথের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবেও পৃথক শপথ গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি বিএমইউর কেবিন ব্লকে গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন।এ সময় চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ডা. রফিকুল ইসলামের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
উপস্থিত চিকিৎসকরা রোগীর সার্বিক শারীরিক পরিস্থিতি এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিবকে জানান।
এ সময় বিএমইউর মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ,রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম,সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম ইউনুস আলী, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ, সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও জনসংযোগ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত ও সমালোচিত দেড় বছরের শাসনকাল।আগামীকাল মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শেষ করবেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা।
গত রোববার উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাগজপত্রে আরও দেড় দিন কর্মদিবস থাকলেও মূলত ওই দিনই উপদেষ্টারা তাঁদের দায়িত্বের শেষ ব্যস্ত সময় পার করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনেকেই সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।আজ সোমবার কেউ কেউ আনুষ্ঠানিক বিদায় নেবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।একই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২১ জন।এছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী,বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ আরও কয়েকজন দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব শেষে অবসর নেবেন না।তিনি আগের মতো সামাজিক ব্যবসা,ক্ষুদ্রঋণ, “থ্রি জিরো” ভিশন, দারিদ্র্য বিমোচন ও পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষ হলে তিনি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরবেন এবং গবেষণা ও লেখালেখিতে মনোযোগ দেবেন।নতুন মন্ত্রিসভায় থাকার প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন,এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাবেন।অন্যদিকে আলী ইমাম মজুমদার সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও গণমাধ্যমে আগের মতো সক্রিয় থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে আবার লেখালেখিতে ফিরতে চান। বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান রমজানের পর বই পড়া ও লেখালেখিতে সময় দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র কাজে পুনরায় যোগ দেবেন।সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ মানবাধিকার কার্যক্রম ও সামাজিক সংগঠন ‘ব্রতী’-র সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে,শপথ অনুষ্ঠানের দিন উপদেষ্টারা জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে অনুষ্ঠানে যাবেন।তবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর ফেরার সময় সেই গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন,উপদেষ্টারা দেশের গর্বিত সন্তান এবং ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভায় নবীন ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের সমন্বয় ঘটানো হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনে বিজয়ী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন,ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন,তারাই নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যারা জনগণের আস্থাভাজন— তাদের নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।নবীন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সরকার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন,১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে জনগণ উপহার দিয়েছে।কেউ দেশকে বিপথে নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করায় সামরিক বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,নাহিদ ইসলাম ও শফিকুর রহমানের বাসায় গিয়ে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।বিরোধী দলগুলো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস বারবার বিকৃত করা হয়েছে।১৯৭১ সালের মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের বিদ্রোহ মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি।নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে,যা পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত একটি সরকার খোলা আকাশের নিচে শপথ নিতে যাচ্ছে।একই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও সংসদ ভবনের সামনে উন্মুক্ত পরিবেশে শপথ গ্রহণ করবেন।বিশ্লেষকদের মতে,সংসদ ভবনের সামনে এমপি ও মন্ত্রিসভার এই শপথ অনুষ্ঠান নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক ও আশপাশের এলাকা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।০সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকেই শুরু হয় নানা রাজনৈতিক সমাবেশ, উৎসব এবং এনসিপির আত্মপ্রকাশ।
পরবর্তীতে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় সনদ ঘোষণার অনুষ্ঠানও সংসদ ভবন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়,যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছিল।উভয় অনুষ্ঠানেই সরকার প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদীর জানাজায় বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে একই স্থানে।আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজাতেও লাখো মানুষের ঢল নামে সংসদ ভবন এলাকায়।পরে তাঁর স্মরণে নাগরিক শোকসভাও সংসদ ভবনের সামনে সবুজ প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচেই অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রশংসা করে বিএনপির বিজয়ে জাপান অভিনন্দন জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে,তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
ইতিহাসের বিভিন্ন রেকর্ড ভেঙে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা এবার খোলা আকাশের নিচে শপথ নিতে যাচ্ছেন।একই স্থানে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভাও।এতদিন সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনের ভেতরে এবং মন্ত্রীরা গণভবনে শপথ নিতেন— সেই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ এবার ভাঙছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইন বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ ভূঁইয়া মনে করেন, এটি জুলাই পরবর্তী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও প্রতীকী পরিবর্তন।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খোলা আকাশের নিচে শপথ নিয়েছিলেন।তারও আগে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের সদস্যরাও উন্মুক্ত পরিবেশে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। নতুন আয়োজন সেই ঐতিহাসিক ধারাকেই নতুন প্রেক্ষাপটে ফিরিয়ে আনছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কার্যক্রম ও সংস্কারের বিস্তারিত তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন,ব্যক্তিগতভাবে নয় বরং মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে গত দেড় বছরে আইন ও বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন,অনেকেই অভিযোগ করেন তিনি দেশের জন্য দৃশ্যমান কিছু করতে পারেননি।তবে বাস্তবে আইন মন্ত্রণালয় এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এনেছে,যার প্রতিটি কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
