![]()

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।আগামী রোববারের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, দলের নিরঙ্কুশ বিজয় জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনেরই প্রতিফলন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন,বিএনপি জনগণের দল এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। তিনি দাবি করেন,ফ্যাসিস্ট শক্তির কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ভালো রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ‘জুলাই সনদ’-এ বিএনপি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।পাশাপাশি দলের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিও পূরণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি সংসদ পরিচালনা করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।বরং অনানুষ্ঠানিক ফলাফল,ভোটার উপস্থিতি এবং ভোটের সম্ভাব্য হিসাব সামনে আসার পর স্পষ্ট হচ্ছে—এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়,বরং বাংলাদেশের ভোট রাজনীতির গভীর সংকেত বহন করছে।
প্রথমেই একটি বাস্তবতা স্বীকার করা জরুরি।বিএনপির ৫৩% ও জামায়াতের ৪০% ভোটের যে আলোচনা চলছে,তা এখনো নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফল নয়; এগুলো নির্বাচনের আগে জরিপ ও রাজনৈতিক অনুমানের প্রতিফলন।অথচ রাজনৈতিক প্রচারণায় এগুলোকে প্রায় চূড়ান্ত গণরায় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে—যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫৯.৪৪%।অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার ভোটকেন্দ্রেই যাননি।এখন যদি আলোচিত হিসাব অনুযায়ী বিএনপি ৫৩% ও জামায়াত ৪০% কাস্ট ভোট পেয়ে থাকে,তাহলে মোট ভোটারের অনুপাতে বিএনপির সমর্থন দাঁড়ায় প্রায় ৩১.৫%, আর জামায়াতের ২৩.৭%।প্রশ্ন হলো—এটিকে কি সত্যিই সর্বজনীন গণরায় বলা যায়?
ইতিহাসের আয়নায় কঠিন সত্য
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনগুলো দেখলে স্পষ্ট হয়—বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপর দাঁড়িয়ে ছিল।ভোটাররা এক পক্ষের বিকল্প হিসেবে অন্য পক্ষকে বেছে নিয়েছে।
কিন্তু এবার দৃশ্যপট ভিন্ন।আওয়ামী লীগ কার্যত প্রতিযোগিতার বাইরে থাকায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন বিএনপির ভোট জোয়ার তৈরি হবে।বাস্তবতা বলছে ঠিক উল্টো কথা।
বিগত নির্বাচনের তুলনায় বিএনপির ভোটার সমর্থন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়েনি; বরং মোট ভোটারের অনুপাতে তা সীমিতই রয়ে গেছে।অর্থাৎ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য সহজ বিজয় এনে দিলেও ব্যাপক নতুন জনসমর্থন এনে দিতে পারেনি।
অন্যদিকে জামায়াত—যারা একসময় সীমিত ভোটের দল হিসেবে পরিচিত ছিল—সংগঠিত ভোটব্যাংক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে তাদের প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,সমর্থনের পরিধি আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি কার্যকর হয়েছে।
অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলো
এই নির্বাচন কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন সামনে দাঁড় করিয়েছে—
আওয়ামী লীগের ভোট কোথায় গেল?
কেন সেই ভোট সরাসরি বিএনপির দিকে স্থানান্তরিত হলো না?
বড় আসন জয় সত্ত্বেও কেন মোট ভোটারের বড় অংশ নীরব রয়ে গেল?
বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক শূন্যতা মানেই জনসমর্থনের স্থানান্তর নয়।বরং ভোটারদের একটি বড় অংশ বিকল্প না পেলে রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ায়।
আসনের রাজনীতি বনাম জনসমর্থন
বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় আসন জেতা সহজ; কিন্তু স্থায়ী জনসমর্থন অর্জন কঠিন।২০২৬ সালের ফলাফল দেখাচ্ছে—ভোটের ভৌগোলিক বণ্টন বিএনপিকে বড় জয় দিয়েছে,কিন্তু সেটি সার্বিক রাজনৈতিক আধিপত্যের নিশ্চয়তা নয়।
ক্ষমতা পাওয়া আর জনগণের আস্থা অর্জন—এই দুই বিষয় এক নয়।
শেষ কথা: বিজয়ের ভেতরের সতর্ক সংকেত
২০২৬ নির্বাচন বিজয়ীদের জন্য যেমন স্বস্তির,তেমনি সতর্কবার্তাও। কারণ ইতিহাস বলছে—বাংলাদেশের ভোটার নীরব থাকলেও স্থায়ীভাবে অনুপস্থিত থাকে না।তারা সুযোগ পেলে আবার রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে দেয়।
আজকের বড় জয় আগামী দিনের নিশ্চয়তা নয়।বরং এই ফলাফল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি কঠিন বার্তা—জনসমর্থনের শূন্যতা কখনো শুধুই সংখ্যার খেলায় ঢেকে রাখা যায় না।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঘিরে প্রাপ্ত অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ও ভোটার উপস্থিতির তথ্য দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।নির্বাচন কমিশনের দলভিত্তিক চূড়ান্ত ভোটের হার এখনো প্রকাশ না হলেও,বিভিন্ন জরিপ ও প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিএনপি ও জামায়াত জোটের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত মিলছে।
এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ভোটের ধারা বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভোটের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
১৯৯১–২০০৮: প্রধান দলগুলোর ভোটের হার (ঐতিহাসিক চিত্র)
নির্বাচন বছর বিএনপি আওয়ামী লীগ জামায়াত-ই-ইসলামী
১৯৯১ ~৩০.৮% ~৩০.১% ~১২.১%
জুন ১৯৯৬ ~৩৩.৬% ~৩৭.৪% ~৮.৬%
২০০১ ~৪০.৯৭% ~৪০.১৩% ~৪.৩%
২০০৮ ~৩২.৫% ~৪৮.০% (মহাজোট) ~৪.৬%
(তথ্য: নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ঐতিহাসিক ফলাফল ও গবেষণা সংকলন থেকে সংগৃহীত)
ভোট রাজনীতির প্রধান ধারা
১️⃣ ১৯৯১: দ্বিদলীয় রাজনীতির সূচনা
স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচন ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচন।বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোট প্রায় সমান ছিল,তবে জামায়াত তখন উল্লেখযোগ্য তৃতীয় শক্তি হিসেবে প্রায় ১২% ভোট পায়।
২️⃣ ১৯৯৬: আওয়ামী লীগের উত্থান
জুন ১৯৯৬ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রথমবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।জামায়াতের ভোট কমতে শুরু করে এবং তারা জোট নির্ভর রাজনীতিতে বেশি সক্রিয় হয়।
৩️⃣ ২০০১: সমান শক্তির লড়াই
২০০১ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কাছাকাছি ভোট প্রতিযোগিতার একটি।বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটের পার্থক্য ছিল ১ শতাংশেরও কম।বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে এবং জামায়াত জোটসঙ্গী হিসেবে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পায়।
৪️⃣ ২০০৮: একতরফা ভোট প্রবণতা
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। বিএনপির ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং জামায়াতের ভোটও সীমিত পর্যায়ে নেমে আসে।
২০২৬ নির্বাচনের সাথে ঐতিহাসিক তুলনা
বর্তমান নির্বাচনে (অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী):
ভোটার উপস্থিতি: ৫৯.৪৪%
বিএনপি জোট: ২০৯ আসন
জামায়াত জোট: ৬৮ আসন
দলভিত্তিক চূড়ান্ত ভোট শতাংশ এখনো প্রকাশ হয়নি
যদি পূর্বাভাসভিত্তিক ৫৩% (বিএনপি) এবং ৪০% (জামায়াত) কাস্ট ভোট হিসেবে ধরা হয়, তাহলে মোট ভোটারের অনুপাতে তাদের সমর্থন দাঁড়ায় যথাক্রমে প্রায় ৩১.৫% এবং ২৩.৭%।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
১৯৯১–২০০১ সময়কালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোট ছিল প্রায় সমান শক্তির।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের ভোট শীর্ষে উঠলেও পরবর্তী সময় রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ঘটে।
২০২৬ সালের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, দীর্ঘ সময় পর আবার জোটভিত্তিক ডানমুখী ভোট সংহতি তৈরি হয়েছে।
জামায়াতের ভোট সরাসরি না বাড়লেও জোট রাজনীতির মাধ্যমে তাদের আসন প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে—যা ১৯৯১ ও ২০০১ সালের ধারা স্মরণ করায়।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস দেখায়,ভোটের হার খুব কম ক্ষেত্রেই এককভাবে স্থির থাকে; বরং জোট,রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোটার অংশগ্রহণই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।২০২৬ সালের নির্বাচন সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক চক্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে বিভক্ত ভোট আবার নতুন ভারসাম্যে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত গণভোটের ফলাফল প্রথম দৃষ্টিতে একটি স্পষ্ট বিজয়ের ছবি তুলে ধরলেও সংখ্যাগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে আসে।কাগজে-কলমে “হ্যাঁ” জয়ী হলেও গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্নে এই ফলাফল গুরুতর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সংখ্যা যা বলে,বাস্তবতা যা দেখায়
