![]()
ঘুষ নেওয়ার সময় ওড়িশায় খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর গ্রেপ্তার, বাসা থেকে মিলল আলমারি ভর্তি টাকা-স্বর্ণ





নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাস চলাকালে আইনজীবীদের একাংশের হট্টগোল,ভাঙচুর ও বিচারকের প্রতি অসদাচরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।ঘটনাটিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত” উল্লেখ করে বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে বিচার কার্যক্রম চলাকালে একদল আইনজীবী আদালতকক্ষে বিশৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়,আদালতের ভেতরে বেঞ্চসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং দায়িত্বরত বিচারকের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়।পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস মূলতবি ঘোষণা করে খাসকামরায় চলে যেতে বাধ্য হন।এতে আদালতের স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালতের অভ্যন্তর ও বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশও করেন।
আদালত অবমাননার রুল
ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসার পর দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত অবমাননার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন।
একই সঙ্গে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪ ও ৫ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮ ও ৩৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে,বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের আইনের শাসনের অন্যতম ভিত্তি।আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইন ও বিচার বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,আদালত চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বিচারকের প্রতি অসদাচরণ এবং আদালতের সম্পত্তি ভাঙচুর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।এ ধরনের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা ছাড়াও আদালত অবমাননার পৃথক বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে পারে,যার শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে,বিচারাঙ্গনে সহিংসতা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।কুমিল্লা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের এবার নির্বাচিত হয়ে নতুন মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে প্রায় চারগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি বিশাল জয় অর্জন করেছেন।
জাকারিয়া তাহের বাংলাদেশের অন্যতম ধনী মন্ত্রী।হলফনামা অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকা।তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক এবং কুমিল্লার বরুড়ায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের জন্য জনপ্রিয়।
দলের গুলশান কার্যালয়,যা বিএনপির নীতি নির্ধারণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত,মূলত জাকারিয়া তাহেরের মালিকানাধীন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি এই বাড়িটি বিএনপির ব্যবহারের জন্য প্রদান করেছিলেন।
মন্ত্রী হওয়ার পর জাকারিয়া তাহের আশা প্রকাশ করেছেন, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষের মন জয় করবেন।
![]()
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভাতিজা বউকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ‘বনোফুল’ নামের একটি আইডি থেকে বিষয়টি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন,এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন,তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নিশ্বাপলাশবাড়ী গ্রামের সাবেক এমপি আজিজুল হক চৌধুরীর বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে ইকবাল হোসেন প্রবেশ করেন। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি বলে দাবি করেন কয়েকজন এলাকাবাসী।
এদিকে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইকবাল হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন।তার প্রতিষ্ঠিত পলাশবাড়ী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে,অভিযোগের বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে অবহিত করা হয়েছে।এ বিষয়ে সম্ভাব্য সাংগঠনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির সংসদীয় আসন–৬ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, “আগামী দলীয় সভায় বিষয়টি এজেন্ডায় আনা হবে।”
ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
![]()
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ভুবনেশ্বরে ঘুষ নেওয়ার সময় খনি বিভাগের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য ভিজিল্যান্স বিভাগ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তার নাম দেবব্রত মোহান্তি।তিনি কটক সার্কেলের খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।বিশেষ করে কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় তার ওপর নজরদারি শুরু করে ভিজিল্যান্স বিভাগ।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক কয়লা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ভুবনেশ্বরসহ তার তিনটি ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়।তল্লাশির সময় একটি ট্রলিব্যাগ ও আলমারিভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা,তার কাছে আরও অবৈধ অর্থ লুকানো থাকতে পারে।ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।
নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী—
জনাব হাবিবুর রশিদ,এমপি — সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন।
জনাব মোঃ রাজিব আহসান,এমপি — রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়,বর্ণিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষরিত এ আদেশের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
সরকারের এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দেশের সড়ক,রেল ও নৌ যোগাযোগ খাতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
দীর্ঘ সময়ব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার।আঞ্চলিক ও কৌশলগত বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে আগ্রহী।তিনি আশা প্রকাশ করেন,চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে দেশের অবকাঠামো ও শিল্প খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন।তিনি জানান, স্থিতিশীল পরিবেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে এবং চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কর্মরত রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত বিনিয়োগের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বিদেশি নাগরিক ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এছাড়া বৈঠকে সাইবার অপরাধ দমনে চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল এলায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড’ জোটে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।বরিশাল আদালতে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মর্যাদা,আদালতের কর্তৃত্ব এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ।আদালতের এজলাস—যেখানে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের প্রতীক দাঁড়িয়ে থাকে—সেই স্থানেই যদি ভাঙচুর,হুমকি,বিচারককে অপমান এবং বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ ওঠে,তবে সেটি নিছক বিশৃঙ্খলা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত।
আইনি দৃষ্টিকোণ: অভিযোগের গুরুত্ব কতটা গুরুতর
মামলায় যে ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে—দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮৬,১৮৯,১৯০,২২৮ ও ৩৫৩—এসব কোনো সাধারণ ধারা নয়।
ধারা ১৮৬: সরকারি কাজে বাধা প্রদান
ধারা ২২৮: আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বিচারকের অবমাননা
ধারা ৩৫৩: সরকারি কর্মচারীর ওপর আক্রমণ বা বলপ্রয়োগ
দ্রুত বিচার আইন: জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রণীত
অর্থাৎ অভিযোগের সারবস্তু যদি সত্য প্রমাণিত হয়,তাহলে এটি শুধু আদালত অবমাননা নয়,বরং বিচারব্যবস্থাকে জোরপূর্বক অচল করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করেছে।আদালতের ভেতরে শক্তি প্রদর্শন বা বিচারককে এজলাস ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সেই সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আইনজীবীদের ভূমিকা: অধিকার না অরাজকতা?
আইনজীবীরা আদালতের “অফিসার অব দ্য কোর্ট” — অর্থাৎ তারা বিচারপ্রক্রিয়ার অংশীদার,প্রতিপক্ষ নয়।আদালত বর্জন, প্রতিবাদ বা আন্দোলন আইনজীবীদের সাংগঠনিক অধিকার হতে পারে; কিন্তু এজলাসে ঢুকে শুনানি বন্ধ করা,অন্য আইনজীবীকে বাধা দেওয়া বা বিচারককে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক আচরণ কোনোভাবেই পেশাগত স্বাধীনতার আওতায় পড়ে না।
যদি অভিযোগ সত্য হয়,তাহলে এটি পেশাগত নৈতিকতার ভয়াবহ অবক্ষয়।কারণ আইনজীবী যখন আইন ভাঙেন,তখন সাধারণ নাগরিকের কাছে আইনের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়ে।
বিচার বিভাগের মর্যাদা বনাম প্রভাবের রাজনীতি
বাংলাদেশে বহুদিন ধরেই একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা দেখা যায়—কিছু ক্ষেত্রে বার রাজনীতি আদালতের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।কিন্তু আদালত কখনোই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জায়গা নয়; আদালত চলে আইন ও যুক্তির ভিত্তিতে,শ্লোগান বা চাপের ভিত্তিতে নয়।
এজলাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিচার বন্ধ করার সংস্কৃতি যদি প্রশ্রয় পায়,তাহলে আগামী দিনে বিচারকরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে ভয় পাবেন।এর পরিণতি হবে ভয়াবহ—ন্যায়বিচার নয়,শক্তির বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।
গ্রেপ্তার ও জামিন প্রশ্নে আইনি বাস্তবতা
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে যে যুক্তি দিয়েছেন—আসামি জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে—তা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় স্বীকৃত নীতি।বিশেষ করে যেখানে সাক্ষী,আদালত কর্মচারী ও বিচারিক পরিবেশ সরাসরি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে আদালত সাধারণত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে।
তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে,অভিযোগ প্রমাণের আগ পর্যন্ত প্রত্যেক আসামি আইনের চোখে নির্দোষ।তাই তদন্ত হতে হবে নিরপেক্ষ,স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক বা পেশাগত প্রতিহিংসামুক্ত।
রাষ্ট্রের জন্য কঠিন পরীক্ষা
এই ঘটনা এখন রাষ্ট্রের জন্য একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন একটাই—আইনের শাসন কি ব্যক্তি,পদ বা পেশার ঊর্ধ্বে থাকবে,নাকি প্রভাবশালী পরিচয় বিচারকে ছাপিয়ে যাবে?
