জাতীয়

একনেক এক সভায় গাজীপুরের ধীরাশ্রমে প্রকল্পটি নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন

  প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ৪:৩৪:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ৭০ শতাংশ কনটেইনার প্রবেশ করে।যার মাত্র ১০ শতাংশ আসে রেলপথে।এ সক্ষমতা ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় রেল কর্তৃপক্ষ।কিন্তু এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) ধারণক্ষমতা যথেষ্ট নয়।তাই ঢাকার বাইরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে আরেকটি নতুন আইসিডি নির্মাণ করছে সরকার।

গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায় গাজীপুরের ধীরাশ্রমে প্রকল্পটি নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।এর আগে কালীগঞ্জে ডিপোটি নির্মাণ করার কথা বলেছিল পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প প্রস্তাবের তথ্যমতে,নতুন এ ডিপো তৈরির প্রকল্পটি এ বছরের অক্টোবরে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। ৩ হাজার ৪০২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।যার মধ্যে ২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৩০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য।আর ৭ কিলোমিটার রেল লিংক রোড তৈরিতে রাখা হয়েছে ৬১১ কোটি টাকা।প্রকল্প এলাকাটি গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের কাছে অবস্থিত।ফলে রফতানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো সহজেই পণ্য পরিবহন করতে পারবে।আর পাশেই ঢাকা বাইপাস রোড থাকায় সড়কপথেও যোগাযোগ সহজ হবে।

গাজীপুরের ধীরাশ্রমে প্রস্তাবিত এ আইসিডি হলে কনটেইনারবাহী ট্রেনগুলোকে ঢাকায় প্রবেশ করতে হবে না। পদ্মা রেল সেতু চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কনটেইনারগুলোও ঢাকায় আসতে হবে না।আর ভারত,নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চালু হলে এ আইসিডি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রমতে,বর্তমানে ঢাকায় দিনের বেলা বড় ট্রাক চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় কমলাপুরে কনটেইনারবাহী ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আর অধিকাংশ মালামাল পোশাক রফতানিসংশ্লিষ্ট হওয়ায় মালবাহী ট্রাকগুলোর কারণে টঙ্গী,পুবাইল,আশুলিয়া ও সাভারের মতো শিল্পাঞ্চলে তীব্র যানজট তৈরি হয়।বিষয়টিকে মাথায় রেখে ধীরাশ্রমে আইসিডি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে আইসিডি হলে ঢাকার যানজটও কমে আসবে।

এদিকে কমলাপুর নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে,এখানে মাল্টিমোডাল হাব ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রামে হাইস্পিড ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।হাব তৈরিতে জাপানের সঙ্গে জিটুজি এবং পিপিপি মডেল নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।স্থাপিত হবে কমার্শিয়ার স্পেসও।আর পদ্মা রেল সেতু চালু হলে যে বিপুল পরিমাণে কনটেইনার আসবে তা হ্যান্ডল করার সক্ষমতা নেই কমলাপুরের আইসিডিতে। তাই দ্রুত ধীরাশ্রমে কাজ শুরু করতে চাইছে সরকার।

প্রকল্পটি নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে মূল্যায়ন কমিটির একটি বৈঠক হয় পরিকল্পনা কমিশনে।এতে জানানো হয়,মূল অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে এডিবি।আর মূল আইসিডি নির্মাণে প্রায় ১৫৪ একর জমি দরকার হবে।বাকি ৭৮ একর লাগবে রেললাইন নির্মাণে।রেল লাইন সোজা রাখতে বলেছিল কমিশন।তবে লাইন সোজা করতে গেলে আরো অনেক মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই প্রস্তাবিত রেল রুটেই লাইন নির্মাণ করা হবে।

তবে কমিশনের সুপারিশে একটি স্কুলকে অধিগ্রহণ না করে, বিদ্যমান রেখেই প্রকল্পটি করা হচ্ছে।

জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষি এবং জলাভূমি থাকলেও তার পরিমাণ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসএম সলিমুল্লাহ বাহার।তবে বিভিন্ন ধরনের জমি রয়েছে বলে জানান তিনি।আর আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে মূল অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে বলেও জানান এ রেল কর্মকর্তা।

আরও খবর

Sponsered content