![]()

২০২৬ সালের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরিণতি ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতোই হতে পারে—হুঁশিয়ারি ড. হাসান মাহমুদের


নিজস্ব প্রতিবেদক।।একটি সম্প্রতি প্রকাশিত মতামত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতে,আগামী নির্বাচনে সরকার গঠনে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৮৮ জন মনে করছেন বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে,যা সবচেয়ে বেশি।
জরিপ অনুযায়ী আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও বিএনপি প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এরপরে অবস্থান করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,যারা ২৫৯ ভোট পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ২২৫ ভোট,জাতীয় পার্টি ১৯৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদ ৯২ ভোট পেয়েছে।ছোট দলগুলোর মধ্যে জেএসডি পেয়েছে ৩১ ভোট এবং খেলাফত মজলিশ ২৯ ভোট।
জরিপের ভিত্তিতে ধারণা করা যায়,আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করছে বিএনপি,এরপর ইসলামী আন্দোলন এবং জামায়াত।অন্যান্য ছোট দলগুলো সীমিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,এই জরিপ জনমতের একটি আভাস দেয়,তবে বাস্তব সরকার গঠন নির্বাচনী ফলাফল এবং জোট সমীকরণের ওপর নির্ভর করবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ইউটিউবে কত ভিউ হলে কত টাকা পাওয়া যায়? সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট হিসাব ঘোরে: ১ হাজার ভিউতে ৫০ টাকা,১ লাখ ভিউতে ৫ হাজার টাকা, ১ কোটি ভিউতে ৫ লাখ টাকা ইত্যাদি।তবে বাস্তবে ইউটিউবের আয় নির্দিষ্ট কোনো স্থির হারে নির্ধারিত নয়।আয় নির্ভর করে CPM, RPM, দর্শকের দেশ, ভিডিওর ধরন এবং বিজ্ঞাপনের ওপর।
ইউটিউব আয় কীভাবে নির্ধারিত হয়?
ইউটিউব মূলত বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে এবং সেই আয়ের একটি অংশ নির্মাতাদের দেয়। এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টার্ম রয়েছে:
CPM (Cost Per 1,000 Impressions):
বিজ্ঞাপনদাতা প্রতি ১,০০০ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য কত অর্থ দেয়।
RPM (Revenue Per 1,000 Views):
নির্মাতা প্রতি ১,০০০ ভিউ থেকে গড়ে কত আয় করেন (ইউটিউবের অংশ কেটে নেওয়ার পর)।
ইউটিউব সাধারণত বিজ্ঞাপন আয়ের ৫৫% নির্মাতাকে এবং ৪৫% নিজে রাখে (YouTube Partner Program অনুযায়ী)।
বাংলাদেশে গড় আয় কত?
বাংলাদেশি অডিয়েন্সভিত্তিক সাধারণ বিনোদন চ্যানেলের ক্ষেত্রে:
প্রতি ১,০০০ ভিউতে আয়: প্রায় ২০–৮০ টাকা
গড় হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে ধরা হয়: ৪০–৬০ টাকা
অর্থাৎ ১ লাখ ভিউ হলে আয় হতে পারে আনুমানিক ৪,০০০–৬,০০০ টাকা, তবে এটি নিশ্চিত হার নয়।
আন্তর্জাতিক ভিউ হলে আয় কত?
