প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২৬:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬:চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) বোর্ড সিদ্ধান্তের আলোকে গেজেটভুক্ত ৯ জন জুলাই যোদ্ধাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে বিভিন্ন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। এ পদায়নকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কোটা,দায়মুক্তি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়,বোর্ড সিদ্ধান্ত নং–১৯৭২১ (তারিখ: ৯ নভেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী বন্দরের কাজের স্বার্থে ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৯ জন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধার সঙ্গে নিয়োগ চুক্তি সম্পাদন করা হয়।পরে চীফ পারসোনেল অফিসারের দপ্তরাদেশের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন বিভাগে প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী/সহকারী হিসেবে পদায়ন করা হয়।
পদায়নপ্রাপ্তদের মধ্যে চবক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,প্রশাসন বিভাগ, হাইড্রোগ্রাফি,নৌ প্রকৌশল,নৌ বিভাগ,বিদ্যুৎ বিভাগ,অর্থ ও হিসাব বিভাগ,পরিকল্পনা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দপ্তরাদেশে উল্লেখ করা হয়,সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাসিক হাজিরা শিট প্রশাসন বিভাগে পাঠাবে এবং সেই অনুযায়ী অর্থ ও হিসাব বিভাগ নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে মাসিক সেবামূল্য পরিশোধ করবে।চুক্তিবদ্ধদের সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।কোটা বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচকরা বলছেন,আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা,পুলিশ হত্যা,থানা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে কি না—তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ৫জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসন,বিচার বিভাগ, গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ সদস্যসহ বহু নিরীহ মানুষকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে নিপীড়ন,গ্রেপ্তার,জেল-জুলুম এমনকি গুম-হত্যার শিকার করা হয়েছে।এতে করে দেশকে আফগানিস্তান,সিরিয়া বা পাকিস্তানের মতো অস্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,এই নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বোর্ড সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করেই করা হয়েছে এবং এতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে।
কোটা,দায়মুক্তি ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে চলমান এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।














