নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,উপজেলার শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।পরে অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০২০ সাল থেকে একাধিকবার তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি,পরীক্ষার্থী সংখ্যা,পাসের হার,শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ পদ্ধতি ও যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করেনি। এমনকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংরক্ষণ করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন খানকে শিক্ষক নিয়োগ ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করেন।এ সময় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ মোল্লা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর দায় চাপিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,চলতি বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী (বাছাই) টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও প্রতিটি বিষয়ে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে।এ সময় প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
বিষয়টি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে।জানা গেছে,মেহেন্দিগঞ্জের ৬টি বিদ্যালয়সহ সারাদেশের মোট ৭৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি,অনিয়ম,কোচিং ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে।
বিস্তারিত আসছে—প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।এর অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।প্রয়োজনে কার-পুলিং (শেয়ারিং) পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো
🔹 এসির তাপমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।
🔹 বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে।
🔹 দিনের আলো ব্যবহার: অফিসে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
🔹 জ্বালানি সাশ্রয়: ব্যক্তিগত গাড়ি কম ব্যবহার করে গণপরিবহন বা কার-পুলিং ব্যবহার করতে হবে।
🔹 আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ: ব্যাংকের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও ডিসপ্লে বোর্ড সীমিত করতে হবে।
🔹 জেনারেটর ব্যবহারে সাশ্রয়: জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেন এই নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে,বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📅 বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
⚖️ ব্যাংক কোম্পানি আইন,১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মোংলা প্রতিনিধি।।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ক্যালিপসো এন নামের একটি জাহাজ মোংলা বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি–০৩ এর আওতায় এ গম আমদানি করা হয়েছে।
এর আগে জি-টু-জি–০১ ও জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত সব গম দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জি-টু-জি–০১ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন—মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়,দেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন।এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন।বাকি চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশ থেকে গম আমদানি করা হয়।
মোংলা বন্দরে পৌঁছানো জাহাজের গমের নমুনা পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোংলা(বাগেরহাট)প্রতিনিধি।।বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে ডিউটি পালনকালে নিজের অস্ত্রের গুলিতে সালেহ আহমেদ (৪২) নামে এক কোস্ট গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্য ও কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনার উপশম হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান,কোস্ট গার্ড সদস্য সালেহ আহমেদ নিজের হাতে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ⛽🌍
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।বুধবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,ভারতকে ইতোমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।একই ধরনের সুযোগ বাংলাদেশকেও দেওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন,“আমরা বলেছি, যদি ভারতের জন্য এমন সুযোগ থাকে, তাহলে বাংলাদেশও সেই সুযোগ পাওয়া উচিত। আমাদের অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী সমর্থন প্রয়োজন।”
অর্থমন্ত্রী জানান,বাংলাদেশের এই অনুরোধ ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা,বিনিয়োগ,সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে,রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি আমদানির সুযোগ পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ⚖️📊
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২) অনুযায়ী,সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সরকারি সূত্র জানায়,অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ৫৫৯ দিনের শাসনামলে এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল।এখন সেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করে আইন হিসেবে পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন,প্রতিটি অধ্যাদেশই সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশ পাস করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধান অনুযায়ী,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরে চাইলে সরকার সেই বিষয়গুলো আবার নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে পারবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,সরকার সংবিধান মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংবিধানের বাইরে কোনো আইন পাস করা হবে না।তিনি বলেন,সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদের এখতিয়ার,এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংস্কার করা হবে
অন্যদিকে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এটি বাতিল হয়নি।বরং বিএনপি ও বর্তমান সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।তবে তিনি সতর্ক করে বলেন,এই সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া যাবে না; সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এর মধ্য দিয়েই নতুন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের গতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে পারে। 📜⚖️
গাজীপুর প্রতিনিধি।।ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাকভর্তি ১৯টি গরু উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে গাজীপুর মহানগর এলাকার একটি স্থান থেকে ট্রাকসহ গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়,মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ট্রাকভর্তি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে।ডাকাতরা ট্রাকে থাকা গরুর মালিক, রাখাল,হেলপার ও চালককে হাত-পা বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ট্রাকটি নিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা দ্রুত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায়।এক পর্যায়ে ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে পুলিশ টহল দল ট্রাকটি থামার সংকেত দেয়।
তবে ডাকাতরা পুলিশের সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।এ সময় ডাকাতরা মহাসড়কের পাশে ট্রাক ও গরু ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ট্রাকসহ ১৯টি গরু উদ্ধার করে এবং সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 🚔🐄
