নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,উপজেলার শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।পরে অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০২০ সাল থেকে একাধিকবার তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি,পরীক্ষার্থী সংখ্যা,পাসের হার,শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ পদ্ধতি ও যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করেনি। এমনকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংরক্ষণ করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন খানকে শিক্ষক নিয়োগ ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করেন।এ সময় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ মোল্লা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর দায় চাপিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,চলতি বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী (বাছাই) টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও প্রতিটি বিষয়ে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে।এ সময় প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
বিষয়টি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে।জানা গেছে,মেহেন্দিগঞ্জের ৬টি বিদ্যালয়সহ সারাদেশের মোট ৭৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি,অনিয়ম,কোচিং ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে।
বিস্তারিত আসছে—প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।এর অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।প্রয়োজনে কার-পুলিং (শেয়ারিং) পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো
🔹 এসির তাপমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।
🔹 বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে।
🔹 দিনের আলো ব্যবহার: অফিসে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
🔹 জ্বালানি সাশ্রয়: ব্যক্তিগত গাড়ি কম ব্যবহার করে গণপরিবহন বা কার-পুলিং ব্যবহার করতে হবে।
🔹 আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ: ব্যাংকের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও ডিসপ্লে বোর্ড সীমিত করতে হবে।
🔹 জেনারেটর ব্যবহারে সাশ্রয়: জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেন এই নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে,বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📅 বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
⚖️ ব্যাংক কোম্পানি আইন,১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মোংলা প্রতিনিধি।।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ক্যালিপসো এন নামের একটি জাহাজ মোংলা বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি–০৩ এর আওতায় এ গম আমদানি করা হয়েছে।
এর আগে জি-টু-জি–০১ ও জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত সব গম দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জি-টু-জি–০১ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন—মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়,দেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন।এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন।বাকি চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশ থেকে গম আমদানি করা হয়।
মোংলা বন্দরে পৌঁছানো জাহাজের গমের নমুনা পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোংলা(বাগেরহাট)প্রতিনিধি।।বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে ডিউটি পালনকালে নিজের অস্ত্রের গুলিতে সালেহ আহমেদ (৪২) নামে এক কোস্ট গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্য ও কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনার উপশম হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান,কোস্ট গার্ড সদস্য সালেহ আহমেদ নিজের হাতে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ⛽🌍
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।বুধবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,ভারতকে ইতোমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।একই ধরনের সুযোগ বাংলাদেশকেও দেওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন,“আমরা বলেছি, যদি ভারতের জন্য এমন সুযোগ থাকে, তাহলে বাংলাদেশও সেই সুযোগ পাওয়া উচিত। আমাদের অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী সমর্থন প্রয়োজন।”
অর্থমন্ত্রী জানান,বাংলাদেশের এই অনুরোধ ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা,বিনিয়োগ,সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে,রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি আমদানির সুযোগ পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ⚖️📊
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২) অনুযায়ী,সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সরকারি সূত্র জানায়,অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ৫৫৯ দিনের শাসনামলে এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল।এখন সেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করে আইন হিসেবে পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন,প্রতিটি অধ্যাদেশই সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশ পাস করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধান অনুযায়ী,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরে চাইলে সরকার সেই বিষয়গুলো আবার নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে পারবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,সরকার সংবিধান মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংবিধানের বাইরে কোনো আইন পাস করা হবে না।তিনি বলেন,সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদের এখতিয়ার,এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংস্কার করা হবে
