![]()

২০২৬ সালের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরিণতি ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতোই হতে পারে—হুঁশিয়ারি ড. হাসান মাহমুদের

দেবিদ্বার(কুমিল্লা)প্রতিনিধি।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার দেবিদ্বার আসনে বিজয়ী হয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ফলাফল ঘোষণার পর এলাকায় তার সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেকে সাধারণ পরিবারের সন্তান হিসেবে তুলে ধরেন।তার বাবা রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন—এ বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষের সমালোচনার অভিযোগও ওঠে। তবে ভোটের ফলাফলে দেখা যায়,এসব বিতর্ক তার সমর্থনভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,“এই বিজয় দেবিদ্বারের সাধারণ মানুষের।আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।” তিনি এলাকায় দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন।
তার সমর্থকদের দাবি,এই ফলাফল প্রমাণ করে ভোটাররা ব্যক্তি যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে কিনা,সে বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,দেবিদ্বার আসনের এবারের ফলাফল তরুণ নেতৃত্বের উত্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন নতুন সংসদ সদস্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য,দেবিদ্বার আসনটি কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় এলাকা হিসেবে পরিচিত।নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও ভোটের হার সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটের হার বৃদ্ধির গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্যকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ভোটের হার ছিল ১৪.৩২ শতাংশ।মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন হিসেবে এ সময়ে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখের বেশি ভোট পড়ে। তবে বেলা ১২টার আপডেটে ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৩২.৮৮ শতাংশ।অর্থাৎ এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোটের হার বৃদ্ধি পায় ১৮.৫৬ শতাংশ,যা সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ ভোটের সমান।
এ তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ভোটগ্রহণের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।তাদের যুক্তি,এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক ভোট গ্রহণ বাস্তবসম্মত কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।কেউ কেউ কেন্দ্র ও বুথভিত্তিক গড় ভোটের হিসাব তুলে ধরে দাবি করেন,এক ঘণ্টায় প্রতি বুথে গড়ে কয়েকশ’ ভোট গ্রহণ করা কঠিন।
তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহলের মতে,শতাংশ বৃদ্ধির এই চিত্র সব সময় সরাসরি এক ঘণ্টার ভোটের প্রতিফলন নাও হতে পারে।অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে দেরিতে তথ্য আসা,একসঙ্গে আপডেট হওয়া বা রিপোর্টিং পদ্ধতির কারণে হঠাৎ বড় বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।এছাড়া কেন্দ্রভেদে ভোটগ্রহণের গতি ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে কিছু রাজনৈতিক পক্ষ দাবি করেছে,ভোটের সার্বিক পরিবেশ ও অংশগ্রহণের হার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।তাদের মতে,বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও ভোটার উপস্থিতি কম হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের সমর্থকরা বলছেন,ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলের ওপর আস্থা রাখা উচিত।
নির্বাচনের সার্বিক চিত্র, চূড়ান্ত ফলাফল এবং পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার মূল্যায়ন পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণের পর বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে গড়ে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে।এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৩২.৮৮ শতাংশ। ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন,চূড়ান্ত হিসাবে ভোটের হার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে হতে পারে।
বিভাগ ও জেলাভিত্তিক চিত্র
এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে বিভাগ বা জেলাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।তবে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাথমিক ভোটের হার পাওয়া গেছে।
রাজশাহী জেলা: দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশের বেশি।এর মধ্যে রাজশাহী-৪ আসনে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং রাজশাহী-২ (সদর) আসনে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
