![]()



মাজহারুল ইসলাম।।ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা,নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য কিছু সুস্পষ্ট বিধান নির্ধারণ করেছে।এর মধ্যে অন্যতম হলো মাহরাম ও গায়রে মাহরাম সম্পর্কের বিধান।কোরআন ও হাদিসে বলা হয়েছে, যেসব পুরুষের সঙ্গে একজন নারীর বিয়ে বৈধ—তাদের সঙ্গে অবাধ দেখা-সাক্ষাৎ, একান্তে থাকা বা পর্দাহীন মেলামেশা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ইসলামি শরিয়তে এসব পুরুষকে গায়রে মাহরাম বলা হয়। আলেমদের মতে,সমাজে অনেক সময় আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও তারা গায়রে মাহরাম হওয়ায় তাদের সঙ্গে পর্দা রক্ষা করা ফরজ।
কোরআনের সূরা আন-নূর (২৪:৩১)-এ বলা হয়েছে,
“মুমিন নারীদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে—তবে যেসব মাহরাম পুরুষ রয়েছে তাদের সামনে ছাড়া।”
একইভাবে সূরা আল-আহযাব (৩৩:৫৩)-এও পর্দা ও শালীনতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে নিম্নোক্ত আত্মীয়রা নারীর জন্য গায়রে মাহরাম হিসেবে বিবেচিত:
১. দুলাভাই (বোনের স্বামী)
২. ফুপা ও খালার স্বামী
৩. ননদের ছেলে
৪. চাচা শ্বশুর ও মামা শ্বশুর
৫. দেবর ও ভাসুর (স্বামীর ভাই)
৬. ছেলের স্ত্রীর ভাই (সম্বন্ধী)
৭. স্বামীর মামাতো,খালাতো,ফুফাতো ও চাচাতো ভাই
৮. ননদের স্বামী (স্বামীর বোনের স্বামী)
৯. মামাতো,খালাতো,চাচাতো ও ফুফাতো ভাই
হাদিস শরিফেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে না থাকে,যদি না তার সঙ্গে মাহরাম কেউ থাকে।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩০০৬)
আরেকটি বিখ্যাত হাদিসে রাসুল (সা.) দেবর সম্পর্কে বলেন:
“দেবর তো মৃত্যুর মতো।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,এই হাদিসের অর্থ হলো—পরিবারের ঘনিষ্ঠতার কারণে দেবরের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা অনেক সময় বড় ফিতনার কারণ হতে পারে,তাই এতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ধর্মবিশেষজ্ঞদের মতে,ইসলাম নারীর মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই বিধানগুলো দিয়েছে।তাই পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেও গায়রে মাহরাম পুরুষদের সঙ্গে পর্দা,শালীনতা ও সীমা রক্ষা করা মুসলিম নারীদের জন্য অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেন,ইসলামের এসব বিধান কেবল নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং পারিবারিক পবিত্রতা,সামাজিক স্থিতি ও ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। :::
![]()
ডেস্ক রিপোর্ট।।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সামনে কঠিন ও বিপজ্জনক সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।তার মতে,সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে দলটি নানা সংকটে পড়তে পারে।
শনিবার (১৪ মার্চ) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন,গত প্রায় ১৭ মাসে জামায়াত দেশে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের বিপ্লবের প্রধান শক্তি হিসেবেও তুলে ধরছিল।তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তারা বড় ধরনের রাজনৈতিক সাফল্য পেতে পারে।
তিনি দাবি করেন,ওই সময় দলটির কিছু নেতা ও কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি রাজসিকতা ও বিলাসিতার প্রবণতাও দেখা যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান,সভা-সমাবেশ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রনির মতে,রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর।তিনি বলেন,তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেছে এবং দলটির ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,সাম্প্রতিক নির্বাচন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পর জামায়াতের নেতাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।একই সঙ্গে বিভিন্ন ঘটনা ও অভিযোগ ভবিষ্যতে দলটির জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গোলাম মাওলা রনি দাবি করেন,বর্তমানে জামায়াতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।বিভিন্ন মহলে দলটিকে নিয়ে সন্দেহ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
![]()
চট্টগ্রাম ব্যুরো।।চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রিদুয়ান সিদ্দিকী ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে ৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
যাদের বিরুদ্ধে মামলা:-
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—
হোসাইন তৌফিক ইফতিখার,শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার,নাসির উদ্দিন হায়দার,রতন কান্তি দেবাশীষ,মহসিন কাজী,সবুর শুভ,চৌধুরী ফরিদ।
মামলার অভিযোগ
বাদী দাবি করেন—
৪ মার্চ তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর
রাতে ফেসবুকে তার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক পোস্ট ও মন্তব্য করা হয়
এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
সাংবাদিকদের বক্তব্য
অভিযুক্ত সাংবাদিকরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাদের দাবি—
তারা কোনো অপপ্রচার করেননি,
বরং ৫ মার্চ সার্কিট হাউসে রিদুয়ান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং থানায় জিডি করেছেন।
নতুন বিতর্ক
জানা গেছে,রিদুয়ান সিদ্দিকী ১৫ জানুয়ারি বিএনপির ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন,যা নিয়েও আলোচনা চলছে।
সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই মামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেছে।তারা বলেছে,এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে এবার বিদেশি ঋণের দিকে ঝুঁকছে সরকার।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হলেও নতুন সরকার এখন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে আইডিবির কাছে ১০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে,যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,ঋণের সুদহার ও অন্যান্য শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আইডিবির অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।তবে শর্তে একমত না হলে বিকল্প হিসেবে চীনের এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আইডিবি প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।বর্তমানে আইডিবির ঋণের সুদহার প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ হলেও সরকার তা দেড় শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ৩ থেকে ৫ বছর এবং পরিশোধকাল ২০ থেকে ২৫ বছর হতে পারে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) আবদুল মান্নান বলেন,আইডিবি প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল-২’ নামে প্রকল্পটি প্রথম নেওয়া হয় ২০১২ সালে।এরপর অন্তত ১১ বার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা হলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।অবশেষে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধনক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন।দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে এই ক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৫৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।এতে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পরিশোধন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন,দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে,পরিশোধিত তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং ডলার সাশ্রয় হবে।পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন এবং মজুত সক্ষমতাও বাড়বে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বিদেশি ঋণের প্রক্রিয়ায় গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে।ইতিমধ্যে এক যুগের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত (৫৫) কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে,গত ৪ জানুয়ারি বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে কিছু লোক তাকে মব সৃষ্টি করে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।পরে একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার নুরুল মুবীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান,বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রথমে তাকে বগুড়া কারাগারে রাখা হয়। পরে ১৭ জানুয়ারি তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার তায়েবা জানান,অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।এর আগেও দুবার অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে,সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী দাবি করেছেন,শাহনূর আলম শান্ত একজন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন।তাকে মারধর করে আটক করার পর তার পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং পরে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার অভিযোগ,যথাযথ চিকিৎসা ও কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে,যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে,বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ওপেল এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে বলেন, “একটির পর একটি আওয়ামী লীগ নেতার কারাগারে মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য,এর আগে বগুড়া কারাগারে থাকা আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ফিলিপ সাংমা নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে,শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে এসটিএফের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি,গ্রেপ্তার হওয়া ফিলিপ সাংমা একজন বাংলাদেশি নাগরিক।তিনি এই হত্যা মামলার মূল দুই অভিযুক্তকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছিলেন।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী,পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।সে সময় তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।চিকিৎসকরা জানান, গুলি তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার বরিশালসহ দেশের পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা হলেন—
এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন — বরিশাল সিটি কর্পোরেশন
মো. মাহফুজুর রহমান — রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন
মো. রুকুনোজ্জামান রোকন — ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন
মাহফুজ উন নবী চৌধুরী — রংপুর সিটি কর্পোরেশন
মো. ইউসুফ মোল্লা — কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়,নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা অধ্যাদেশের ধারা ২৫ক এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।তারা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা ও সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
![]()
বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওলিউল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন মার্কেটের তৃতীয় তলায় বেল্লাল (২৮) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নানা আলোচনা ও অভিযোগের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বরিশাল টিভির স্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন পোর্টাল আলোকিত সংবাদ ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক-প্রকাশক পরিচয়ধারী সাংবাদিক রিপন রানা (ট্রলার রিপন)।
ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিপন রানা বলেন,“অফিসের সামনে বেলকনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেল্লাল আহত হয়।আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং তার পরিবারের সদস্যদের ফোন দিয়ে খবর দিই। এটাই কি আমার অপরাধ? আমি কাউকেই দোষারোপ করছি না।ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে।নিহত ব্যক্তির শেষ ফোনকলের সময়ও যাচাই করা যেতে পারে।মেডিকেল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত প্রকৃত কারণ জানা যাবে না।রিপোর্ট আসতে সময় লাগতে পারে।আমি সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।”