যদি দর্শক যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,যুক্তরাজ্য বা ইউরোপ থেকে হয়:
প্রতি ১,০০০ ভিউতে আয় হতে পারে ৫–১০ ডলার (প্রায় ৬০০–১,২০০ টাকা)
কিছু উচ্চমূল্যের নিশে (ফাইন্যান্স,ইনভেস্টমেন্ট,সফটওয়্যার) CPM আরও বেশি হতে পারে।
ভিডিওর ধরনভেদে আয়
ভিডিওর ধরন সম্ভাব্য আয় (প্রতি ১,০০০ ভিউ)
কমেডি/বিনোদন কম
ভ্লগ মাঝারি
টেক রিভিউ বেশি
ফাইন্যান্স/বিজনেস খুব বেশি
শিক্ষা/অনলাইন ইনকাম বেশি
লং ভিডিও বনাম শর্টস
লং ভিডিও:
৮ মিনিটের বেশি হলে Mid-roll ads যুক্ত করা যায়
আয় তুলনামূলক বেশি
শর্টস:
কোটি ভিউ হলেও আয় কম
শর্টস ফান্ড ও বিজ্ঞাপন শেয়ারিং আলাদা পদ্ধতিতে হয়
১ কোটি শর্টস ভিউয়ের আয় অনেক সময় ৫০ হাজার টাকারও কম হতে পারে (চ্যানেলভেদে পরিবর্তনশীল)
উদাহরণ হিসাব (বাংলাদেশি গড় RPM ৫০ টাকা ধরে)
ভিউ আনুমানিক আয়
২,০০০ ১০০ টাকা
১০,০০০ ৫০০ টাকা
১,০০,০০০ ৫,০০০ টাকা
১০,০০,০০০ ৫০,০০০ টাকা
১,০০,০০,০০০ ৫,০০,০০০ টাকা
⚠️ এটি কেবল গড় ধারণা; বাস্তবে আয় কম বা বেশি হতে পারে।
আয় কমবেশি হওয়ার কারণ
১. ভিডিওর নিশ
২. দর্শকের দেশ
৩. বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের হার (Monetized Playbacks)
৪. ভিডিওর দৈর্ঘ্য
৫. মৌসুমি বিজ্ঞাপন বাজেট (বিশেষ করে বছরের শেষ প্রান্তিকে CPM বেশি হয়)
৬. দর্শকের বিজ্ঞাপন স্কিপ বা অ্যাড ব্লকার ব্যবহার
উপসংহার
ইউটিউবে আয় শুধুমাত্র ভিউয়ের ওপর নির্ভর করে না।একই ভিউ হলেও দুই চ্যানেলের আয় সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতি ১,০০০ ভিউতে ২০–৮০ টাকা একটি সাধারণ গড় ধারণা হিসেবে ধরা যায়।তবে আন্তর্জাতিক অডিয়েন্স ও উচ্চমূল্যের নিশে আয় কয়েকগুণ বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে হলে শুধু ভিউ নয়—নিশ নির্বাচন,অডিয়েন্স টার্গেটিং ও কনটেন্টের মান উন্নত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার দাবি করে এবং কৌশলগত কারণে ছাত্রলীগের ছদ্মবেশ ধারণের কথা উল্লেখ করে দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস বা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন,২০১৩ সালের পর বিরোধী মতাদর্শের কর্মীদের জন্য প্রকাশ্যে রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়ে।সে প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে ছাত্রলীগের আশ্রয়ে থেকে সংগঠনের ভেতরে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তার দাবি,এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে ছাত্রলীগকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেটি পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালের পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায় বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ছিল।এ সময় অনেক কর্মী নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন—এমন দাবিও মাঝেমধ্যে উঠে এসেছে।তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য সীমিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ভেতর থেকে সংগঠন দুর্বল করার কৌশল বা ‘সাবভার্সন’ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন নয়। ইতিহাসে বিভিন্ন দেশে দমন-পীড়নের সময় এ ধরনের কৌশল দেখা গেছে।তবে এ ধরনের কর্মকৌশল নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত।
‘২৪-এর অভ্যুত্থান’ প্রসঙ্গ
সাদিক কায়েমের বক্তব্যে ‘২৪-এর অভ্যুত্থান’-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু অংশের আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন,সে সময়কার সহিংসতা ও সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
তবে আন্দোলনের সাফল্য একক কোনো কৌশলের ফল নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ,রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং সামাজিক ক্ষোভ—সব মিলিয়েই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
জনমনে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমে এ বক্তব্য নিয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একদল সমর্থক বলছেন,এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও সাহসী রাজনৈতিক কৌশল,যা ছাড়া বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হতো না।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে,এ ধরনের অনুপ্রবেশের দাবি আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের ত্যাগের প্রশ্ন তুলতে পারে। তারা রাজনৈতিক নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ ছাত্ররাজনীতিতে আস্থার সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে সাদিক কায়েমের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণও প্রকাশিত হয়নি।
বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে জ্বালানি খাতে কার্যক্রম চালালেও মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন ছাড়া বড় কোনো মার্কিন ব্র্যান্ডের দৃশ্যমান উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই বাজারে স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতি এ বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,উচ্চ করহার এবং মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার জটিলতা মার্কিন বিনিয়োগ কম থাকার অন্যতম কারণ।
