![]()




বরিশাল প্রতিনিধি।।সুবিধাবঞ্চিত অসহায় পথশিশু ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বিএমপি সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব ঈদ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু,অসহায় ও দুঃস্থদের হাতে ঈদ উপহার তুলে দেন পুলিশ কমিশনার।এ সময় তিনি তাদের সঙ্গে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিএমপি কমিশনার বলেন,ঈদ কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি সমাজের সকল মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার একটি মানবিক দায়িত্ব।সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটির সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইনসহ বিএমপির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপহার পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা বিএমপি কমিশনার ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
![]()
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,মানুষের উপকার করা এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির মূল লক্ষ্য।কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষও ভালো থাকবে—এই বিশ্বাস থেকেই সরকার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান,প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে।খালটি চালু হলে বছরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।ফলে একদিকে হঠাৎ বন্যা,অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান,আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে,যার মাধ্যমে ছোট,ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবেন।একই সঙ্গে দেশের চার কোটি পরিবারের মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,দিনাজপুর,ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকায় কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপনের বিষয়ে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।এতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি ফ্লাইওভার।তবে প্রকল্পের মাঝপথে ফ্লাইওভারের নকশায় পরিবর্তন আনার ফলে এর কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী,এলেঙ্গার বালুর ব্রিজ থেকে ভূঞাপুর লিঙ্ক রোড পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু সংশোধিত নকশা অনুযায়ী এখন ফ্লাইওভারটি নির্মিত হবে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার নাভানা সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ লিঙ্ক রোড পর্যন্ত।ফলে ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ও পরিধি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও স্থানীয় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতে,নতুন নকশায় ফ্লাইওভারটি নির্মিত হলে যানজট নিরসনে এর প্রভাব খুব বেশি স্থায়ী হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী জানান,নতুন নকশা অনুযায়ী ফ্লাইওভারটি চালু হলে শুরুতে এলেঙ্গা এলাকায় যানজট কিছুটা কমতে পারে।তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নকশাগত ত্রুটির কারণে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এলাকাটিতে আবারও আগের মতো তীব্র যানজট ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,এলেঙ্গা বালুর ব্রিজ থেকে ভূঞাপুর লিঙ্ক রোড পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি বিস্তৃত না করে এর দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেওয়ায় যানজটের মূল উৎসগুলো পুরোপুরি দূর হবে না। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বাড়লে এই সীমিত পরিসরের ফ্লাইওভারটি সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হতে পারে।ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামোটি প্রত্যাশিত সুফল দিতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে এলেঙ্গা এলাকার সাধারণ যাত্রীদের শঙ্কা,দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে ভবিষ্যতে আবারও তাদের সেই চিরচেনা যানজটের ভোগান্তিতেই পড়তে হতে পারে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ওসমান হাদি হত্যা মামলার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া গেলে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল কলকাতায় যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার (১৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করার পর বাংলাদেশ সরকার তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান,গত ৯ মার্চ কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।তিনি বলেন,“আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া মাত্রই আমরা তদন্তের পরবর্তী ধাপে যেতে পারব।”
তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে।যদি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়,তবে সেই চুক্তির আওতায় তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
উল্লেখ্য,গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।শনিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
![]()
বরিশাল প্রতিনিধি।।শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর দুই নারীর মৃত্যু ঘটেছে।নিহতদের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসককে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখে।
স্থানীয়রা জানান,মৃত্যুর পর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ ঘটনাটি তদন্তের আওতায় নিয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে।রোববার (১৫ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করে ওই পাঁচ জেলায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ডিসির নাম ও স্থানীয় জেলা:
গাজীপুর: মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আবু ছালেহ মো. মুসা
পঞ্চগড়: মোসা. শুকরিয়া পারভীন
কুষ্টিয়া: মো. তৌহিদ বিন হাসান