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।কিন্তু গণভোটে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৬০.২৬% ভোটার।অর্থাৎ প্রায় ৪০% ভোটার সরাসরি অংশই নেননি।গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এত বড় অংশের নীরবতা নিজেই একটি রাজনৈতিক বার্তা।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো —
৪ কোটি ৮০ লাখের কিছু বেশি ভোট “হ্যাঁ” পেলেও এটি মোট ভোটারের মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।অর্থাৎ দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার সরাসরি এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেননি।ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সম্মতি পাওয়া গেছে — এমন দাবি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হলেও গণতান্ত্রিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
না ভোটের রাজনৈতিক তাৎপর্য
গণভোটে প্রায় ৩২% ভোটার সরাসরি “না” বলেছেন।উপস্থিত ভোটারের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগের স্পষ্ট আপত্তি কোনো ছোট বিষয় নয়।সাংবিধানিক পরিবর্তনের মতো মৌলিক সিদ্ধান্তে এত বড় বিরোধিতা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ঘাটতি নির্দেশ করে।
সংবিধান সংশোধন বা জাতীয় সনদের মতো কাঠামোগত সিদ্ধান্ত সাধারণ নির্বাচনের মতো নয়; এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য।
রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভয়ভীতির প্রশ্ন
রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি বড় দল নিষিদ্ধ বা কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকলে ভোটের আচরণ স্বাভাবিক থাকে কি না — এ প্রশ্ন অনিবার্য।অভিযোগ রয়েছে,বহু ভোটার নিরাপত্তা, মামলা বা রাজনৈতিক চাপ এড়াতে কৌশলগত ভোট দিয়েছেন। যদি ভোটাররা স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয়ে ভোট দিতে না পারেন, তবে সেই ফলাফল গণতান্ত্রিক ইচ্ছার প্রকৃত প্রতিফলন নয়।
গণভোট তখনই অর্থবহ হয়,যখন সব রাজনৈতিক মত সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ পায়।
সাংবিধানিক বৈধতা বনাম নৈতিক বৈধতা
আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করলেই একটি প্রক্রিয়া বৈধ হয়ে যায় — কিন্তু সাংবিধানিক রাজনীতিতে “আইনি বৈধতা” ও “নৈতিক বৈধতা” এক জিনিস নয়।
একটি জাতীয় সনদ তখনই শক্তিশালী হয় যখন—
বিস্তৃত রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকে,
বিরোধী মতামত অংশ নিতে পারে,
জনগণের স্পষ্ট ও নিরঙ্কুশ সমর্থন পাওয়া যায়।
এই তিনটির কোনোটিই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে ভবিষ্যতে সেই কাঠামো রাজনৈতিক অস্থিরতার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিতর্কিত গণভোট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে দুর্বল করতে পারে। রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে—
নীতিনির্ধারণ অনিশ্চিত হয়,
বিদেশি বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে,
উন্নয়ন সহযোগীরা সতর্ক অবস্থান নেয়।
রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপরই নির্ভর করে।
নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার ঝুঁকি
যদি জনগণের বড় অংশ মনে করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো তাদের সম্মতি ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে সামাজিক মেরুকরণ বাড়ে। এর ফল হয় —
রাজনৈতিক সংঘাত,
বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ,
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা।
ইতিহাস বলছে, বিতর্কিত সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত কখনো দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনে না।
শেষ কথা
সংখ্যাগতভাবে “হ্যাঁ” জয়ী হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই গণভোট একটি বিভক্ত ম্যান্ডেটের প্রতিচ্ছবি।মোট ভোটারের বড় অংশের নীরবতা,উল্লেখযোগ্য “না” ভোট, এবং অসম রাজনৈতিক পরিবেশ — সব মিলিয়ে “জুলাই জাতীয় সনদ”কে নিঃসন্দেহ জনসমর্থনের দলিল বলা কঠিন।
রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হওয়া উচিত বিজয় ঘোষণা নয়, বরং আস্থার পুনর্গঠন। কারণ সংবিধান কেবল ক্ষমতাসীনদের দলিল নয় — এটি পুরো জাতির সামাজিক চুক্তি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের ব্যাংকিং খাত, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সূচকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে তফসিলভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২টি।এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬টি— সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।