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকেই নির্বাচিত করুক না কেনযুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মূলত দুটি জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে—একটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যটি জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এককভাবে সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তাদাতা দেশ।
তিনি জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দুই বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তবে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এত বড় সংকট একা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্যান্য দাতা দেশ ও অংশীদারদের সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে তহবিল সংকটের কারণে রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।নির্বাচন শেষে বিজয়ী দলের প্রধান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে সংসদ বর্তমানে কার্যকর না থাকায় শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে?
স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর গ্রেফতারের কারণে সংসদীয় শপথ কার্যক্রমে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।সাধারণত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন,রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা প্রয়োজনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পড়াতে পারেন।
তিনি আরও জানান,অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সংবিধানের বিধান
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অন্য কাউকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন।
অন্যদিকে,সংসদ সদস্যদের শপথ সাধারণত স্পিকার পড়ান। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
নির্বাচনী চিত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ১,২২০ জন।
৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
উপসংহার
সংসদ কার্যকর না থাকলেও সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার অনুযায়ী মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন—এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।এখন নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে মাষ্টার গোলাম মোস্তফা নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে।এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ,একটি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা,একটি ল্যাপটপ,ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সরে দাঁড়ানো প্রার্থীরা হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এসএম আবুল কালাম আজাদ,ডাব প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ, আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর হুমায়ুন।
এদিন গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।তিনি বলেন,বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর চার স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ বিষয়ে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
উপস্থিত দুই প্রার্থী— এসএম আবুল কালাম আজাদ ও শামীম আহমেদ— তাৎক্ষণিকভাবে তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।অপর দুই প্রার্থী মো. রাশেদুল হক ও মঞ্জুর হুমায়ুন মুঠোফোনে সমর্থনের কথা জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানান আবদুস সালাম।
এর আগে,গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মোরগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েতউল্লাহও তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
![]()
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সম্মেলন করেছেন দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী ২৯২৬) দুপুর ১২টার সময় বরিশাল -৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের দুই প্রার্থী জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত মটর গাড়ী প্রতিকের প্রার্থী আব্দুস ছালাম খোকন ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত ছড়ি মার্কা প্রতিকের প্রার্থী আঃ জলিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন,নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে জামায়াতের নেতারা লাঠিসোটা মজুত এবং বহিরাগতদের ঢোকাচ্ছেন।তারা নির্বাচনে আদিপত্ত্য বিস্তার এবং কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে উপজেলার চানপুর ইউনিয়ন ও চরগোপালপুর ইউনিয়নে জামায়াত নেতাদের আস্তানা থেকে লাঠিসোঁটা উদ্ধার করেছেন প্রশাসন।বরিশাল সদর ও মুলাদি বাবুগঞ্জে তাদের নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় বরিশাল -৪ হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তার করতে সেখানকার জামায়াতের নেতাকর্মীরা এসেছেন।আমরা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।আমরা ৭১এর বিশ্বাসী।স্বাধীনতা বিরোধীরা নির্বাচনে নানা অপকৌশল করে যাচ্ছেন।
আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি যাতে বহিরাগতদের রুখে দেয় কোন প্রকার ঝামেলা না করতে পারে।আমরা তাদের কর্মকান্ডে শংকিত।
