নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,উপজেলার শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।পরে অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০২০ সাল থেকে একাধিকবার তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি,পরীক্ষার্থী সংখ্যা,পাসের হার,শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ পদ্ধতি ও যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করেনি। এমনকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংরক্ষণ করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন খানকে শিক্ষক নিয়োগ ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করেন।এ সময় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ মোল্লা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর দায় চাপিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,চলতি বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী (বাছাই) টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও প্রতিটি বিষয়ে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে।এ সময় প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
বিষয়টি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে।জানা গেছে,মেহেন্দিগঞ্জের ৬টি বিদ্যালয়সহ সারাদেশের মোট ৭৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি,অনিয়ম,কোচিং ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে।
বিস্তারিত আসছে—প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।এর অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।প্রয়োজনে কার-পুলিং (শেয়ারিং) পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো
🔹 এসির তাপমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।
🔹 বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে।
🔹 দিনের আলো ব্যবহার: অফিসে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
🔹 জ্বালানি সাশ্রয়: ব্যক্তিগত গাড়ি কম ব্যবহার করে গণপরিবহন বা কার-পুলিং ব্যবহার করতে হবে।
🔹 আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ: ব্যাংকের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও ডিসপ্লে বোর্ড সীমিত করতে হবে।
🔹 জেনারেটর ব্যবহারে সাশ্রয়: জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেন এই নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে,বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📅 বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
⚖️ ব্যাংক কোম্পানি আইন,১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মোংলা প্রতিনিধি।।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ক্যালিপসো এন নামের একটি জাহাজ মোংলা বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি–০৩ এর আওতায় এ গম আমদানি করা হয়েছে।
এর আগে জি-টু-জি–০১ ও জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত সব গম দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জি-টু-জি–০১ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন—মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়,দেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন।এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন।বাকি চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশ থেকে গম আমদানি করা হয়।
মোংলা বন্দরে পৌঁছানো জাহাজের গমের নমুনা পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোংলা(বাগেরহাট)প্রতিনিধি।।বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে ডিউটি পালনকালে নিজের অস্ত্রের গুলিতে সালেহ আহমেদ (৪২) নামে এক কোস্ট গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্য ও কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনার উপশম হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান,কোস্ট গার্ড সদস্য সালেহ আহমেদ নিজের হাতে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ⛽🌍
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।বুধবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,ভারতকে ইতোমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।একই ধরনের সুযোগ বাংলাদেশকেও দেওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন,“আমরা বলেছি, যদি ভারতের জন্য এমন সুযোগ থাকে, তাহলে বাংলাদেশও সেই সুযোগ পাওয়া উচিত। আমাদের অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী সমর্থন প্রয়োজন।”
অর্থমন্ত্রী জানান,বাংলাদেশের এই অনুরোধ ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা,বিনিয়োগ,সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে,রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি আমদানির সুযোগ পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ⚖️📊
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২) অনুযায়ী,সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সরকারি সূত্র জানায়,অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ৫৫৯ দিনের শাসনামলে এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল।এখন সেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করে আইন হিসেবে পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন,প্রতিটি অধ্যাদেশই সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশ পাস করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধান অনুযায়ী,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরে চাইলে সরকার সেই বিষয়গুলো আবার নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে পারবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,সরকার সংবিধান মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংবিধানের বাইরে কোনো আইন পাস করা হবে না।তিনি বলেন,সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদের এখতিয়ার,এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংস্কার করা হবে
অন্যদিকে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এটি বাতিল হয়নি।বরং বিএনপি ও বর্তমান সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।তবে তিনি সতর্ক করে বলেন,এই সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া যাবে না; সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এর মধ্য দিয়েই নতুন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের গতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে পারে। 📜⚖️
গাজীপুর প্রতিনিধি।।ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাকভর্তি ১৯টি গরু উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে গাজীপুর মহানগর এলাকার একটি স্থান থেকে ট্রাকসহ গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়,মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ট্রাকভর্তি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে।ডাকাতরা ট্রাকে থাকা গরুর মালিক, রাখাল,হেলপার ও চালককে হাত-পা বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ট্রাকটি নিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা দ্রুত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায়।এক পর্যায়ে ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে পুলিশ টহল দল ট্রাকটি থামার সংকেত দেয়।
তবে ডাকাতরা পুলিশের সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।এ সময় ডাকাতরা মহাসড়কের পাশে ট্রাক ও গরু ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ট্রাকসহ ১৯টি গরু উদ্ধার করে এবং সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 🚔🐄
