প্রতিনিধি ৮ অক্টোবর ২০২৫ , ৫:৪৬:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ফতুল্লা(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি।।নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যুবক নয়নের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।নিখোঁজ মাদক ব্যসায়ী নয়ন (৪৮)-এর মরাদেহ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এক ভয়ঙ্কর পরকীয়ার আখ্যান,যা শেষ হয়েছে বীভৎস হত্যাকাণ্ডে।

পুলিশের জানায়,নয়নকে হত্যার পর তার স্ত্রী ও তার প্রেমিক মিলে দেহটি খণ্ড-বিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়েছিল। এই লোমহর্ষক ঘটনায় পুলিশের হাতে নয়নের স্ত্রী সাবিনা ওরফে সাবরিনা (৩৮) সহ মোট সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।
পরকীয়ার ও খুনের পরিকল্পনা:ফতুল্লা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,নিহত মো. নয়ন দুটি সংসার চালাতেন।দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ওরফে সাবরিনা (৩৮)-কে নিয়ে তিনি পিলকুনি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।প্রায় তিন বছর আগে নয়ন একটি মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল হাজতে যায়। আর ঠিক এই সময়েই নয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা, রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল (৪২)-এর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশের জানায়,গত ১৯ সেপ্টেম্বর নয়ন জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং কিছুদিন পর নতুন ভাড়া করা পশ্চিম দেলপাড়ার বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে থাকতে শুরু করেন।সেখানেই তিনি স্ত্রী ও রাসেলের পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।এ নিয়ে স্ত্রী সাবিনার সঙ্গে তার মনোমালিন্য শুরু হয়।এই টানাপোড়েনের জের ধরেই পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক (৫ অক্টোবর) বেলা অনুমান সাড়ে ১২ টার দিকে নয়নের ফ্লাটে আসেন পরকীয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল।এরপর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।ফ্ল্যাটের ভেতরে তখন সাবিনার পূর্বের সংসারের দুই মেয়ে সুমাইয়া (২০) ও সানজিদা ওরফে সাজু (১৮) উপস্থিত ছিল।
হত্যা ও দেহ গুম:পুলিশ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে,মনোমালিন্যের একপর্যায়ে সাবিনা ও রাসেল ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নয়নকে আটকে ফেলে।এরপর লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ধারালো ছোরা দিয়ে নিম্নাংশে কুপিয়ে নয়নের মৃত্যু নিশ্চিত করে।
এরপরের ঘটনা আরও ভয়াবহ:-পুলিশের দাবি,পরের দিন (৬ অক্টোবর) রাতে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা সহযোগী হিসেবে চয়ন (৩৮),জুয়েল (২৮),নোমান ওরফে মানিক (২৮),নয়নের দুই মেয়ে সুমাইয়া ও সানজিদা এবং পলাতক আসামী সামির (২০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন মিলে একজোট হয়।হত্যাকারীরা একটি হ্যাক-স-ব্লেড ব্যবহার করে নয়নের দুটি পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।এরপর মৃতদেহের উপরের অংশ (হাতসহ) নাইলনের রশি দিয়ে বেঁধে পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে মুড়ে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ফতুল্লার উত্তর শিয়াচর এলাকার তক্কারমাঠের মাওয়া সুপার মার্কেটের পশ্চিম পাশে ফাঁকা জমিতে ফেলে রাখা হয়।বিচ্ছিন্ন পা দুটি এবং হত্যার সংশ্লিষ্ট আলামত একটি তোশকের ভিতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পিলকুনি সরকারী প্রাইমারী স্কুলের গলি সংলগ্ন আশরাফের ফাঁকা জমিতে ফেলে দেয়।

















