প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪৭:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।একটি রাষ্ট্র যখন সত্যের চেয়ে সুবিধাকে বড় করে দেখে,তখন সবচেয়ে আগে বিকৃত হয় নৈতিকতা। মামুনুল হক ইস্যুতে বাংলাদেশ ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে।

নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে যিনি ধরা পড়লেন,তিনি নিজেকে বললেন—ঝর্ণা তাঁর স্ত্রী। পরে জানা গেল,ঝর্ণা আসলে তাঁর খাদেমের স্ত্রী—এমন তথ্য আদালত ও গণমাধ্যমে এসেছে। অথচ একই সময়ে রাষ্ট্রীয় নথিতে,নির্বাচন কমিশনের হলফনামায়,রাজনৈতিক মঞ্চে স্ত্রীর নাম হিসেবে হাজির থাকলেন আমিনা তাইয়েবা।প্রশ্ন একটাই—
স্ত্রী কি পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলায়,নাকি রাষ্ট্রই সত্য বদলায়?
রিসোর্টে ঝর্ণা—রাজনৈতিক মাঠে আমিনা।
ব্যক্তিগত জীবনে ধোঁয়াশা—রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নিরবতা।
এটাই কি আইনের শাসন?
আরও ভয়াবহ হলো—এই অসংগতি উন্মোচিত হওয়ার পরও রাষ্ট্র কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।বরং ঘটনাটিকে এমনভাবে সামলানো হয়েছে,যেন সমস্যা সত্যে নয়,সমস্যা প্রশ্ন তোলায়। ফলাফল কী? আলেম সমাজের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারিয়েছে। তারা এটিকে বিচার নয়,টার্গেটেড রাজনৈতিক অপমান হিসেবে দেখেছে।
রাষ্ট্র যদি শুরুতেই সোজা কথা বলত—
➡️ সম্পর্ক কী,
➡️ মিথ্যা বললে তার পরিণতি কী,
➡️ ধর্মীয় পরিচয় আইনের ঊর্ধ্বে নয়—
তাহলে এই ইস্যু এতদূর গড়াত না।
কিন্তু হয়নি।বরং ঘটনার প্রতিটি স্তরে দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়েছে—
ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশে সাহস,অভিযুক্তের ক্ষেত্রে কৌশলী নীরবতা।
আইনের ভাষা নয়,রাজনৈতিক ভাষাই মুখ্য হয়েছে।
এর ফলেই মামুনুল হক আর একজন ব্যক্তি থাকেননি—তিনি হয়ে উঠেছেন একটি প্রতীক।
যেখানে প্রশ্ন ব্যক্তির নয়,প্রশ্ন রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।
৫ আগস্ট ২০২৪–এর রাজনৈতিক ভাঙনের পেছনে বহু কারণ আছে।কিন্তু এই ধরনের ইস্যুগুলো প্রমাণ করেছে—রাষ্ট্র যখন ন্যায়বিচারের বদলে নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেয়,তখন পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো—এখন আবার ইতিহাস টেনে এনে বলা হচ্ছে, “পাকিস্তানি মতাদর্শ”, “নিধনের ষড়যন্ত্র”। এই ভাষা সমস্যার সমাধান নয়,বরং ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল। সত্য চাপা দিলে ইতিহাস কখনো ক্ষমা করে না।
এই সম্পাদকীয় শেষ করছি একটাই কথা বলে—
রাষ্ট্র যদি সত্য সহ্য করতে না পারে,তবে সে রাষ্ট্র শক্তিশালী নয়;সে কেবল ভীত।
আর ভীত রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত নিজেরই আয়নায় ভেঙে পড়ে।

