খুলনা জেলা: জেলার ছয়টি আসনে ভোটের হার প্রায় ৬৫ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে,যা দেশের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি।
বগুড়া জেলা: প্রথম সাড়ে ৬ ঘণ্টায় (দুপুর ২টা পর্যন্ত) ভোট পড়েছে ৫৩.১৪ শতাংশ।
ঢাকা মহানগর: রাজধানীর কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোটের হার ছিল মাত্র ৬ থেকে ১৩ শতাংশ।ঢাকার সার্বিক ভোটের হার অন্যান্য জেলার তুলনায় কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণনা ও ফলাফল
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট গণনা চলছে।নির্বাচন কমিশন পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ফল প্রকাশ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।
সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।তবে চূড়ান্ত ফলাফল ও ভোটের হার জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।তিনি বলেন,জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে,তাই কোনো ষড়যন্ত্রই টিকবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন,ভোটের পরিবেশ যদি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকে,তবে তারা জনগণের রায় মেনে নেবেন।তিনি বলেন,“ভোট সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেওয়া হবে।তবে ভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হলে সেই ফলাফল মেনে নেওয়া হবে না।”
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন,“আলহামদুলিল্লাহ,আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”
তবে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মধ্যেও কিছু অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন,একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে।“আমরা চাই না কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটুক,” বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,তারা যেন জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা করে।
তিনি আরও বলেন,আজকের শান্তিপূর্ণ ভোট দেশের প্রকৃত গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করবে।ভোটাররা যেন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত ফলাফল জানতে পারে,সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকালে সপরিবারে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ভোট প্রদান শেষে তিনি ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং পরে দলীয় কার্যালয়ে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
উল্লেখ্য,গত বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে গঠনতন্ত্রের ৭(২) ধারা অনুযায়ী তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
![]()
খুলনা প্রতিনিধি।।খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই পক্ষের উত্তেজনা ও হট্টগোলের মধ্যে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি নিহত হয়েছেন।সকাল ৮টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
নিহত মহিবুজ্জামান কচি নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,সকাল ৮টার দিকে কেন্দ্রের অদূরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।একপর্যায়ে পরিস্থিতি হট্টগোলে রূপ নেয়। এ সময় মহিবুজ্জামান কচি আহত হন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের অধ্যক্ষ জামায়াতের পক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন।এ নিয়ে বাধা দিতে গেলে অধ্যক্ষ মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন।এতে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, তিনি কাউকে ধাক্কা দেননি। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কিছু নারী ভোটারকে বাইরে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছিল, তবে এতে কোনো ধাক্কাধাক্কি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত নয়।তার দাবি,মহিবুজ্জামান কচি অসুস্থ ছিলেন এবং উত্তেজনার একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ ঘটনার জন্য কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের দায়ী করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান,ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
![]()
মেহেরপুর প্রতিনিধি।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকা এবং গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
গাংনীতে ৬ জন আহতের দাবি জামায়াতের
গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।জামায়াতের দাবি,এতে তাদের ছয়জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।আহতরা হলেন—তবারক হোসেন (৫০),মিনাজুল ইসলাম (৩৫),সম্রাট আলী (৩২),রিপন মিয়া (৩৫),আনারুল ইসলাম (৫৪) ও আলহাজ বিশ্বাস (৫২)।তাঁদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।জামায়াত–সমর্থিত কয়েকজন ভোটার কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বিএনপির সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ।কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা অভিযোগ করেন,সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে তাঁদের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।ভাটপাড়ায় পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন,এটি প্রতিবেশীদের মধ্যে রেষারেষিজনিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা।তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের আহ্বান জানান।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, কেন্দ্রে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদরে সংঘর্ষ, আটক ১
সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায়ও বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।এতে সুমন,মামুন ও মাহাবুবুল নামের তিনজন আহত হয়েছেন।তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।সকালে ভোট দিয়ে ফেরার পথে সুমন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিবপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।পুলিশ জানিয়েছে,আটক ব্যক্তি বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত।
প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির চাঁদপুর কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।তিনি সাংবাদিকদের বলেন,একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা দুই এলাকাতেই দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নির্বাচনকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।শেরপুর-১ (সদর) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারা শতাধিক ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ নলবাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,বিএনপির দুই সমর্থক কৌশলে ধানের শীষ প্রতীকে শতাধিক ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে সেগুলোতে সিল মারেন।বিষয়টি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়।পরে কেন্দ্র থেকে সিল মারা ব্যালটগুলো উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান,উদ্ধার হওয়া ব্যালট পেপারগুলো বাতিল করা হবে। ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।বর্তমানে সেখানে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শেরপুর সদর উপজেলার ইউএনও মাহবুবা হক বলেন,সিল মারা ব্যালট পেপারগুলো ব্যালট বাক্সে ফেলার আগেই বিষয়টি ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।
ঘটনার পর কেন্দ্র এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা অভিযোগ করেছেন,তার পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না অথবা ঢুকলেও বের করে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তাসনিম জারা বলেন,“বেশ কিছু জটিলতার মধ্যে আমাদের যেতে হচ্ছে।বিভিন্ন কেন্দ্রে নানা অজুহাতে আমাদের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বা বের করে দেওয়া হচ্ছে।বানোয়াট কিছু নিয়ম বানিয়ে এই অজুহাতগুলো দেখানো হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন,কোথাও বলা হচ্ছে এজেন্টরা ওই এলাকার ভোটার নন,তাই কেন্দ্রে থাকতে পারবেন না।আবার কোথাও পুরুষ ভোটকেন্দ্রে নারী এজেন্ট থাকার বিষয়টি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে।এছাড়া মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জারা বলেন,“বলছে যে ফোন নিয়ে ঢোকা যাবে না,অথচ ফোন নিয়ে ঢোকা যাবে—ব্যবহার করা যাবে না।বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের পোলিং এজেন্টদের হেনস্থা করা হচ্ছে।”
এমন পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন,তার এজেন্টদের যদি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে না দেওয়া হয়,তাহলে নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু হবে।
তিনি আরও বলেন,“আমি যখন নিয়ম জানতে চাই,তখন তারা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারে না।বলে,‘আমাদের বলা হয়েছে’।কে বলেছে,সেটাও জানায় না।আমি তো প্রার্থী হিসেবে প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারব না কেন আমার এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।”
ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন।মোট প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় হলেও নানা কারণে সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
১৯৭৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী ইতিহাসের প্রধান তথ্যগুলো নিম্নরূপ:
১৯৭৯ সালের নির্বাচন:
জামায়াতে ইসলামী সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি।তারা ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (IDL) ব্যানারে অংশগ্রহণ করে ৬টি আসনে বিজয়ী হয়।
নির্বাচিত প্রার্থীরা ছিলেন:
জবান উদ্দিন আহমেদ (নীলফামারী-৩)
মাওলানা আব্দুর রহমান ফকির (বগুড়া-৬)
মাওলানা মিম ওবায়দুল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)
লতিফুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১)
আব্দুল ওয়াহেদ (কুষ্টিয়া-২)
১৯৮৬ – ১০টি আসনে জয়ী
জামায়াত ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ১০টি আসনে বিজয়ী হয়। প্রার্থীদের মধ্যে কিছু নাম প্রকাশিত ছিল:
জবান উদ্দিন আহমেদ (নীলফামারী-৩)
মাওলানা আব্দুর রহমান ফকির (বগুড়া-৬)
মাওলানা মিম ওবায়দুল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)
লতিফুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১)
আব্দুল ওয়াহেদ (কুষ্টিয়া-২)
১৯৯১ – ১৮টি আসনে জয়ী
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা ছিল:
জবান উদ্দিন আহমেদ (নীলফামারী-৩)
মাওলানা আব্দুর রহমান ফকির (বগুড়া-৬)
মাওলানা মিম ওবায়দুল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)
লতিফুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১)
আব্দুল ওয়াহেদ (কুষ্টিয়া-২)
(অন্যান্য ১২টি আসনের প্রার্থীর নাম সরকারি রেকর্ডে প্রকাশিত নেই।)
১৯৯৬ (জুন) – ৩টি আসনে জয়ী
জামায়াত ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ৩টি আসনে বিজয়ী হয়। প্রধান প্রার্থীরা:
জবান উদ্দিন আহমেদ (নীলফামারী-৩)
মাওলানা মিম ওবায়দুল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)
লতিফুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)
২০০১ – ১৭টি আসনে জয়ী (বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট)
২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৭টি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
জবান উদ্দিন আহমেদ (নীলফামারী-৩)
মাওলানা আব্দুর রহমান ফকির (বগুড়া-৬)
মাওলানা মিম ওবায়দুল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)
লতিফুর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১)
আব্দুল ওয়াহেদ (কুষ্টিয়া-২)
এএসএম মোজাম্মেল হক (ঝিনাইদহ-৩)
অ্যাডভোকেট নূর হোসেন (যশোর-১)
মকবুল হোসেন (যশোর)
কাজী শামসুর রহমান (সাতক্ষীরা-২)
(অন্য ৭টি আসনের বিজয়ী প্রার্থীর বিস্তারিত তথ্য সরকারি রেকর্ডে অনলাইনে নেই।)
২০০৮ – ২টি আসনে জয়ী
২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত ২টি আসনে বিজয়ী হয়। প্রার্থীরা ছিলেন:
জবান উদ্দিন আহমেদ (নীলফামারী-৩)
মাওলানা মিম ওবায়দুল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)
🔹
১৯৮৬–২০০৮ সালের মধ্যে জামায়াত বিভিন্ন সময়ে ৫০টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছে।তাদের প্রার্থীরা নীলফামারী, বগুড়া,চাঁপাইনবাবগঞ্জ,রাজশাহী,কুষ্টিয়া,যশোর,ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।২০১৪ ও ২০১৮ সালে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।২০২৬ সালের নির্বাচনে তারা ১১-দলীয় জোটের মাধ্যমে ১৭৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে কতটি আসন রয়েছে,তা নিম্নরূপ:
ঢাকা মেট্রো ও কেন্দ্রীয় জেলা:
ঢাকা জেলা ২০টি, গাজীপুর ৫টি, নারায়ণগঞ্জ ৫টি, নরসিংদী ৫টি, মুন্সীগঞ্জ ৩টি, মানিকগঞ্জ ৩টি, টাঙ্গাইল ৮টি, কিশোরগঞ্জ ৬টি, মাদারীপুর ৩টি, শরীয়তপুর ৩টি, রাজবাড়ী ২টি এবং গোপালগঞ্জ ৩টি। ফরিদপুর জেলার ৪টি সংসদীয় আসন রয়েছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চল:
ময়মনসিংহ জেলা ১১টি, জামালপুর ৫টি, শেরপুর ৫টি এবং নেত্রকোণা ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
চট্টগ্রাম অঞ্চল:
চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি, কক্সবাজার ৪টি, রাঙ্গামাটি ১টি, খাগড়াছড়ি ১টি এবং বান্দরবান ১টি আসন রয়েছে। কুমিল্লা জেলা ১১টি, ফেনী ৩টি, নোয়াখালি ৬টি, লক্ষ্মীপুর ৪টি, চাঁদপুর ৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬টি আসনে নির্বাচন হয়।
রাজশাহী অঞ্চল:
রাজশাহী জেলার ৬টি, নাটোর ৪টি, নওগাঁ ৬টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩টি, পাবনা ৫টি, সিরাজগঞ্জ ৬টি, বগুড়া ৭টি এবং জয়পুরহাট ২টি আসন রয়েছে।
উত্তরাঞ্চল:
রংপুর জেলা ৬টি, দিনাজপুর ৬টি, কুড়িগ্রাম ৪টি, গাইবান্ধা ৫টি, লালমনিরহাট ৩টি, নীলফামারী ৪টি, পঞ্চগড় ২টি এবং ঠাকুরগাঁও ৩টি আসন ধারণ করে।