বিশেষায়িত ব্যাংক বর্তমানে ৩টি— বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে দেশে ৪৩টি দেশীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ৯টি বিদেশি ব্যাংকসহ মোট ৫২টি বেসরকারি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা সংখ্যা বর্তমানে ১০টি।
অবকাঠামোগত তথ্য অনুযায়ী, ভোলা জেলার ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দেশে গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা উৎসভেদে ২৯ থেকে ৩০টি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে এবং বগুড়াকে নতুন সিটি কর্পোরেশন করার প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামোয় বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যা এখন ২৬টি। মহাকাশ খাতে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট ১টি— বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন রয়েছে ২টি, নবযাত্রা ও জয়যাত্রা।
বন্দর অবকাঠামোর ক্ষেত্রে দেশে সমুদ্র বন্দর ৩টি— চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা; স্থল বন্দর ২৬টি এবং নদী বন্দর ৫৪টি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে,দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এসব পরিসংখ্যান নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে,যা শিক্ষা,গবেষণা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দলের ত্যাগী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মীরা জানিয়েছেন,দুর্দিনে জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করার পরও তাদের অবহেলা করা হয়েছে।যারা ব্যক্তিগত ত্যাগ ও পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলে দলের জন্য লড়াই করেছেন,তাদের পদ,স্বীকৃতি ও ন্যায্য স্থান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কর্মীরা অভিযোগ করেছেন,উচ্চপদস্থরা অযোগ্য ব্যক্তিদের পছন্দসইভাবে পদে বসিয়েছেন, যোগ্য ও নিবেদিত নেতা কর্মীদের পাশ কাটিয়ে। এমপি নোমিনেশন, উপজেলা ও কাউন্সিলর পদসহ দলীয় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অযোগ্যদের দখলে চলে গেছে।
তাদের ভাষ্য, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ কূটনীতি, স্বার্থপরতা এবং গদ্দার মানসিকতা দলের নৈতিকতা এবং আদর্শকে ধ্বংস করেছে। “দুর্দিনে নীরব থেকেও যারা দলের জন্য লড়েছেন, তাদের প্রতিও এক ধরনের অবিচার হয়েছে।এই নিরবতা একটি গুরুতর অপরাধ,”—কর্মীরা বলেন।
এছাড়াও তারা সতর্ক করেছেন,ক্ষমতার অপব্যবহার,দলের মূল কর্মীদের উপেক্ষা এবং সন্ত্রাসী বা দুর্নীতিগ্রস্ত কার্যকলাপে সম্পৃক্ত থাকা নেতাদের শাস্তি সময়ই দেবে।
কর্মীরা দাবি করেছেন,ভবিষ্যতে নেত্রী এবং উচ্চপদস্থরা যদি সত্যিকার কর্মীদের স্বীকৃতি না দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর ব্যবস্থা না করেন,দলের ভেতরের অযোগ্য ও স্বার্থপরতার পুনরাবৃত্তি অবধারিত হবে।
![]()
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজিব আহসান দায়িত্ব গ্রহণের আগেই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন।তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া ঘাটকে টোলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে টোল আদায়ের কারণে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে গিয়েছিল।এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ঘাটটি টোলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উলানিয়া ঘাট মেহেন্দিগঞ্জের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।ঘাট টোলমুক্ত হওয়ার পর স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।তারা আশা করছেন, এ সিদ্ধান্ত যাতায়াত ব্যয় কমাবে,ভোগান্তি হ্রাস করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয়রা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের জনবান্ধব এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সংবিধান ও প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত।শপথ নেওয়া হলো একটি আইনি এবং নৈতিক অঙ্গীকার,যা কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব পালনে সংবিধান ও আইন অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
১. রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ করানো
আইনি ভিত্তি:
সংবিধান, ধারা ৫৬–৫৭ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে শপথ গ্রহণ করান।
শপথ গ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং।
কারা শপথ নেন:
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার
প্রধান বিচারপতি
বিশ্লেষণ:
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ, তাই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষপদগুলোর শপথ গ্রহণের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। এটি সরকার ও বিচারব্যবস্থার সংহতি নিশ্চিত করে।
২. স্পিকারের শপথ গ্রহণ করানো
আইনি ভিত্তি:
সংবিধান ধারা ৭০–৭২, সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য স্পিকারকে দায়িত্ব দেয়।
কারা শপথ নেন:
সংসদ সদস্য