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জনসম্মুখে অশালীন আচরণ, শারীরিক আঘাত,জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাশিয়ান নাগরিক ও মডেল মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস (জান্নাত) বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও সংবাদ সূত্রে জানা যায় যে,মনিকা কবির বিভিন্ন পাবলিক স্থানে অশালীন ও উসকানিমূলক আচরণ করে তা ভিডিও আকারে ধারণ করে অনলাইনে প্রচার করছেন,যা দেশের সামাজিক শালীনতা ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়,তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে—জনসম্মুখে রাস্তায় পোশাক পরিবর্তন করে অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা,মেট্রোরেলের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের কোলে শুয়ে পড়ে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা,বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা,একটি ভিডিও ধারণের সময় একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আঘাত করা,এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা সহ বেশকয়েকটি অভিযোগ।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,এসব কর্মকাণ্ড The Dhaka Metropolitan Police Ordinance, 1976 এর Section 75, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২৯৪, ৩২৩ ও ৩৫২, এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ধারা ২৫, ২৯ ও ৩১ লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
নোটিশে মনিকা কবিরকে ৭ দিনের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও কনটেন্ট অপসারণ করা এবং ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
অন্যথায়,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।এছাড়া বিদেশি নাগরিক হিসেবে দেশের আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তার ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার (Deportation) করার ক্ষমতা রাখে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান,সচেতন নাগরিক মহলের অনুরোধে তিনি এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন।তবে এ সিদ্ধান্তে বিরোধী দল সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে,যা রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র করছে।
আইনগতভাবে,সংবিধানের ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সংবিধান ও সরকারের কার্যক্রম উপস্থাপন করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।কিন্তু বিরোধী দল দাবি করছে,বর্তমান প্রস্তুত ভাষণ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের স্বাধীনতার সীমা অতিক্রম করতে পারে।আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,এটি যদি বাধ্যতামূলক নির্দেশ বা রাজনৈতিক প্রভাব প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়,তবে তা সংবিধান ভঙ্গের শামিল হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে,এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে দেশের বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস কতটা গভীর।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৌশলগতভাবে ব্যবহার হয়,তবে সংসদের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হবে।
সামাজিক প্রভাবও কম নেই।এই ধরনের অবস্থান জনমতের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।জনগণ যদি মনে করে রাষ্ট্রপতি পদ রাজনৈতিক চালের অংশ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে,তা সামাজিক সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে পারে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও এটি গুরুত্ব বহন করছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিতর্ক যদি হঠাৎ রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তবে ভিত্তি প্রস্তুত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাপের মুখে পড়তে পারে।এছাড়া,আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মহলও এ ঘটনার দিকে সতর্ক নজর রাখছে,কারণ এটি দেশটির গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
সংক্ষেপে,রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর লিখিত ভাষণ বিতর্ক শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়,এটি দেশের আইনি,রাজনৈতিক,সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতিবিম্ব,যা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি কমজোরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,“সংবিধান ও আইন মেনে চলা না হলে,রাষ্ট্রপতির পদও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে বাধ্য।”
মাজহারুল ইসলাম।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়,বরং দেশের আইনি ও সংবিধানিক কাঠামোর ওপরও পরীক্ষা।কিন্তু বিরোধী দলের আপত্তি স্পষ্ট করে দেয়,এই ভাষণ প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে,যা সংবিধান ও আইন উভয়ের দিক থেকে সমস্যা তৈরি করে।
সংবিধানিক দিক
বাংলাদেশের সংবিধান,ধারা ৭০ ও ৭১ অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হলো সংসদে সরকারী কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রদান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক নির্দেশনা বা নীতিমালা নির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।যদি ভাষণে নির্ধারিত রাজনৈতিক নির্দেশনা বা মত প্রকাশ থাকে,তা সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, কারণ ধারা ৭১(৩) স্পষ্টভাবে বলেছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নেই।
আইনগত দিক
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের দালিলিক আইন (Evidence Act, 1872 – Sections 3, 5 & 64) অনুসারে,রাষ্ট্রপতির লিখিত বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে দালিলিকভাবে গ্রহণযোগ্য,তবে এর ব্যবহার যদি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে হয়, তা সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে ধরা যেতে পারে।বিশেষ করে, Public Servants (Conduct) Act, 2018 অনুযায়ী,সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ভাষণ বিতর্ক একদিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে বাড়াচ্ছে,অন্যদিকে জনগণের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে।রাষ্ট্রপতির পদ যদি রাজনৈতিক আদেশ বা সরকারের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়,তা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক দায়বোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চোখেও গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সমালোচনা
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুধু সংবিধানিক প্রতিবেদন ও সরকারি কার্যক্রম উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।তা অতিক্রম করলে তা দলীয় আচার-ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আইন লঙ্ঘনের অনৈতিক precedent তৈরি করবে।
আমাদের রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান,সংবিধান ও আইনকে সম্মান করুন,রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে বক্তৃতা প্রদান করুন। গণতন্ত্রের এই পরীক্ষায়,যদি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখানো হয়,তবে এটি শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়—দেশের নৈতিক ও সংবিধানিক ইতিহাসের উপর লজ্জার দাগ হিসেবে রয়ে যাবে।