খুলনা অঞ্চল:
খুলনা জেলা ৬টি, যশোর ৬টি, সাতক্ষীরা ৪টি, বাগেরহাট ৪টি, নড়াইল ২টি, ঝিনাইদহ ৪টি, মাগুরা ২টি, চুয়াডাঙ্গা ২টি, কুষ্টিয়া ৮টি এবং মেহেরপুর ২টি আসনে ভাগ হয়েছে।
বরিশাল অঞ্চল:
বরিশাল জেলা ৬টি, ভোলা ৪টি, পটুয়াখালি ৪টি, পিরোজপুর ৩টি, ঝালকাঠি ২টি এবং বরগুনা ২টি আসন নিয়ে নির্বাচনী মানচিত্রে রয়েছে।
সিলেট অঞ্চল:
সিলেট জেলা ৬টি, মৌলভীবাজার ৪টি, হবিগঞ্জ ৪টি এবং সুনামগঞ্জ ৫টি আসন ধারণ করে।
এই তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ৬৪টি জেলা থেকে জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি আসন নির্ধারিত।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯:৩৬ মিনিটে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
তার নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।এবারই প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান।বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার গঠন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন।
তারেক রহমান শুধু ঢাকা-১৭ আসনে নয়,তার পৈতৃক নিবাস বগুড়া-৬ আসন থেকেও ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লতিনি ১৭ বছরের লন্ডন নির্বাসনের পর গত ২৫ নভেম্বর দেশে ফিরেন এবং ২৭ নভেম্বর ভোটার হন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন,“ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে যাবে,তা নির্ধারণ করবে আজকের নির্বাচন।”
তারেক রহমান রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরোধী আন্দোলনে,এরপর ১৯৮৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সদস্য হন।
২০০২: সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক
২০০৭: নির্বাসিত
২০০৯: সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান
২০১৮: ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু হওয়ার পর, ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের স্থায়ী কমিটি চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।একটি সম্প্রতি প্রকাশিত মতামত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতে,আগামী নির্বাচনে সরকার গঠনে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৮৮ জন মনে করছেন বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে,যা সবচেয়ে বেশি।
জরিপ অনুযায়ী আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও বিএনপি প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এরপরে অবস্থান করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,যারা ২৫৯ ভোট পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ২২৫ ভোট,জাতীয় পার্টি ১৯৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদ ৯২ ভোট পেয়েছে।ছোট দলগুলোর মধ্যে জেএসডি পেয়েছে ৩১ ভোট এবং খেলাফত মজলিশ ২৯ ভোট।
জরিপের ভিত্তিতে ধারণা করা যায়,আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ করছে বিএনপি,এরপর ইসলামী আন্দোলন এবং জামায়াত।অন্যান্য ছোট দলগুলো সীমিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,এই জরিপ জনমতের একটি আভাস দেয়,তবে বাস্তব সরকার গঠন নির্বাচনী ফলাফল এবং জোট সমীকরণের ওপর নির্ভর করবে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ইউটিউবে কত ভিউ হলে কত টাকা পাওয়া যায়? সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট হিসাব ঘোরে: ১ হাজার ভিউতে ৫০ টাকা,১ লাখ ভিউতে ৫ হাজার টাকা, ১ কোটি ভিউতে ৫ লাখ টাকা ইত্যাদি।তবে বাস্তবে ইউটিউবের আয় নির্দিষ্ট কোনো স্থির হারে নির্ধারিত নয়।আয় নির্ভর করে CPM, RPM, দর্শকের দেশ, ভিডিওর ধরন এবং বিজ্ঞাপনের ওপর।
ইউটিউব আয় কীভাবে নির্ধারিত হয়?
ইউটিউব মূলত বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে এবং সেই আয়ের একটি অংশ নির্মাতাদের দেয়। এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টার্ম রয়েছে:
CPM (Cost Per 1,000 Impressions):
বিজ্ঞাপনদাতা প্রতি ১,০০০ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য কত অর্থ দেয়।
RPM (Revenue Per 1,000 Views):
নির্মাতা প্রতি ১,০০০ ভিউ থেকে গড়ে কত আয় করেন (ইউটিউবের অংশ কেটে নেওয়ার পর)।
ইউটিউব সাধারণত বিজ্ঞাপন আয়ের ৫৫% নির্মাতাকে এবং ৪৫% নিজে রাখে (YouTube Partner Program অনুযায়ী)।
বাংলাদেশে গড় আয় কত?
বাংলাদেশি অডিয়েন্সভিত্তিক সাধারণ বিনোদন চ্যানেলের ক্ষেত্রে:
প্রতি ১,০০০ ভিউতে আয়: প্রায় ২০–৮০ টাকা
গড় হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে ধরা হয়: ৪০–৬০ টাকা
অর্থাৎ ১ লাখ ভিউ হলে আয় হতে পারে আনুমানিক ৪,০০০–৬,০০০ টাকা, তবে এটি নিশ্চিত হার নয়।
আন্তর্জাতিক ভিউ হলে আয় কত?