প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি (সংসদ সদস্য নির্বাচনের শপথে নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রে)
বিশ্লেষণ:
সংসদীয় কার্যক্রমে স্পিকার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সদস্যদের প্রতি সংবিধানিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করেন।
৩. প্রধান বিচারপতির শপথ গ্রহণ করানো
আইনি ভিত্তি:
সংবিধান ধারা ৯৫, ১১৮ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক ও বিচারিক পদে শপথ গ্রহণ করান।
কারা শপথ নেন:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
বিশ্লেষণ:
প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
৪. প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করানো
আইনি ভিত্তি:
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ) আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করানো বাধ্যতামূলক।
কারা শপথ নেন:
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
বিশ্লেষণ:
এটি স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে সম্পর্ক সুসংহত করে।
৫. বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের শপথ গ্রহণ করানো
আইনি ভিত্তি:
স্থানীয় সরকার (উপজেলা ও ইউনিয়ন) আইন, ২০০৯
জেলা প্রশাসক (Union Parishad) ও বিভাগীয় কমিশনার স্থানীয় নির্বাচিত কর্মকর্তাদের শপথ করান।
কারা শপথ নেন:
পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর
উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
বিশ্লেষণ:
এটি Grassroot Governance বা সর্বনিম্ন স্তরের প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিত করেন যে স্থানীয় শাসন কার্যক্রম সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
🔹 সংবিধান ও আইনি মূলমন্ত্র
১. শপথ = আইনি ও নৈতিক অঙ্গীকার
২. শপথ গ্রহণকারী অফিসারদের দায়িত্বে স্বচ্ছতা, কর্তব্যপরায়ণতা, ও সংবিধান রক্ষা বাধ্যতামূলক
৩. স্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত শপথ প্রক্রিয়ায় একটি পিরামিড কাঠামো দেখা যায়, যেখানে উচ্চ পদ কর্তৃক নিম্ন পদ শপথ করানো হয়
উপসংহার:
বাংলাদেশে শপথ গ্রহণ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি আইনি, প্রশাসনিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা, যা সরকার, বিচারব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে নতুন সরকার গঠিত হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে না, তবে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ নিয়মমাফিক চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সারাদেশে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং বিভিন্ন অপপ্রচারের যথাযথ জবাব জনগণ ভোটের মাধ্যমে দিয়েছে। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া গেজেট প্রকাশের পর শুরু হবে এবং সবকিছু ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে।
![]()
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।গোপালগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক ধারা বদলে গেছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে,যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত,বিজয়ী হয়েছেন এস এম জিলানী। তিনি পেয়েছেন ৬০,১৬৬ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩,৮৬৭ ভোট।
গোপালগঞ্জ-১ আসনে জয়ী হয়েছেন সেলিমুজ্জামান মোল্যা (৬৮,৮৬৭ ভোট),যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মো. কাবির মিয়া (৫৩,৯৬১ ভোট)।
গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন কে এম বাবর (৪০,০৪৮ ভোট), প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু (৩৩,০৩৯ ভোট)।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে,নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
এবারের ফলাফলকে বিএনপির ইতিহাসে গোপালগঞ্জে সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা অব্যাহত রয়েছে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা দেড়টা পর্যন্ত সারাদেশে ২৯১টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে।এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের সবগুলোর ফল ঘোষণা হয়েছে।
ঢাকায় প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী,১৩টি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ৭টি আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।এসবের মধ্যে একটি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ঢাকার আসনভিত্তিক বিজয়ীরা
ঢাকা–১: খোন্দকার আবু আশফাক (বিএনপি) – ১,৭৩,৭৮১ ভোট
ঢাকা–২: আমানউল্লাহ আমান (বিএনপি) – ১,৬৩,০২০ ভোট
ঢাকা–৩: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (বিএনপি) – ৯৮,৭৮৫ ভোট
ঢাকা–৪: সৈয়দ জয়নুল আবেদীন (জামায়াত) – ৭৭,৩৬৭ ভোট
ঢাকা–৫: মোহাম্মদ কামাল হোসেন (জামায়াত) – ৯৬,৬৪১ ভোট
ঢাকা–৬: ইশরাক হোসেন (বিএনপি) – ৭৮,৮৫০ ভোট
ঢাকা–৭: হামিদুর রহমান (বিএনপি) – ১,০৪,৬৬৬ ভোট
ঢাকা–৮: মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (বিএনপি) – বিজয়ী
ঢাকা–৯: হাবিবুর রশিদ (বিএনপি) – ১,১১,২১২ ভোট
ঢাকা–১০: শেখ রবিউল আলম (বিএনপি) – ৮০,৪৩৬ ভোট