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জনসম্মুখে অশালীন আচরণ, শারীরিক আঘাত,জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাশিয়ান নাগরিক ও মডেল মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস (জান্নাত) বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও সংবাদ সূত্রে জানা যায় যে,মনিকা কবির বিভিন্ন পাবলিক স্থানে অশালীন ও উসকানিমূলক আচরণ করে তা ভিডিও আকারে ধারণ করে অনলাইনে প্রচার করছেন,যা দেশের সামাজিক শালীনতা ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়,তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে—জনসম্মুখে রাস্তায় পোশাক পরিবর্তন করে অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা,মেট্রোরেলের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের কোলে শুয়ে পড়ে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা,বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা,একটি ভিডিও ধারণের সময় একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আঘাত করা,এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা সহ বেশকয়েকটি অভিযোগ।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,এসব কর্মকাণ্ড The Dhaka Metropolitan Police Ordinance, 1976 এর Section 75, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২৯৪, ৩২৩ ও ৩৫২, এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ধারা ২৫, ২৯ ও ৩১ লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
নোটিশে মনিকা কবিরকে ৭ দিনের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও কনটেন্ট অপসারণ করা এবং ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
অন্যথায়,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।এছাড়া বিদেশি নাগরিক হিসেবে দেশের আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তার ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার (Deportation) করার ক্ষমতা রাখে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান,সচেতন নাগরিক মহলের অনুরোধে তিনি এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন।তবে এ সিদ্ধান্তে বিরোধী দল সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে,যা রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র করছে।
আইনগতভাবে,সংবিধানের ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সংবিধান ও সরকারের কার্যক্রম উপস্থাপন করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।কিন্তু বিরোধী দল দাবি করছে,বর্তমান প্রস্তুত ভাষণ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের স্বাধীনতার সীমা অতিক্রম করতে পারে।আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,এটি যদি বাধ্যতামূলক নির্দেশ বা রাজনৈতিক প্রভাব প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়,তবে তা সংবিধান ভঙ্গের শামিল হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে,এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে দেশের বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস কতটা গভীর।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৌশলগতভাবে ব্যবহার হয়,তবে সংসদের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হবে।
সামাজিক প্রভাবও কম নেই।এই ধরনের অবস্থান জনমতের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।জনগণ যদি মনে করে রাষ্ট্রপতি পদ রাজনৈতিক চালের অংশ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে,তা সামাজিক সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে পারে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও এটি গুরুত্ব বহন করছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিতর্ক যদি হঠাৎ রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তবে ভিত্তি প্রস্তুত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাপের মুখে পড়তে পারে।এছাড়া,আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মহলও এ ঘটনার দিকে সতর্ক নজর রাখছে,কারণ এটি দেশটির গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
সংক্ষেপে,রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর লিখিত ভাষণ বিতর্ক শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়,এটি দেশের আইনি,রাজনৈতিক,সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতিবিম্ব,যা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি কমজোরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,“সংবিধান ও আইন মেনে চলা না হলে,রাষ্ট্রপতির পদও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে বাধ্য।”
মাজহারুল ইসলাম।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়,বরং দেশের আইনি ও সংবিধানিক কাঠামোর ওপরও পরীক্ষা।কিন্তু বিরোধী দলের আপত্তি স্পষ্ট করে দেয়,এই ভাষণ প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে,যা সংবিধান ও আইন উভয়ের দিক থেকে সমস্যা তৈরি করে।
সংবিধানিক দিক
বাংলাদেশের সংবিধান,ধারা ৭০ ও ৭১ অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হলো সংসদে সরকারী কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রদান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক নির্দেশনা বা নীতিমালা নির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।যদি ভাষণে নির্ধারিত রাজনৈতিক নির্দেশনা বা মত প্রকাশ থাকে,তা সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, কারণ ধারা ৭১(৩) স্পষ্টভাবে বলেছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নেই।
আইনগত দিক
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের দালিলিক আইন (Evidence Act, 1872 – Sections 3, 5 & 64) অনুসারে,রাষ্ট্রপতির লিখিত বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে দালিলিকভাবে গ্রহণযোগ্য,তবে এর ব্যবহার যদি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে হয়, তা সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে ধরা যেতে পারে।বিশেষ করে, Public Servants (Conduct) Act, 2018 অনুযায়ী,সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ভাষণ বিতর্ক একদিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে বাড়াচ্ছে,অন্যদিকে জনগণের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে।রাষ্ট্রপতির পদ যদি রাজনৈতিক আদেশ বা সরকারের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়,তা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক দায়বোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চোখেও গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সমালোচনা
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুধু সংবিধানিক প্রতিবেদন ও সরকারি কার্যক্রম উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।তা অতিক্রম করলে তা দলীয় আচার-ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আইন লঙ্ঘনের অনৈতিক precedent তৈরি করবে।
আমাদের রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান,সংবিধান ও আইনকে সম্মান করুন,রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে বক্তৃতা প্রদান করুন। গণতন্ত্রের এই পরীক্ষায়,যদি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখানো হয়,তবে এটি শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়—দেশের নৈতিক ও সংবিধানিক ইতিহাসের উপর লজ্জার দাগ হিসেবে রয়ে যাবে।
মাজহারুল ইসলাম।।ধানমন্ডি ৩২—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের পবিত্র ঠিকানা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতীক।অথচ আজ সেই ঠিকানায় ঘটে গেল অত্যন্ত অমানবিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা: ঘর ভাঙা হলো নিরব দর্শকের সরকারের চোখের সামনে।আর কেউ যদি স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে ফুল দেয়,তাকে ঘিরে পড়ে গ্রেফতারের কুপ্রথা।