অন্যদিকে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এটি বাতিল হয়নি।বরং বিএনপি ও বর্তমান সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।তবে তিনি সতর্ক করে বলেন,এই সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া যাবে না; সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এর মধ্য দিয়েই নতুন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের গতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে পারে। 📜⚖️
গাজীপুর প্রতিনিধি।।ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাকভর্তি ১৯টি গরু উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে গাজীপুর মহানগর এলাকার একটি স্থান থেকে ট্রাকসহ গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়,মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ট্রাকভর্তি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে।ডাকাতরা ট্রাকে থাকা গরুর মালিক, রাখাল,হেলপার ও চালককে হাত-পা বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ট্রাকটি নিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা দ্রুত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায়।এক পর্যায়ে ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে পুলিশ টহল দল ট্রাকটি থামার সংকেত দেয়।
তবে ডাকাতরা পুলিশের সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।এ সময় ডাকাতরা মহাসড়কের পাশে ট্রাক ও গরু ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ট্রাকসহ ১৯টি গরু উদ্ধার করে এবং সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 🚔🐄
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জনসম্মুখে অশালীন আচরণ, শারীরিক আঘাত,জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাশিয়ান নাগরিক ও মডেল মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস (জান্নাত) বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও সংবাদ সূত্রে জানা যায় যে,মনিকা কবির বিভিন্ন পাবলিক স্থানে অশালীন ও উসকানিমূলক আচরণ করে তা ভিডিও আকারে ধারণ করে অনলাইনে প্রচার করছেন,যা দেশের সামাজিক শালীনতা ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়,তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে—জনসম্মুখে রাস্তায় পোশাক পরিবর্তন করে অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা,মেট্রোরেলের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের কোলে শুয়ে পড়ে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা,বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা,একটি ভিডিও ধারণের সময় একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আঘাত করা,এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা সহ বেশকয়েকটি অভিযোগ।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,এসব কর্মকাণ্ড The Dhaka Metropolitan Police Ordinance, 1976 এর Section 75, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২৯৪, ৩২৩ ও ৩৫২, এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ধারা ২৫, ২৯ ও ৩১ লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
নোটিশে মনিকা কবিরকে ৭ দিনের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও কনটেন্ট অপসারণ করা এবং ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
অন্যথায়,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।এছাড়া বিদেশি নাগরিক হিসেবে দেশের আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তার ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার (Deportation) করার ক্ষমতা রাখে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান,সচেতন নাগরিক মহলের অনুরোধে তিনি এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন।তবে এ সিদ্ধান্তে বিরোধী দল সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে,যা রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র করছে।
আইনগতভাবে,সংবিধানের ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সংবিধান ও সরকারের কার্যক্রম উপস্থাপন করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।কিন্তু বিরোধী দল দাবি করছে,বর্তমান প্রস্তুত ভাষণ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের স্বাধীনতার সীমা অতিক্রম করতে পারে।আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,এটি যদি বাধ্যতামূলক নির্দেশ বা রাজনৈতিক প্রভাব প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়,তবে তা সংবিধান ভঙ্গের শামিল হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে,এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে দেশের বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস কতটা গভীর।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৌশলগতভাবে ব্যবহার হয়,তবে সংসদের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হবে।
সামাজিক প্রভাবও কম নেই।এই ধরনের অবস্থান জনমতের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।জনগণ যদি মনে করে রাষ্ট্রপতি পদ রাজনৈতিক চালের অংশ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে,তা সামাজিক সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে পারে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও এটি গুরুত্ব বহন করছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিতর্ক যদি হঠাৎ রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তবে ভিত্তি প্রস্তুত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাপের মুখে পড়তে পারে।এছাড়া,আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মহলও এ ঘটনার দিকে সতর্ক নজর রাখছে,কারণ এটি দেশটির গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
সংক্ষেপে,রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর লিখিত ভাষণ বিতর্ক শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়,এটি দেশের আইনি,রাজনৈতিক,সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতিবিম্ব,যা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি কমজোরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,“সংবিধান ও আইন মেনে চলা না হলে,রাষ্ট্রপতির পদও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে বাধ্য।”