আইনি সংস্কারে বড় পরিবর্তনের দাবি
উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোট ২২টি আইনি সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন আন্তর্জাতিক মানে হালনাগাদ এবং গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে স্বতন্ত্র জুডিসিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা
বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা জোরদার করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা
বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত চালু
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের বিধান
দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (ADR) চালু
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সময়সীমা ও জবাবদিহি সংযোজন
সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ
অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের বিধান
প্রবাসীদের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রক্রিয়া সহজীকরণ
প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডাক ব্যালট ব্যবস্থা
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন
মন্ত্রণালয় দাবি করেছে,বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে—
বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে প্রদান
আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন
কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম
অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ ও ই-কজলিস্ট চালু
ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলক ই-ফ্যামিলি কোর্ট
৯ জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা
আইন মন্ত্রণালয়ে ডি-নথি ও শতভাগ অনলাইন অ্যাটেস্টেশন
জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও ১৬৬৯৯ হটলাইন চালু
দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ
রেকর্ডসংখ্যক ১৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি
রেজিস্ট্রেশন সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ
প্রায় ২৪ হাজার হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত ২৩,৮৬৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।এছাড়া সাইবার আইনের অধীনে দায়ের হওয়া ৪১০টি স্পিচ-সংক্রান্ত মামলা এবং গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
গণহত্যা সংক্রান্ত বিচার কার্যক্রম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে আইনগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে চারটি মামলার রায় হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি
উপদেষ্টার দাবি, গত দেড় বছরে—
২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি হয়েছে (আগের সময়ে ছিল ১,২৩৫টি)
৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত দেওয়া হয়েছে
প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়েছে
প্রধান বিচারপতিসহ আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগে সহায়তা দেওয়া হয়েছে
সমালোচনার জবাব
স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল বলেন,সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে সমালোচনার আগে কাজগুলো সম্পর্কে জানার আহ্বান জানান তিনি।তিনি উল্লেখ করেন,দীর্ঘ সময় অফিসে থেকে ও ছুটির দিনেও কাজ করে মন্ত্রণালয়ের টিম এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
উল্লেখ্য,এসব তথ্য উপদেষ্টার নিজস্ব বক্তব্য ও মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।বাস্তবে এসব সংস্কারের কার্যকারিতা ও জনসাধারণের ওপর প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাবা মৃত্যুর পর ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৬০০ টাকা পাওয়া গেলেও নিজের বাবাকে একজন সফল মানুষ হিসেবেই দেখেন বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজীব আহসান।সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি শিক্ষক সমাজের ত্যাগ,সততা ও মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।
রাজীব আহসান বলেন, “এই পৃথিবীতে এমন মানুষ আছেন যারা ছয় হাজার কোটি টাকা রেখে যান।কিন্তু আমার বাবা ব্যাংকে রেখে গেছেন মাত্র ৬০০ টাকা।তবুও আমি মনে করি তিনি একজন সফল মানুষ।কারণ তিনি একজন শিক্ষক হয়েও সততার সঙ্গে জীবনযাপন করেছেন এবং আমাদের তিন ভাই-বোনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন,শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন অবসরের পর অধিকাংশ শিক্ষকের আর্থিক সঞ্চয় খুব বেশি থাকে না।কিন্তু একজন শিক্ষক তার সন্তানের মধ্যে যে শিক্ষা,নৈতিকতা ও আদর্শ রেখে যান,সেটিই প্রকৃত সম্পদ।
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের ভাষায়,“সফল মানুষের মাপকাঠি ব্যাংকের ব্যালেন্স নয়; বরং তিনি তার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে যেতে পেরেছেন কিনা—আমার বাবা ঠিক সেটাই করেছেন।”
রাজীব আহসানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে শিক্ষক সমাজের প্রতি সম্মান ও মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,শপথের দিন উপদেষ্টারা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুসরণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।তারা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে পতাকাবাহী গাড়িতে করে শপথস্থলে যাবেন।
তিনি আরও জানান,শপথ অনুষ্ঠান শেষে একই গাড়িতে তাদের নিজ নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হবে।তবে ফেরার সময় গাড়িতে আর রাষ্ট্রীয় পতাকা থাকবে না।
প্রেস সচিব বলেন,অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টা বর্তমানে দেশেই অবস্থান করছেন এবং তারা দেশের গর্বিত সন্তান। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে বিচার করার সবচেয়ে বড় মানদণ্ড হলো নির্বাচন।অথচ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন এখন উৎসব নয়,বরং অবিশ্বাস, অভিযোগ ও তিক্ততার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ পেরিয়ে ২০২৬—প্রতিটি নির্বাচন যেন নতুন একটি বিতর্কের নাম হয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে। এটি শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় আস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