মাজহারুল ইসলাম।।ধানমন্ডি ৩২—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের পবিত্র ঠিকানা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতীক।অথচ আজ সেই ঠিকানায় ঘটে গেল অত্যন্ত অমানবিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা: ঘর ভাঙা হলো নিরব দর্শকের সরকারের চোখের সামনে।আর কেউ যদি স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে ফুল দেয়,তাকে ঘিরে পড়ে গ্রেফতারের কুপ্রথা।
এতে একদম স্পষ্ট—আমাদের দেশে ইতিহাসকে সম্মান করার স্বাধীনতা নেই।ইতিহাসকে স্মরণ করাও অপরাধে পরিণত হয়েছে।ধানমন্ডি ৩২ শুধু একটি বাড়ি নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের প্রতীক,৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতি,হাজারো বাঙালির আত্মত্যাগের চিহ্ন।এই স্মৃতিকে শাসন ব্যবস্থার নীরব চাপে ভাঙা আমাদের জাতির নৈতিক অবক্ষয়ের সংকেত।
যারাই বলবেন “আইন শৃঙ্খলার নামে,” তারা কি সত্যিই মনে করেন,ফুল দেওয়াই অপরাধ? ইতিহাস স্মরণ করাই শাস্তিযোগ্য? গণতন্ত্রে,দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার স্মৃতিকে লালন করা অপরাধ নয়—সর্বকালের নৈতিক দায়িত্ব।
আর এই নিয়ন্ত্রণ ও গ্রেফতারের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দ্বৈতমানের চরম উদাহরণ।যাকে ভাঙা হলো,তাকে সরকার নীরব; যে ফুল দেয়, তাকে শাস্তি।যা ঘটেছে,তা শুধু প্রশাসনিক অমানবিকতা নয়—এটি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের হত্যার চরম নিদর্শন।
সরকার যদি সত্যিই নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে মনে করে, তবে তা এখন প্রমাণ করতে হবে: নৈতিক দায়িত্ব,ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা,এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।অন্যথায়,ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনায় প্রকাশিত এই দ্বৈত মান দেশের নৈতিক ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করবে।
এই ঘৃণ্য নীরবতা আর দ্বৈত নীতি,ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় লজ্জার চিহ্ন হিসেবে থাকবে।আমরা রাষ্ট্রকে মনে করাই,যে শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসকে দমন করতে চায়,অতীতকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে, এবং জনসাধারণকে ভয় দেখায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামেয়া আহমদিয়া দায়েম নাজির জামে মসজিদে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা ও হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।মসজিদের পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জানা যায়,মসজিদের খতিবকে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, ইমামকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনকে ৭০ হাজার টাকা হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।এছাড়া তিনজন হাফেজকে প্রত্যেককে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা করে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে।
মসজিদের পরিচালনা কমিটির এমন উদ্যোগে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।অনেকেই আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা প্রদানের এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এ মহৎ উদ্যোগের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাশাআল্লাহ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন,বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে না।
এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটের আগে ও পরে মোট আট দিন আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
মাজহারুল ইসলাম।।সমাজে ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ক্রাইম রিপোর্টাররা।হত্যা,ডাকাতি,চুরি,মাদক পাচার,দুর্নীতি বা বিভিন্ন অপরাধের খবর নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা এই পেশার মূল কাজ।একজন দক্ষ ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব শুধু ঘটনাটি জানানো নয়,বরং ঘটনার পেছনের কারণ,প্রভাব এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরা।
১. তথ্য সংগ্রহ ও নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি
ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র বা সোর্স তৈরি করা।একজন রিপোর্টারকে পুলিশ,গোয়েন্দা সংস্থা, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।এতে করে কোনো অপরাধ ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়া সহজ হয়।
২. ঘটনাস্থল পরিদর্শন
কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা একজন ক্রাইম রিপোর্টারের অন্যতম দায়িত্ব।প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা,প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. অপরাধের কারণ অনুসন্ধান
একজন ক্রাইম রিপোর্টারের কাজ শুধু ঘটনাটি বর্ণনা করা নয়, বরং ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা।অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ,রাজনৈতিক প্রভাব,অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব বা অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে—এসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৪. আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা
অপরাধী গ্রেপ্তারের পর মামলার অগ্রগতি,তদন্তের ধাপ এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাও ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব।এতে করে জনগণ জানতে পারে বিচার কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে।
অনেক বড় অপরাধ বা দুর্নীতি দীর্ঘদিন আড়ালে থাকে।ক্রাইম রিপোর্টাররা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে মাদক সিন্ডিকেট, মানবপাচার,অর্থপাচার বা বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির মতো বিষয় উন্মোচন করেন।
৬. মানবিক দিক তুলে ধরা
অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কষ্ট,ক্ষতি এবং বিচার পাওয়ার আকুতি তুলে ধরা সাংবাদিকতার মানবিক দায়িত্বের অংশ।এতে করে সমাজে সচেতনতা তৈরি হয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
একজন ভালো ক্রাইম রিপোর্টারের গুণাবলি
সাহসিকতা: ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিক শক্তি থাকা।
সতর্কতা: নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ না করা।
আইনি জ্ঞান: দেশের প্রচলিত আইন ও দণ্ডবিধি সম্পর্কে ধারণা থাকা।
তৎপরতা: দ্রুত খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করার দক্ষতা।
সতর্কতা
ক্রাইম রিপোর্টিং পেশা ঝুঁকিপূর্ণ।তাই সব সময় পেশাদারিত্ব, সততা এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের চলাফেরা,বক্তব্য ও আচরণে মার্জিত ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।একই সঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান,প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন—যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে কেউ যেন কোনো বিষয়ে মন্তব্য না করেন।গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি।
সভা শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টায় এবং শেষ হয় দুপুর ১টায়। সভায় বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি।এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।”
প্রধানমন্ত্রী সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন।তিনি জানান,দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