একই সময়ে দুইজন সংসদ সদস্য পদ প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফেসবুক ভাইরাল জনকল্যান পার্টির চেয়ারম্যান খায়রুল দেওয়ান।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা আমির ৫০ লাখ টাকা নগদ অর্থসহ আটক হওয়ার ঘটনায় দল অভিযোগ করেছে এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক ও অপপ্রচার।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন,আটক নেতা ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যথাযথ অনাপত্তিপত্র (NOC) নিয়ে বিমানে ওঠেন।কিন্তু সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন,এটি জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সাজানো ঘটনা।
জুবায়ের আরও বলেন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিক নির্যাতনের কারণে ওই বয়স্ক নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানিয়ে দেন,ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বাচনী হামলা ও হুমকি অব্যাহত আছে।
দল নির্বাচনের আগেই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।
ঢাকায় অবস্থানরত অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা যাঁর আবাসনভিত্তিক কেন্দ্রে ভোট দেবেন:
উপদেষ্টা দপ্তর / মন্ত্রণালয় ভোট কেন্দ্র অবস্থান
আসিফ নজরুল আইন উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকা
সি আর আবরার শিক্ষা উপদেষ্টা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ঢাকা
শারমীন এস মুরশিদ সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা মিরপুর-১২, ই-ব্লক ঢাকা
ফরিদা আখতার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা শ্যামলী শিশুমেলার কাছে ঢাকা
এম সাখাওয়াত হোসেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা মহাখালী, ডিওএসএইচ ঢাকা
আলী ইমাম মজুমদার ভূমি উপদেষ্টা উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় ঢাকা
ফারুক-ই-আজম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা চট্টগ্রাম, মেহেদীবাগ চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা গুলশান-২, গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকা
শেখ বশিরউদ্দীন বাণিজ্য উপদেষ্টা ধানমন্ডি ঢাকা
খালিদ হোসেন ধর্ম মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা চট্টগ্রাম ঢাকায় থাকবেন,ভোট সম্ভবত কেন্দ্রে যাবেন না
![]()
চট্টগ্রাম ব্যুরো।।চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্র থেকে ক্যামেরা দুটি তুলে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়,জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে নতুন দুটি ক্যামেরা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।আনোয়ারার ইউএনও ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন,ক্যামেরা পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ সংশোধন করেছে। নতুন আইনটি ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে পরিচিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন,নতুন সংশোধনটি নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে আনা হয়েছে। এই সংশোধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা আইনিভাবে নিষিদ্ধ করা।
আইন সংশোধনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
হেইট স্পিচ শুধুমাত্র সহিংসতা উসকে দেওয়ার সাথে সম্পর্ক থাকলে অপরাধ গণ্য হবে।
বিটিআরসি’র কার্যকরী ক্ষমতা পুনর্বহাল,মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা সীমিত।
বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো নিশ্চিত করতে জরিমানা কমানো হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন।
আন্তর্জাতিক মানের নজরদারি কাঠামো প্রবর্তন, নজরদারিকে ‘জরুরি’ ও ‘অ-জরুরি’ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন,“যে দেশে আগে টেলিকম আইনের অপব্যবহার হয়ে বেআইনি নজরদারি ও ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটেছিল,সেখানে এই সংশোধন এক মানবিক, দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ।”
নতুন এই আইনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার,বাকস্বাধীনতা ও ডিজিটাল অর্থনীতির ধারাবাহিকতা আইনি সুরক্ষা পেল।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর বনানীতে প্রাণীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ‘ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক’ উদ্বোধন করা হয়েছে।বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) এর উদ্যোগে বনানীর কে ব্লক,লেকপাড় সড়কের ১৮ নম্বর ভবনে ক্লিনিকটি চালু হয়। উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাওয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান।
বাওয়া জানিয়েছে,দেশের সব প্রাণীকে নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে।সংগঠনটি ঢাকা শহরে আহত ও অসুস্থ প্রাণীদের জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পরিচালনা করছে।