নেত্রকোনা: মো. মুশফিকুর রহমান
গত ১ মার্চ বিএনপি সরকার গঠনের পর পূর্ববর্তী ডিসিদের প্রত্যাহার করা হয়।নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তারা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেনের মতে, ২০২৪ সালের “সুনামি” বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।দলের অনেক নেতা বিদেশে পালিয়ে যান,তবুও নেতাদের জীবন রক্ষা করতে হিজরত করা লজ্জার নয়।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন,এই সংকট সাময়িক; দেশের অভ্যন্তরে শক্তিশালী তৃণমূল ও ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব থাকলে আওয়ামী লীগ দ্রুত পুনরুত্থান করবে।
ড. মোমেনের ভাষায়, “আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণই দলের শক্তি।বিদেশি সরকার বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি সাহায্য না করলেও দেশের অভ্যন্তরের তৃণমূল কর্মীর শক্তিশালী কার্যক্রম দলের পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করতে পারে।”
১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বশূন্য অবস্থার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পরে পুনরায় সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল।তবে বর্তমানে দল একীভূত,শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দৃঢ় এবং প্রবাসে সমর্থক ও বিত্তবানদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। দেশের অভ্যন্তরেও জনগণের সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে।
ড. মোমেন সতর্ক করে বলেন,বর্তমান সরকারের অপকর্ম, দুর্নীতি ও বিচার ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।“নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মিথ্যা মামলা বাতিল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।তা না হলে দেশে আইন শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না,বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না,অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে না।দেশে গণতান্ত্রিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।”
শেখ হাসিনার অর্জনও উল্লেখযোগ্য: দেশের দারিদ্র্য হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়ন,ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা—এসব পদক্ষেপ দলের ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করেছে।তবুও,জুলাইয়ের আন্দোলনের পর বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হয়েছে।
ড. মোমেনের মতে,আওয়ামী লীগ দ্রুত পুনরায় শক্তিশালী হতে চাইলে দলের অভ্যন্তরে সংস্কার ও আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন। জনগণকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করতে হবে,মিথ্যা অভিযোগ খণ্ডন করতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল কর্মীরা প্রস্তুত,এখন প্রয়োজন শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব।
উপসংহার:
যেহেতু আওয়ামী লীগ জনগণের আশা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত,তাই এর রাজনৈতিক মৃত্যু অসম্ভব। তবে পুনরুত্থান সহজ নয়।শক্তিশালী নেতৃত্ব,কার্যকর কর্মপরিকল্পনা এবং দেশের অভ্যন্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দল পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
রোববার (১৫ মার্চ) জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব নির্দেশনা দেন।সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং দেশের সব জেলা প্রশাসক অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,জ্বালানি তেলের মজুত,সরবরাহ ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি বাড়াতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রতিদিন ডিপোর প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুত যাচাই করে রিপোর্ট প্রদান, ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে বরাদ্দকৃত জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের কাস্টমারের (পেট্রোল পাম্প ডিলার,এজেন্সি ডিলার,প্যাকড পয়েন্ট ডিলার ও ডিরেক্ট কাস্টমার) সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করা।
এছাড়া কোনো পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান এবং ডিপোর সঙ্গে তেল সরবরাহের হিসাব যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অবৈধ মজুতদারি রোধ,তেলের ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,জ্বালানি তেলের পাচার বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন,জনগণের ভোগান্তি কমাতে বর্তমান সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কিছু নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।এর মধ্যে রয়েছে বিপণিবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা,শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি বা তার বেশি রাখা এবং দোকান বন্ধের পর সাইনবোর্ডের আলো নিভিয়ে রাখা।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা চান তিনি।সংগঠনের নেতারা জানান,আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০২৬-২০২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে রাশিয়ার সমর্থন চেয়েছে ঢাকা।
রোববার (১৪ মার্চ) ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ সমর্থন চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,২০২৬-২০২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী,আগামী ২ জুন ইউএনজিএর ৮১তম সেশনের সভাপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
এর আগে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।একই পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকায় বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও তা প্রত্যাহার করেনি।পরে ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা আবার সক্রিয় করা হয়।
পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