এতে একদম স্পষ্ট—আমাদের দেশে ইতিহাসকে সম্মান করার স্বাধীনতা নেই।ইতিহাসকে স্মরণ করাও অপরাধে পরিণত হয়েছে।ধানমন্ডি ৩২ শুধু একটি বাড়ি নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের প্রতীক,৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতি,হাজারো বাঙালির আত্মত্যাগের চিহ্ন।এই স্মৃতিকে শাসন ব্যবস্থার নীরব চাপে ভাঙা আমাদের জাতির নৈতিক অবক্ষয়ের সংকেত।
যারাই বলবেন “আইন শৃঙ্খলার নামে,” তারা কি সত্যিই মনে করেন,ফুল দেওয়াই অপরাধ? ইতিহাস স্মরণ করাই শাস্তিযোগ্য? গণতন্ত্রে,দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার স্মৃতিকে লালন করা অপরাধ নয়—সর্বকালের নৈতিক দায়িত্ব।
আর এই নিয়ন্ত্রণ ও গ্রেফতারের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দ্বৈতমানের চরম উদাহরণ।যাকে ভাঙা হলো,তাকে সরকার নীরব; যে ফুল দেয়, তাকে শাস্তি।যা ঘটেছে,তা শুধু প্রশাসনিক অমানবিকতা নয়—এটি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের হত্যার চরম নিদর্শন।
সরকার যদি সত্যিই নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে মনে করে, তবে তা এখন প্রমাণ করতে হবে: নৈতিক দায়িত্ব,ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা,এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।অন্যথায়,ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনায় প্রকাশিত এই দ্বৈত মান দেশের নৈতিক ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করবে।
এই ঘৃণ্য নীরবতা আর দ্বৈত নীতি,ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় লজ্জার চিহ্ন হিসেবে থাকবে।আমরা রাষ্ট্রকে মনে করাই,যে শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসকে দমন করতে চায়,অতীতকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে, এবং জনসাধারণকে ভয় দেখায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামেয়া আহমদিয়া দায়েম নাজির জামে মসজিদে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা ও হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।মসজিদের পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জানা যায়,মসজিদের খতিবকে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, ইমামকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনকে ৭০ হাজার টাকা হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।এছাড়া তিনজন হাফেজকে প্রত্যেককে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা করে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে।
মসজিদের পরিচালনা কমিটির এমন উদ্যোগে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।অনেকেই আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা প্রদানের এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এ মহৎ উদ্যোগের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাশাআল্লাহ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন,বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে না।
এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটের আগে ও পরে মোট আট দিন আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
মাজহারুল ইসলাম।।সমাজে ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ক্রাইম রিপোর্টাররা।হত্যা,ডাকাতি,চুরি,মাদক পাচার,দুর্নীতি বা বিভিন্ন অপরাধের খবর নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা এই পেশার মূল কাজ।একজন দক্ষ ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব শুধু ঘটনাটি জানানো নয়,বরং ঘটনার পেছনের কারণ,প্রভাব এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরা।
১. তথ্য সংগ্রহ ও নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি
ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র বা সোর্স তৈরি করা।একজন রিপোর্টারকে পুলিশ,গোয়েন্দা সংস্থা, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।এতে করে কোনো অপরাধ ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়া সহজ হয়।
২. ঘটনাস্থল পরিদর্শন
কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা একজন ক্রাইম রিপোর্টারের অন্যতম দায়িত্ব।প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা,প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. অপরাধের কারণ অনুসন্ধান
একজন ক্রাইম রিপোর্টারের কাজ শুধু ঘটনাটি বর্ণনা করা নয়, বরং ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা।অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ,রাজনৈতিক প্রভাব,অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব বা অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে—এসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৪. আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা
অপরাধী গ্রেপ্তারের পর মামলার অগ্রগতি,তদন্তের ধাপ এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাও ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব।এতে করে জনগণ জানতে পারে বিচার কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে।
অনেক বড় অপরাধ বা দুর্নীতি দীর্ঘদিন আড়ালে থাকে।ক্রাইম রিপোর্টাররা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে মাদক সিন্ডিকেট, মানবপাচার,অর্থপাচার বা বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির মতো বিষয় উন্মোচন করেন।
৬. মানবিক দিক তুলে ধরা
অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কষ্ট,ক্ষতি এবং বিচার পাওয়ার আকুতি তুলে ধরা সাংবাদিকতার মানবিক দায়িত্বের অংশ।এতে করে সমাজে সচেতনতা তৈরি হয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
একজন ভালো ক্রাইম রিপোর্টারের গুণাবলি
সাহসিকতা: ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিক শক্তি থাকা।
সতর্কতা: নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ না করা।
আইনি জ্ঞান: দেশের প্রচলিত আইন ও দণ্ডবিধি সম্পর্কে ধারণা থাকা।
তৎপরতা: দ্রুত খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করার দক্ষতা।
সতর্কতা
ক্রাইম রিপোর্টিং পেশা ঝুঁকিপূর্ণ।তাই সব সময় পেশাদারিত্ব, সততা এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের চলাফেরা,বক্তব্য ও আচরণে মার্জিত ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।একই সঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান,প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন—যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে কেউ যেন কোনো বিষয়ে মন্তব্য না করেন।গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি।
সভা শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টায় এবং শেষ হয় দুপুর ১টায়। সভায় বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি।এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।”
প্রধানমন্ত্রী সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন।তিনি জানান,দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
সভায় জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। তবে যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য,সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
এর আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে,সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন,মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন,তবে তরুণ মন্ত্রীদের বিশেষভাবে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।
অফিসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন,তিনিও নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,সংসদ অধিবেশন শুরুর পর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন বিরতি থাকবে।এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে।ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত পোল্ট্রি খামারি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় তিনি কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়,জাহাঙ্গীর আলম খান দীর্ঘদিন ধরে তার জাহাঙ্গীর পোল্ট্রি ফার্মে চারটি খামারে প্রায় ১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আইপিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের অধিকাংশ মুরগি মারা গেলে তিনি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া প্রশিকা মোড় শাখার ম্যানেজার তাকে নতুন করে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।এর আগে নেওয়া ৩ লাখ টাকার ঋণের ৩/৪ কিস্তি বাকি থাকলেও নতুন ঋণের আশ্বাস দিয়ে তাকে একসাথে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম খান জানান,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। ফলে সিপি কোম্পানির প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানি থেকে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,“ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়েছি।তিন সন্তান নিয়ে কষ্ট করে খামার গড়ে তুলেছি।আইপিএস রোগে দুইবার মুরগি মারা যাওয়ার পর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ঋণের আশ্বাসে আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করে ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।কিন্তু প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তার দাবি,১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করতে পারলে খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু ঋণ না পাওয়ায় খামারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে স্থানীয় এক ডিলারের সহায়তায় তিনি ৮ হাজার মুরগি নিয়ে সীমিত পরিসরে খামার চালু করেছেন।তবে শ্রমিকের বেতন,বিদ্যুৎ বিল,ঘরভাড়া ও তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের হেড অফিস (House No-62, Block-Ka, Pisciculture Housing Society, ঢাকা-1207) এবং গাজীপুর জোনাল অফিসে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ফোন নম্বর 01717454046 ও 01711961399-এ কল করা হলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।এছাড়া ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঘটনাটি কয়েকটি আইনের আওতায় পড়তে পারে।
১. দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৪২০ (প্রতারণা):
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে এবং প্রতিশ্রুত সুবিধা প্রদান না করে, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
২. দণ্ডবিধি ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ):
প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে ‘ক্রিমিনাল ব্রিচ অব ট্রাস্ট’ হিসেবে মামলা করা যেতে পারে।
৩. চুক্তি আইন ১৮৭২:
লিখিত বা প্রমাণযোগ্য মৌখিক চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
৪. মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) আইন
২০০৬:
বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে এমআরএ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করা যায়।
আইনজীবীরা বলছেন,ভুক্তভোগী চাইলে
থানায় প্রতারণার মামলা,
দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা,
এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-তে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“ক্ষুদ্রঋণ মানুষের দারিদ্র্য দূর করার কথা। কিন্তু আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের এমন আচরণে আমার পরিবারের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাই।”
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
ক্রেমলিন জানিয়েছে,আলোচনায় পুতিন রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পক্ষে মস্কোর নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাশিয়ার সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।বিশেষ করে ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এছাড়া ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি আবারও গভীর সমবেদনা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে,তেহরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।নারায়ণগঞ্জে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়,গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এস এম লুৎফর রহমান দায়িত্ব পালন করছিলেন।এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে আঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান,ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে।অভিযানের একপর্যায়ে বন্দর থানার সোনাকান্দা ব্যাপারিপাড়া এলাকা থেকে মিশাল ওরফে বিশালকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি,একটি ছোরা ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার রেলী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে,এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।গত দুই দিনে (সোমবার ও মঙ্গলবার) মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে,চলতি মার্চ মাসে এটি প্রথম চালান। এ মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি হয়ে নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।প্রায় ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং বাকি ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অংশে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী,পাইপলাইন চালুর পর প্রথম তিন বছরে প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।পরবর্তী তিন বছরে এই সরবরাহ বাড়িয়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন করা হবে এবং পরবর্তী চার বছরে তা আরও বাড়িয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা যায়,দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির এই রেলহেড ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,গাইবান্ধা,রংপুর, দিনাজপুর,পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।ফলে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশজুড়ে নদী-নালা,খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একযোগে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।
সরকারের পানিসম্পদ,স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন,“এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়,বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”
তিনি আরও জানান,প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত রেখে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে করানো হয়।এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তরুণ প্রজন্মকে দেশ গঠনের এই উদ্যোগে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার তরুণী মায়া আক্তারের জীবন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।প্রেম,বিয়ে এবং উন্নত জীবনের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে নিঃস্ব করে পালিয়ে গেছে এক চীনা যুবক।বিশ্বাস আর ভালোবাসার নির্মম প্রতারণার শিকার হয়ে সামাজিক মাধ্যমে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এই তরুণী। 💔 প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারানো স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,প্রায় দুই দিন আগে ওই চীনা নাগরিক মায়াকে চীনে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘাটাইলের বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে।ঢাকায় এসে তারা একটি হোটেলে ওঠে।কিন্তু সেখানে ঘটে যায় ভয়ংকর প্রতারণা। সুযোগ বুঝে মায়ার কাছে থাকা প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় সেই বিদেশি যুবক।এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতারকের বিষয়ে মায়ার কাছে এখন কেবল একটি চীনা নাগরিক পরিচয়পত্রের ছবিই একমাত্র সূত্র হিসেবে রয়েছে। টিকটক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়েন মায়া ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে লাইভে এসে ভেঙে পড়েন মায়া।চোখের জল আর অসহায় কণ্ঠে তিনি জানান,“আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম।ভেবেছিলাম সে সত্যিই আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু সে আমার সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে পালিয়ে গেছে।আমার সবকিছু নিয়ে আমাকে মাঝপথে ফেলে রেখে গেছে।” বাবা-মায়ের কাছে আবেগঘন ক্ষমা প্রার্থনা লাইভে এক পর্যায়ে নিজের বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—“বাবা-মা, আমি তোমাদের অনেক ভালোবাসি। কখনো বলতে পারিনি।যদি কোনোদিন তোমাদের কষ্ট দিয়ে থাকি,আমাকে ক্ষমা করে দিও।আমি তোমাদের ভালো সন্তান হতে পারিনি।তোমাদের কাছে আর কিছু চাই না,শুধু দোয়া করো যেন আমি বেঁচে থাকতে পারি।” সতর্কবার্তা সমাজের জন্য এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিদেশি পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রতারণার ফাঁদ কতটা ভয়ংকর হতে পারে।স্বপ্ন দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার এমন ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি,এই…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন করেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন—বিএনপির এমন অনেক ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা এবার এমপি বা মন্ত্রী হতে পারেননি।আবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের প্রভাবশালী অনেক মন্ত্রীও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে কোনো পদ পাননি।ফলে দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার অপেক্ষা করছে, নাকি তারা ধীরে ধীরে রাজনীতির মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর থেকেই দলীয় অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে এ আলোচনা তুঙ্গে। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া ৪৯ জনের মধ্যে ৪০ জনই নতুন মুখ।এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।নবীনদের ওপর আস্থা রাখলেও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য,যারা অতীতে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাদ পড়া হেভিওয়েটরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আব্দুল মঈন খান মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাননি। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও সেলিমা রহমানের নামও নেই মন্ত্রীদের তালিকায়। তারেক রহমানের নির্বাসনকাল এবং খালেদা জিয়ার কারাবাসের সময় দলকে সক্রিয় রাখতে এসব নেতার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে মন্ত্রিপরিষদে স্থান না পেলেও মির্জা আব্বাস,নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন,“মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান।এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।” যুগপৎ সঙ্গীদের ক্ষোভ নতুন মন্ত্রিসভায় তারেক রহমান বিএনপির জোটের শরিক ও তরুণ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন।গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি,গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর…
গাজীপুর প্রতিনিধি।।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহীন মোল্লাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।রোববার (৮ মার্চ) ভোর ৩টার দিকে কাশিমপুরের সারাদগঞ্জের হাজি সালামের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।জানা যায়,শাহীন মোল্লার দ্বিতীয় স্ত্রী মীম ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।গ্রেপ্তারের সময় মীম বলেন, “আমার হাজবেন্ড আমার অনেক প্রিয়,আমার হাজবেন্ডকে আমি যাইতে দিব না।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শাহীন মোল্লা আওয়ামী লীগের একজন নিষ্ক্রিয় সদস্য ছিলেন।কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ায় তিনি দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেননি।৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন জানান,শাহীন মোল্লাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রোববার (৮ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পাঁচজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাম সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।সংশোধিত নামগুলো হলো: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী → আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু → আবদুল আউয়াল মিন্টু ধর্ম মন্ত্রী: কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ → কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) কৃষি,খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী: মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ → মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পানিসম্পদ মন্ত্রী: মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি → মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রতিমন্ত্রীর পদে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম → ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তার নাম হাফিজ উদ্দিন আহমদ হিসেবে সংশোধনের আবেদন মন্ত্রিপরিষদে পাঠিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে,এই নাম সংশোধনের পদক্ষেপ মূলত বানান ঠিক করা ও ডাক্তারি সম্মানসূচক সংযোজনের জন্য নেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মা বলেছেন,শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় বারবার একটি ভুল হচ্ছে—শ্যুটার বা খুনিকে মূল পরিকল্পনাকারীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।তিনি জানান,হত্যার ট্রিগার টানানো ব্যক্তি সব সময় প্রকৃত খুনি নাও হতে পারে; প্রকৃত দায়িত্ব মূলত হুকুমদাতা বা মাস্টারমাইন্ডের। সালাহউদ্দিন আম্মা বলেন,হত্যার সিদ্ধান্ত,পরিকল্পনা ও নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা ছাড়া কোনো তদন্ত পূর্ণ হয় না।তিনি আরও জানান,শ্যুটারদের জীবিত দেশে ফেরত আনার পাশাপাশি হত্যার পেছনের মূল উদ্দেশ্য,হুকুমদাতা এবং পরিকল্পনাকারীকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ সোমবারও তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা গেছে। অনেক পাম্পে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ থাকায় চালকরা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। মিরপুর,কল্যাণপুর,মোহাম্মদপুর,বিজয়সরণি ও কালশী এলাকার ৯টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩টিতে বিক্রি বন্ধ ছিল। অন্য পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণে অকটেন ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।পাম্পের বাইরে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের সারি এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।অনেক চালক দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বিজয়সরণি এলাকার ট্রাস্ট পাম্পে প্রাইভেট কারের সারি জাহাঙ্গীরগেট ছাড়িয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল পর্যন্ত এবং মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত দেখা গেছে। ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান,তেলের নতুন সরবরাহ আসা পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ থাকবে।চালকরা বলছেন,গাড়ি ঠেলে অন্য পাম্পে যাওয়ার সুযোগ নেই।