আইনজীবী,পুলিশ,বিচারক—সবাই বিচারব্যবস্থার স্তম্ভ।কিন্তু কোনো স্তম্ভ যদি নিজেই কাঠামো ভাঙতে শুরু করে,তখন রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হয়।আদালতের মর্যাদা রক্ষায় আইন সমানভাবে প্রয়োগ না হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শেষ কথা
এজলাস কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়,শক্তি প্রদর্শনের স্থানও নয়।এটি ন্যায়বিচারের পবিত্র ক্ষেত্র।সেখানে বিশৃঙ্খলা মানে শুধু একটি ঘটনার অপরাধ নয়—এটি আইনের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সমান।
এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত,দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা এবং একই সঙ্গে বিচার বিভাগের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা—এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।নইলে আদালতের দরজা খোলা থাকলেও ন্যায়বিচারের দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালে আদালত কক্ষে ভাঙচুর, বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ একাধিক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা এফআইআর নং–৪৬ (তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী,দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮ ও ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।মামলাটি জিআর নং–১০৫/২০২৬ হিসেবে আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে,গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে কয়েকজন আইনজীবী আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন এবং বিচারকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর বক্তব্য ও স্লোগান দেন।
পরবর্তীতে দুপুরে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে প্রবেশ করে কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।এ সময় আদালত কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং শুনানিতে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীদের বের হয়ে যেতে চাপ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়,এক পর্যায়ে আদালতের আসবাবপত্র ভাঙচুর,মাইক্রোফোন নষ্ট,নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। বিচারককে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়,২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সহায়তায় জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম মো. নাসিম হোসেন আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলেন,আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির আরও কয়েকজন নেতা ও আইনজীবীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা একটি “বিশেষ নির্দেশনা” প্রশাসনিক ও আইনগত মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান,পিপিএম (বার), পিএইচডি স্বাক্ষরিত স্মারকে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
📌 নির্দেশনার মূল বিষয়
নির্দেশনায় বলা হয়েছে,নিষিদ্ধ বা স্থগিত ঘোষিত “ফ্যাসিস্ট সংগঠন”-এর যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় সংগঠন শক্তিশালী বা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় হতে পারেন, তাদের জামিনের পর অন্য মামলায় “শ্যোন-অ্যারেস্ট” (Shown Arrest) দেখাতে হবে।
তবে যাদের এ ধরনের সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত এমন ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এছাড়া প্রটোকল ও নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
⚖️ আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “Shown Arrest” বাংলাদেশে প্রচলিত একটি প্রক্রিয়া হলেও এটি অবশ্যই ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) ও সংবিধানসম্মত হতে হবে।
আদালত জামিন দিলে পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর ক্ষেত্রে যথাযথ মামলা,তদন্ত ও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা বাধ্যতামূলক।
শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা সম্ভাব্য কার্যক্রমের আশঙ্কার ভিত্তিতে গ্রেফতার হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে।
সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের আশ্রয়ের অধিকার নিশ্চিত করে।
আইনজীবীদের একটি অংশ বলছেন, এ ধরনের নির্দেশনা অপব্যবহার হলে তা “preventive detention” বা প্রতিরোধমূলক আটক হিসেবে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
🏛️ সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী—
আদালতের আদেশ কার্যকর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে কিনা— সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,প্রশাসনিক নির্দেশনা যেন বিচারিক সিদ্ধান্তকে কার্যত অকার্যকর না করে,সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
🧭 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহল এমন নির্দেশনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর ফলে—
রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে,মানবাধিকার ইস্যু আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনায় আসতে পারে।
🛡️ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা দৃষ্টিভঙ্গি
পুলিশ সূত্রের যুক্তি হতে পারে—
নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্গঠন ঠেকানো
সহিংসতা বা নাশকতার ঝুঁকি কমানো
মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম ব্যবস্থা