নতুন ক্লিনিকের মাধ্যমে পথপ্রাণীসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।আহত ও অসুস্থ প্রাণীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করলে প্রাণহানি কমবে।একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে প্রাণী সুরক্ষার সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনের পর তারেক রহমান ক্লিনিকের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামীকালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়- রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি বাড়িতে বিকেল ৪টার দিকে এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন সংবাদ সম্মেলনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রস্তুতি,নির্বাচনী মনোভাব এবং সরকারের প্রতি তাদের অবস্থান নিয়ে ঘোষণা আশা করা হচ্ছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিনে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি,২৩৯ জন দ্বিপাক্ষিক দেশ থেকে আগত এবং ৫১ জন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন ১৫৮ জন।তুলনায় এবারের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।পর্যবেক্ষক পাঠানো সংস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস,কমনওয়েলথ সচিবালয়,ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই),ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই),ওআইসি,আইসিএপিপি ও ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস।
পর্যবেক্ষকরা বিশ্বের ২১টি দেশ থেকে আসছেন।
উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো:
পাকিস্তান,শ্রীলঙ্কা,তুরস্ক,মালয়েশিয়া,জাপান,চীন,রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়া।
সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ বলেন,“বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পর্যবেক্ষক পাঠানো বাংলাদেশের অবাধ,সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।”
বিশ্বনেতাদের মধ্যেও অংশগ্রহণ রয়েছে।ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো,ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা,তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল এবং যুক্তরাজ্যের লর্ড রিচার্ড নিউবি নির্বাচনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।
এছাড়া ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দুই হাজারের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তিকে ঘিরে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নানা প্রশ্ন উঠেছে।সমালোচকদের মতে,সামান্য শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে এতে বাংলাদেশের ওপর বিস্তৃত শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) প্রকাশিত ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তিপত্র অনুযায়ী,বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার পণ্য শুল্কমুক্ত বা বিশেষ সুবিধায় মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি মার্কিন পণ্যে সমপর্যায়ের সুবিধা দেবে।এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক,চিকিৎসা সরঞ্জাম,আইসিটি পণ্য,গাড়ি ও যন্ত্রাংশ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন শিল্পসামগ্রী।
প্রতিরক্ষা ও জ্বালানিতে বাড়তি অঙ্গীকার
চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে,বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি সামরিক সরঞ্জাম কেনার চেষ্টা করবে।একই সঙ্গে ‘নন-মার্কেট দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রগুলোর (যুক্তরাষ্ট্রের সংজ্ঞায় চীন ও রাশিয়া) সঙ্গে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি করলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে পুনরায় শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
পারমাণবিক খাতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশকে তাদের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে,সেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ পারমাণবিক চুল্লি,জ্বালানি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না।এতে ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘ম্যানেজড ট্রেড’ ব্যবস্থার অভিযোগ
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে সম্মত হয়েছে।এছাড়া রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে। কৃষিখাতে অন্তত ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির অঙ্গীকারও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা একে ‘নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য’ বা ম্যানেজড ট্রেডের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন,যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
শ্রম ও ডিজিটাল শর্ত
চুক্তি অনুযায়ী,বাংলাদেশকে ধর্মঘটের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে এবং ট্রেড ইউনিয়নের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য জরিমানা বাড়াতে হবে।দুই বছরের মধ্যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সাধারণ শ্রম আইনের আওতায় আনতে হবে।
ডিজিটাল খাতে বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় এমন সাইবার-নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে,যাতে ‘অন্য বিদেশি সরকার’ তথ্য না পায়।পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি প্রশাসন বিধিমালা (ইএআর) অনুযায়ী পণ্যের পুনঃরপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কাস্টমস লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,এই চুক্তি বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে,বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য নীতিতে।তার মতে, বাড়তি শুল্ক আরোপের পর তা কমানোর শর্ত হিসেবে নানা বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন,সামান্য শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দেওয়া হয়েছে। বোয়িং বিমান কেনা ও এলএনজি আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন,নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এমন চুক্তি সই করা বিতর্কিত।নির্বাচিত সরকার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেত।