তিনি আরও দাবি করেন,বেল্লাল বিভিন্ন সময় মাদক ও নারী সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে।
রহস্যে ঘেরা বেল্লালের মৃত্যু
গত ৩ ডিসেম্বর সকালে বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটারখাল এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওলিউল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন একটি মার্কেটের তৃতীয় তলার কক্ষ থেকে বেল্লালের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
নিহত বেল্লাল বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম চর আইচা গ্রামের আবদুল হকের ছেলে।তিনি পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন।মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও পোড়ার দাগ থাকায় শুরু থেকেই ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে সন্দেহ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,যে কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় সেটি সাংবাদিক পরিচয়ধারী রিপন রানা ওরফে ট্রলার রিপনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, ঘটনার আগের রাতে ওই কক্ষে নারী-পুরুষের আনাগোনা ছিল।
কিছু সূত্রের দাবি,সেদিন রাতে সেখানে ইয়াবা সেবন ও পার্টির ঘটনা ঘটে এবং কোনো এক পর্যায়ে বেল্লালের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়।এরপর তাকে মারধর বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের বাবা আবদুল হক দাবি করেন,“আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।তার শরীরে এত আঘাতের চিহ্ন কেন?এটি কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে না।”
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
এদিকে নিহতের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহান তৃণা নামে এক নারী অভিযোগ করেন,বেল্লালের মৃত্যুর ঘটনায় নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড,মাদক এবং কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের বিষয়টি তদন্তে সামনে আসা উচিত।
পুলিশের বক্তব্য
কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন ওসি আল-মামুন উল ইসলাম বলেন,“মরদেহে আঘাত ও পোড়ার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক।সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।”
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মায়া চৌধুরী (২৮), সাদিয়া (২৪) ও রানা হাওলাদার (৩৬) নামে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।তবে ঘটনার সময়ের অন্যতম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রিপন রানা দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে নতুন প্রশ্ন
বেল্লালের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।মরদেহের আঘাতের চিহ্ন, পোড়ার দাগ,সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে,মেডিকেল রিপোর্ট এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রপতি পদ। সরকারি দল বিএনপির ভেতরে-বাইরে,বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন—বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আর কতদিন দায়িত্বে থাকবেন? তিনি কি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন,নাকি সংসদের মাধ্যমে তাকে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মুখোমুখি হতে হবে?
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে,রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারণ করতে হলে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।অতীতে এমন পরিস্থিতির নজিরও রয়েছে।২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।তবে সেই ঘটনাটি বিএনপি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর হয়ে উঠেছিল বলে এখনো অনেকেই মনে করেন।ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ইমপিচমেন্ট করার পথে হাঁটতে অনাগ্রহী বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
কৌশলী অবস্থানে বিএনপি
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে,রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে দলটি আপাতত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।প্রথমত,নতুন সরকার গঠনের পরপরই কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না দলটি।দ্বিতীয়ত,জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।তৃতীয়ত,সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি তুললেও বিএনপি এখনই সেই দাবিতে সায় দিতে আগ্রহী নয়।
এছাড়া সময়ের হিসাবও বিএনপির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। এখন যদি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন,তবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারও পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।অথচ পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।সে ক্ষেত্রে অন্তত ছয় মাস পরে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও বিএনপি সমর্থিত রাষ্ট্রপতিই দায়িত্বে থাকবেন—এমন একটি রাজনৈতিক হিসাবও আলোচনায় রয়েছে।
সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে কারা আলোচনায়
দলীয় সূত্রগুলো বলছে,রাষ্ট্রপতি পদে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেছেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখেন এবং তিনিই সভাপতিত্বের জন্য ড. মোশাররফের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
তবে বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে না পারলে তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।সংসদের স্পিকার পদে তার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে।
রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও আলোচনায় আছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক পদে দেখা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
তারেক রহমানের ‘চমক’ কি আবারও?
বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন,স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক ধরনের চমক দেখিয়েছেন।কারণ ওই দুই পদে যাদের নির্বাচিত করা হয়েছে,তারা আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিলেন না।ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এমন কোনো অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
প্রবীণ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠনের পর দেখা গেছে,বিএনপির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রবীণ নেতা এখনো সরকারের বাইরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আবদুল মঈন খান উল্লেখযোগ্য।ফলে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।বর্তমানে মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ও সম্ভাব্য পরিবর্তন
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।শেখ হাসিনার সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন।তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। যদিও তখন তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইঙ্গিত দেন যে তিনি নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়তে আগ্রহী।তিনি বলেন,অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি নিজেকে ‘অপমানিত বোধ’ করছেন এবং সুযোগ পেলে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান।
![]()
মাজহারুল ইসলাম।।“প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”—বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের এই অমর বাণী কি আজ কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ? যখন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মকর্তা একজন সাংবাদিককে ধমক দিয়ে বলেন—“কথা বলতে পারবেন না” বা “অর্ডার নাই”—তখন প্রশ্ন জাগে,আমরা কি সত্যিই স্বাধীন দেশের নাগরিক, নাকি এখনো আমলাতান্ত্রিক প্রভুত্বের ছায়াতেই বাস করছি?
⚖️ আইনের বাস্তবতা: কোথাও নেই ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা
প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মাঝে মাঝে আইনের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—
১. সংবিধানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই
বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও কোনো নাগরিক বা সাংবাদিককে সরকারি কর্মকর্তাকে “স্যার” বলে সম্বোধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
২. Public Servant—জনগণের সেবক
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং অন্যান্য আইনি কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা “Public Servant” বা জনগণের সেবক।অর্থাৎ তারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন জনগণের সেবায়।তাই কাউকে “স্যার” বলা একটি সামাজিক সৌজন্য হতে পারে,কিন্তু এটি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
৩. সাংবাদিক প্রশাসনের অধীন নন
সাংবাদিক কোনো সরকারি কর্মচারী নন।প্রশাসনের প্রটোকল ও সাংবাদিকতার পেশাগত নীতিমালা আলাদা।সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো প্রশ্ন করা,জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের পক্ষে সত্য তুলে ধরা।
🖋️ সাংবাদিকতা কি অপরাধ?
আইনের অজুহাতে সাংবাদিকদের প্রশ্ন থামিয়ে দেওয়া বা ভয় দেখানো নতুন কিছু নয়।কিন্তু মনে রাখতে হবে—
সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন,তিনি কেবল ব্যক্তি হিসেবে প্রশ্ন করেন না; তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রশ্ন করেন।
কোনো সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধত আচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার থাকলে সাংবাদিকের অধিকার আছে তা জনসমক্ষে তুলে ধরার।
সম্মান কখনো জোর করে আদায় করা যায় না।
চেয়ারের ক্ষমতা দেখিয়ে “স্যার” ডাকানো যায়,কিন্তু মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করতে হলে প্রয়োজন বিনয়,দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব।
📚 ‘Sir’ শব্দের বাস্তব অর্থ
“Sir” কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ (Acronym) নয়।এটি মূলত ফরাসি শব্দ “Sire” থেকে এসেছে,যা পরে ইংরেজিতে সম্মানসূচক সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।এর শিকড় লাতিন “Senior” শব্দে,যার অর্থ বয়োজ্যেষ্ঠ বা সম্মানিত ব্যক্তি।
ইন্টারনেটে অনেক সময় “Sir” এর ভুয়া পূর্ণরূপ যেমন “Slave I Remain” প্রচার করা হয়,যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবে এটি কেবল একটি ভদ্র ও সম্মানসূচক সম্বোধন,এর বেশি কিছু নয়।
📢 আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য
সাংবাদিক অপরাধী নন
ভিডিও ধারণ,প্রশ্ন করা বা তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক কাজ।
আচরণগত সংস্কার প্রয়োজন
সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখা উচিত—তাদের বেতন আসে জনগণের টাকায়।তাই ক্ষমতার অহংকার নয়,োলদায়িত্বশীল আচরণই হওয়া উচিত তাদের পরিচয়।
কলমের শক্তি থামানো যাবে না
সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য প্রকাশ।কোনো পদমর্যাদার দাপট সেই সত্যকে দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারে না।
উপসংহার
সাংবাদিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।কিন্তু কোনো ব্যক্তির অহংকার বা ক্ষমতার প্রদর্শনের কাছে তারা নতজানু হতে বাধ্য নন।
৫৩ নং ওয়ার্ড হোক কিংবা জাতীয় পর্যায়—অবিচারের বিরুদ্ধে “দৈনিক জাতীয় পতাকা”-র কলম চলবেই।
“দাসত্ব নয়, পেশাদারিত্ব চাই;
আমলাতন্ত্রের দাপট নয়,জনগণের শাসন চাই।”
![]()
