প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪৯:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উত্তাপ বাড়ছে, তেমনি আলোচনায় উঠে এসেছেন দুই নারী প্রার্থী—তাসনিম জারা ও রুমিন ফারহানা। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকাতেও তাদের ঘিরে কৌতূহল, প্রত্যাশা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বাস্তবতা, জনমত ও সীমাবদ্ধতার সমন্বয়েই এখন তাদের অবস্থান মূল্যায়ন করছেন ভোটাররা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রুমিন ফারহানা। বরাবরই রাজনীতিসচেতন এই এলাকায় দলীয় আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতাও বড় ভূমিকা রাখে।জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ,সংসদে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং স্পষ্ট ও দৃঢ় বক্তব্যের কারণে রুমিন ফারহানা শিক্ষিত ভোটার,পেশাজীবী ও সংসদে শক্ত কণ্ঠ দেখতে চান—এমন অংশের মধ্যে ইতিবাচক জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।তবে শক্ত মাঠসংগঠন ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এই আসনে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।জনমত থাকলেও সেটিকে ভোটে রূপ দেওয়াই তার প্রধান লড়াই।
অন্যদিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় এলাকা ঢাকা–৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাসনিম জারা।এই আসনে তরুণ ভোটার,মধ্যবিত্ত,চাকরিজীবী ও নাগরিক শ্রেণির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।নতুন রাজনীতির বার্তা,ভদ্র ও পরিমিত ভাষা এবং নাগরিক সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলার কারণে বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার ভোট দেওয়া অংশের মধ্যে তার পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।অনেক ভোটার তাকে প্রচলিত রাজনীতির বাইরে “ভিন্ন কিছু” হিসেবে দেখছেন।তবে বড় এলাকা,জটিল ভোটের হিসাব এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর কারণে ঢাকা–৯ আসনে লড়াই সহজ নয়।অনলাইন ও নাগরিক সমর্থন থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেটিকে সংগঠিত করে ভোটের দিনে কাজে লাগানো বড় চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষেপে,রুমিন ফারহানার পক্ষে রয়েছে অভিজ্ঞতা,পরিচিতি ও সচেতন একটি সমর্থকগোষ্ঠী,আর বিপক্ষে রয়েছে দলীয় শক্তির সীমাবদ্ধতা।তাসনিম জারার পক্ষে রয়েছে তরুণদের আগ্রহ,নতুনত্বের প্রতি জনমত ও শহুরে সমর্থন,বিপরীতে রয়েছে বাস্তব নির্বাচনী কাঠামো ও মাঠসংগঠনের ঘাটতি।
সব মিলিয়ে,এই দুই নারী প্রার্থীই নিজ নিজ এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।জয়ের সমীকরণ কঠিন হলেও তাদের ঘিরে তৈরি হওয়া জনমত একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
