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইনগত ভারসাম্য বজায় রাখা সমান জরুরি।
⚖️ বিচারিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা
এই ধরনের নির্দেশনার ফলে ভবিষ্যতে দেখা যেতে পারে—
হাইকোর্টে রিট আবেদন
জামিনের অপব্যবহার সংক্রান্ত বিচারিক পর্যবেক্ষণ
গ্রেফতার প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের গাইডলাইন
📊 সামাজিক প্রতিক্রিয়া
সুশীল সমাজের একাংশ মনে করছে—
আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা না থাকলে জনআস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
আবার অন্য অংশ বলছে, উগ্র বা নিষিদ্ধ সংগঠন নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা প্রয়োজন।
🔎 সারসংক্ষেপ
রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের নির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে দেওয়া হলেও এটি আইনি ও সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রশ্ন সামনে এনেছে।বিষয়টি ভবিষ্যতে আদালত,রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

![]()
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কাণ্ড আমাদের বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নৈতিক মাপকাঠি পরীক্ষা করেছে।এ ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার নয়; এটি প্রমাণ করে যে,যখন ক্ষমতা অবাধে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হয়,তখন আইন,ন্যায় ও মানবাধিকার নিপীড়িত হয়।
আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,ট্রাইব্যুনাল কেবল ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও,তাজুল ইসলামের অধীনে এটি ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছে।বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ, আর্থিক লেনদেন এবং ব্যক্তি সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।এর ফলে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা,সেনা সদস্য এবং ব্যবসায়ী সমাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে,যা সামাজিক আস্থা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য বড় ধাক্কা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ভিন্ন নয়।অভিযোগ অনুসারে,তাজুল ইসলাম জামাত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।এটি প্রমাণ করে,বিচারব্যবস্থা কেবল আইন প্রয়োগের জায়গা নয়, রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের লেনদেনের ক্ষেত্রেও রূপ নিতে পারে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও মারাত্মক।অভিযোগ অনুযায়ী,দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক এবং বিদেশে কোটি কোটি টাকা হাতানো হয়েছে।এর ফলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, এবং বিচারকে মানুষের ন্যায়বিচারের আশার প্রতীক হিসেবে দেখা থেকে বিরত করেছে।
আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য স্পষ্ট মেসেজ হলো—ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধুমাত্র আইন নয়, নৈতিকতা,স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা অপরিহার্য।ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হলে,জনগণের আস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একজন চীফ প্রসিকিউটরের এই ধরনের আচরণ আমাদের শিক্ষণীয় বার্তা দেয়—ক্ষমতার অপব্যবহার যদি দমন না করা হয়,তা সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে।এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ তদন্ত,স্বচ্ছ বিচার এবং দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার,যাতে ভবিষ্যতের জন্য বিচারব্যবস্থা পুনরায় আস্থার প্রতীক হতে পারে।


![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত আদালতের (আইসিটি) চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে,তাজুল বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন এবং ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি,চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,তাজুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন।২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পূনর্গঠিত আইসিটির চীফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর,তিনি তার ঘনিষ্ঠদের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন,যারা জামাত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী,তারা ট্রাইব্যুনালের সুযোগ নিয়ে লোক দেখানো বিচার চালিয়েছেন এবং লেনদেন ও দুর্নীতিতে মিশে গিয়েছেন।
আইনি প্রেক্ষাপট
আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল একটি স্বাধীন বিচার প্রতিষ্ঠান।তবে তাজুল ইসলামের কার্যক্রম অনুযায়ী,এটি ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছেছে,যেখানে বিচার কেবল ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হয়েছে।এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ,যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন করে।
সামাজিক প্রভাব
তাজুল ইসলামের কার্যক্রম সমাজের আস্থা ক্ষুণ্ণ করেছে।বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হয়েছে। জনসাধারণ মনে করছে,ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা অর্জনের একটি শক্তিশালী রীতিনীতি গড়ে উঠেছে। সরকারের কর্মকর্তা,সেনা সদস্য ও ব্যবসায়ীরাও এই প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজনীতিকভাবে এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি বড় নজির। অভিযোগ অনুসারে,তাজুল ইসলাম জামাত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-সদস্যরা প্রভাবিত ও হয়রানির শিকার হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও দুর্নীতির প্রভাব