সভায় জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। তবে যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য,সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
এর আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে,সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন,মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন,তবে তরুণ মন্ত্রীদের বিশেষভাবে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।
অফিসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন,তিনিও নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,সংসদ অধিবেশন শুরুর পর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন বিরতি থাকবে।এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে।ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত পোল্ট্রি খামারি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় তিনি কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়,জাহাঙ্গীর আলম খান দীর্ঘদিন ধরে তার জাহাঙ্গীর পোল্ট্রি ফার্মে চারটি খামারে প্রায় ১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আইপিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের অধিকাংশ মুরগি মারা গেলে তিনি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া প্রশিকা মোড় শাখার ম্যানেজার তাকে নতুন করে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।এর আগে নেওয়া ৩ লাখ টাকার ঋণের ৩/৪ কিস্তি বাকি থাকলেও নতুন ঋণের আশ্বাস দিয়ে তাকে একসাথে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম খান জানান,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। ফলে সিপি কোম্পানির প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানি থেকে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,“ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়েছি।তিন সন্তান নিয়ে কষ্ট করে খামার গড়ে তুলেছি।আইপিএস রোগে দুইবার মুরগি মারা যাওয়ার পর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ঋণের আশ্বাসে আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করে ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।কিন্তু প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তার দাবি,১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করতে পারলে খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু ঋণ না পাওয়ায় খামারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে স্থানীয় এক ডিলারের সহায়তায় তিনি ৮ হাজার মুরগি নিয়ে সীমিত পরিসরে খামার চালু করেছেন।তবে শ্রমিকের বেতন,বিদ্যুৎ বিল,ঘরভাড়া ও তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের হেড অফিস (House No-62, Block-Ka, Pisciculture Housing Society, ঢাকা-1207) এবং গাজীপুর জোনাল অফিসে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ফোন নম্বর 01717454046 ও 01711961399-এ কল করা হলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।এছাড়া ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঘটনাটি কয়েকটি আইনের আওতায় পড়তে পারে।
১. দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৪২০ (প্রতারণা):
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে এবং প্রতিশ্রুত সুবিধা প্রদান না করে, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
২. দণ্ডবিধি ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ):
প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে ‘ক্রিমিনাল ব্রিচ অব ট্রাস্ট’ হিসেবে মামলা করা যেতে পারে।
৩. চুক্তি আইন ১৮৭২:
লিখিত বা প্রমাণযোগ্য মৌখিক চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
৪. মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) আইন
২০০৬:
বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে এমআরএ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করা যায়।
আইনজীবীরা বলছেন,ভুক্তভোগী চাইলে
থানায় প্রতারণার মামলা,
দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা,
এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-তে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“ক্ষুদ্রঋণ মানুষের দারিদ্র্য দূর করার কথা। কিন্তু আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের এমন আচরণে আমার পরিবারের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাই।”
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
ক্রেমলিন জানিয়েছে,আলোচনায় পুতিন রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পক্ষে মস্কোর নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাশিয়ার সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।বিশেষ করে ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এছাড়া ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি আবারও গভীর সমবেদনা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে,তেহরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।নারায়ণগঞ্জে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়,গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এস এম লুৎফর রহমান দায়িত্ব পালন করছিলেন।এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে আঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান,ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে।অভিযানের একপর্যায়ে বন্দর থানার সোনাকান্দা ব্যাপারিপাড়া এলাকা থেকে মিশাল ওরফে বিশালকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি,একটি ছোরা ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার রেলী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে,এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।গত দুই দিনে (সোমবার ও মঙ্গলবার) মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে,চলতি মার্চ মাসে এটি প্রথম চালান। এ মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি হয়ে নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।প্রায় ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং বাকি ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অংশে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী,পাইপলাইন চালুর পর প্রথম তিন বছরে প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।পরবর্তী তিন বছরে এই সরবরাহ বাড়িয়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন করা হবে এবং পরবর্তী চার বছরে তা আরও বাড়িয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা যায়,দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির এই রেলহেড ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,গাইবান্ধা,রংপুর, দিনাজপুর,পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।ফলে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশজুড়ে নদী-নালা,খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একযোগে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।
সরকারের পানিসম্পদ,স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন,“এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়,বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”