বিশেষ প্রতিবেদন।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তীব্র সমালোচনা নতুন কিছু নয়।তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শিষ্টাচার,পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার যে ঘাটতি চোখে পড়ছে,তা অনেকের কাছেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে,রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ,অশ্রদ্ধা ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেয়। ⚖️
এ প্রসঙ্গে প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে ঢাকা-৮ আসনের দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস।প্রায় তিন দশক ধরে একই আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানে কখনও ভাটা পড়েনি তাঁদের মধ্যে।
১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।রাজনৈতিক মতাদর্শে তীব্র পার্থক্য থাকলেও সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রেখেছেন দুজনই।রাজনৈতিক মহলে এটি দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়ে এসেছে।
২০১৮ সালের একটি ঘটনার কথাও অনেকেই স্মরণ করেন। বনশ্রী এলাকায় একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন দুই নেতা। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে সাবের হোসেন চৌধুরী নিজের ছাতাটি মির্জা আব্বাসের মাথার ওপর ধরে রাখেন—প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতার প্রতি এমন সৌজন্য অনেকের কাছে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ☔
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এটি কেবল ব্যক্তিগত সৌজন্যের বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতিফলন।কারণ,অতীতের রাজনীতিতে তীব্র বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক শালীনতা বজায় রাখার একটি অলিখিত ঐতিহ্য ছিল।
এমনকি পারিবারিক শোক বা সামাজিক অনুষ্ঠানের সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক কুশল বিনিময় ছিল স্বাভাবিক বিষয়।স্বাধীনতার পর থেকে নানা রাজনৈতিক সংকট,সামরিক শাসন,আন্দোলন ও পালাবদল—সবকিছুর মধ্যেও সেই সামাজিক সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতার ঘাটতি, ‘মব জাস্টিস’ প্রবণতা, বিচারক ও শিক্ষকদের প্রতি অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।তাঁদের মতে,মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তা যেন দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম না করে। 📉
আইন ও বিচারব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যদি অভিযোগের নিষ্পত্তি আদালতের পরিবর্তে সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে করার চেষ্টা হয়,তাহলে তা আইনের শাসনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এ অবস্থায় অনেকেই অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ স্মরণ করছেন,যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখা হতো।তাঁদের মতে,রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবে,কিন্তু সভ্যতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রকৃত শক্তি। 🏛️
![]()
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সংঘাত টানা ১৪ দিন ধরে চলতে থাকায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া ও চীন শক্ত অবস্থান নিয়ে ইরানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্কে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়। তবে রাশিয়া ও চীনের প্রতিবাদ সত্ত্বেও বৈঠকে ১১–২ ভোটে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। দুই দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং পারমাণবিক পরিদর্শনের পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে না। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসে সমর্থন বিশ্বনিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগকে অযথা আতঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। চীনের প্রতিনিধি ফু ছং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই সংকটের উসকানিদাতা এবং দ্বিচারিতার কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুর্বল হয়েছে।
এদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ মোকাবিলায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংঘাত এখনও চলমান এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
![]()
বগুড়া প্রতিনিধি।।গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও টিকিয়ে রাখতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন,রাষ্ট্রের কার্যক্রম জনগণের সামনে আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব,আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সময়োপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী করা হবে।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগের সাত জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক অনুদান এবং সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হলে অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়ত না।বর্তমান সরকার রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।সব সম্প্রচার মাধ্যমে মূল্যবোধভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,রাষ্ট্রীয়ভাবে সাংবাদিকদের দেওয়া অর্থ কোনো অনুদান নয়,এটি তাঁদের প্রাপ্য।গত ১৭ বছরে সাংবাদিকেরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং ফ্যাসিস্টবিরোধী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।তাই সাংবাদিকদের জন্য নেওয়া এসব উদ্যোগ গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করারই প্রচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন,সাংবাদিকতা এমন একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক পেশা,যার মাধ্যমে বিত্তবান হওয়া সম্ভব নয়। এ পেশায় সৎ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।