মাজহারুল ইসলাম।।সমাজে লোভ,প্রতারণা ও অসততার গল্প নতুন কিছু নয়।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেম ও ঘনিষ্ঠতার ফাঁদে মানুষকে ফাঁসিয়ে অর্থ ও সুযোগ হাসিলের অপরাধের ঘটনা একটি গভীর উদ্বেগের সংকেত হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।রমজানের পবিত্র সময়েও এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়া সমাজের নৈতিক ও মানবিক মানদণ্ডে আঘাত করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট: প্রকৃতপক্ষে,রাজনৈতিক,সামাজিক ও নৈতিকভাবে সুসংগঠিত সমাজে এ ধরনের অপরাধ দ্রুত চিহ্নিত ও দমনযোগ্য।কিন্তু আমাদের সমাজে এখনও লোভ ও প্রলোভনের প্রতি একটি ভুল সচেতনতা বিরাজমান।কিছু মানুষ বিলাসী জীবন,বাহ্যিক সাজসজ্জা বা রূপচর্চার জগতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে,যা সমাজে নৈতিক দুর্বলতার পরিচায়ক।রাজনীতিবিদ,সামাজিক নেতারা যখন শুদ্ধাচার ও নৈতিকতার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করবেন না,তখন সাধারণ মানুষ প্রতারণার মতো অন্ধকার পথ অবলম্বন করে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ: অর্থের লোভের সঙ্গে প্রযুক্তির সংমিশ্রণ আজ হানিট্র্যাপের মতো নতুন ধরনের অপরাধকে সহজলভ্য করেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার,ডিজিটাল লেনদেনের সহজলভ্যতা এবং অর্থ উপার্জনের দ্রুত ফাঁদ—এগুলো প্রতারকদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।যে ব্যক্তি অর্থের জন্য নৈতিকতা ও আইনকে উপেক্ষা করে,তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ফলাফল বিপরীত হতে বাধ্য। আইনি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ: আইনের কঠোর বাস্তবতা সামনে রেখে,এখন অপরাধীকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।হানিট্র্যাপের মতো অপরাধে দ্রুত তদন্ত,অভিযোগ যাচাই ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অপরিহার্য। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত শাস্তি নয়,বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা কৌশলগুলোকে শক্তিশালী করা আইন প্রণেতাদের কাছে জরুরি।এ ধরনের অপরাধ দমন করা না হলে সাধারণ নাগরিকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নৈতিক ও শিক্ষামূলক দিক: এই ঘটনা সমাজকে এক কঠিন বার্তা দিচ্ছে—লোভ,প্রতারণা ও অসততার পথে যাওয়া ব্যক্তি এক সময় লজ্জা,শাস্তি ও আইনের হাতে পড়ে।সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে।পরিবার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক ও সচেতন করার দায়িত্ব নিতে হবে। উপসংহার: হানিট্র্যাপের মতো অপরাধ কেবল এক ব্যক্তির নয়; এটি সমাজের নৈতিক,সামাজিক ও প্রযুক্তিগত দায়ের সঙ্গে জড়িত।…
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইরানে হামলার সমালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ও বিপজ্জনক এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর টিম কেইন।তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সিনেটর কেইন বলেন,তার দৃঢ় বিশ্বাস—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়,এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অগ্রহণযোগ্য পন্থায় মার্কিন তরুণদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তার মতে,এই যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়,পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যই অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। এ সময় অতীতের যুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরাক,লিবিয়া ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন হয়নি।বরং এসব যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে ইরানে হামলার ঘটনায় সমালোচনা করে আরেক মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও বলেছেন,এই ধরনের হামলা মার্কিন জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। কেইন আরও জানান,যুদ্ধ বন্ধে তিনি তার সাধ্যের মধ্যে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। 🌍🕊️
শ্রীনগর(মুন্সিগঞ্জ)প্রতিনিধি।।মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শটগান,পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল হামলাকারী প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে গুলি ও এলোপাতারি হামলা চালালে অন্তত ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হন।আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ও একজন বৃদ্ধ রয়েছেন।এছাড়া আরও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার জুয়েল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়,রাতে অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকার সময় মান্নান গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষ মিজান গ্রুপের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালায়।এ সময় হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতারি হামলা করে। হঠাৎ হামলায় ঘুমন্ত মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনেকেই গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়।পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও দোহারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 🚑 শ্রীনগর থানার ওসি খন্দকার জুয়েল মিয়া বলেন,স্থানীয় পর্যায়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মান্নান গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষ মিজানের পরিবারসহ তার গ্রুপের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 👮♂️ এদিকে র্যাব-১০ এর ভাগ্যকুল ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মহাসিন খান,হারুন রশিদ খান ও মানান খানকে আটক করেছেন।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে অচিরেই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। আইজিপি বলেন,হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুইজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে।গতকাল রোববার (৮ মার্চ) তাদের বিধাননগর আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক হলেন— রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও আলমগীর হোসেন (৩৪)। ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায় এবং আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়। পুলিশ জানায়,হত্যাকাণ্ডের পর তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং বনগাঁ এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।পরে সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন,২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে যারা নিজেদের সম্পত্তি মনে করছে বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছে তাদের তালিকা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, “আমরাও রাজপথে ছিলাম।জুলাই বিপ্লব কারও বাপের সম্পত্তি নয়।” সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ভবনের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আইজিপি জানান,ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে অচিরেই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন,দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।দল-মত নির্বিশেষে এ অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো দলীয় বিবেচনার সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও বলেন,ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ব্লক রেট দিয়ে চাঁদাবাজি,সন্ত্রাস,মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইজিপি।গণধর্ষণ,ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার তদন্তের মান উন্নয়নে সিআইডিকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।