মাজহারুল ইসলাম।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়,বরং দেশের আইনি ও সংবিধানিক কাঠামোর ওপরও পরীক্ষা।কিন্তু বিরোধী দলের আপত্তি স্পষ্ট করে দেয়,এই ভাষণ প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে,যা সংবিধান ও আইন উভয়ের দিক থেকে সমস্যা তৈরি করে।
সংবিধানিক দিক
বাংলাদেশের সংবিধান,ধারা ৭০ ও ৭১ অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হলো সংসদে সরকারী কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রদান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক নির্দেশনা বা নীতিমালা নির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।যদি ভাষণে নির্ধারিত রাজনৈতিক নির্দেশনা বা মত প্রকাশ থাকে,তা সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, কারণ ধারা ৭১(৩) স্পষ্টভাবে বলেছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নেই।
আইনগত দিক
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের দালিলিক আইন (Evidence Act, 1872 – Sections 3, 5 & 64) অনুসারে,রাষ্ট্রপতির লিখিত বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে দালিলিকভাবে গ্রহণযোগ্য,তবে এর ব্যবহার যদি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে হয়, তা সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে ধরা যেতে পারে।বিশেষ করে, Public Servants (Conduct) Act, 2018 অনুযায়ী,সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ভাষণ বিতর্ক একদিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে বাড়াচ্ছে,অন্যদিকে জনগণের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে।রাষ্ট্রপতির পদ যদি রাজনৈতিক আদেশ বা সরকারের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়,তা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক দায়বোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চোখেও গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সমালোচনা
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুধু সংবিধানিক প্রতিবেদন ও সরকারি কার্যক্রম উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।তা অতিক্রম করলে তা দলীয় আচার-ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আইন লঙ্ঘনের অনৈতিক precedent তৈরি করবে।
আমাদের রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান,সংবিধান ও আইনকে সম্মান করুন,রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে বক্তৃতা প্রদান করুন। গণতন্ত্রের এই পরীক্ষায়,যদি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখানো হয়,তবে এটি শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়—দেশের নৈতিক ও সংবিধানিক ইতিহাসের উপর লজ্জার দাগ হিসেবে রয়ে যাবে।
মাজহারুল ইসলাম।।ধানমন্ডি ৩২—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের পবিত্র ঠিকানা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতীক।অথচ আজ সেই ঠিকানায় ঘটে গেল অত্যন্ত অমানবিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা: ঘর ভাঙা হলো নিরব দর্শকের সরকারের চোখের সামনে।আর কেউ যদি স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে ফুল দেয়,তাকে ঘিরে পড়ে গ্রেফতারের কুপ্রথা।
এতে একদম স্পষ্ট—আমাদের দেশে ইতিহাসকে সম্মান করার স্বাধীনতা নেই।ইতিহাসকে স্মরণ করাও অপরাধে পরিণত হয়েছে।ধানমন্ডি ৩২ শুধু একটি বাড়ি নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের প্রতীক,৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতি,হাজারো বাঙালির আত্মত্যাগের চিহ্ন।এই স্মৃতিকে শাসন ব্যবস্থার নীরব চাপে ভাঙা আমাদের জাতির নৈতিক অবক্ষয়ের সংকেত।
যারাই বলবেন “আইন শৃঙ্খলার নামে,” তারা কি সত্যিই মনে করেন,ফুল দেওয়াই অপরাধ? ইতিহাস স্মরণ করাই শাস্তিযোগ্য? গণতন্ত্রে,দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার স্মৃতিকে লালন করা অপরাধ নয়—সর্বকালের নৈতিক দায়িত্ব।
আর এই নিয়ন্ত্রণ ও গ্রেফতারের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দ্বৈতমানের চরম উদাহরণ।যাকে ভাঙা হলো,তাকে সরকার নীরব; যে ফুল দেয়, তাকে শাস্তি।যা ঘটেছে,তা শুধু প্রশাসনিক অমানবিকতা নয়—এটি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের হত্যার চরম নিদর্শন।
সরকার যদি সত্যিই নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে মনে করে, তবে তা এখন প্রমাণ করতে হবে: নৈতিক দায়িত্ব,ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা,এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।অন্যথায়,ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনায় প্রকাশিত এই দ্বৈত মান দেশের নৈতিক ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করবে।
এই ঘৃণ্য নীরবতা আর দ্বৈত নীতি,ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় লজ্জার চিহ্ন হিসেবে থাকবে।আমরা রাষ্ট্রকে মনে করাই,যে শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসকে দমন করতে চায়,অতীতকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে, এবং জনসাধারণকে ভয় দেখায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামেয়া আহমদিয়া দায়েম নাজির জামে মসজিদে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা ও হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।মসজিদের পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জানা যায়,মসজিদের খতিবকে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, ইমামকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনকে ৭০ হাজার টাকা হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।এছাড়া তিনজন হাফেজকে প্রত্যেককে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা করে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে।
মসজিদের পরিচালনা কমিটির এমন উদ্যোগে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।অনেকেই আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা প্রদানের এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এ মহৎ উদ্যোগের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাশাআল্লাহ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন,বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে না।
এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটের আগে ও পরে মোট আট দিন আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
মাজহারুল ইসলাম।।সমাজে ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ক্রাইম রিপোর্টাররা।হত্যা,ডাকাতি,চুরি,মাদক পাচার,দুর্নীতি বা বিভিন্ন অপরাধের খবর নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা এই পেশার মূল কাজ।একজন দক্ষ ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব শুধু ঘটনাটি জানানো নয়,বরং ঘটনার পেছনের কারণ,প্রভাব এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরা।
১. তথ্য সংগ্রহ ও নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি
ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র বা সোর্স তৈরি করা।একজন রিপোর্টারকে পুলিশ,গোয়েন্দা সংস্থা, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।এতে করে কোনো অপরাধ ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়া সহজ হয়।
২. ঘটনাস্থল পরিদর্শন
কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা একজন ক্রাইম রিপোর্টারের অন্যতম দায়িত্ব।প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা,প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. অপরাধের কারণ অনুসন্ধান
একজন ক্রাইম রিপোর্টারের কাজ শুধু ঘটনাটি বর্ণনা করা নয়, বরং ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা।অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ,রাজনৈতিক প্রভাব,অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব বা অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে—এসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৪. আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা
অপরাধী গ্রেপ্তারের পর মামলার অগ্রগতি,তদন্তের ধাপ এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাও ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব।এতে করে জনগণ জানতে পারে বিচার কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে।
অনেক বড় অপরাধ বা দুর্নীতি দীর্ঘদিন আড়ালে থাকে।ক্রাইম রিপোর্টাররা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে মাদক সিন্ডিকেট, মানবপাচার,অর্থপাচার বা বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির মতো বিষয় উন্মোচন করেন।
৬. মানবিক দিক তুলে ধরা
অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কষ্ট,ক্ষতি এবং বিচার পাওয়ার আকুতি তুলে ধরা সাংবাদিকতার মানবিক দায়িত্বের অংশ।এতে করে সমাজে সচেতনতা তৈরি হয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
একজন ভালো ক্রাইম রিপোর্টারের গুণাবলি
সাহসিকতা: ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিক শক্তি থাকা।
সতর্কতা: নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ না করা।
আইনি জ্ঞান: দেশের প্রচলিত আইন ও দণ্ডবিধি সম্পর্কে ধারণা থাকা।
তৎপরতা: দ্রুত খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করার দক্ষতা।
সতর্কতা
ক্রাইম রিপোর্টিং পেশা ঝুঁকিপূর্ণ।তাই সব সময় পেশাদারিত্ব, সততা এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের চলাফেরা,বক্তব্য ও আচরণে মার্জিত ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।একই সঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান,প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন—যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে কেউ যেন কোনো বিষয়ে মন্তব্য না করেন।গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি।
সভা শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টায় এবং শেষ হয় দুপুর ১টায়। সভায় বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি।এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।”
প্রধানমন্ত্রী সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন।তিনি জানান,দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
সভায় জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। তবে যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য,সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
এর আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে,সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন,মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন,তবে তরুণ মন্ত্রীদের বিশেষভাবে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।
অফিসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন,তিনিও নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,সংসদ অধিবেশন শুরুর পর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন বিরতি থাকবে।এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে।ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত পোল্ট্রি খামারি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় তিনি কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়,জাহাঙ্গীর আলম খান দীর্ঘদিন ধরে তার জাহাঙ্গীর পোল্ট্রি ফার্মে চারটি খামারে প্রায় ১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আইপিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের অধিকাংশ মুরগি মারা গেলে তিনি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া প্রশিকা মোড় শাখার ম্যানেজার তাকে নতুন করে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।এর আগে নেওয়া ৩ লাখ টাকার ঋণের ৩/৪ কিস্তি বাকি থাকলেও নতুন ঋণের আশ্বাস দিয়ে তাকে একসাথে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম খান জানান,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। ফলে সিপি কোম্পানির প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানি থেকে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,“ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়েছি।তিন সন্তান নিয়ে কষ্ট করে খামার গড়ে তুলেছি।আইপিএস রোগে দুইবার মুরগি মারা যাওয়ার পর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ঋণের আশ্বাসে আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করে ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।