সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বিপন্ন: অদৃশ্য শক্তির ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় নীরবতা

  প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:১৫:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বিপন্ন: অদৃশ্য শক্তির ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় নীরবতা

মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশ আজ এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার মুখোমুখি।রাষ্ট্রের ভিতরে ও বাইরে অবস্থানকারী কিছু শক্তি—যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে—দেশকে ধ্বংসাত্মক অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই শক্তির কাজ হলো:
১. রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার—দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনাবশ্যক প্রভাব বিস্তার।
২. সামাজিক বিভাজন—ধর্ম,জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বিভাজন সৃষ্টি।
৩. উগ্রপন্থা ও সহিংসতার উস্কানি—মব নৈরাজ্য ও জঙ্গি কার্যক্রমে ইন্ধন দেওয়া।

আইনি বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন স্পষ্ট—

মৌলিক অধিকার: সংবিধান অনুযায়ী,প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত।যদি রাষ্ট্র বা কোনো শক্তি এটিকে বাধাগ্রস্ত করে,তা সংবিধান লঙ্ঘন।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব: সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থা দমন করতে হবে। নীরব থাকা বা উদ্যোগহীনতা রাষ্ট্রের দায়িত্বে অবহেলা।

সন্ত্রাস ও উস্কানিমূলক কার্যক্রম: সেগুলো ক্রিমিনাল প্রসিকিউশন যোগ্য অপরাধ।মব নৈরাজ্য,উগ্রপন্থা ও জঙ্গি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য।

বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসের প্রতি সমালোচনামূলক বক্তব্যকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে দমন করা হচ্ছে—এটি মৌলিক অধিকার হরণ ও আইন অমান্য করার চিহ্ন।

রাষ্ট্রীয় নীরবতা: সবচেয়ে বড় সমস্যা

সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিবাদ চোখে পড়েনি।আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অদৃশ্য নীরবতা—যা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকে শক্তিশালী করছে—একটি প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার চিত্র।

ভিন্ন এজেন্ডা: ‘ডিজাইনড অরাজকতা’

সমালোচকরা মনে করেন,দেশকে ইরাক,সিরিয়া,লিবিয়া বা গাজা অঞ্চলের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করা হচ্ছে।এ ধরনের পরিকল্পিত অরাজকতা শুধু রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করবে না,জনগণের জীবন ও নিরাপত্তাকেও হুমকিতে ফেলবে।

উপসংহার ও প্রস্তাবনা

১. আইন ও সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা: সরকারকে অবশ্যই সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
২. উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাস দমন: সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনানুগভাবে বিচারের আওতায় আনা।
৩. মৌলিক অধিকার সুরক্ষা: মতপ্রকাশ ও ইতিহাসের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে হবে।
৪. গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

রাষ্ট্র যদি এখনও নীরব থাকে,তবে এটি শুধু রাজনৈতিক ঝুঁকি নয়—এটি দেশীয় নিরাপত্তার চরম হুমকি ও আইনগত ব্যর্থতা।বাংলাদেশের জনগণ দাবি রাখে: আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রতিষ্ঠিত হোক, না হলে রাষ্ট্র ও জনগণ দু’ই ভুগবে।

আরও খবর

Sponsered content