প্রতিনিধি ৩০ আগস্ট ২০২৫ , ৬:০৪:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে লাঠিপেটা করে আহত করার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও,টাঙ্গাইল,ময়মনসিংহ,রাজশাহী, গাইবান্ধায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুরে ও রাজশাহীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগও করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মশাল মিছিল করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
এরপর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন।
এ হামলায় আহত অবস্থায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর প্রতিবাদে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। পরে শনিবারও বিভিন্ন জেলায় তাদের বিক্ষোভ অব্যহত থাকে।
ঠাকুরগাঁও
এর মধ্যে শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুর ও বাইরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
হরিপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা আমাদের কার্যালয়ের ৪০-৫০টা চেয়ার,দুটি টেবিল,চারটা ফ্যান,দুইটা আলমিরা ভাঙচুর করে এবং কিছু আসবাবপত্র বাহিরে বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী বলেন,পরিকল্পিতভাবে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা আমাদের হরিপুর উপজেলা কার্যালয়ে হামলা,ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। আমরা প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মোজাক্কের ইসলাম সুমন বলেন,“আমাদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুপুরে একটি মিছিল বের করা হয়।মিছিলটি জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গেলে নেতাকর্মীরা ক্ষোভে তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে।”
হরিপুর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন,উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরের খবর পেয়ে হরিপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইল
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে গণ জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বলে জানান টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানভীর হাসান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়।এ সময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা চালান।তারা অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান।
এ সময় অফিসের সাইনবোর্ড,চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।আন্দোলনকারীরা নুরের উপর হামলার প্রতিবাদসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন ।
দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত নগরজালফৈ বাইপাস এলাকা অবরোধ করে রাখেন তারা।এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সুজন মাহমুদ,সাধারণ সম্পাদক সাগর মাহমুদ, নবাব।
সভাপতি সুজন মাহমুদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে অন্যতম অবদান রেখেছেন ভিপি নুর।তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় কখনও পিছপা হননি।শুক্রবার রাতেও ভিপি নুরসহ দলের নেতাকর্মীরা যৌক্তিক দাবিতে ফ্যাসিস্টদের দোসর জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন।সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে,তার নিন্দা জানাই।
এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন,সারাদেশে মব সৃষ্টি করে যেভাবে হামলা করা হচ্ছে এবং আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা করছি।
তিনি আরও বলেন,“টাঙ্গাইলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই আমাদের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে।তাই অফিস ভাংচুর নিয়ে থানায় অভিযোগ করারও কোনো ভরসা পাচ্ছি না।”
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার বিষয়টি জানিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানভীর হাসান বলেন, “আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তু তাৎক্ষণিক তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ময়মনসিংহ
জাতীয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে নেতা-কর্মীরা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ওই বিক্ষোভ মিছিলটি ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজের সামনে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন,গণঅধিকার পরিষদ ময়মনসিংহ জেলার দপ্তর সম্পাদক কাঞ্চন আহমেদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক (প্রস্তাবিত) মাহবুবুল আলম, উপজেলা সভাপতি আল-আমিন,সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ,জেলা যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির খান।
পরে উপজেলা জাতীয় পার্টি কার্যালয় ভাঙচুর করে নেতা-কর্মীরা।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন,সাবেক ভিপি নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে।পরে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে থাকা সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়।”
তবে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি।অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
রাজশাহী
জাতীয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নগরীর গণপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলার সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
এনসিপির রাজশাহী মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক মোবাশ্বের আলীর আহ্বানে আয়োজিত এ মিছিলে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যোগ দেন।
মিছিলটি সাহেববাজার এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গণপাড়া মোড়ে পৌঁছালে মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মী জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালায়।
এসময় দরজাসহ অফিসকক্ষ ভাঙচুরের পাশাপাশি ভেতরের আসবাবপত্র ও ছবি বাইরে এনে সড়কের উপর ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বিকালে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও শার্টার ভেঙে ফেলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,দুপুরে শহরে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন জেলখানা মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গণধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি শামছুজ্জামান সিদ্দিকী মামুন,সাধারণ সম্পাদক ছামিউল ইসলাম,বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি রবিউল ইসলাম তুহিন,সাধারণ সম্পাদক মোনারুল ইসলাম মনা,জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক মাসুদ মিয়া, সাবেক সদস্যসচিব বায়েজিদ বোস্তামী জিম।
পরে আবারও মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জড়ো হন।এতে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা।
পরবর্তীতে সেখান থেকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে যেতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরোয়ার হোসেন শাহীন বলেন,“হঠাৎ পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালানো হলো। গেইটের তালা ও শার্টার ভাঙচুর করা হয়েছে।এ হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহীনুর তালুকদার বলেন, “উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন।তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”