সভাপতি নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দিয়েছে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন)।
প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন আদায়ে প্রচার চালাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তুরস্ক হয়ে নিউইয়র্ক সফরেও গেছেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন,জ্বালানি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,শিক্ষা,দক্ষ অভিবাসন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।ঢাকায় রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৈঠকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য,এর আগে ১৯৮৫-৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের কূটনীতিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।এটি ছিল এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের একমাত্র সভাপতিত্ব। 🌍
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর দেশের অন্যতম বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন অসংখ্য জেলে এই বন্দরে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।তবে গত তিন-চার দিন ধরে এলাকায় তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দেওয়ায় কয়েকশ মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না।ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এ পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ডিজেলের অভাবে অনেক ট্রলার বিভিন্ন খাল ও ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।ফলে জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং ট্রলার মালিকদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মহিপুরের ইভা খানম ট্রলারের মালিক ইব্রাহিম কোম্পানি বলেন, “গত তিন-চার দিন ধরে কোনো মহাজনের কাছেই ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।ফলে মাছ বিক্রি করে ট্রলারগুলো ঘাটে বেঁধে রাখতে হচ্ছে।আমার দুটি ট্রলারে প্রায় ৩০ জন স্টাফ রয়েছে। তাদের খাবার বাবদ প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় রয়েছি।”
জননী ট্রলার কোম্পানির পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমাদের সাতটি ট্রলারের মধ্যে চারটি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি তিনটি সমুদ্রে রয়েছে।সেগুলো ফিরে এসে তেল না পেলে আর সমুদ্রে যেতে পারবে না।ঈদের আগে মাছ ধরে ভালো আয়ের আশা ছিল,কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই আশা আর পূরণ হবে না।”
আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভাই ভাই আড়তের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন,“আমরা মৎস্য ব্যবসায়ী হিসেবে অসহায় অবস্থায় আছি।অনেক ডিজেল ব্যবসায়ীর কাছে তেল মজুত থাকলেও তারা আমাদের কাছে বিক্রি করছে না।এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঠিক তদারকি প্রয়োজন।”
মহিপুর আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস জানান,এলাকার পাম্প বা দোকানগুলোতে গেলে বলা হচ্ছে ট্রলারে তেল দেওয়া নিষেধ।আবার কোথাও কোথাও বেশি দাম দিলে ডিজেল পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।এতে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো জ্বালানি সংকটে পড়ে ঘাটে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যানুযায়ী,আলীপুর-মহিপুর এলাকায় স্থানীয় মালিকানাধীন ট্রলারের সংখ্যা ১৫০টির বেশি।এছাড়া চট্টগ্রাম,বাঁশখালী,ভোলা,বরগুনা ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আরও প্রায় শতাধিক ট্রলার এ বন্দর থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও মাছ বিক্রি করে।একটি ট্রলার সমুদ্রে যাওয়ার সময় ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী সাধারণত এক থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল নিয়ে থাকে।
মহিপুরের রাজা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আসিফ মাহমুদ বলেন,সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে ডিপো থেকে কোটাভিত্তিক তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।ফলে পরিবহন ছাড়া অন্য খাতে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।আলীপুর-মহিপুর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে দৈনিক মাত্র পাঁচ হাজার লিটার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ বলেন,বিষয়টি নিয়ে জেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে সভা হয়েছে।দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।কেউ যদি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে,তাহলে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
![]()
সেনবাগ(নোয়াখালী)প্রতিনিধি।।নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় নিজের বৃদ্ধা মাকে শারীরিক নির্যাতন ও খাবার না দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে অভিনব কায়দায় ‘সামাজিক শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে।ইউনিয়ন পরিষদের সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্তে তার গলায় পানিভর্তি কলসি ঝুলিয়ে পুরো বাজার ঘোরানো হয়।
রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ সহিদ (৩৫)। তিনি স্থানীয় চিলাদি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বাড়িতে ছাগলের মাংস রান্না হলেও সহিদ তার বৃদ্ধা মাকে কোনো খাবার দেননি।ক্ষুধার্ত মা খাবার চাইলে তিনি তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।পরে ভুক্তভোগী মা ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর শনিবার রাতে গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) মাধ্যমে সহিদকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। রবিবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক করেন।সেখানে শাস্তিস্বরূপ সহিদের গলায় পানিভর্তি একটি কলসি ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে বাজার প্রদক্ষিণ করতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাকে উচ্চস্বরে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে দেখা যায়।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন,‘বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা বা নির্যাতন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।আইনি দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং অন্যদের শিক্ষা দিতেই এই তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের অনেকেই এই শাস্তিকে যথাযথ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞরা এর সমালোচনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে,অপরাধ যাই হোক না কেন,প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে প্রকাশ্যে কাউকে অপমান করা বা শারীরিক শাস্তি দেওয়া আইনসম্মত নয়।এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই উচিত বলে তারা মনে করেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান,মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে নিরাপদে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছে। বিমানবন্দর থেকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে নিউরো বিভাগের নিউরো আইসিইউতে তাকে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
ডা. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন,দীর্ঘ ভ্রমণেও তার কোনো শারীরিক জটিলতা হয়নি এবং তিনি বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন।
এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
উল্লেখ্য,গত শুক্রবার মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা ধরে চলা ওই অস্ত্রোপচার শেষে রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে গত বুধবার ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে নিউরো বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন,লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত।পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে।মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন।এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ,ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি,তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়।রমজান মাস সংযম,আত্মশুদ্ধি,সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস।পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি,সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি,ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান,সবাই যেন এই মহিমান্বিত রাতের তাৎপর্য উপলব্ধি করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করেন এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
তারেক রহমান মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করে বলেন,তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত সবার ওপর বর্ষিত করেন এবং দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি,শান্তি,সম্প্রীতি ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।
শেষে তিনি কামনা করেন,পবিত্র লাইলাতুল কদরের মহিমা সবার জীবনে শান্তি,সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।
![]()
মোংলা বন্দর প্রতিনিধি।।ভারত থেকে আমদানি করা মোট ১৬ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে দুটি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে।জাহাজ দুটি থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে চাল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা গেছে,ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে পানামা পতাকাবাহী ‘এইচ টি পাইনিওর’ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন এবং ভিয়েতনাম পতাকাবাহী ‘হোয়াংটন-৮৯’ জাহাজে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে মোংলা বন্দরে নোঙর করে জাহাজ দুটি।
জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ‘সেভেন সিয়েসে’-এর ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানান,উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এই চাল আমদানি করা হয়েছে।জাহাজ দুটি কলকাতা বন্দর থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এবং বন্দরে পৌঁছার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে চাল খালাস শুরু হয়।
তিনি বলেন,জাহাজ থেকে খালাস করা চাল ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি খাদ্য গুদামে পাঠানো হচ্ছে।পুরো চাল খালাস প্রক্রিয়া শেষ হতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।
মোংলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবাহান সরদার জানান,জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির মাধ্যমে সরকার ভারত,পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে মোট ৮ লাখ টন সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এর আওতায় ভারত থেকে মোংলা বন্দরে আসা চালের এটি নবম চালান।
তিনি আরও বলেন,দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানি করা হচ্ছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা চালের মধ্যে নন-বাসমতি চালের পরিমাণ বেশি,যা বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ভারতের পেট্রাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়েও নিয়মিত চাল আমদানি হচ্ছে,যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
![]()
রাজশাহী প্রতিনিধি।।রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের এই রহস্যজনক ভূমিকা এবং মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারে অনীহা নিয়ে রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ,প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ‘পলাতক’ বলে দাবি করছে। এমনকি আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলেও পুলিশ অভিযান চালাতে অনীহা দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান,রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়।হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে দম্ভোক্তি করছে এবং বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তাদের দাবি,হামলাকারীরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার কথাও প্রকাশ্যে বলছে।