এজন্য সাংবাদিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন,গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বগুড়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে।বগুড়াবাসীর বঞ্চিত অধিকারগুলো তালিকা করে ধাপে ধাপে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রেসক্লাব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন।এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, কৃষক কার্ড চালুর কার্যক্রম চলছে এবং কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান,সরকারের কোনো সংসদ সদস্য সরকারি গাড়ি বা প্লট নেবেন না।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান (রুমন)।এ সময় আরও বক্তব্য দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান,জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা),বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ,দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক (লালু),জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৫১ জন সাংবাদিককে আর্থিক সহায়তা এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।তবে ইতিহাস বলছে,বাংলাদেশের সংসদের উদ্বোধনী দিনে এমন ঘটনা নতুন নয়।স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সংসদের প্রথম দিনেই বাগ্বিতণ্ডা,ওয়াকআউট,শপথ বর্জন,এমনকি অধিবেশন বর্জনের মতো ঘটনা ঘটেছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গঠিত গণপরিষদ থেকে শুরু করে গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ পর্যন্ত উদ্বোধনী অধিবেশন ঘিরে বহু নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে।এর মধ্যে রয়েছে সংসদ কক্ষে ধূমপান, শপথ না দিয়ে সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকা,উন্মুক্ত অধিবেশন আয়োজন,সাংবাদিকদের বর্জনসহ নানা ঘটনা।
গণপরিষদে লুঙ্গি পরে অধিবেশন
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আইনসভা গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয় ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল।ওই অধিবেশনে নোয়াখালীর সদস্য খাজা আহমদ লুঙ্গি-শার্ট পরে অংশ নেন,যা সে সময় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।অধিবেশন কক্ষে ধূমপানের ঘটনাও ঘটে। মাইক সংকট এবং স্পিকারের হাতুড়ি না থাকার মতো ঘটনাও সেদিনের অধিবেশনে দেখা যায়।
দ্বিতীয় সংসদে শপথ বর্জন
১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।বিরোধী দলের ৫৩ জন সদস্য অস্থায়ী স্পিকারকে ‘নিযুক্ত’ উল্লেখ করে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান।পরে তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই অধিবেশন পরিচালিত হয়।
সামরিক আমলে সংসদের বাইরে ‘উন্মুক্ত অধিবেশন’
১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল সংসদ ভবনের বাইরে ‘উন্মুক্ত সংসদ’ পরিচালনা করে।একই সময় বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে রাজপথে আন্দোলন চালায়।
সাংবাদিকদের বর্জন
১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন সাংবাদিকেরা বর্জন করেন।সংবাদপত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদকর্মীরা অধিবেশন কাভারেজ থেকে বিরত থাকেন।
নব্বইয়ের পর রাজনৈতিক দ্বৈরথ
১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ থেকে শুরু হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা।সংসদ নেতা খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার দ্বৈরথ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে “ব্যাটলিং বেগমস” নামে পরিচিতি পায়।
‘বুড়ো আঙুল’ বিতর্ক
১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রবের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সদস্যদের ‘বুড়ো আঙুল’ দেখানোর অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন বর্জন ও বিতর্ক
২০০১ সালের অষ্টম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি।২০০৯ সালের নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে বিএনপি ওয়াকআউট করে।
বিতর্কিত নির্বাচন ও সংসদ
২০১৪ সালের দশম সংসদ এবং ২০১৯ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই যাত্রা শুরু করে।বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করায় সংসদে কার্যত শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দেখা যায়।
সাত মাসেই শেষ দ্বাদশ সংসদ
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘ডামি নির্বাচন’ নামে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।নির্বাচনের মাত্র সাত মাসের মাথায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
নতুন সংসদেও উত্তাপ
দুই বছর ছয় দিনের বিরতির পর এবার শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ।উদ্বোধনী অধিবেশনেই বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও সংসদীয় রাজনীতির উত্তাপ সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে উদ্বোধনী অধিবেশনগুলো প্রায়ই দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।তাই নতুন সংসদের যাত্রাও সেই ধারার ব্যতিক্রম নয়।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে কাতারে আটকে পড়া মোট ৪৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফিরেছেন।
রোববার (তারিখ) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তাদের বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দেশে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে ট্রানজিটে আটকে পড়া যাত্রী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কিছু কর্মীও ছিলেন।
