সম্পাদকীয়

আইন নয়,যদি ছাড়ই চূড়ান্ত হয়—তবে রাষ্ট্র কার?

  প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:১৫:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

আইন নয়,যদি ছাড়ই চূড়ান্ত হয়—তবে রাষ্ট্র কার?

মাজহারুল ইসলাম।।রাষ্ট্র টিকে থাকে তিনটি স্তম্ভের ওপর—আইন,বিচার ও বলপ্রয়োগের বৈধতা।বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত সাংবিধানিক সরকারের পর এই তিনটি স্তম্ভই একযোগে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।প্রকাশ্যে থানা পোড়ানোর স্বীকারোক্তি, পুলিশ হত্যার দাবি,বিচারককে হুমকি দিয়ে জামিন আদায়, এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য গ্রেফতারে ‘বিশেষ অনুমতি’র মতো বক্তব্য—সব মিলিয়ে প্রশ্নটা আর রাজনৈতিক নয়,একেবারেই রাষ্ট্রীয়।

আজ যদি কেউ বলে,“অপরাধ করেছি,তবু আমাকে গ্রেফতার করা যাবে না”—এটি শুধু আইন অমান্য নয়,এটি সংবিধানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ।সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ যেখানে আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলে,সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া মানে রাষ্ট্র নিজেই বৈষম্যের পৃষ্ঠপোষক হওয়া।

সবচেয়ে ভয়াবহ সংকেত এসেছে বিচারাঙ্গন থেকে।বিচারক যদি রায় দেওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তা ভাবতে বাধ্য হন, তবে সেই রায় আর ন্যায়বিচার থাকে না—তা হয়ে ওঠে আতঙ্কের নথি।আজ জামিন,কাল মামলা প্রত্যাহার,পরশু বিচারক বদলি—এই চক্র চলতে থাকলে আদালত থাকবে, বিচার থাকবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও একই সংকটে।পুলিশ যদি জানে—অপরাধী ‘সঠিক পরিচয়ের’ হলে তাকে ছোঁয়া যাবে না—তাহলে সে আর রাষ্ট্রের কর্মচারী থাকে না,হয়ে যায় ভীত দর্শক।রাষ্ট্র তখন তার বৈধ বলপ্রয়োগের ক্ষমতা হারায়,আর সেই শূন্যতা দখল করে মব ও সশস্ত্র গোষ্ঠী।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর ফল আরও ভয়ংকর।যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের নজরদারিতে থাকা কোনো রাষ্ট্রে বিনিয়োগ আসে না,কূটনৈতিক আস্থা তৈরি হয় না। মানবাধিকার ও সন্ত্রাস ইস্যুতে বাংলাদেশ যদি ‘রেড-ফ্ল্যাগ’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়,তার মূল্য দেবে সাধারণ নাগরিক—চাকরি, বাজার,নিরাপত্তা সবখানেই।

এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্র কি আইনের পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি ছাড়ের রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করবে?ইতিহাস বলে,যে রাষ্ট্র অপরাধকে ছাড় দেয়,একদিন সেই অপরাধই রাষ্ট্রকে গ্রাস করে।

আইনের শাসন এখন কোনো নৈতিক স্লোগান নয়—এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের শেষ প্রতিরক্ষা রেখা।

আরও খবর

Sponsered content