এদিকে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ,সক্রিয় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ওসি কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখাচ্ছেন না।তিনি জানিয়েছেন, এজাহারে যাদের নাম রয়েছে তাদের বাইরে অন্য কাউকে এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়।তবে হামলার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজও সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না।ঈদের আগে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হয়নি।তবে ঈদের পর থেকে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এজাহার সূত্রে জানা যায়,রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে কিছুদিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ তাদের সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র,চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল সন্ত্রাসী প্রেসক্লাবে হামলা চালায়।
হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে প্রেসক্লাব সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।অন্যদিকে সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন।এতে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেখানে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সাংবাদিকদের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মিলনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে।বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে।ওই সময় সংঘটিত হামলার একটি মামলাতেও তাদের নাম ওঠে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে এবং এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি বলেন,“বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
তবে অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“এই মুহূর্তে আমরা এজাহারনামীয় আসামিদের ধরার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
এদিকে সাংবাদিক সমাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা,নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য কিছু সুস্পষ্ট বিধান নির্ধারণ করেছে।এর মধ্যে অন্যতম হলো মাহরাম ও গায়রে মাহরাম সম্পর্কের বিধান।কোরআন ও হাদিসে বলা হয়েছে, যেসব পুরুষের সঙ্গে একজন নারীর বিয়ে বৈধ—তাদের সঙ্গে অবাধ দেখা-সাক্ষাৎ, একান্তে থাকা বা পর্দাহীন মেলামেশা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ইসলামি শরিয়তে এসব পুরুষকে গায়রে মাহরাম বলা হয়। আলেমদের মতে,সমাজে অনেক সময় আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও তারা গায়রে মাহরাম হওয়ায় তাদের সঙ্গে পর্দা রক্ষা করা ফরজ।
কোরআনের সূরা আন-নূর (২৪:৩১)-এ বলা হয়েছে,
“মুমিন নারীদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে—তবে যেসব মাহরাম পুরুষ রয়েছে তাদের সামনে ছাড়া।”
একইভাবে সূরা আল-আহযাব (৩৩:৫৩)-এও পর্দা ও শালীনতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে নিম্নোক্ত আত্মীয়রা নারীর জন্য গায়রে মাহরাম হিসেবে বিবেচিত:
১. দুলাভাই (বোনের স্বামী)
২. ফুপা ও খালার স্বামী
৩. ননদের ছেলে
৪. চাচা শ্বশুর ও মামা শ্বশুর
৫. দেবর ও ভাসুর (স্বামীর ভাই)
৬. ছেলের স্ত্রীর ভাই (সম্বন্ধী)
৭. স্বামীর মামাতো,খালাতো,ফুফাতো ও চাচাতো ভাই
৮. ননদের স্বামী (স্বামীর বোনের স্বামী)
৯. মামাতো,খালাতো,চাচাতো ও ফুফাতো ভাই
হাদিস শরিফেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে না থাকে,যদি না তার সঙ্গে মাহরাম কেউ থাকে।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩০০৬)
আরেকটি বিখ্যাত হাদিসে রাসুল (সা.) দেবর সম্পর্কে বলেন:
“দেবর তো মৃত্যুর মতো।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,এই হাদিসের অর্থ হলো—পরিবারের ঘনিষ্ঠতার কারণে দেবরের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা অনেক সময় বড় ফিতনার কারণ হতে পারে,তাই এতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ধর্মবিশেষজ্ঞদের মতে,ইসলাম নারীর মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই বিধানগুলো দিয়েছে।তাই পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেও গায়রে মাহরাম পুরুষদের সঙ্গে পর্দা,শালীনতা ও সীমা রক্ষা করা মুসলিম নারীদের জন্য অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেন,ইসলামের এসব বিধান কেবল নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং পারিবারিক পবিত্রতা,সামাজিক স্থিতি ও ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। :::
![]()
ডেস্ক রিপোর্ট।।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সামনে কঠিন ও বিপজ্জনক সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।তার মতে,সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে দলটি নানা সংকটে পড়তে পারে।
শনিবার (১৪ মার্চ) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন,গত প্রায় ১৭ মাসে জামায়াত দেশে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের বিপ্লবের প্রধান শক্তি হিসেবেও তুলে ধরছিল।তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তারা বড় ধরনের রাজনৈতিক সাফল্য পেতে পারে।