রাগীব সামাদ বলেন,মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছিলেন না।পরে বাংলাদেশ সরকার কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অনেক যাত্রী এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাগেরহাটের মোংলা—খুলনা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনকে একই কবরস্থানে পাশাপাশি নয়টি কবরে দাফন করা হয়েছে।তাদের জানাজার নামাজে অংশ নিতে লাখো মুসল্লির ঢল নামে। জানাজায় সরকারের মন্ত্রী,সংসদ সদস্য,জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নিহতদের মধ্যে ৪ জনকে খুলনার কয়রা উপজেলায় দাফন করা হয়েছে।আর মাইক্রোবাস চালক নাইমের মরদেহ দাফন করা হয় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়।
জানাজার নামাজে অংশ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি।দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হবে এবং নিহতদের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে।”
বিয়ে শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনা
জানা যায়,বুধবার ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের নতুন বউ আনতে পরিবারের সদস্যরা খুলনার কয়রা উপজেলায় যান।রাতে সেখানে অবস্থান করে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়।বিকেলে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুকে নিয়ে বর সাব্বির মোংলার উদ্দেশে রওনা হন।একই মাইক্রোবাসে দুই পরিবারের মোট ১৪ জন যাত্রী ছিলেন।
পথিমধ্যে মোংলা—খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বর–কনে বহনকারী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন।পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়।
এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া
মোংলায় দাফন করা ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে কয়রায় দাফন করা ৪ জন হলেন—নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু,তার ছোট বোন লামিয়া,তাদের নানী ও দাদি।
এদিকে আবদুর রাজ্জাকের এক ছেলের স্ত্রী বর্তমানে খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
তদন্তের দাবি
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এর ভাষণ চলাকালীন জুতা উঁচিয়ে ‘জুতাপেটা’ করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি এমন আচরণকে অনেকেই সংসদীয় শালীনতা,সাংবিধানিক শপথ ও আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন।
সংসদ সূত্রে জানা যায়,রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী বেঞ্চের কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ জুতা উঁচিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কথিতভাবে ‘জুতাপেটা’ করার হুমকি দেন।বিষয়টি সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং পরে এটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সাংবিধানিক শপথ ও সংসদীয় রীতির প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফশিল অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন যে তারা সংবিধানের প্রতি আনুগত্য রাখবেন এবং ভীতি,অনুগ্রহ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতি অবমাননাকর আচরণ সেই শপথের নৈতিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের ভেতরে শৃঙ্খলা, সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন এ ধরনের আচরণকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং স্পিকার চাইলে বিষয়টি সংসদীয় বিশেষাধিকার কমিটিতে পাঠাতে পারেন।
আইনি দৃষ্টিকোণ
আইনবিদদের মতে,সংসদের বাইরে একই ধরনের আচরণ ঘটলে তা দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation) বা আক্রমণের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে সংসদের ভেতরের ঘটনায় সাধারণত সংসদীয় দায়মুক্তি বা পার্লামেন্টারি প্রিভিলেজ প্রযোজ্য হওয়ায় বিষয়টি প্রধানত সংসদের নিজস্ব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী স্পিকার চাইলে অভিযুক্ত সদস্যকে—
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংসদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেনশন)
বিষয়টি তদন্তের জন্য বিশেষাধিকার কমিটিতে পাঠানো
গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে কঠোর সংসদীয় তিরস্কার
—এর মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অন্যরা বলছেন,রাষ্ট্রপতির প্রতি এমন হুমকি সংসদীয় গণতন্ত্রের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা সরকারের নীতির সমালোচনা করা স্বাভাবিক হলেও শারীরিক হুমকি বা অপমানসূচক আচরণ সংসদীয় সংস্কৃতির জন্য অশুভ নজির তৈরি করতে পারে।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান।এখানে যে আচরণ প্রদর্শিত হয় তা জনগণের কাছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন হয়ে ওঠে।ফলে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি এমন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত বা দলীয় বিতর্ক নয়,বরং গণতান্ত্রিক শালীনতা ও সাংবিধানিক সংস্কৃতির প্রশ্নও উত্থাপন করে।
ঘটনার বিষয়ে সংসদের স্পিকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।তবে বিষয়টি নিয়ে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
![]()
