প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ , ১২:৫৭:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।ঝালকাঠিতে ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কস(শাহী ৯৯ জর্দা)এর পরিচালক মোঃ শামীম আহম্মেদের বিরুদ্ধে ছোট ভাইয়ের গাড়ি ভাঙচুর ও কোম্পানির ম্যানেজারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে শহরের পূর্ব কাঠপট্টি এলাকার শাহী মহলে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ছোট ভাই মোঃ আরিফুল হক সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন,ঘটনার পর একাধিকবার চেষ্টা করেও শামীম আহম্মেদ বক্তব্য জানা যায়নি!
ঝালকাঠির স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সাবিহা কেমিক্যালস এর প্রতিষ্ঠাতা হাজী শাহাবুদ্দিন মিয়া চার ছেলে ও ৫ মেয়ে রেখে মারা যান।
১৯৯১ সালে শাহাবদ্দিন মিয়ার মৃত্যুর পর গত ৩০ বছর যৌথভাবে ব্যবসা সুন্দরভাবে চলে আসলেও বর্তমানে সাবিহা কেমিক্যালস ওয়ার্কস এর উৎপাদিত শাহী স্পেশাল জাফরানী জর্দা নিয়ে চার ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে চার ভাই।
এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে,দুইভাগে বাজারজাত করা হয় শাহী ৯৯ জাফরানী জর্দা,এরমধ্যে আদি সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কস এর মালিক হচ্ছেন বড় ভাই মোঃ সামছুল হক মনু,তার সাথে আছেন ছোট ভাই মোঃ আরিফুল হক,অপরদিকে সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কস এর উৎপাদিত জর্দা বাজারজাত করেন শামীম আহমেদ,তার সাথে আছেন অপর ছোট ভাই রাজিবুল হক,চার ভাইয়ের বিরোধকে পুজি করে কিছু টাউটবাটপার সুযোগ সন্ধ্যানি ফয়দা লুটছে।
এরা ভাইদের বিরোধকে দীর্ঘস্থায়ী করার অপচেষ্টা করছে,কয়েকজন আছেন যারা দিনের বেলা সামসুল হক মনুর পক্ষে আবার রাতের বেলা শামীম আহম্মেদের সাথে, বৃহস্পতিবারের গাড়ী ভাংচুর ও ম্যানেজারকে মারধরের ঘটনায় শামীম আহম্মেদ ছাড়াও দুলাল খলিফা ও আসাদুজ্জামান জামাল নামে অপর দুই জনকে আসামি করা হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ আরিফুল হক উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত,মোঃ শামীম আহম্মেদ আমার বড় ভাই,তার সাথে আমার পূর্ব হইতে ব্যবসায়ীক বিভিন্ন বিষয় নিয়া বিরোধ চলিয়া আসিতেছে বিরোধের জের ধরিয়া ১নং আসামী প্রায়ই আমাকে মারধর করাসহ আমার ক্ষয়ক্ষতি করার পায়তারা করিয়া আসিতেছে।
ঘটনার দিন ২৯ ডিসেম্বর বেলা অনুমান ১১:৪৫ মিনিটে ঝালকাঠী থানাধীন পূর্ব কাঠপট্টি এলাকায় বড় ভাই সামসুল হক মনুর শাহী মহল নামক বাড়ির সামনের গেইটের মধ্যে আসামী শামীম আহম্মেদ আমার ম্যানেজার ১নং সাক্ষী মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখিতে পাইয়া তাহার নিকট ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে।
১নং সাক্ষী টাকা দিতে অস্বীকার করিলে আসামী শামীম ক্ষিপ্ত হইয়া ১নং সাক্ষীকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।একপর্যায়ে আগামী শামীম আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হইয়া তাহার ব্যবহৃত পিস্তল দিয়া সাক্ষী মিঠুন চক্রবর্তীকে খুন করার হুমকি প্রদান করে।
আসামী শামীম আহম্মেদ ঘটনাস্থলের পাশে থাকা আমার ব্যবহৃত হেরিয়ার এইচইউভি গাড়ি যাহার মূল্য ৭৫.০০০০০/- (পঁচাত্তর লক্ষ) টাকা দামের গাড়িটির সামনে গ্লাস পাথর দিয়া ভাংচুর করিয়া অনুমান ৫,০০,০০০/- টাকার ক্ষতিসাধন করে।
১নং সাক্ষী গাড়ির গ্লাস ভাঙ্গতে বাধা প্রদান করিলে আসামী শামীম আহম্মেদ তাহার হাতে থাকা পাথর দিয়া সাক্ষী মিঠুন চক্রবর্তীর মাথায় আঘাত করিয়া গুরুতর জখম করে।আসামী দুলাল খলিফা ও আসামী আসাদুজ্জামান জামাল ঘটনাস্থলের পাশে উপস্থিত থাকিয়া উক্ত ঘটনা ঘটাইতে উসকানি দেয়।
সকল আসামীরা ১নং সাক্ষীকে বলে তুই টাকা দিলি না তোকে পরবর্তীতে পাইলে খুন জখম করিব বলিয়া হুমকি দিয়া চলিয়া যাওয়ার সময় আমার ব্যবসায়ীক অফিসে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া আসামীরা ড্রয়ারের তালা ভাঙ্গিয়া নগদ ৭,০০০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা নিয়া যায়।
এছাড়াও আসামী শামীম আহম্মেদ আমার মোবাইলের ম্যাসেঞ্জারে এসএমএস দিয়া হুমকি দেয় যে,সে রাতে আমার বাড়িতে হামলা করিবে,স্থানীয় লোকজন ১নং সাক্ষীকে অসুস্থ অবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়া ভর্তি করে।১নং সাক্ষী মিঠুন চক্রবর্তী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
আমি ঘটনার সংবাদ পাইয়া ঘটনাস্থলে গিয়া বিস্তারিত দেখি এবং ১নং সাক্ষীর নিকট হইতে বিস্তারিত ঘটনার বিষয় জানিয়া আমার আত্মীয়-স্বজন ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জনাইয়া থানায় এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হইল।
উল্লেখিত বিষয় জানার জন্য চেষ্টা করেও মোঃ শামিম আহাম্মেদের কোনরকম বক্তব্য পাওয়া যায়নি তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