অশুল্ক বাধা কমানোর উদ্যোগ
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অনুমোদিত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ বাংলাদেশ সরাসরি গ্রহণ করবে।আগে এসব পণ্যের ক্ষেত্রে দেশে পুনরায় পরীক্ষা ও অনুমোদনের প্রয়োজন হতো।কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে পুরোনো ‘ডাবল ফিউমিগেশন’ শর্তও শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সার্বিক চিত্র
চুক্তিকে সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে দেখালেও অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন,এতে বাংলাদেশের ওপর কৌশলগত নির্ভরতা বাড়তে পারে।সামান্য শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে প্রতিরক্ষা,জ্বালানি,ডিজিটাল তথ্য ও শ্রম খাতে বিস্তৃত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
চুক্তিটি কার্যকর হলে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব কী হবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে,নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন।
![]()
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মেক্সিকো আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের সময় নিরাপত্তা জোরদার করতে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে।এই চারপায়ের রোবটগুলো বিপজ্জনক এলাকায় গিয়ে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে পুলিশকে পরিস্থিতি জানানোর সক্ষমতা রাখে।পুলিশ এই ভিডিও দেখে নিরাপদে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
মহড়ার সময় দেখা গেছে,রোবট কুকুর একটি পরিত্যক্ত ভবন ও সিঁড়ি পেরিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে লাউডস্পিকারে বন্দুক ফেলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে।গুয়াদালুপের মেয়র হেক্তর গার্সিয়া জানিয়েছেন, রোবটগুলো পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ে সহায়তা করার জন্য ব্যবহৃত হবে।
বিশ্বকাপ ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই শেষ হবে।গুয়াদালুপ শহর এই রোবটগুলো কেনার জন্য ২৫ লাখ পেসো (১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার) ব্যয় করেছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।একইসঙ্গে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াইয়ে তার অভিষেক ঘটছে।
নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হন তিনি।তার নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনি প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। লদল থেকে তাকে ‘একক নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তারেক রহমানকে ঘিরে শুধু বিএনপি সমর্থকরাই নয়,অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ফেরেন।দেশে ফিরে দলীয় সংবর্ধনা পাওয়ার কয়েকদিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান।এরপর ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গঠনতন্ত্রের ৭(২) ধারা অনুযায়ী তাকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
যদিও ২০১৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থান করেই তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।২০০২ সালে তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।পরে ২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নেতৃত্বে আসা ছিল ‘অনিবার্য’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের পর থেকেই বিএনপি কার্যত তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছিল।ফলে চেয়ারম্যান হিসেবে তার অভিষেক অনেকটাই অনিবার্য ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন,প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদেশে থেকেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা তারেক রহমানের বড় সাফল্য।এখন নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই তার নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হবে।
চ্যালেঞ্জের নির্বাচন
এবারের নির্বাচনে বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না।অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় তারা নির্বাচনে নেই।ফলে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এককালের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিশ্লেষকদের মতে,আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচন তারেক রহমানের জন্য একদিকে সুযোগ,অন্যদিকে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।
অতীতের বিতর্ক ও নির্বাসন
