প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:৪৪:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে যে সতর্কতা উচ্চারিত হয়েছিল,আজ তা আর আশঙ্কা নয়—বাস্তবতা। দেশের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তখন ছিল আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে।আন্তর্জাতিক অভিনন্দন,কূটনৈতিক স্বীকৃতি এবং সংসদে নিরঙ্কুশ আধিপত্য—সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল নৌকার যাত্রা নির্বিঘ্ন।কিন্তু সময় প্রমাণ করেছে,সতর্ক কণ্ঠ উপেক্ষা করলে সাফল্যও ভারে পরিণত হয়।

সেদিন বলা হয়েছিল—অতিরিক্ত বোঝাই করে নৌকা যেন ডুবে না যায়।আজ দেখা যাচ্ছে,সেই অতিরিক্ত বোঝাইয়ের চাপেই নৌকার ভারসাম্য নড়বড়ে।দলীয় শৃঙ্খলা দুর্বল হয়েছে, আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার হিসাব বড় হয়ে উঠেছে।যাদের বিরুদ্ধে তখন সতর্ক করা হয়েছিল—হাইব্রিড রাজনীতি,সুবিধাভোগী অনুপ্রবেশ,স্বতন্ত্র পরিচয়ে জয়ী হয়ে পরে দলে ঢোকার প্রবণতা—তারাই আজ সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের চার মূলনীতি ছিল দল পরিচালনার দিকনির্দেশনা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে,সেই নীতির জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে জায়গা করে নিয়েছে ক্ষমতার অহংকার ও আত্ম-অহমিকা। নৌকা প্রতীক স্বাধীনতা,উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের প্রতীক হলেও, তৃণমূলের কাছে সেই প্রতীকের অর্থ ক্রমেই ঝাপসা হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বিপন্ন হয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। যারা অতীতে জেল-জুলুম,নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেও দলের সঙ্গে থেকেছেন,তারাই আজ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।আর যারা বিভিন্ন সময়ে দলীয় পরিচয়কে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন,তারা নিরাপদ দূরত্বে বসে বিলাসী জীবন যাপন করছেন।এই বৈপরীত্যই দলের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে।
১৬ জানুয়ারি ২০২৪-এ ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ব্যক্তিগত বার্তায় যে সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল,তা যদি তখন গুরুত্ব পেত, তাহলে আজ পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত—এমন প্রশ্ন উঠছেই। কারণ দল যখন আত্মসমালোচনার বদলে আত্মঅহমিকায় আচ্ছন্ন হয়,তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সংগঠনের শিকড়ে।
আজকের বাস্তবতা স্পষ্ট করে বলছে—স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে,অনুপ্রবেশকারীদের পুনর্বাসন করে নৌকার যাত্রা নিরাপদ রাখা যায় না।বরং এতে নৌকা ভারী হয়,দিশাহীন হয়।যারা নৌকা প্রতীককে দুর্বল করেছে, তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাই এখন সংগঠন বাঁচানোর পূর্বশর্ত।
এই সম্পাদকীয় তাই নতুন করে নয়,পুরোনো সতর্কতাকেই বর্তমান সময়ের আয়নায় তুলে ধরে।এখনো সময় আছে—দলীয় শুদ্ধতা ফিরিয়ে আনার,তৃণমূলকে মর্যাদা দেওয়ার,আদর্শকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার। অন্যথায় ইতিহাস বলবে,সতর্কতা ছিল—কিন্তু শোনা হয়নি।