আশুগঞ্জ(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি।।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জাতীয় গ্রিড লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুইটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাময়িকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর আড়াইটা থেকে ইউনিট দুটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক (পরিচালন ও সংরক্ষণ) মোহা. আব্দুল মজিদ জানান,কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে তিনটি ইউনিট উৎপাদনে রয়েছে। তবে দুপুরে হঠাৎ করে জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নর্থ ইউনিট এবং ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইস্ট ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান,ইতোমধ্যে কারিগরি দল ত্রুটি নিরসনে কাজ শুরু করেছে।৪৫০ মেগাওয়াট নর্থ ইউনিটটি প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে চালু করার চেষ্টা চলছে।তবে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইস্ট ইউনিটে যান্ত্রিক জটিলতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে জার্মানির সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে কমপক্ষে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হঠাৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের কিছু এলাকায় লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ⚡
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈমকে ঘিরে পুরনো একটি নির্যাতনের ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে।অভিযোগ রয়েছে,আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে তাকে থানায় নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়।এমনকি নিজেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দেওয়ার পরও তার মুখে আঘাত করা হয় এবং দাঁত তুলে ফেলার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়।সেই সময় ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
অভিযোগের তীর ছিল তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা—এডিসি হারুনের দিকে।সমালোচকদের দাবি,তিনি তখন ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকেও ছাড় দেননি।এ ঘটনাকে অনেকে সেই সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ক্ষমতার এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রশ্ন উঠেছে—তৎকালীন সময়ে পুলিশের এমন দুঃসাহসের উৎস কোথায় ছিল? কে বা কারা তাদের সেই ক্ষমতা দিয়েছিল? একজন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতার দাঁত উপড়ে ফেলার মতো নির্যাতনের সাহস তারা কার ছত্রচ্ছায়ায় পেয়েছিল? একইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে,সে সময় বিভিন্ন ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ার’-এর ঘটনাও ঘটেছে।
সমালোচকরা বলছেন,রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেয়নি; বরং বহু ক্ষেত্রে দলটির নেতাকর্মীরাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার শিকার হয়েছেন।বরগুনায় এক ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে,এক এএসপি আওয়ামী লীগের অফিসে ঢুকে স্থানীয় এমপির সামনেই ছাত্রলীগের অন্তত ১৬ জন নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেন এবং ২১ জনকে গ্রেফতার করেন।এমনকি নির্বাচিত এমপিকেও আঙুল তুলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এ ধরনের ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যদি ক্ষমতাসীন দলই নিজেদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে,তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তখন কার হাতে ছিল?
অন্যদিকে সাম্প্রতিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সমালোচকদের দাবি,ওই সময় দেশজুড়ে সহিংসতার ঘটনায় ৪৬৮টি থানায় হামলা,ভাঙচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে।অভিযোগ করা হচ্ছে,এসব ঘটনায় বহু পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে।একইসঙ্গে মেট্রোরেল,পুলিশ বক্স, বিটিভি ভবন ও পদ্মা সেতুসহ বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস হয়েছে,যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে।
৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতিও সমালোচনার মুখে।অভিযোগ রয়েছে,পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িঘরে ভাঙচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।পাশাপাশি শিল্প-কারখানায় মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি উঠেছে।
গণমাধ্যম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।তাদের অভিযোগ,প্রায় ৪৫টি মিডিয়া হাউসে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।ফলে সাংবাদিক,শিক্ষক, শিল্পী,সাহিত্যিক এমনকি বিভিন্ন পেশার মানুষকেও হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি অধ্যায়েই যদি প্রতিশোধ,সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের দমন-পীড়ন দেখা যায়,তবে গণতন্ত্রের মূল চেতনাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।তাদের ভাষায়, “ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক কর্তব্য।”
তাদের মতে,রাষ্ট্রের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৩ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৩৭ দিনের পূর্ণ ছুটি চলাকালীন সময়ে অতিরিক্ত বেঞ্চ গঠনের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
বার এসোসিয়েশনের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহফুজুর রহমান উল্লেখ করেছেন,ইতিমধ্যেই কিছু অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করা হলেও,শুধুমাত্র একটি ফৌজদারী এবং একটি রীট বেঞ্চ রাখা হয়েছে,যা বিদ্যমান মামলার সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল।দীর্ঘ ছুটির সময় আইনজীবীরা মামলার পরিচালনা করতে ব্যস্ত থাকেন এবং পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকলে বিচারপ্রার্থীরা সময়মতো আইনী সেবা পেতে পারবেন না।
বার এসোসিয়েশন আরও ২টি ফৌজদারী ও ২টি রীট ডিভিশন মোশন বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা সুফলভোগী হবেন।
চিঠিটি প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল, রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারদের অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
![]()
![]()



সর্বশেষ সংবাদ :———