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান।আঠারো মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান।দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের শেষদিকে তিনি দেশে ফেরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,দেশে ফেরার পর বিএনপি তারেক রহমানকে নতুনভাবে ‘ইতিবাচক ভাবমূর্তি’র নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।বিশেষ করে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের’ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পটভূমি
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান।দলের ওয়েবসাইট অনুযায়ী,তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হলেও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’ উল্লেখ করা হয়েছে।
আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর দলের অভ্যন্তরে তার প্রভাব বাড়তে থাকে।ওই সময় থেকেই তাকে ঘিরে দলের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব বলয় তৈরি হয়।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নতুন বাণিজ্যচুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর দেশটি থেকে প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন (৩৫০ কোটি) ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করবে বাংলাদেশ। গত সোমবার সই হওয়া চুক্তির ‘বাণিজ্যিক সমঝোতা’ অংশের ৬ নম্বর ধারার ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে এই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে এত বড় অঙ্কের আমদানি বাস্তবে কতটা সম্ভব,তা নিয়ে ব্যবসায়ী ও গবেষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমদানিকারকেরা বলছেন,এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে কাঁচামালনির্ভর শিল্পকে সুরক্ষা ও নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। অন্যদিকে গবেষকদের আশঙ্কা,শুল্কছাড় দিলে রাজস্বে চাপ তৈরি হতে পারে।
কী আছে চুক্তিতে
চুক্তিতে বলা হয়েছে,খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ।এর মধ্যে রয়েছে—
গম: পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ টন
সয়াবিন ও সয়াবিনজাত পণ্য: বছরে অন্তত ১২৫ কোটি ডলার বা ২৬ লাখ টন
তুলা
সব মিলিয়ে বছরে কৃষিপণ্য আমদানির মোট মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করে।দূরত্ব ও উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের কারণে এত দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি তুলনামূলক কম ছিল।যদিও পাল্টা শুল্ক আরোপের পর আমদানি কিছুটা বেড়েছে,তবুও চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তা এখনো এক বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়নি।
সাম্প্রতিক আমদানি চিত্র
২০২৪–২৫ অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি হয়েছিল ২৭ কোটি ডলারের।চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ডলারে।
এ সময়ে আমদানির শীর্ষে রয়েছে সয়াবিনবীজ—প্রায় ৪৭ কোটি ডলারের সমমূল্যের ১১ লাখ টন।এ ছাড়া তুলা এসেছে প্রায় ২১ কোটি ডলার এবং গম প্রায় ১৩ কোটি ডলারের।
শীর্ষ আমদানিকারকেরা
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)।তারা ২৬ কোটি ডলারে ৬ লাখ ৩৩ হাজার টন সয়াবিনবীজ আমদানি করেছে,যা মোট আমদানির ২৮ শতাংশ।এসব বীজ থেকে সয়াবিন তেল ও প্রাণিখাদ্য উৎপাদন হয়।
এমজিআই চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন,বছরে ২৬ লাখ টন সয়াবিনবীজ আমদানি করতে হলে স্থানীয় মাড়াইশিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে।সয়াকেকের মতো প্রস্তুত পণ্যে শুল্ক আরোপ করলে কাঁচামাল আমদানি বাড়বে।
দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর—তারা প্রায় ১১ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের গম এনেছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সায়হাম গ্রুপ,যারা সাড়ে আট কোটি ডলারের তুলা আমদানি করেছে।
ডেলটা এগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ৭ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের সয়াবিনবীজ আমদানি করে চতুর্থ এবং সিটি গ্রুপ ৪ কোটি ২১ লাখ ডলারের সয়াবিনবীজ আমদানি করে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
ডেলটা এগ্রোফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন,প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা পেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি সম্ভব।
গবেষকদের মত
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,বছরে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার আমদানি নিশ্চিত করতে হলে বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা আংশিকভাবে পাশ কাটাতে হবে।সরকার হয়তো অন্য দেশে কম দামে পেলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে কিনবে।তবে বেসরকারি খাত সাধারণত সস্তা উৎস থেকেই আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রমুখী আমদানি বাড়াতে হলে ভর্তুকি বা বিশেষ সুবিধা দিতে হতে পারে—যা নীতিগত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন,মার্কিন তুলা ব্যবহার করে পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক না থাকার সুবিধা থাকায় দেশটি থেকে তুলা আমদানি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে চুক্তির আওতায় বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নীতি সহায়তা,বাজার প্রতিযোগিতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
![]()
![]()



সর্বশেষ সংবাদ :———