কিন্তু প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তার দাবি,১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করতে পারলে খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু ঋণ না পাওয়ায় খামারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে স্থানীয় এক ডিলারের সহায়তায় তিনি ৮ হাজার মুরগি নিয়ে সীমিত পরিসরে খামার চালু করেছেন।তবে শ্রমিকের বেতন,বিদ্যুৎ বিল,ঘরভাড়া ও তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের হেড অফিস (House No-62, Block-Ka, Pisciculture Housing Society, ঢাকা-1207) এবং গাজীপুর জোনাল অফিসে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ফোন নম্বর 01717454046 ও 01711961399-এ কল করা হলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।এছাড়া ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঘটনাটি কয়েকটি আইনের আওতায় পড়তে পারে।
১. দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৪২০ (প্রতারণা):
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে এবং প্রতিশ্রুত সুবিধা প্রদান না করে, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
২. দণ্ডবিধি ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ):
প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে ‘ক্রিমিনাল ব্রিচ অব ট্রাস্ট’ হিসেবে মামলা করা যেতে পারে।
৩. চুক্তি আইন ১৮৭২:
লিখিত বা প্রমাণযোগ্য মৌখিক চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
৪. মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) আইন
২০০৬:
বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে এমআরএ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করা যায়।
আইনজীবীরা বলছেন,ভুক্তভোগী চাইলে
থানায় প্রতারণার মামলা,
দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা,
এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-তে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“ক্ষুদ্রঋণ মানুষের দারিদ্র্য দূর করার কথা। কিন্তু আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের এমন আচরণে আমার পরিবারের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাই।”
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
ক্রেমলিন জানিয়েছে,আলোচনায় পুতিন রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পক্ষে মস্কোর নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাশিয়ার সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।বিশেষ করে ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এছাড়া ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি আবারও গভীর সমবেদনা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে,তেহরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।নারায়ণগঞ্জে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়,গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এস এম লুৎফর রহমান দায়িত্ব পালন করছিলেন।এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে আঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান,ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে।অভিযানের একপর্যায়ে বন্দর থানার সোনাকান্দা ব্যাপারিপাড়া এলাকা থেকে মিশাল ওরফে বিশালকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি,একটি ছোরা ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার রেলী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে,এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।গত দুই দিনে (সোমবার ও মঙ্গলবার) মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে,চলতি মার্চ মাসে এটি প্রথম চালান। এ মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি হয়ে নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।প্রায় ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং বাকি ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অংশে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী,পাইপলাইন চালুর পর প্রথম তিন বছরে প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।পরবর্তী তিন বছরে এই সরবরাহ বাড়িয়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন করা হবে এবং পরবর্তী চার বছরে তা আরও বাড়িয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা যায়,দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির এই রেলহেড ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,গাইবান্ধা,রংপুর, দিনাজপুর,পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।ফলে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশজুড়ে নদী-নালা,খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একযোগে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।
সরকারের পানিসম্পদ,স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন,“এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়,বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”
তিনি আরও জানান,প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত রেখে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে করানো হয়।এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তরুণ প্রজন্মকে দেশ গঠনের এই উদ্যোগে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ সংবাদদাতা।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালাবদর নদীতে জেলে হাবীব মাঝির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ঘিরে এক সংবাদকর্মীকে কোস্টগার্ড ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) আছরের নামাজের সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা কোস্টগার্ড ক্যাম্পের সদস্যরা যুগান্তর বার্তা নিউজ পোর্টালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক,লেখক-কলামিস্ট এম মাজহারুল ইসলাম-কে খবর দিয়ে ডেকে নেন। সাংবাদিকের দাবি,তিনি গ্রামের বাড়ির মসজিদে আছরের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে মোটরসাইকেলে তুলে শ্রীপুরের চরফেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী কোস্টগার্ড ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রায় মাগরিব পর্যন্ত আটকে রেখে প্রকাশিত সংবাদের উৎস,তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন,জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ভিডিও বক্তব্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সংবাদের তথ্যসূত্র জানতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সাংবাদিক এম মাজহারুল ইসলাম জানান,তিনি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ ও গণমাধ্যম আইনের আলোকে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে সব প্রশ্নের উত্তর দেন।