যদি দর্শক যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,যুক্তরাজ্য বা ইউরোপ থেকে হয়:
প্রতি ১,০০০ ভিউতে আয় হতে পারে ৫–১০ ডলার (প্রায় ৬০০–১,২০০ টাকা)
কিছু উচ্চমূল্যের নিশে (ফাইন্যান্স,ইনভেস্টমেন্ট,সফটওয়্যার) CPM আরও বেশি হতে পারে।
ভিডিওর ধরনভেদে আয়
ভিডিওর ধরন সম্ভাব্য আয় (প্রতি ১,০০০ ভিউ)
কমেডি/বিনোদন কম
ভ্লগ মাঝারি
টেক রিভিউ বেশি
ফাইন্যান্স/বিজনেস খুব বেশি
শিক্ষা/অনলাইন ইনকাম বেশি
লং ভিডিও বনাম শর্টস
লং ভিডিও:
৮ মিনিটের বেশি হলে Mid-roll ads যুক্ত করা যায়
আয় তুলনামূলক বেশি
শর্টস:
কোটি ভিউ হলেও আয় কম
শর্টস ফান্ড ও বিজ্ঞাপন শেয়ারিং আলাদা পদ্ধতিতে হয়
১ কোটি শর্টস ভিউয়ের আয় অনেক সময় ৫০ হাজার টাকারও কম হতে পারে (চ্যানেলভেদে পরিবর্তনশীল)
উদাহরণ হিসাব (বাংলাদেশি গড় RPM ৫০ টাকা ধরে)
ভিউ আনুমানিক আয়
২,০০০ ১০০ টাকা
১০,০০০ ৫০০ টাকা
১,০০,০০০ ৫,০০০ টাকা
১০,০০,০০০ ৫০,০০০ টাকা
১,০০,০০,০০০ ৫,০০,০০০ টাকা
⚠️ এটি কেবল গড় ধারণা; বাস্তবে আয় কম বা বেশি হতে পারে।
আয় কমবেশি হওয়ার কারণ
১. ভিডিওর নিশ
২. দর্শকের দেশ
৩. বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের হার (Monetized Playbacks)
৪. ভিডিওর দৈর্ঘ্য
৫. মৌসুমি বিজ্ঞাপন বাজেট (বিশেষ করে বছরের শেষ প্রান্তিকে CPM বেশি হয়)
৬. দর্শকের বিজ্ঞাপন স্কিপ বা অ্যাড ব্লকার ব্যবহার
উপসংহার
ইউটিউবে আয় শুধুমাত্র ভিউয়ের ওপর নির্ভর করে না।একই ভিউ হলেও দুই চ্যানেলের আয় সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতি ১,০০০ ভিউতে ২০–৮০ টাকা একটি সাধারণ গড় ধারণা হিসেবে ধরা যায়।তবে আন্তর্জাতিক অডিয়েন্স ও উচ্চমূল্যের নিশে আয় কয়েকগুণ বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে হলে শুধু ভিউ নয়—নিশ নির্বাচন,অডিয়েন্স টার্গেটিং ও কনটেন্টের মান উন্নত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার দাবি করে এবং কৌশলগত কারণে ছাত্রলীগের ছদ্মবেশ ধারণের কথা উল্লেখ করে দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস বা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন,২০১৩ সালের পর বিরোধী মতাদর্শের কর্মীদের জন্য প্রকাশ্যে রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়ে।সে প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে ছাত্রলীগের আশ্রয়ে থেকে সংগঠনের ভেতরে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তার দাবি,এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে ছাত্রলীগকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেটি পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালের পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায় বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ছিল।এ সময় অনেক কর্মী নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন—এমন দাবিও মাঝেমধ্যে উঠে এসেছে।তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য সীমিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ভেতর থেকে সংগঠন দুর্বল করার কৌশল বা ‘সাবভার্সন’ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন নয়। ইতিহাসে বিভিন্ন দেশে দমন-পীড়নের সময় এ ধরনের কৌশল দেখা গেছে।তবে এ ধরনের কর্মকৌশল নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত।
‘২৪-এর অভ্যুত্থান’ প্রসঙ্গ
সাদিক কায়েমের বক্তব্যে ‘২৪-এর অভ্যুত্থান’-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু অংশের আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন,সে সময়কার সহিংসতা ও সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
তবে আন্দোলনের সাফল্য একক কোনো কৌশলের ফল নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ,রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং সামাজিক ক্ষোভ—সব মিলিয়েই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
জনমনে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমে এ বক্তব্য নিয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একদল সমর্থক বলছেন,এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও সাহসী রাজনৈতিক কৌশল,যা ছাড়া বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হতো না।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে,এ ধরনের অনুপ্রবেশের দাবি আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের ত্যাগের প্রশ্ন তুলতে পারে। তারা রাজনৈতিক নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ ছাত্ররাজনীতিতে আস্থার সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে সাদিক কায়েমের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণও প্রকাশিত হয়নি।
বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে জ্বালানি খাতে কার্যক্রম চালালেও মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন ছাড়া বড় কোনো মার্কিন ব্র্যান্ডের দৃশ্যমান উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই বাজারে স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতি এ বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,উচ্চ করহার এবং মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার জটিলতা মার্কিন বিনিয়োগ কম থাকার অন্যতম কারণ।
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকেই নির্বাচিত করুক না কেনযুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মূলত দুটি জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে—একটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যটি জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এককভাবে সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তাদাতা দেশ।
তিনি জানান, জাতিসংঘের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দুই বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তবে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এত বড় সংকট একা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্যান্য দাতা দেশ ও অংশীদারদের সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে তহবিল সংকটের কারণে রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।নির্বাচন শেষে বিজয়ী দলের প্রধান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে সংসদ বর্তমানে কার্যকর না থাকায় শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে?
