জাতীয়

সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামো ও হুমকির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন

  প্রতিনিধি ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:০৩:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামো ও হুমকির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।ইরানের সেনাবাহিনী সুপ্রিম কমান্ডের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত হলেও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে কমান্ড কাঠামোর শৃঙ্খলা ও কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে,বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে সিনিয়র হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জুনিয়র অফিসারদের চাপ বা আতঙ্ক কাজ করছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে,যা একটি রাষ্ট্রের সামরিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, “সিনিয়র হাই কমান্ড মানেই কমান্ড—এখানে কোনো ‘যদি-কিন্তু’ থাকার কথা নয়। সেটিই দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করে।”

সম্প্রতি ব্যারিস্টার ফুয়াদের একটি বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।তিনি সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ করে কটূক্তি এবং ক্যান্টনমেন্ট উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।বিশ্লেষকদের মতে,এমন বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হওয়াটাই দেশের রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।

একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, “পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে রাস্তায় নেমে সেনাপ্রধানকে প্রকাশ্যে হুমকি দিলে তার শাস্তি যে শতভাগ নিশ্চিত—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় দুঃখজনক নজির তৈরি হচ্ছে।”

তারা আরও মনে করেন,যদি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কর্তৃত্বের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং সিনিয়র নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়,তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় তো দূরের কথা—পরাজয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ এক ধরনের “আজব রাষ্ট্রীয় কাঠামোর” দিকে এগোচ্ছে, যেখানে দায়িত্বের চেয়ে হিসাব-নিকাশ এবং ভয় বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই আইনের শাসন এবং কমান্ড চেইনের পূর্ণ কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও খবর

Sponsered content