পাশাপাশি কোস্টগার্ডের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র,তথ্যপ্রমাণ এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পেপার কাটিংও জমা দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন,কোস্টগার্ড সদস্যরা প্রশ্ন করেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কেন কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত,কালাবদর নদীতে জেলে হাবীব মাঝির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর থেকেই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।তিনি বলেন,নদীতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের হয়নি।বরং সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে অপরাধী বানানোর অপচেষ্টা চলছে। আইনি বিশ্লেষণ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোনো সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। ফৌজদারি কার্যবিধির…
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ এবং সামুদ্রিক সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই আধাসামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য “Guardian at Sea” বা সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উপকূলীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা,জলদস্যুতা দমন,মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ,অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান (SAR), প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা—এসবই কোস্ট গার্ডের মৌলিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আইন,২০১৬–এ বাহিনীর কার্যক্রম ও ক্ষমতার স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী কোস্ট গার্ডের প্রধান দায়িত্ব হলো উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা,চোরাচালান প্রতিরোধ, জলদস্যুতা দমন এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ।একই আইনের ধারা ৮-এ বলা হয়েছে,প্রয়োজনবোধে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সন্দেহভাজন জাহাজ,নৌযান বা ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে এবং আটক করতে পারবেন,তবে তা অবশ্যই আইনের নির্ধারিত পদ্ধতি ও এখতিয়ারের মধ্যে থাকতে হবে। আইনের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট যে,কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম মূলত উপকূলীয় এলাকা,সমুদ্রসীমা ও নদীপথকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়ার কথা।স্থলভাগে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা বা কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে সাধারণত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং আইনগত অনুমোদন জরুরি বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দেন।এ কারণে যখন কোনো বাহিনী তাদের নির্ধারিত কার্যপরিধির বাইরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে,তখন তা স্বাভাবিকভাবেই আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের কিছু অভিযানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে,সন্ত্রাস দমন বা বিশেষ অভিযানের নামে স্থলপথে শহর ও গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরীহ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ,আটক বা হয়রানি করা হচ্ছে।এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই অবশ্যই রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম যদি আইনের সীমা অতিক্রম করে,তবে তা নাগরিক অধিকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করেছে।সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,আইনের আশ্রয় পাওয়া এবং…
বিশেষ সংবাদদাতা।।দেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ এবং সামুদ্রিক সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই আধাসামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য “Guardian at Sea” বা সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। কোস্ট গার্ড আইন অনুযায়ী বাহিনীটি মূলত উপকূলীয় নিরাপত্তা,জলদস্যুতা দমন,চোরাচালান প্রতিরোধ,অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম (SAR), প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা,সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং বন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত থাকে। কোস্ট গার্ডের প্রধান দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে,কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম প্রধানত সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ।তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে— উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জলদস্যুতা দমন সমুদ্রপথে মাদক,অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধ দুর্ঘটনায় পড়া জাহাজ বা নৌযানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা সুন্দরবনসহ উপকূলীয় সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ চট্টগ্রাম,মোংলা ও পায়রা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচনী দায়িত্বে সীমাবদ্ধতা আইনজ্ঞদের মতে,নির্বাচনী সময় বা বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে দায়িত্ব পালন করলেও কোস্ট গার্ড সরাসরি কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারে না,যদি না একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন এবং আইনগত অনুমোদন দেন। ভোলা–বরিশাল এলাকায় অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে স্থলপথে অভিযান পরিচালনার নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,সন্ত্রাস দমন বা বিশেষ অভিযানের নামে শহর ও গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ,আটক বা মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটছে। আইন বিশ্লেষকদের মতে,কোস্ট গার্ডের আইনগত দায়িত্ব মূলত উপকূলীয় ও জলপথকেন্দ্রিক হওয়ায় স্থলভাগে এ ধরনের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি,কিছু ক্ষেত্রে এসব অভিযানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বাদী হওয়ার ঘটনাও ঘটছে,যা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে হাইকোর্টের রায় এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় উল্লেখযোগ্য।২০২২…