তিনি দাবি করেন,ওই সময় দলটির কিছু নেতা ও কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি রাজসিকতা ও বিলাসিতার প্রবণতাও দেখা যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান,সভা-সমাবেশ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রনির মতে,রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর।তিনি বলেন,তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেছে এবং দলটির ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,সাম্প্রতিক নির্বাচন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পর জামায়াতের নেতাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।একই সঙ্গে বিভিন্ন ঘটনা ও অভিযোগ ভবিষ্যতে দলটির জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গোলাম মাওলা রনি দাবি করেন,বর্তমানে জামায়াতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।বিভিন্ন মহলে দলটিকে নিয়ে সন্দেহ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
![]()
চট্টগ্রাম ব্যুরো।।চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রিদুয়ান সিদ্দিকী ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে ৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
যাদের বিরুদ্ধে মামলা:-
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—
হোসাইন তৌফিক ইফতিখার,শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার,নাসির উদ্দিন হায়দার,রতন কান্তি দেবাশীষ,মহসিন কাজী,সবুর শুভ,চৌধুরী ফরিদ।
মামলার অভিযোগ
বাদী দাবি করেন—
৪ মার্চ তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর
রাতে ফেসবুকে তার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক পোস্ট ও মন্তব্য করা হয়
এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
সাংবাদিকদের বক্তব্য
অভিযুক্ত সাংবাদিকরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাদের দাবি—
তারা কোনো অপপ্রচার করেননি,
বরং ৫ মার্চ সার্কিট হাউসে রিদুয়ান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং থানায় জিডি করেছেন।
নতুন বিতর্ক
জানা গেছে,রিদুয়ান সিদ্দিকী ১৫ জানুয়ারি বিএনপির ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন,যা নিয়েও আলোচনা চলছে।
সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই মামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেছে।তারা বলেছে,এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে এবার বিদেশি ঋণের দিকে ঝুঁকছে সরকার।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হলেও নতুন সরকার এখন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে আইডিবির কাছে ১০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে,যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,ঋণের সুদহার ও অন্যান্য শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আইডিবির অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।তবে শর্তে একমত না হলে বিকল্প হিসেবে চীনের এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আইডিবি প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।বর্তমানে আইডিবির ঋণের সুদহার প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ হলেও সরকার তা দেড় শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ৩ থেকে ৫ বছর এবং পরিশোধকাল ২০ থেকে ২৫ বছর হতে পারে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) আবদুল মান্নান বলেন,আইডিবি প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল-২’ নামে প্রকল্পটি প্রথম নেওয়া হয় ২০১২ সালে।এরপর অন্তত ১১ বার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা হলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।অবশেষে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধনক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন।দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে এই ক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৫৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।এতে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পরিশোধন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন,দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে,পরিশোধিত তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং ডলার সাশ্রয় হবে।পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন এবং মজুত সক্ষমতাও বাড়বে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বিদেশি ঋণের প্রক্রিয়ায় গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে।ইতিমধ্যে এক যুগের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত (৫৫) কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে,গত ৪ জানুয়ারি বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে কিছু লোক তাকে মব সৃষ্টি করে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।পরে একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান,বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রথমে তাকে বগুড়া কারাগারে রাখা হয়। পরে ১৭ জানুয়ারি তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার তায়েবা জানান,অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।এর আগেও দুবার অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে,সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী দাবি করেছেন,শাহনূর আলম শান্ত একজন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন।তাকে মারধর করে আটক করার পর তার পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং পরে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার অভিযোগ,যথাযথ চিকিৎসা ও কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে,যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে,বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ওপেল এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে বলেন, “একটির পর একটি আওয়ামী লীগ নেতার কারাগারে মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য,এর আগে বগুড়া কারাগারে থাকা আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
![]()
![]()




সর্বশেষ সংবাদ :———