তিনি আরও জানান,প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত রেখে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে করানো হয়।এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তরুণ প্রজন্মকে দেশ গঠনের এই উদ্যোগে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ডেস্ক: দিনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তির পর অনেকেই আরাম পেতে বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেন।এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় অভ্যাস হলো রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের তলায় তেল মালিশ করা।আয়ুর্বেদ ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই অভ্যাসকে শরীরের আরাম ও ঘুমের মান উন্নত করার জন্য উপকারী বলা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের তলায় অসংখ্য স্নায়ুপ্রান্ত (nerve ending) রয়েছে।পায়ে হালকা মালিশ করলে স্নায়ুগুলো উদ্দীপিত হয়,যা শরীরকে শিথিল করতে এবং ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।ফলে অনেকের ক্ষেত্রে রাতে দ্রুত ঘুম আসতে এবং গভীর ঘুম হতে সাহায্য করে। রিফ্লেক্সোলজি নামের একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিতে বলা হয়,পায়ের পাতার বিভিন্ন অংশ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত।এই তত্ত্ব অনুযায়ী পায়ের নির্দিষ্ট স্থানে মালিশ করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।যদিও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই দাবির সবকিছুর শক্ত প্রমাণ নেই,তবুও অনেকেই এই পদ্ধতিতে আরাম অনুভব করেন। চিকিৎসকরা জানান,পায়ের তলায় মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বাড়তে পারে। এতে সারাদিন হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার পর পায়ের পেশির ক্লান্তি কমে এবং শরীর কিছুটা স্বস্তি পায়।বিশেষ করে যাদের পায়ে ব্যথা,অবসাদ বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। ঘরোয়া উপায়ে পায়ের তলায় মালিশ করার ক্ষেত্রে সাধারণত সরিষার তেল,নারকেল তেল বা তিলের তেল ব্যবহার করা হয়। শীতকালে হালকা গরম সরিষার তেল অনেকেই ব্যবহার করেন, যা শরীরে উষ্ণতা দিতে সাহায্য করে।অন্যদিকে গরমকালে নারকেল তেল বা তিলের তেল ব্যবহার করলে ত্বক নরম থাকে এবং আরাম পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যবিদরা পরামর্শ দেন,রাতে ঘুমানোর আগে প্রথমে পা ভালোভাবে ধুয়ে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে।এরপর সামান্য তেল হাতে নিয়ে পায়ের তলায় ২ থেকে ৩ মিনিট হালকা চাপ দিয়ে মালিশ করতে হবে।এতে পায়ের পেশি শিথিল হতে পারে এবং ঘুমের আগে শরীর…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার এর বিরুদ্ধে জামিনের বিনিময়ে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এই অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম একটি ৫ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান: চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সদস্যরা: প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান মদিনা মোহাম্মদ জহিরুল আমিন ল’ রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ প্রসিকিউশনের বক্তব্য: পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও প্রসিকিউশনের সার্বিক বিষয় দেখাশোনার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটি সাইমুম রেজার ঘুষ চাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করবে। চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন,এটি একটি গুরুতর অভিযোগ,যা কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা উচিত ছিল না।অভিযোগ উঠার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানো হবে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সেরা অবস্থান অর্জন করেছে সরকারি পাতারহাট মুসলিম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।উপজেলার মোট ৫০ জন বৃত্তিধারীর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন এবং জেনারেল বৃত্তি পাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় থেকে এসেছে। ফলে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানের গর্ব বৃদ্ধি করেছে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক খান বেনজির আহমদ বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী।শিক্ষা,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন আমাদের লক্ষ্য। শিক্ষক মণ্ডলী টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সকল কার্যক্রমে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।ইনশাআল্লাহ, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।” সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মাহাবুব আলম বলেন, “ট্যালেন্টপুল বৃত্তিধারীর মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থী আমাদের বিদ্যালয় থেকে এসেছে। এই সাফল্য শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।” বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে,ধারাবাহিক ভালো ফলাফল ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।এই অর্জন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় সেরা এবং বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের আওতায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফলাফল হিসেবে রেকর্ডে স্থান করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে মোট পরিবার (খানা) সংখ্যা ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী ৪ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ২১৭টি।এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ২.৭৮ কোটি এবং শহরাঞ্চলে ১.৩১ কোটি পরিবার বসবাস করছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট পরিবারের প্রায় ২৭ শতাংশ বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।এই কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক,বিধবা,প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যক্তি সরাসরি বিভিন্ন ভাতার আওতায় আছেন।২০২৫-২৬ অর্থবছরে এর সাথে আরও প্রায় ৬.২৪ লাখ নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনৈতিক বরাদ্দের দিক দিয়ে,২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১৭.০৬ শতাংশ।তবে সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৫-২৬ প্রস্তাবিত বাজেটে এটি কমে ১৪.৭৮ শতাংশ এবং দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১.৮৭ শতাংশ।বার্ষিক খরচ প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে,যা মাসিক হিসাব করলে প্রায় ৯,৭২৭ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪ কোটি পরিবারকে মাসিক ২৫শ টাকা হারে ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।তবে বাস্তবায়িত বরাদ্দ,সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং সামগ্রিক বাজেটের অনুপাতের সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবতার মধ্যে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে পরিকল্পনা,বাজেট বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীর নির্বাচনে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন,সরকার মানবাধিকার রক্ষা এবং বেআইনি গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।পাশাপাশি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী এ কথা বলেন মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণীতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে “সকল নারী ও বালিকার জন্য অধিকার,বিচার ও বাস্তবায়ন” শীর্ষক আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ সেমিনারে।অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’। আইনমন্ত্রী জানান,বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৭ হাজার কার্ড জারি করা হয়েছে,যা পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের নামে দেওয়া হয়েছে।