প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৪৬:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একবারের জন্যও শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ করেননি।প্রথম দৃষ্টিতে এটি স্বাভাবিক মনে হলেও,গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—এই নীরবতাই ছিল সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ রাজনৈতিক বার্তা।

বিশ্লেষকদের মতে,তারেক রহমান ইচ্ছাকৃতভাবেই শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের নাম এড়িয়ে গেছেন।কারণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি বর্তমান সরকারকে আর ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে নয়,বরং ক্ষমতাচ্যুত হতে যাওয়া একটি অধ্যায় হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন।ইতিহাসে দেখা গেছে,যেসব সরকার বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়,তাদের নাম উচ্চারণ করাও অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
তার বক্তব্যের প্রতিটি বাক্যে ছিল রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ভাষা,ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক আক্রমণ নয়। তিনি “সরকার” শব্দ ব্যবহার করেছেন,কিন্তু “শেখ হাসিনা” নন। “শাসকগোষ্ঠী” বলেছেন, কিন্তু “আওয়ামী লীগ” বলেননি।এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—তিনি একটি পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা বলছেন,যেখানে শেখ হাসিনা আর প্রধানমন্ত্রী নন,বরং ক্ষমতাচ্যুত একজন সাবেক শাসক।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,এটি তারেক রহমানের কৌশলগত পরিণত রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন,আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে শেখ হাসিনার নাম আর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে না।বরং আলোচনার কেন্দ্র হবে—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার,অবাধ নির্বাচন এবং নতুন ক্ষমতার কাঠামো।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট।ব্যক্তি আক্রমণ এড়িয়ে নীতিগত বক্তব্য দেওয়া আন্তর্জাতিক মহলে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করে।তারেক রহমান সেই জায়গা থেকেই বার্তা দিয়েছেন—বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তি নয়,ব্যবস্থার পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কেন শেখ হাসিনার নাম নেই? উত্তর একটাই—কারণ রাজনৈতিক বয়ানে তিনি আর ভবিষ্যৎ নন,তিনি অতীত হতে চলেছেন।
সব মিলিয়ে,বক্তব্যে নাম না নেওয়ার এই কৌশল রাজনৈতিক শিষ্টাচার নয়,বরং একটি সুস্পষ্ট বার্তা:আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত,এবং শেখ হাসিনা হবেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী—এটাই আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন তারেক রহমান।















