প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২০:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ,অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা করতে ভোলা–বরিশাল সড়কসহ ২টি বড় সেতু এবং মোট ৩৬টি সেতু নির্মাণের প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকার মেগা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।এসব প্রকল্প ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,এই বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ৭৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে।গত ২৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি পাস হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত জনপদে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও নদী ভাঙন রোধ—এই দুই বাস্তবতাকে একসূত্রে এনে জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরায় সাংবাদিক,লেখক ও কলামিস্ট এম মাজহারুল ইসলাম-এর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা।মাঠপর্যায়ের বাস্তব সংকট, মানুষের দুর্ভোগ ও সম্ভাবনার চিত্র ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করায় এই উন্নয়ন পরিকল্পনা গতি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার,পানি সম্পদ,বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং নৌ-পরিবহন ও পাটবস্ত্র,পর্যটন উপদেষ্টা এম এম এ সাখাওয়াত হোসেন দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।
ভোলা–বরিশাল সড়ক ও সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলা, বরিশাল,পটুয়াখালী,ঝালকাঠি,পিরোজপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।নদীনির্ভর যাতায়াতের ওপর নির্ভরতা কমে শিল্প, পর্যটন,কৃষি ও বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে মেহেন্দিগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে শত শত ঘরবাড়ি,বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,ধর্মীয় স্থাপনা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।অনেক এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।ভাঙনরোধ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এসব জনপদের অস্তিত্ব রক্ষা পাবে বলে আশা স্থানীয়দের।
উন্নয়ন সংশ্লিষ্টদের মতে,ভোলা–বরিশাল সড়ক,বড় সেতু ও শতাধিক সেতু নির্মাণের এই দেড় লক্ষ কোটি টাকার মেগা পরিকল্পনা এবং নদী ভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশাল–খুলনা ও ফরিদপুর বিভাগ একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও টেকসই অঞ্চলে রূপ নেবে—যাকে অনেকে ভবিষ্যতের ‘সিঙ্গাপুর রূপের রাণী দক্ষিণাঞ্চল’ হিসেবে দেখছেন।

