এই উদ্যোগ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন,দেশের নারীরা মৌলবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে,তাই তাদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের নীতি হলো গুমকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকা। মন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।তিনি বলেন,বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়ন উদ্যোগে ব্যবহার করা যেতে পারত। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত,এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক,জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিবেদক ও মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে ভারতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লব। এই তথ্য দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ,যিনি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রুবেল আহমেদের জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে,হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল ২০–২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে,কারণ শরিফ ও হাদি,শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছিলেন। হত্যার কাজটি চালানোর জন্য ফয়সাল করিম মাসুদ (দাউদ খান রাহুল) এবং কামরুজ্জামান রুবেলকে ব্যবহৃত হয়। রুবেল জানান,২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর জানতে পারেন যে হাদি ও কাফিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।সেই সময় তিনি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাননি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও হত্যার হুলিয়া, অর্থের উৎস ও যোগানদাতাদের শনাক্তকরণ বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী প্রতিনিধি।।নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় পুলিশ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে মিশাল মন্ডল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ইব্রাহিম (৪০)।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মিশালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ইব্রাহিম এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় জনতা ইব্রাহিমকে গণপিটুনি দেয়।অপর প্রধান অভিযুক্ত সাইদ আলী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী,গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র,চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলামকে হুমকি ও আঘাত করে।এই ঘটনায় রেজাউল করিমের উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতালে ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়।হামলাকারীরা একটি গাড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।পুলিশ প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন উপকমিশনার (ডিসি) এবং তিন জেলার তিন পুলিশ সুপারসহ (এসপি) বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী,ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক মাহমুদকে হবিগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে হবিগঞ্জের বর্তমান পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুনকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার পদে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান,যাকে চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়,বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে তাদের নামের পাশে উল্লেখিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই রদবদল করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,বদলি হওয়া কর্মকর্তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশে চলমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় প্রতি মাসে ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।এরই মধ্যে দুটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন,বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও এখনই তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।তিনি জানান,জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন,জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় ঢাকাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।যদিও সরকার পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বলছে,তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী,দেশে জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।দৈনিক অকটেনের চাহিদা এক হাজার ১০০ টন থেকে বেড়ে দুই হাজার টনে পৌঁছেছে।পেট্রোলের চাহিদাও বেড়েছে প্রায় এক হাজার টন।আর ডিজেলের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে বর্তমানে ২৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। চাহিদার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে সরকার জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে লিটার নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির পাশাপাশি সমুদ্রপথেও জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে।বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে মার্চ মাস নির্বিঘ্নে পার করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করছে।এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া,সিঙ্গাপুরসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।বৈঠক…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ওষুধের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঁদাবাজি,হামলা ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কয়েকটি চক্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তাসকিন গাজী নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ছাত্রদল বা বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই বলে জানা গেছে। একটি ফোনালাপে তিনি বলেন,“আমি এত বছর রাজনীতি করছি।এখন কি আমি না খেয়ে থাকব?ভাই,আমি এখন শ্রাবণ মাসের পাগলা কুত্তার মতো হয়ে গেছি।মনে করেন আমি পাগল হয়ে গেছি।পাগল হয়ে গেলে সবার কাছ থেকেই ধরতে হয়।” ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহবাগকেন্দ্রিক কয়েকটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।তারা আজিজ সুপার মার্কেট,শাহবাগ মেডিসিন মার্কেট, বিপণিবিতান মেডিসিন মার্কেট,পরীবাগ চাঁদ মসজিদ মার্কেট ও পরীবাগ সুপারমার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এককালীন ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করছে। মাসিক ‘রেট’ বেঁধে চাঁদা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান,দোকানভেদে প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে চাঁদা দিতে হয়,যাকে তারা ‘রেট’ বলে থাকেন।বেশির ভাগ দোকান থেকেই গড়ে ১০ হাজার টাকা মাসিক চাঁদা নেওয়া হয়। কোনো ব্যবসায়ী অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাঁর ক্ষেত্রে চাঁদার পরিমাণ আরও বেশি ধরা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই চাঁদা তোলার সঙ্গে মো. মিথুন (২৮) ও মো. বাইজিদ মোল্লা (২৮) নামের দুই যুবকের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।তাঁরা নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আক্তার হোসেনের অনুসারী বলে দাবি করেন। পরীবাগের চাঁদ মসজিদ মার্কেটের ওষুধ ব্যবসায়ী আল-আমিন (রিপন) বলেন,“মিথুন ও বাইজিদ বিভিন্ন সময় চাঁদার দাবিতে হুমকি দিয়েছেন।চাঁদা না পেলে দোকানের কর্মচারীদের মারধরও করেছেন।আমরা ব্যবসা করতে চাই,ঝামেলা চাই না—তাই অনেক কিছু সহ্য করে গেছি।” চাঁদা না দিলে গুপ্ত…