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের রাজধানী তেহরানে সম্প্রতি হওয়া হামলায় অন্তত একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন, জানায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ মাধ্যমে বলেন,মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। মাও নিং আরও বলেন,“সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাতের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা।এর সমাধান কেবল সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব।”
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মুসল্লিদের নামাজ ও তারাবি আদায় করতে দেওয়া হচ্ছে না। মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি বলেছেন,ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক।এর মাধ্যমে দখলদাররা মসজিদে তাদের আধিপত্য চাপানোর চেষ্টা করছে। শায়খ সাবরি আরও জানান,শনিবার থেকে মুসল্লি,শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে; ভেতরে কেবল প্রহরীরা রয়েছেন।তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদ বন্ধ রাখার কারণে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্ষেতলাল(জয়পুরহাট)প্রতিনিধি।।জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এক অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।মুন্দাইল গ্রামের আজমাদ হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২) অভিযোগ অনুসারে একই গ্রামের এক গৃহবধূর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেন। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী আত্মরক্ষার্থে ধারালো বস্তু ব্যবহার করে নজরুল ইসলামের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন।আহত নজরুলকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী মুকুল হোসেন জানিয়েছেন,অভিযুক্তের কাছে আগে থেকে তার স্ত্রীর প্রতি উত্ত্যক্তির ইতিহাস ছিল,কিন্তু সামাজিক সম্মানের কারণে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন,ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী পরিবারও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সাম্প্রতিক মিলিটারি সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলার কারণে অঞ্চলটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সোমবার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।বৈঠকে আলোচনা হবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি,আন্তর্জাতিক আইন এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা বিষয়ে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী,নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রদূত,ফার্স্ট লেডি বা সাবেক রাষ্ট্রপতি পরিবারের কেউ এটি করতে পারেন না। জাতিসংঘ মুখপাত্র জানিয়েছেন,বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বলা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন ও নেতাকর্মীরা উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন খাল,লেক ও নালা পরিষ্কার করেন।প্রায় দুই মাসের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ৫ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার হয়। পরবর্তীতে খালের কিছু অংশে পুনরায় ময়লা জমলে রবিবার (২ মার্চ) আফাজ উদ্দিন আবারও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেমে পড়েন।স্থানীয়রা তার উদ্যোগকে দায়িত্বশীল ও মানবিক উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে দুই বছরের চুক্তিতে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে,সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।তবে সংবিধান সংশোধন করে ভবিষ্যতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা যেতে পারে। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,সংবিধানে নেই এমন কোনো পদক্ষেপ সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।তিনি বলেন,রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে কেউ প্রস্তাব দিতে পারলেও সবকিছু সাংবিধানিক রীতির মধ্যে হতে হবে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগসহ সাংবিধানিক কার্যক্রমে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,বিরোধী দল যদি ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবে রাজি হন,তবে প্রথম অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান,ইরাক,কুয়েত,সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহরাইন,কাতার ও জর্দান গত শনিবার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।এর ফলে পুরো অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিস্তারিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার,ফ্লাইদুবাই,এয়ার অ্যারাবিয়া, ইউএস-বাংলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত। ১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এয়ারলাইন্সের। ২ মার্চ (এ পর্যন্ত): ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল, যার মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। বিমান যাত্রীরা এ নিয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নতুন সংসদ কয়েকদিন পর যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য নয়,বরং বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। চিঠিটি সোমবার (২ মার্চ) দেওয়া হয়।