প্রতিনিধি ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩৯:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।জামিন চেয়ে তাঁর করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন সাদ্দাম।গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে তাঁর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা (২২)–এর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাঁদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পরদিন শনিবার বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে তাঁদের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।কারাফটকে দাঁড়িয়ে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন কারাবন্দী সাদ্দাম।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে সাদ্দামকে কেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি,তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
এর আগে ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সাদ্দাম। সর্বশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। সোমবার আদালতের কার্যতালিকায় ১৮৮ নম্বর ক্রমিকে আবেদনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আকতার রুবি ও মোহাম্মদ ফজলুল করিম মণ্ডল।
শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সাদ্দামকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল,সেই মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না।একটির পর একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আটকে রাখা হয়। এভাবে ছয়টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাঁকে সপ্তম মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তিনি আরও বলেন,২০২৫ সালের মার্চে দায়ের করা এই মামলার এজাহারে ৩৮ জনের নাম থাকলেও সাদ্দামের নাম নেই।মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় এবং মামলার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে আদালত ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
উল্লেখ্য,স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার বিষয়টিকে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।