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।।গাজীপুর সদর উপজেলার পুবাইল থানার কুদাবো গ্রামের বাসিন্দা আহাদুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।দুর্ঘটনার পর তার পায়ে রড বসানো হয়েছে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও পারেন না।ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কোনো কাজ করতে পারছেন না। জানা গেছে,আহাদুল ইসলাম আগে মাদ্রাসায় ছাত্র পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।কিন্তু দুর্ঘটনার পর উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।তার পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা ও ছোট দুই সন্তান রয়েছে।বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। আহাদুল ইসলাম জানান,পবিত্র রমজান মাসে তার পরিবার সেহরি ও ইফতারের জন্যও পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। চিকিৎসার খরচ বহন করাও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।এ অবস্থায় তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন,কেউ চাইলে সরাসরি তার অবস্থা যাচাই করে সাহায্য করতে পারেন বা ভিডিও কলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে পারেন। সহায়তা পাঠানোর জন্য তার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নম্বর দেওয়া হয়েছে— বিকাশ / নগদ / রকেট: 01933624599 (Personal) নাম: Ahadul Islam ঠিকানা: গ্রাম: কুদাবো থানা: পুবাইল উপজেলা: গাজীপুর সদর জেলা: গাজীপুর মানবিক সহায়তার মাধ্যমে অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে কেবল “অধ্যাদেশ জারির সরকার” বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি বলেন,দায়িত্ব ছাড়ার আগ মুহূর্তেও তারা নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করার চেষ্টা করেছিল। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা,ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ৫৫৯ দিনের দায়িত্বকালীন সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে।সেই হিসাবে গড়ে প্রতি ৪ দশমিক ২০ দিনে একটি করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। তিনি এ প্রবণতাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেকেই সংস্কারমুখী সরকার বললেও বাস্তবে তারা ছিল অধ্যাদেশনির্ভর সরকার।এমনকি বিদায়বেলায়ও তারা একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করতে চেয়েছিল।” এ সময় তিনি বলেন,বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ।“আমরা এতে সই করেছি এবং সেই অঙ্গীকার রক্ষা করব।যারা এখন সমালোচনা করছে,তারাই নির্বাচনের পর এতে সই করেছে,”—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন,বিএনপি জুলাই সনদকে অস্বীকার করে না এবং দলটি সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।তবে সনদে যে পরিমাণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে,বাস্তবায়নও ততটুকুই হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে আগে বিষয়টি সংসদে যেতে হবে।সংসদে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তিনি বলেন, “যদি নতুন করে শপথ নেওয়ার প্রয়োজন হয়,সেটিও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারেই হবে।” এ সময় তিনি আরও বলেন, “যারা মনে করে ষড়যন্ত্র করে তাদের হারানো হয়েছে,তাদের সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখাও না-জায়েজ।” উল্লেখ্য,সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন বসার এক মাসের মধ্যে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করতে হয়। সেই হিসাবে বর্তমান সরকারকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চারটি করে অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করতে হবে। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী…
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় আইফোন ও নগদ টাকার লোভে কলেজছাত্র সিয়াম মোল্যা (১৭)কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চার বন্ধুর বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। নিহত সিয়াম মোল্যা উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম গ্রামের ইতালিপ্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে।তিনি উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুলিশ জানায়,গত ৭ মার্চ থেকে সিয়াম নিখোঁজ ছিল। পরে সোমবার সন্ধ্যায় ঝুটিগ্রাম এলাকার একটি পুকুরে কচুরিপানার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই কিশোর জানিয়েছে—সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও কিছু নগদ টাকা ছিল।এগুলো বিক্রি করে মাদক কেনার উদ্দেশ্যে চার বন্ধু মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ মার্চ সিয়ামকে হত্যা করে পুকুরের কচুরিপানার নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়। তিনি আরও জানান,এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক অন্য দুই কিশোরকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কারাবন্দী এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্ত করার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন দাবি উঠে এসেছে। ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংগুলোতে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরদের একজন মো. সাইমুম রেজা তালুকদার–এর কথোপকথন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।রেকর্ডিংগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যম যাচাই করেছে বলেও জানা গেছে। রেকর্ড করা এক হোয়াটসঅ্যাপ কলে পরিবারের এক সদস্যকে আগের আলাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন,যদি তিনি শেষ পর্যন্ত ফজলে করিম চৌধুরীর জামিন নিশ্চিত করতে পারেন,তাহলে একটি “ভালো অ্যামাউন্টের” বিষয় থাকবে।কথোপকথনে তিনি সরাসরি বলেন,“আমি ওয়ান ক্রোরের (১ কোটি টাকা) কথা বলেছিলাম।” এ সময় ওই অর্থের মধ্যে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নগদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন বলে অডিওতে শোনা যায়। অভিযোগটি সামনে আসার পর তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন আইসিটির তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।তবে ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে নতুন আইনমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর সাইমুম রেজা তালুকদার পুনরায় মামলাটিতে যুক্ত হওয়ার কথা ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের জানান বলে দাবি করা হয়েছে।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়,এরপর তারা নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে কয়েকটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং জমা দেন। পরিবারের দাবি,তারা কখনোই ওই প্রসিকিউটরকে কোনো অর্থ প্রদান করেননি।বরং দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, “এটি সত্য নয়।” তাঁর দাবি,কোনো একক প্রসিকিউটরের পক্ষে কাউকে জামিন পাইয়ে দেওয়া সম্ভব নয়; সবকিছু প্রধান প্রসিকিউটরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য,চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে…