ঢাকা–১১: নাহিদ ইসলাম (এনসিপি) – ৯৩,৮৭২ ভোট
ঢাকা–১২: মো. সাইফুল আলম (জামায়াত) – ৫৩,৭৭৩ ভোট
ঢাকা–১৩: ববি হাজ্জাজ (বিএনপি সমর্থিত) – ৮৮,৩৮৭ ভোট
ঢাকা–১৪: মীর আহমাদ বিন কাসেম (জামায়াত) – ১,০১,১১৩ ভোট
ঢাকা–১৫: শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির) – ৮৫,১৩১ ভোট
ঢাকা–১৬: মো. আব্দুল বাতেন (জামায়াত) – ৮৮,৮২৮ ভোট
ঢাকা–১৭: তারেক রহমান (বিএনপি) – ৭২,৬৯৯ ভোট
ঢাকা–১৮: এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন (বিএনপি) – ১,৪৪,৭১৫ ভোট
ঢাকা–১৯: দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বিএনপি) – ১,৯০,৯৭৬ ভোট
ঢাকা–২০ (ধামরাই): মো. তমিজ উদ্দিন (বিএনপি) – ১,৬০,৪২৮ ভোট
রাজধানীর ফলাফলে বিএনপি স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি চমক দেখিয়েছে।বিশেষ করে ঢাকা–১১ আসনে এনসিপির জয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমজনতার দল থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থী মোঃ তারেক রহমান (তারেক হোসেন নামেও পরিচিত) বিজয়ী হতে পারেননি।তিনি ঢাকা-১২ আসন থেকে ‘প্রজাপতি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে তিনি মাত্র ১ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন।অপরদিকে, ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ সাইফুল আলম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী,আমজনতার দলের এই তারেক রহমানকে এবারের নির্বাচনের ‘সবচেয়ে গরিব প্রার্থী’ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছিল,যা নির্বাচনী আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে।
অন্যদিকে,একই নামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,তিনি সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
![]()
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বিজয়ী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় সংসদে যাচ্ছে।ফলে সরকার গঠনের জন্য অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট করার প্রয়োজন বা প্রশ্ন নেই।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত নির্বাচনী ফলাফল হাতে পাওয়ার পর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন,বিভিন্ন সূত্র,গণমাধ্যম এবং দলের নির্বাচনী সেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাচ্ছে।এতে দল এককভাবেই সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। তিনি জানান,সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কোনো কোয়ালিশন বা জোটের প্রয়োজন কিংবা সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন,বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সহযোগীদের নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও সেই রাজনৈতিক অঙ্গীকার বজায় রাখা হবে।তবে ‘জাতীয় সরকার’ বলতে সংসদের সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করা বোঝায় না; বরং ঐকমত্যের ভিত্তিতে আন্দোলনের সহযোগীদের নিয়েই সরকার গঠন করা হবে।
সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন,সুশাসন নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ও প্রাণবন্ত বিরোধী দল থাকা জরুরি।এতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা বজায় থাকবে।
বিজয় উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,বিএনপি কোনো ধরনের বিজয় উল্লাস করবে না।জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করাই এখন দলের প্রধান দায়িত্ব।জনগণের সমর্থন থেকেই এ বিজয় এসেছে বলে দাবি করে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ও মেধাভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কক্সবাজার-১ আসনের বেসরকারি ফলাফলে সালাহউদ্দিন আহমদ ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট।এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন এবং ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৭টি।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপির সাতজন ‘অভিমানী’ প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। দলীয় প্রতীক ধানের শীষ না পেয়ে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং নিজ নিজ আসনে জয় লাভ করেন
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন—
১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
২. কিশোরগঞ্জ-৫: শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল
৩. টাঙ্গাইল-৩: লুৎফর রহমান খান আজাদ
৪. চাঁদপুর-৪: আব্দুল হান্নান
৫. কুমিল্লা-৭: আতিকুল আলম শাওন
৬. ময়মনসিংহ-১: সালমান ওমর রুবেল
৭. দিনাজপুর-৫: রেজওয়ানুল হক
দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় এসব নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থান ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আসনে বিজয়ী হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।বরগুনা-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৬ ভোট। ফলে ৪ হাজার ১৭৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন অলি উল্লাহ।
বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন।এ আসনে নতুন ভোটার রয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৬০ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৬ হাজার ২৯৮ জন।
উল্লেখ্য,গত ১৬ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন।সেদিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, ইসলামপন্থী শক্তিকে একত্র করার ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।পরে দলটি ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দেয়।
এই বিজয়ের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার আসন জয় ইসলামী আন্দোলনের, বরগুনা-১ এ এমপি অলি উল্লাহ
![]()
সংবাদ ডেস্ক।।বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক জাতীয় গণভোটের সর্বশেষ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষে সারাদেশে গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
গণভোটের ফলাফল
সারাদেশে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার।
গণভোটে —
‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪,৮০,৭৪,৪২৯ (জয়ী)
‘না’ ভোট: ২,২৫,৬৫,৬২৭
ফলাফলে দেখা যায়,সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার গণভোটের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনের ফলাফল
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
দেশের অধিকাংশ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ ও সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসনে বেশ কয়েকজন আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,বিএনপি,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,খেলাফত মজলিস,জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনেকে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি।
জামায়াত নেতাদের পরাজয়
কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া–মহেশখালী) আসনে জামায়াতের এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট পেলেও বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট পেলেও বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার (লবি) ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট পেয়ে জয় পান।ব্যবধান ছিল ২ হাজার ৭০২ ভোট।
ইসলামী আন্দোলনের ফয়জুল করীমের পরাজয়
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬—দুটি আসনেই পরাজিত হন।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার পান ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট,ফয়জুল করীম পান ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট।
বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির আবুল হোসেন খান পান ৮২ হাজার ২১৭ ভোট,ফয়জুল করীম পান ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।
আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ফলাফল
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মাত্র ৩,৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারান।আসনটিতে বিএনপির মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের শিশির মনির বিএনপির মো. নাছির চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।
এনসিপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির সারজিস আলম ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট পেলেও বিএনপির নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন।ব্যবধান ৮,৩০৪ ভোট।
ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পান; বিএনপির হাবিবুর রশিদ ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
ঢাকা-১৩ আসনে খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক ৮৩ হাজার ৮৫১ ভোট পেলেও বিএনপির ববি হাজ্জাজ ৮৬ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ফলাফল
ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা রাশেদ খান তৃতীয় হন।
রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পরাজিত হন।
ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির আমিনুল হককে হারিয়ে জামায়াতের আব্দুল বাতেন জয় পান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে জয় পান জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল।
ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল হক পরাজিত হন জামায়াতের সাইফুল আলমের কাছে।
নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির গোলাম সারোয়ার তুষার তৃতীয় হন।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে চমকপ্রদ ফলাফল দেখা গেছে,যেখানে অনেক পরিচিত রাজনৈতিক মুখ পরাজয়ের মুখ দেখেছেন।
![]()
দেবিদ্বার(কুমিল্লা)প্রতিনিধি।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার দেবিদ্বার আসনে বিজয়ী হয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ফলাফল ঘোষণার পর এলাকায় তার সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেকে সাধারণ পরিবারের সন্তান হিসেবে তুলে ধরেন।তার বাবা রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন—এ বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষের সমালোচনার অভিযোগও ওঠে। তবে ভোটের ফলাফলে দেখা যায়,এসব বিতর্ক তার সমর্থনভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,“এই বিজয় দেবিদ্বারের সাধারণ মানুষের।আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।” তিনি এলাকায় দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন।
