প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৪৭:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সাম্প্রতিক এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের হাত ধরে হাঁটার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে ঘটনাটি প্রটোকল লঙ্ঘন ও প্রতীকী বার্তার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়,অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ড. ইউনূস হঠাৎ সেনাপ্রধানের হাত ধরে হাঁটতে শুরু করেন। মুহূর্তটি অনেকের কাছে মানবিক সৌজন্য বা ব্যক্তিগত সহানুভূতির প্রকাশ মনে হলেও,রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও প্রটোকলের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সহজভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট মহল।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও প্রটোকল বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আবেগের মাধ্যমে নয়; বরং তা চলে নির্দিষ্ট দায়িত্ব,নীতি,শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে।রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি অঙ্গভঙ্গিই একটি বার্তা বহন করে,যা জনমনে গভীর প্রভাব ফেলে।
উল্লেখ্য,কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব অসুস্থ হলে বা শারীরিক সহায়তার প্রয়োজন হলে সে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে।এসএসএফ,প্রটোকল কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সহায়তা ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে।সেই কাঠামো উপেক্ষা করে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত সহায়তায় হাঁটা অপ্রয়োজনীয় এবং প্রটোকল সচেতনতার অভাবেরই প্রতিফলন—এমন মন্তব্য করছেন অনেকে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ঘটনার প্রতীকী দিকটি।একটি মাত্র ছবি বা দৃশ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে—ক্ষমতার ভারসাম্য কোথায়,দায়িত্বের সীমা কতটা স্পষ্ট। সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রের শক্তি,শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার প্রতীক। তাকে ব্যক্তিগত সৌজন্যের দৃশ্যে জড়ানো রাষ্ট্রীয় ইমেজকে দুর্বল করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন,জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা হাত ধরে হাঁটার মাধ্যমে নয়,বরং কার্যকর সিদ্ধান্ত,দৃঢ় নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই প্রমাণিত হওয়া উচিত।রাষ্ট্রীয় শালীনতা মানে আবেগ দমন নয়; বরং আবেগকে পদ ও দায়িত্বের সীমার মধ্যে রাখা।
এমন প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও সংযত ও প্রটোকলসম্মত আচরণ প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।তাদের মতে,এটি কেবল ব্যক্তিগত আচরণের প্রশ্ন নয়—রাষ্ট্রের মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠানগত ভারসাম্যের বিষয়।
