এতে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দিতে বাধ্য না করার অনুরোধ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে,সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার নির্বাচন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে,অথবা প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব সুবিধামত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কুয়েত থেকে: কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ও এর আশেপাশের এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স ও এএফপি।ঘটনা স্থলে ফায়ার ফাইটার্স ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে,দূতাবাসের এলাকায় কেউ যাওয়া থেকে বিরত থাকুক এবং বাসায় আশ্রয় নিক। দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “আপনার বাসস্থানের সবচেয়ে নিচতলায় থাকুন এবং জানালা থেকে দূরে থাকুন। বাইরে যাবেন না।” কুয়েতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, “যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করুন এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত হামলার জন্য প্রস্তুত থাকুন।” দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
সৈয়দপুর(নীলফামারী)প্রতিনিধি।।সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঢাকা ব্যাংকের শাখায় আগুন লেগেছে।আগুনের সূত্রপাত এখনও জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা বা গ্রাহক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন।ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার।সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হকের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়,জনগণের জন্য নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।নারীরা যখন নিরাপদ গণপরিবহন পান না,তখন তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই সমস্যা লাঘব করতে ঢাকার রাস্তায় নামানো হবে ইলেকট্রিক বাস,যা নারীদের জন্য বিশেষ এবং চালক হিসেবে নিয়োগ পাবেন নারী। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান,বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে মেট্রোর পাশাপাশি মনোরেল চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।এটি জনগণের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া দেশের আন্তঃনগর যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ করতে ভবিষ্যতে ‘হাই-স্পিড’ বা উচ্চগতির ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গরুচুরি ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ জানায়,এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে এবং আঃ রব খান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে জানা যায়,চোরচক্রের হোতা মনির হোসেন আকন অভিযোগ করেছেন যে,আটক ব্যক্তির মাধ্যমে চোরেরা স্থানীয় কয়েকজন কথিত নেতার সাথে সমঝোতা করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় সব মিটমাট করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন,পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে চোরচক্রকে সুষ্ঠু আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।কুয়েতের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।সোমবার (২ মার্চ) সকালে ইরাক-কুয়েত সীমান্তের কাছাকাছি একটি জনবসতিহীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়,দুর্ঘটনার আগে বিমানটির দুই পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।আল জাজিরার এক সংবাদদাতা জানান,উদ্ধার হওয়া ক্রুদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী।তবে তাদের জাতীয়তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মিডল ইস্ট আই দাবি করেছে,কুয়েতের আকাশে সংঘটিত একটি হামলার প্রেক্ষাপটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রয়টার্স এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানায়,কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। একই সময়ে দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন,চলমান সংঘাত আরও প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।তিনি দাবি করেন, অভিযানে সৌদি আরবও যুক্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। হামলার পর স্থাপনার একটি অংশে আগুন লাগলেও তা সীমিত পর্যায়ে ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।এর মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলো। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা রিফাইনারি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধন ও রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয় এবং সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। বিশাল সংরক্ষণ ট্যাংক,উন্নত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের জন্য বড় বন্দরসহ এই স্থাপনাটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ‘অবিচ্ছিন্ন ও অবিবেচক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’র কঠোর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র,বাহরাইন,জর্ডান,কুয়েত,কাতার,সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়,ইরানের এসব ‘অযৌক্তিক হামলা’ বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।এতে সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশগুলো আরও উল্লেখ করে,তেহরানের পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তুলছে,যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। যৌথ বিবৃতিতে তারা নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ করেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে জানায়, সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ব্যাপক হামলার পর দেশটির কর্মকর্তারা সপ্তাহান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে লারিজানি বলেন,ইরান এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি এবং আলোচনার বিষয়টি ভিত্তিহীন। বর্তমানে আলী লারিজানি ইরানের প্রভাবশালী সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর বক্তব্যকে দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষ সংবাদ :———