২০১৪ সালের নির্বাচনকে মানুষ মনে রেখেছে “ভোটারবিহীন নির্বাচন” হিসেবে।ভোটকেন্দ্র ছিল,ব্যালট ছিল,কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।গণতন্ত্রের প্রাণ যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ,সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন মূলত গণতন্ত্রের শূন্য খোলস ছাড়া কিছু নয়।
২০১৮ সালে পরিস্থিতি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। “রাতের ভোট” শব্দটি শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়,বরং জনগণের মনে গেঁথে যাওয়া সন্দেহের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।নির্বাচন যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেখানে ভোটার বিশ্বাসই করতে না পারে তার ভোট সে নিজে দিয়েছে কিনা—তবে সেই ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক বলা কঠিন।
২০২৪ সালের নির্বাচনকে বলা হয় “ডামি নির্বাচন”। প্রতিযোগিতা থাকলেও বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুপস্থিত—এমন ধারণা যখন জনমনে জন্ম নেয়,তখন নির্বাচন আর জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যম থাকে না; তা পরিণত হয় পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায়।
আর এখন ২০২৬। নতুন শব্দ—“ইঞ্জিনিয়ারিং নির্বাচন”। শব্দটি নিজেই ভয়ঙ্কর।এর অর্থ দাঁড়ায়,ফলাফল জনগণের ইচ্ছা থেকে নয়,বরং পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে—এমন সন্দেহ মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।অভিযোগ সত্য হোক বা না হোক,সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো জনগণ বিশ্বাস হারাচ্ছে।আর গণতন্ত্রে বিশ্বাস হারানোই সবচেয়ে বড় বিপদ।
রাষ্ট্র,নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারে,কিন্তু প্রশ্ন হলো—জনগণ কি বিশ্বাস করছে? কারণ গণতন্ত্র কাগজে নয়, বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।ভোট যদি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে যায়,তবে সংসদ শক্তিশালী হলেও গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,প্রতিটি নির্বাচনের পর অভিযোগ জমা হচ্ছে,কিন্তু আস্থার সংকট কমছে না। ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদের দায়ী করছে,বিরোধীরা পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে—আর মাঝখানে সাধারণ ভোটার ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।এটি কোনো দলের জন্য নয়,পুরো রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত।
সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। নির্বাচনকে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল নয়,জনগণের রায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা,প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনও নতুন কোনো তকমা পাবে—কিন্তু আস্থা ফিরে পাবে না।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শত্রু বিরোধী দল নয়,সমালোচনা নয়—বরং অবিশ্বাস।আর সেই অবিশ্বাস যদি স্থায়ী হয়ে যায়,তাহলে নির্বাচন থাকবে,কিন্তু গণতন্ত্র থাকবে না।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।বিভিন্ন সময় বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন আখ্যা এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিরোধী দলগুলো আখ্যা দেয় ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন’ হিসেবে।সে সময় প্রধান বিরোধী জোট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ১৫০টির বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হন।ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলেও আলোচনা সৃষ্টি হয়।
এরপর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিরোধী দলগুলো ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’ বলে অভিযোগ তোলে।তাদের দাবি ছিল,ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে।যদিও নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন পক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে দাবি করে।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিরোধী রাজনৈতিক মহল ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করে।তাদের অভিযোগ ছিল,অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে না পেরে একই রাজনৈতিক বলয়ের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।সরকার পক্ষ অবশ্য এটিকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন বলে অভিহিত করে।
সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।কিছু রাজনৈতিক দল ও সমালোচকরা এবার নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং নির্বাচন’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।তাদের অভিযোগ,নির্বাচনী ফলাফল ও প্রক্রিয়া পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে।তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ নাকচ করে বলছে,নির্বাচন আইন ও বিধি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,নির্বাচনকে ঘিরে আস্থার সংকট দূর করতে সব পক্ষের অংশগ্রহণ, শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থা এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি।অন্যথায় নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মত প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে কারাগারে যেতে হয়নি— তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এমন বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আল জার্জিয়ার সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক জুলকার নাইন নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করে দাবি করেন,বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।তিনি উল্লেখ করেন,মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,গত এক বছরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ৩৮১ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
আসকের তথ্য অনুযায়ী,২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।একই সময়ে ১১৮ জন সাংবাদিক সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।প্রকাশিত সংবাদের জেরে ১২৩ জন সাংবাদিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
স্ট্যাটাসে আরও দাবি করা হয়,সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে।সরকারের সমালোচনা বা মতপ্রকাশের কারণে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ,সাংবাদিক আনিস আলমগীর এবং মনজুরুল আলম পান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া একাধিক মামলায় সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা,মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।
তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাংবাদিক নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ক দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
![]()
![]()



সর্বশেষ সংবাদ :———