সূত্রের দাবি,তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে লেনদেনের বড় অংশ ক্যাশে এবং বিদেশে হয়েছে।২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ২১ দিনের সফর করেন, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী বৃহৎ আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক একাউন্টেও কোটি কোটি টাকা জমা হয়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
আইনি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,এই ধরনের অপব্যবহার ও দুর্নীতির প্রমাণিত ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে লজ্জিত করেছে।সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, এবং ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করা হলে, বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
আইনগতভাবে,এই ঘটনা দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানহানির অভিযোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাব্যতা তৈরি করেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে,এটি জনমতকে উত্তেজিত এবং সরকার ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন,মশার যন্ত্রণায় নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দেওয়ার জন্য সরকার তৎপর।তিনি রাজধানীর ধলপুর এলাকায় মশক নিধন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন।ওষুধের কার্যকারিতা না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাগরিকদেরও এই কার্যক্রমে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন,ডেঙ্গু মোকাবিলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
![]()
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের কামারহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ‘আলিফ স্টোর’-এ গ্যাস চুলা মেরামতের সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে পাশের দোকানগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।এতে কাপড়ের দোকান, মুদিদোকান ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানসহ মোট ১০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে,প্রাথমিকভাবে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সদ্য অপসারিত চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে।অভিযোগে বলা হয়েছে,তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিচার প্রক্রিয়াকে ‘মামলা-বাণিজ্য’ এবং চাঁদাবাজির হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন।মামলার নামে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সিন্ডিকেটের গঠন ও কর্মকাণ্ড
তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান।অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজ ঘনিষ্ঠ ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীদের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপরই শুরু হয় ‘মামলা-বাণিজ্য’: মামলা থেকে নাম বাদ বা নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার আশ্বাসের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়া।
টার্গেট ছিলেন ব্যবসায়ী,আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হতো বা অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।
ক্যাশিয়ার তামিম ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
সিন্ডিকেটের অন্যতম ‘মূল ক্যাশিয়ার’ ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম।অভিযোগ,তিনি নগদ লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন।দুর্নীতির খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদের মাধ্যমে তবে সূত্র বলছে,এটি মূলত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ
অনুসন্ধানে দেখা গেছে,সিন্ডিকেটটি শুধু নগদ অর্থই নয়, সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করেছিল। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে:
১. প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড (আইবিবি মিরপুর)
অ্যাকাউন্ট নাম: মো. আবুল হোসেন
অ্যাকাউন্ট নং: ৩১৩৩২১৭০০৭৫২৮
জমার তথ্য: ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ১০ লাখ টাকা, ২৭ নভেম্বর আরও ১০ লাখ টাকা।
২. যমুনা ব্যাংক (মতিঝিল)
অ্যাকাউন্ট নাম: মো. সাইফুল ইসলাম
অ্যাকাউন্ট নং: ১১০১০০৬৬৬৭৬৮৮
জমার তথ্য: ২৭ নভেম্বর ১ লাখ ২৭ হাজার, ১ লাখ ৮৪ হাজার এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
৩. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (গুলশান)
অ্যাকাউন্ট নাম: মো. জাহিদ হাসান নয়ন
অ্যাকাউন্ট নং: ১৮৭০২১০১৪০১
অভিযোগ: বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন,এই ব্যাংক লেনদেনগুলো অনুসন্ধান করলে ঘুষের আসল প্রেরক ও গ্রহীতার পরিচয় পাওয়া সম্ভব।
বিদেশ সফর ও অর্থ পাচার
অভিযোগ আছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে তাজুল ইসলাম ২১ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সফর করেন।এ সময় দেশের আদায়কৃত হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ হুন্ডি বা অন্যান্য মাধ্যমে উত্তর আমেরিকায় পাচার করা হয়।
সরকারি পদক্ষেপ