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা বারবার ফিরে আসে—বাস্তবতার চেয়ে স্লোগানকে বড় করে দেখা।যখনই কোনো আঞ্চলিক সহযোগিতা,বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে কোনো অবকাঠামো বা জ্বালানি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়,তখনই একদল রাজনৈতিক ব্যবসায়ী “দেশ বিক্রি”র অভিযোগ তুলে জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।কিন্তু সময়ই শেষ পর্যন্ত সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত তেল পাইপলাইন নির্মাণের সময়ও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল—এটি নাকি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র।বলা হয়েছিল, “দিল্লির দালালি” চলছে।অথচ আজ যখন জ্বালানি সংকটে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন,তখন বাস্তবতা একটাই—সেই পাইপলাইন দিয়েই দ্রুত জ্বালানি দেশে পৌঁছাচ্ছে।অর্থাৎ যেটিকে একসময় রাজনৈতিক অপপ্রচার দিয়ে ‘দেশবিরোধী’ প্রকল্প বলা হয়েছিল,সেটিই এখন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি কার্যকর মাধ্যম। এখানেই প্রশ্ন উঠে—আসলে কার স্বার্থে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল? দেশের, নাকি রাজনীতির বাজার গরম রাখার জন্য? বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত স্পষ্ট।দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশেই আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।ভারত আমাদের প্রতিবেশী—এ বাস্তবতা অস্বীকার করে কোনো রাষ্ট্রনীতি তৈরি করা যায় না। বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নই আধুনিক কূটনীতির নিয়ম। ইতিহাসের কথাও এখানে স্মরণযোগ্য।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল ভারত।সেই সময় রাজনৈতিক,সামরিক ও মানবিক সহায়তা ছাড়া স্বাধীনতার সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠত।ইতিহাসের এই সত্য উচ্চারণ করলেই যদি কাউকে “দালাল” বলা হয়,তবে তা আসলে ইতিহাসের প্রতিই অবমাননা। দুঃখজনকভাবে,স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পরেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে যারা পাকিস্তানি মানসিকতার উত্তরাধিকার বহন করে।তাদের কাছে উন্নয়ন নয়,বরং বিভাজনই রাজনীতির মূল হাতিয়ার।তাই তারা দেশের যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্প—নিয়ে সন্দেহ ও বিদ্বেষ ছড়াতে অভ্যস্ত। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে,রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ বা স্লোগান দিয়ে হয়…
নরসিংদী প্রতিনিধি:নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত কিশোরী আমেনা হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী (৪০), প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) এবং হযরত আলী (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার সঙ্গে নিহত আমেনার আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়া ঘটনার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে হযরত আলীর বাড়িতে হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার দলবদ্ধভাবে আমেনাকে ধর্ষণ করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমের সৎ পিতা আশরাফ আলী তাকে সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, মেয়েটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। নরসিংদী জেলা পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় গত ৬ মার্চ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় চারজন ধর্ষকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামিরা হলেন— এবাদুল্লাহ (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), আইয়ুব (৩০) এবং ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৯(৩)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৬১/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নেপালে ৫ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচন সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশটির সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নেপালের জনগণের আকাঙ্ক্ষা,দৃঢ়তা এবং তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের শক্তির প্রতিফলন। বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করেছে,নবগঠিত নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে। এ সময় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২-এর মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনের মোবাইল ফোন,নগদ টাকা ও হাতঘড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি শাহজাদা ও রুবেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জমসেদ আলম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার অভিযোগে জানা যায়,গত শনিবার রাত ১১টার দিকে মো. মোতাহার হোসেন রাজধানীর শহীদ ফারহান ফাইয়াজ চত্বর (নানক চত্বর) এলাকায় ফুটপাতে হাঁটছিলেন।এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে।একপর্যায়ে তাকে মারধর করে তার কাছে থাকা একটি আইফোন ৬ প্লাস ও একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স মডেলের মোবাইল ফোন,নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহজাদা ও রুবেলকে গ্রেফতার করে।মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 📰
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদ সৃজনের প্রস্তাব নিয়ে সভা ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এ বিষয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে,পুলিশ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত বিভিন্ন ইউনিটে চার হাজার এসআই (গ্রেড–১০) (নিরস্ত্র) পদ সৃজনের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (ভবন নম্বর–৮, কক্ষ নম্বর–২০৮, তৃতীয় তলা) এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংকট দূর করতে নিয়োগ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন।গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের তাগিদ দেন। এর ধারাবাহিকতায় কনস্টেবলের শূন্য পদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।পাশাপাশি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদেও দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইতিমধ্যে কনস্টেবল ও পুলিশ সার্জেন্ট পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং এসব পদে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।হাদী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই ফাতেমা তাসনিম জুমার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে যে আলোচনা ছিল,তা এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্তে নতুন কিছু দিক উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।একই সময়ে ফাতেমা তাসনিম জুমা তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন এবং মোবাইল সিম বন্ধ করে আত্মগোপনে গেছেন বলে জানা গেছে।বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরেও এসেছে। এদিকে সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে,তদন্তে বাধা প্রদানকারীদের তালিকায় জুমার নাম শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল।কিছু সূত্রের মতে,জাবের নামের এক ব্যক্তিসহ একটি নির্দিষ্ট মহলের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না,তা নিয়েও তদন্ত চলছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।অনেকেই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে,তদন্ত এখনও চলমান এবং যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্তভাবে দায়ী বলা যাচ্ছে না। হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তকারী সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ সংবাদ :———