তার সমর্থকদের দাবি,এই ফলাফল প্রমাণ করে ভোটাররা ব্যক্তি যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে কিনা,সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,দেবিদ্বার আসনের এবারের ফলাফল তরুণ নেতৃত্বের উত্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন নতুন সংসদ সদস্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য,দেবিদ্বার আসনটি কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় এলাকা হিসেবে পরিচিত।নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও ভোটের হার সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটের হার বৃদ্ধির গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্যকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ভোটের হার ছিল ১৪.৩২ শতাংশ।মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন হিসেবে এ সময়ে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখের বেশি ভোট পড়ে। তবে বেলা ১২টার আপডেটে ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৩২.৮৮ শতাংশ।অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোটের হার বৃদ্ধি পায় ১৮.৫৬ শতাংশ,যা সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ ভোটের সমান।
এ তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ভোটগ্রহণের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।তাদের যুক্তি,এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক ভোট গ্রহণ বাস্তবসম্মত কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।কেউ কেউ কেন্দ্র ও বুথভিত্তিক গড় ভোটের হিসাব তুলে ধরে দাবি করেন,এক ঘণ্টায় প্রতি বুথে গড়ে কয়েকশ’ ভোট গ্রহণ করা কঠিন।
তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহলের মতে,শতাংশ বৃদ্ধির এই চিত্র সব সময় সরাসরি এক ঘণ্টার ভোটের প্রতিফলন নাও হতে পারে।অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে দেরিতে তথ্য আসা,একসঙ্গে আপডেট হওয়া বা রিপোর্টিং পদ্ধতির কারণে হঠাৎ বড় বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।এছাড়া কেন্দ্রভেদে ভোটগ্রহণের গতি ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে কিছু রাজনৈতিক পক্ষ দাবি করেছে,ভোটের সার্বিক পরিবেশ ও অংশগ্রহণের হার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।তাদের মতে,বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও ভোটার উপস্থিতি কম হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের সমর্থকরা বলছেন,ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলের ওপর আস্থা রাখা উচিত।
নির্বাচনের সার্বিক চিত্র, চূড়ান্ত ফলাফল এবং পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার মূল্যায়ন পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণের পর বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে গড়ে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে।এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৩২.৮৮ শতাংশ। ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন,চূড়ান্ত হিসাবে ভোটের হার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে হতে পারে।
বিভাগ ও জেলাভিত্তিক চিত্র
এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে বিভাগ বা জেলাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।তবে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাথমিক ভোটের হার পাওয়া গেছে।
রাজশাহী জেলা: দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশের বেশি।এর মধ্যে রাজশাহী-৪ আসনে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং রাজশাহী-২ (সদর) আসনে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
খুলনা জেলা: জেলার ছয়টি আসনে ভোটের হার প্রায় ৬৫ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে,যা দেশের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি।
বগুড়া জেলা: প্রথম সাড়ে ৬ ঘণ্টায় (দুপুর ২টা পর্যন্ত) ভোট পড়েছে ৫৩.১৪ শতাংশ।
ঢাকা মহানগর: রাজধানীর কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোটের হার ছিল মাত্র ৬ থেকে ১৩ শতাংশ।ঢাকার সার্বিক ভোটের হার অন্যান্য জেলার তুলনায় কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণনা ও ফলাফল
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট গণনা চলছে।নির্বাচন কমিশন পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ফল প্রকাশ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।
সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।তবে চূড়ান্ত ফলাফল ও ভোটের হার জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
![]()
![]()

সর্বশেষ সংবাদ :———