স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর গ্রেফতারের কারণে সংসদীয় শপথ কার্যক্রমে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।সাধারণত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন,রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা প্রয়োজনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পড়াতে পারেন।
তিনি আরও জানান,অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সংবিধানের বিধান
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অন্য কাউকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন।
অন্যদিকে,সংসদ সদস্যদের শপথ সাধারণত স্পিকার পড়ান। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
নির্বাচনী চিত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ১,২২০ জন।
৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
উপসংহার
সংসদ কার্যকর না থাকলেও সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার অনুযায়ী মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন—এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।এখন নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে মাষ্টার গোলাম মোস্তফা নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে।এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ,একটি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা,একটি ল্যাপটপ,ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সরে দাঁড়ানো প্রার্থীরা হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এসএম আবুল কালাম আজাদ,ডাব প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ, আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর হুমায়ুন।
এদিন গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।তিনি বলেন,বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর চার স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ বিষয়ে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
উপস্থিত দুই প্রার্থী— এসএম আবুল কালাম আজাদ ও শামীম আহমেদ— তাৎক্ষণিকভাবে তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।অপর দুই প্রার্থী মো. রাশেদুল হক ও মঞ্জুর হুমায়ুন মুঠোফোনে সমর্থনের কথা জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানান আবদুস সালাম।
এর আগে,গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মোরগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েতউল্লাহও তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
![]()
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সম্মেলন করেছেন দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী ২৯২৬) দুপুর ১২টার সময় বরিশাল -৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের দুই প্রার্থী জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত মটর গাড়ী প্রতিকের প্রার্থী আব্দুস ছালাম খোকন ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত ছড়ি মার্কা প্রতিকের প্রার্থী আঃ জলিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন,নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে জামায়াতের নেতারা লাঠিসোটা মজুত এবং বহিরাগতদের ঢোকাচ্ছেন।তারা নির্বাচনে আদিপত্ত্য বিস্তার এবং কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে উপজেলার চানপুর ইউনিয়ন ও চরগোপালপুর ইউনিয়নে জামায়াত নেতাদের আস্তানা থেকে লাঠিসোঁটা উদ্ধার করেছেন প্রশাসন।বরিশাল সদর ও মুলাদি বাবুগঞ্জে তাদের নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় বরিশাল -৪ হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তার করতে সেখানকার জামায়াতের নেতাকর্মীরা এসেছেন।আমরা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।আমরা ৭১এর বিশ্বাসী।স্বাধীনতা বিরোধীরা নির্বাচনে নানা অপকৌশল করে যাচ্ছেন।
আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি যাতে বহিরাগতদের রুখে দেয় কোন প্রকার ঝামেলা না করতে পারে।আমরা তাদের কর্মকান্ডে শংকিত।
একই সময়ে দুইজন সংসদ সদস্য পদ প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফেসবুক ভাইরাল জনকল্যান পার্টির চেয়ারম্যান খায়রুল দেওয়ান।
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা আমির ৫০ লাখ টাকা নগদ অর্থসহ আটক হওয়ার ঘটনায় দল অভিযোগ করেছে এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক ও অপপ্রচার।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন,আটক নেতা ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যথাযথ অনাপত্তিপত্র (NOC) নিয়ে বিমানে ওঠেন।কিন্তু সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন,এটি জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সাজানো ঘটনা।
জুবায়ের আরও বলেন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিক নির্যাতনের কারণে ওই বয়স্ক নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানিয়ে দেন,ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বাচনী হামলা ও হুমকি অব্যাহত আছে।
দল নির্বাচনের আগেই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
![]()
![]()


সর্বশেষ সংবাদ :———