২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকার তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে অপসারণ করে।তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলামকে।
অস্বীকার ও প্রতিক্রিয়া
তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“গণহত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।” অপর প্রসিকিউটর তামিমও অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।তবে প্রকাশিত ব্যাংক লেনদেন ও ডিপোজিট স্লিপ তাদের অস্বীকারকে চ্যালেঞ্জ করছে।
বিশেষ মন্তব্য
মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্থানে যারা নিরপরাধ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে,তাদেরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো উচিত।বিএফআইইউ এবং দুদক যদি এই ব্যাংক লেনদেনের সত্যতা যাচাই করে,আইসিটি ট্রাইব্যুনালের পেছনের এই কালো অধ্যায়ের পুরো সত্য দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতরের হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও দেশের বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের কাছে চলতি বছরের ফিতরার হার ঘোষণা করেন।
জানা গেছে,ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গম,যব,খেজুর,কিসমিস ও পনিরের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী মুসলমানরা সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ যেকোনো হার অনুযায়ী সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।
উল্লেখ্য,গত বছর (১৪৪৬ হিজরি/২০২৫ সালেও) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন,২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআরের চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।তিনি এ ঘটনাকে জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন,ওইদিন বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল।৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের জনগণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন,নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।অতীতের মতো দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
তিনি জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পটুয়াখালীর বাউফলে এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক যুবকের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. রাব্বি সিকদার। তার বাবা নিজাম সিকদারকে অপহরণ মামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদের বাড়ি বাউফল উপজেলার দিপাশা ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।
অপহৃত তরুণীর নাম ইসরাত জাহান মারিয়া।তিনি বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবা হুমায়ুন কবির।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের বাবাকে গ্রেপ্তার করে।এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।তিনি বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
আইজিপি পদে নিয়োগের আগে মো. আলী হোসেন ফকির আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
মো. আলী হোসেন ফকির ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের এক গৃহকর্মী নারী সৌদি আরব থেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দেশে ফেরার পর তার ওপর হওয়া নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে।চারবার হাতবদল, শারীরিক ও যৌন নির্যাতন,বেতন না পাওয়া এবং অমানবিক জীবনযাপনের অভিযোগ তুলে বর্তমানে তিনি রাজধানীর আশকোনা এলাকার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অবস্থান করছেন।
জানা গেছে,২০২৪ সালে এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান ওই নারী।সেখানে পৌঁছানোর পর প্রথমে তাকে একটি অফিসে রাখা হয় এবং পরে একের পর এক বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়।ভাষাগত সমস্যার কারণে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।দীর্ঘদিন খাবার না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খেতে বাধ্য হন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন,তার তিন মাসের বেতন আগেই নিয়োগকর্তাকে পরিশোধ করা হলেও তিনি নিজে কোনো টাকা পাননি।
পরবর্তীতে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মদিনায় পালিয়ে যান এবং খণ্ডকালীন কাজ শুরু করেন।পরে মক্কায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশি হেফাজতেই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা।অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম হাসান জানান,বিদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরা নারীদের জন্য দেশে কোনো নির্দিষ্ট পুনর্বাসন কর্মপদ্ধতি না থাকায় তারা নানা সংকটে পড়ছেন।
এদিকে,১৩ দিন আগে সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরা আরেক নারীকে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র না থাকায় স্বজনরা শনাক্ত করতে পারেননি।পরে পুলিশ ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে,বিদেশগামী নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,োদালাল চক্র নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।বিদ্যমান তদন্তের আলোকে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নতুন করে পৃথক কোনো তদন্ত কমিশন গঠনের পরিকল্পনা নেই।
তিনি আরও বলেন,পিলখানার শহীদ সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের পরিবারের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
![]()
![]()





সর্বশেষ সংবাদ :———