আইজিপি বলেন, তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। পুলিশি সেবা সম্পর্কে তিনি বলেন,জনগণ যেন থানায় এসে হয়রানির শিকার না হয় এবং হাসিমুখে সেবা নিয়ে থানার বাইরে যেতে পারে,সে লক্ষ্যেই কাজ করছে পুলিশ।পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইজিপি আরও বলেন,গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নৌ-পুলিশের প্রধান কুসুম দেওয়ানসহ বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) কে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অবসরে পাঠানো অন্য চারজন অতিরিক্ত আইজিপি হলেন— পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ওএসডি) আবু হাসান মুহম্মদ তারিক,পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ওএসডি) মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ,পুলিশ সদর দপ্তরের টিআর মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা এবংরাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে।বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সকল সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়,জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে পাঁচটি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের নির্বাচনী বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মামলা করা বিএনপির প্রার্থীরা হলেন— কুমিল্লা-১১ আসনের কামরুল হুদা,ময়মনসিংহ-২ আসনের মোতাহার হোসেন তালুকদার,চাঁদপুর-৪ আসনের হারুনুর রশীদ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এম. আকবর আলী।এছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুকও একই ধরনের অভিযোগে আবেদন করেছেন। আদালতে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন,ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের সাক্ষর ছাড়াই অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের দিয়ে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।এছাড়া ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া,ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আরও জানান,এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপার ও ফলাফলের নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন,যাতে পরবর্তী শুনানিতে বিষয়গুলো যাচাই করা যায়। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি আসনে,জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৭টি আসনে এবং এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য,গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি নির্বাচনী বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চে বর্তমানে এসব আবেদনের শুনানি চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও জাহাঙ্গীর পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খানের কাছ থেকে আমব্রেলা ফাউন্ডেশন মাওনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী খামারি জানান,তিনি দীর্ঘদিন ধরে চারটি পোল্ট্রি ফার্মে প্রায় ১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি আইপিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের প্রায় সব মুরগি মারা যায়।এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েন। এ অবস্থায় আমব্রেলা ফাউন্ডেশন থেকে নেওয়া ৩ লাখ টাকার ঋণের ৩–৪টি কিস্তি বাকি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির মাওনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার তাকে নতুন করে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।নতুন ঋণ অনুমোদনের কথা বলে পূর্বের ঋণের বকেয়া প্রায় ৭০ হাজার টাকা একসাথে পরিশোধ করতে তাকে চাপ দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে আর কোনো ঋণ দেওয়া হয়নি।এতে করে তিনি সিপি কোম্পানির কাছে প্রায় ৬০ হাজার টাকার পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।ফলে সিপি কোম্পানি তার খামারে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে তার পোল্ট্রি ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“নতুন ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করা হয়েছে।কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণ না দেওয়ায় আমি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।” এ বিষয়ে যুগান্তর বার্তা,মুক্তিযুদ্ধ ৭১ সংবাদ ও জনতার কণ্ঠ পত্রিকার পক্ষ থেকে আমব্রেলা ফাউন্ডেশন মাওনা ব্রাঞ্চের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা ও কৈফিয়ত তলব করা হলেও অদ্যাবধি তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনি বিশ্লেষণ ⚖️ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পূর্বের ঋণ পরিশোধে চাপ সৃষ্টি করে এবং পরে প্রতিশ্রুত ঋণ প্রদান না করে,তবে তা বাংলাদেশ…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমান ও সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পথচলা তাঁর পারিবারিক ইতিহাস,জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র সাত বছর,তখন তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।শেখ হাসিনার বয়স নয় বছর হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সে সময় শেখ হাসিনার বয়স ছিল প্রায় ২৩ বছর।তবে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়নি। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি ক্রমে মুক্তিযুদ্ধের দিকে গড়ায় এবং ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন। বিভিন্ন গবেষণা ও ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী,তিনি তাঁর জীবনের প্রায় ৪ হাজার ৬০০ দিনেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন,যা প্রায় ১৩ বছরের সমান।স্বাধীন বাংলাদেশের দাবিতে আন্দোলনের সময় এই কারাবাস তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।ওইদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন।ওই সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় তারা প্রাণে রক্ষা পান। ঘটনার পর শেখ হাসিনাকে প্রায় ছয় বছর বিদেশে অবস্থান করতে হয়।১৯৮১ সালে তিনি দেশে ফিরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।সে সময় দেশে সামরিক শাসনের প্রভাব ছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থির। পরবর্তীতে দীর্ঘ আন্দোলন ও…
মাজহারুল ইসলাম।।রাজনীতির ইতিহাসে এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে,যেখানে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতারাই নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ভারে শেষ পর্যন্ত বিপর্যস্ত হয়েছেন।বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিসরে শেখ হাসিনার শাসনকালও এমন কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সাক্ষী,যেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ পরবর্তীকালে নানা বিতর্ক ও সংকটের জন্ম দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে।তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তখন সরকারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হয়েছিল।তবে রাজনীতির বাস্তবতা সব সময় ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না।নিরপেক্ষতার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান অনেক সময় সরকারের রাজনৈতিক প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।ফলে সেই নিয়োগ পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে ২০১৫ সালে এস কে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।জ্যেষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিয়োগ দেওয়া হয়।পরবর্তীতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।এই সংঘাত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ২০২৪ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নিয়োগকে অনেক বিশ্লেষক শেখ হাসিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন।সমালোচকদের মতে,এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত আস্থা ও রাজনৈতিক সমীকরণ বড় ভূমিকা রেখেছিল।পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়,তা দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। সবশেষে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের পাশ কাটিয়ে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজনীতির ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—ক্ষমতার দাবার বোর্ডে সবচেয়ে শক্তিশালী খেলোয়াড়ও কখনো নিজের সাজানো চালেই পরাজিত হন।বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার শাসনকালেও এমন কয়েকটি সিদ্ধান্ত রয়েছে,যা তখন কৌশলগতভাবে নিরাপদ মনে হলেও সময়ের পরিক্রমায় তা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গভীর সংকট তৈরি করেছে।বিশেষ করে রাষ্ট্রের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চার ব্যক্তিকে বসানোর সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে এক কঠিন রাজনৈতিক ট্র্যাজেডির উপাখ্যান। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে।তখন ধারণা করা হয়েছিল,তাঁর নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি সরকারের জন্য একটি নিরাপদ ভারসাম্য তৈরি করবে।কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন পথ দেখায়।নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেওয়ায় তিনি সরকারের অনেক রাজনৈতিক প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাননি।২০০১ সালের নির্বাচনের সময় তাঁর ভূমিকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দেয় এবং দলীয় মহলে সেই নিয়োগকে পরে অনেকেই রাজনৈতিক ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসে ২০১৫ সালে,যখন সরকার এস কে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।জ্যেষ্ঠতার প্রশ্নে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা ছিল।পরবর্তীতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়।সেই রায়ে সরকারের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ উঠে আসে,তা রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।অনেক বিশ্লেষক একে বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে অভূতপূর্ব দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেছেন। তৃতীয় এবং সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয় ২০২৪ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নিয়োগ।সমালোচকদের মতে,রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিগত আস্থার ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত পরে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়।বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়।অনেক বিশ্লেষক মনে করেন,…
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীসহ আশেপাশের নদী এলাকায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে পাঙ্গাস ও ইলিশের পোনা নিধনের ঘটনা মহোৎসবের রূপ নিয়েছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নদী চাষীদের প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ মাছের পোনা শিকার করা হচ্ছে। সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী,গভীর রাতে মেঘনা, মাছকাটা,বাগরজা,বউ ডুবাচর,দরিচর খাজুরিয়া ও ভাষানচর এলাকায় সক্রিয় হয় এই অসাধু চক্র।সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বাধাজাল ও পাইজাল ব্যবহার করে ছোট পাঙ্গাস ও ইলিশ (চাপিলা ও টেংরা) নিধন করা হচ্ছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাতের আঁধারে ধরা এই পোনা মাছগুলো পরদিন সকালে স্থানীয় বাজারে প্রশাসনের চোখের সামনেই বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি,ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ মৎস্য শিকার নিয়ন্ত্রণ করছে।জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘদিন ধরে এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছ।ফলে কোস্ট গার্ড বা মৎস্য বিভাগের অভিযান থাকলেও তা কার্যত লোক দেখানো হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে,এভাবে পোনা নিধন চলতে থাকলে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন কমবে এবং পাঙ্গাস ও অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে।এছাড়া সরকারের মৎস্য সম্পদ রক্ষার যাবতীয় প্রকল্পও ব্যর্থ হওয়ার পথে যেতে পারে। এলাকাবাসী দাবি করছে,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কঠোর সামরিক বা নৌ-অভিযানের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভেঙে নদীর সম্পদ রক্ষা করা হোক।
পেকুয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি।।কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে,ঘটনার পর নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে একের পর এক নাটক সাজানো হয় এবং তড়িঘড়ি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি,জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বিপক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।কিন্তু পরবর্তীতে সেই রিপোর্ট প্রত্যাশিতভাবে না হওয়ায় ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি তাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী,নির্যাতনের ফলে তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়।কিন্তু সেই অবস্থাতেই ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ডেকে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।ভুক্তভোগীদের শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,এই ঘটনা সত্য হলে তা বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের একাধিক ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতন করা বা জোরপূর্বক শাস্তি প্রদান করা সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়া দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৩০ ও ৩৩১ ধারায় স্বীকারোক্তি আদায় বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে শারীরিক নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী শ্লীলতাহানির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আইনজীবীরা আরও বলছেন,ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অপরাধ সংঘটিত হলে এবং তা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায়।কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি আগে থেকেই পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হন,সেই অবস্থায়…
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।খাগড়াছড়িতে প্রেম ও বিয়ের আড়ালে মানবপাচারের অভিযোগে সুনি চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে,তিনি নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতেন এবং স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের বিদেশে,বিশেষ করে চীনে নিয়ে যেতেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,বিদেশে নেওয়ার পর তারা প্রতারণা ও মানবপাচারের শিকার হন।এভাবে একাধিক নারীকে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,পাচারের চেষ্টা করার সময় সুনি চাকমাকে আটক করা হয়েছে।বিষয়টি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন রয়েছে।এর সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত আছে কি না,সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন,বিদেশে বিয়ে বা স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রস্তাব পেলে অবশ্যই যথাযথ যাচাই-বাছাই করা জরুরি।সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ।সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের প্রধান উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ সংবাদ :———