প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:২২:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক :বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের তৃণমূল ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার কষ্ট লাঘবে গড়ে তোলা হয়েছিল বহুমাত্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচি।খাদ্য,নগদ অর্থ,কর্মসংস্থান,বাসস্থান,শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকাভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ মাসে মাসে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।এসব কর্মসূচির বড় একটি অংশ কার্ডভিত্তিক হওয়ায় সুবিধাভোগীদের কাছে তা ছিল তুলনামূলক সহজ ও স্বচ্ছ।

অনেকেই এসব কর্মসূচির ব্যাপকতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন।পাঠকদের জন্য নিচে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু থাকা প্রধান সামাজিক সহায়তা ও নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড (প্রায় ১ কোটি পরিবার)
এই কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ২ লিটার সয়াবিন তেল,২ কেজি মসুর ডাল ও ৫ কেজি চাল পেত।বিশেষ সময়ে চিনি ও পেঁয়াজও বিতরণ করা হতো।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কার্ড (৬২.৫০ লক্ষ পরিবার)
কর্মসংস্থানহীন মৌসুমে (সেপ্টেম্বর,অক্টোবর,নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল) মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল সরাসরি দেওয়া হতো।
কৃষি কার্ড (২.০৫ কোটি কৃষক)
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সারে ভর্তুকি,সরকারি বীজ, কৃষিঋণ,ডিজেল ও উপকরণ বাবদ নগদ সহায়তা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পেতেন।
বয়স্ক ভাতা কার্ড (৫৮.০১ লক্ষ ব্যক্তি)
ষাটোর্ধ্ব অসচ্ছল প্রবীণদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা হারে নিয়মিত ভাতা প্রদান করা হতো।
মা ও শিশু সহায়তা কার্ড (১৩.০৪ লক্ষ মা)
দরিদ্র গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েদের জন্য ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসে ৮০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো।
প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড (২৯ লক্ষ ব্যক্তি)
অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসিক ৮৫০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হতো।
জেলে কার্ড (১৫ লক্ষ নিবন্ধিত জেলে)
ইলিশ প্রজনন ও জাটকা নিধন নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের মাসে ৪০ কেজি চাল এবং বিকল্প আয়ের জন্য নগদ সহায়তা দেওয়া হতো।
ভিডিডব্লিউবি (সাবেক ভিজিডি) কার্ড (১০.৪০ লক্ষ নারী)
দুস্থ নারীদের জন্য মাসে ৩০ কেজি চালের পাশাপাশি সেলাই, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা (প্রায় ২ লক্ষ ব্যক্তি)
মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা ছাড়াও উৎসব ভাতা ও বিজয় দিবস ভাতা প্রদান করা হতো।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা (২৫.৭৫ লক্ষ নারী)
অসহায় নারীদের জন্য মাসে ৫৫০ টাকা করে নিয়মিত ভাতা চালু ছিল।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি
১০০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি: প্রায় ২০ লক্ষ গ্রামীণ শ্রমিক বছরে দুই ধাপে কাজের সুযোগ পেতেন।
মাতৃত্বকালীন ভাতা: প্রায় ১৫ লক্ষ মা মাসে ৮০০ টাকা করে ভাতা পেতেন।
ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি: ভিক্ষুকদের গবাদি পশু,দোকান ও উপকরণ দিয়ে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা।
ভিজিএফ (VGF) কার্ড: দুর্যোগ, ঈদ ও জরুরি সময়ে খাদ্য সহায়তা।
তাঁতী কার্ড: ১৫ লক্ষাধিক তাঁতীকে জামানতবিহীন ঋণ ও উপকরণ সহায়তা।
রেশম চাষি সহায়তা: ৬০ হাজার চাষিকে উন্নত চারা ও সরঞ্জাম।
হিজড়া ও বেদে জনগোষ্ঠী: প্রায় ৮৬ হাজার জনকে ভাতা ও প্রশিক্ষণ।
চা শ্রমিক সহায়তা: প্রায় ৫০ হাজার পরিবারকে নগদ ও রেশন সহায়তা।
প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি: প্রায় ১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে বিশেষ বৃত্তি।
—
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উদ্যোগ
সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভাতা,শিক্ষা বৃত্তি, এককালীন আর্থিক অনুদান,পেশাগত উপকরণ বিতরণ ও আধুনিক ঘর নির্মাণ করা হয়।
আশ্রয়ণ প্রকল্প
এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ লক্ষ ২৯ হাজার পরিবারকে জমিসহ পাকা ঘর প্রদান করা হয়েছে, যা গৃহহীন পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
সামগ্রিক চিত্র
বিশেষজ্ঞদের মতে,আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ যুক্ত ছিল। খাদ্য,নগদ অর্থ,কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের সমন্বিত এই কাঠামো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত হয়।
















