প্রতিনিধি ১৯ অক্টোবর ২০২৫ , ৫:২৯:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থীর নিয়োগসহ দুই দাবি জানিয়েছেন ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীরা।

রোববার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থী আয়োজিত দ্রুত নিয়োগের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খোরশেদ আলম বলেন, আমরা ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থী দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগের দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে এসেছি। আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরে এনটিআরসিএসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছি। শিক্ষা উপদেষ্টা স্যার,শিক্ষা সচিব,এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছি।শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা সর্বোচ্চ ইতিবাচক বার্তা পেলেও এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা প্রথম দিকে ইতিবাচক বার্তা না পাওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলাম।সর্বশেষ গত (১২ অক্টোবর) আমরা শাহবাগে জাদুঘরের সামনে জনদুর্ভোগ না করে মহাসমাবেশ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করি।সেখান থেকে রমনা বিভাগের ভিসি মাসুদের মাধ্যমে সচিবালয়ে পুনরায় শিক্ষা সচিবের সাথে দেখা করে কথা বলি।আমাদের নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করি।কিন্তু আমরা ইতিবাচক সমাধান না পাওয়ায় (১৩ অক্টোবর) শাহবাগ থেকে ‘মার্চ টু এনটিআরসিএ’ ঘোষণা করি। এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রথমে আমাদের ৫ সদস্যের টিম মিটিং করেন।আমরা কোনো ইতিবাচক সমাধান না পাওয়ায় এনটিআরসিএ সামনে আমাদের আন্দোলনরত প্রার্থীরা বিক্ষোভ করে এনটিআরসিএ এর ভেতরে প্রবেশ করে।পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে রমনা বিভাগের ডিসি এনটিআরসিএতে আসেন।আমরা ডিসির কাছে আমাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করি।
তিনি বলেন,অবশেষে ডিসির মাধ্যমে আমাদের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি টিম আবার এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে মিটিং করেন।সেখানে এনটিআরসিএ এর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম,যুগ্ম সচিব এরাদুল হক,রমনার ডিসিসহ এনটিআরসিএ এর একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ফলস্বরূপ,এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ ও ডিসির মধ্যস্থতায় আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে আমরা ডিসির নির্দেশে এনটিআরসিএ থেকে চলে আসি। আমরা চাই এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত শূন্য পদ সংগ্রহ করে চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্য পদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সুপারিশবঞ্চিত ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থীর নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন।
তিনি আরও বলেন,বেসরকারি স্কুল ও কলেজের লক্ষাধিক পদে শিক্ষকের সংকট পূরণের লক্ষ্যে বিগত ২০১৩ সালের (৯ নভেম্বর) এনটিআরসি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।যেখানে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ৭১৯ জন আবেদনকারী থেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯১১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। সেখান থেকে লিখিত পরীক্ষায় ৮৩ হাজার ৮৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয় এবং সর্বশেষ মৌখিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখে ৬০ হাজার ৫২১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়।
গত (১৯ আগস্ট) ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির রেজাল্ট প্রকাশিত হয় এবং ১ লাখ ৮২২টি পদের বিপরীতে মাত্র ৪১ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়।বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত হয়।অর্থাৎ,আমরা রাষ্ট্র কর্তৃক যাচাইকৃত যোগ্য শিক্ষক।সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় এই বিশাল সংখ্যক প্রার্থী এখন প্রচণ্ড হতাশা,মানসিক চাপসহ পারিবারিক ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার।
দেশে হাজারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে উল্লেখ করে খোরশেদ আলম বলেন,একটি হিসাব অনুযায়ী ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।বর্তমানে এসএসসি এবং এইচএসসি রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পেছনে যোগ্য শিক্ষক ঘাটতি প্রমাণ করে।শিক্ষক সমাজ জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা।এটি জাতির শিক্ষার মানোন্নয়নের সাথেও জড়িত।আমরা শিক্ষক নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়োগ প্রদান করুন।
সুপারিশপ্রাপ্ত নিয়োগ প্রত্যাশীদের দুই দাবি
চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশ বঞ্চিত ১৬ হাজার ২১৩ জনকে নিয়োগ দিতে হবে।
নীতিমালা পরিবর্তনের পূর্বে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়োগের লক্ষ্যে বিষয়ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাধা তুলে দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী শূন্য পদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সবাইকে নিয়োগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ বঞ্চিত, হাফিজুল ইসলাম,নিপা আক্তার,সৈকত,মো. আক্তারুজ্জামান, শিরিনা আক্তার,ইমরান হোসেন,রোকনুজ্জামান,সুলতানাসহ প্রমুখ।











