প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:১১:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বড় কোনো নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন না হলেও রাষ্ট্রীয় ঋণের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।এই বাস্তবতা শুধু অতীত সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের উত্তরাধিকার নয়,বরং বর্তমান সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে আনছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী,২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশের মোট দেশি ও বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ১৮.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ,টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং বাজেট ঘাটতির কারণে এই অংক বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৩ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।বাস্তবে নতুন উন্নয়ন ব্যয় না থাকলেও কাগজে-কলমে ঋণের এই দ্রুত বৃদ্ধি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন,অন্তর্বর্তী সরকার নতুন প্রকল্প হাতে না নিলেও ঋণ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোনো কৌশল দৃশ্যমান হয়নি।বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার দরপতন রোধে শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় আগেই নেওয়া ডলারভিত্তিক ঋণের টাকামূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যাচ্ছে।এতে নতুন ঋণ না নিলেও রাষ্ট্রীয় দায় বাড়ছে,যা সরাসরি সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশের বাৎসরিক রাজস্ব আয় বর্তমানে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।অথচ প্রতিবছর ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা।ফলে রাজস্ব আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণ শোধে।উন্নয়ন,কর্মসংস্থান বা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে,যা অর্থনীতির গতি আরও মন্থর করছে।
সমালোচকদের মতে,অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ছিল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো ও ঋণচাপ কমানোর একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া।কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল,ব্যয় সংকোচন কিংবা রাজস্ব সংস্কার—কোনোটিই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি সরকার।ফলে অতীতের দায়ের সঙ্গে বর্তমানের সিদ্ধান্তহীনতা যুক্ত হয়ে ঋণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাজেটের বড় একটি অংশ স্থায়ীভাবে ঋণসেবায় আটকে যাবে।এতে শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতায় ঋণ এখন শুধু অতীত সরকারের বোঝা নয়; বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও জবাবদিহিতার একটি বড় পরীক্ষা। উন্নয়ন কার্যক্রম না থাকলেও ঋণ বৃদ্ধি থামাতে না পারা সরকারকে নতুন করে সমালোচনার মুখে ফেলেছে।












