সারাদেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাবেক সেনা কর্মকর্তার বাসা থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মর্টার শেল উদ্ধার

  প্রতিনিধি ৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ৭:০৩:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাবেক সেনা কর্মকর্তার বাসা থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মর্টার শেল উদ্ধার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত থাকা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি মর্টার শেল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।প্রায় ২৪ ইঞ্চি লম্বা ও আনুমানিক ১৮ কেজি ওজনের এই শেলটি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তা কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন।তার বিধবা স্ত্রী ঘরের পুরোনো জিনিসপত্র বিক্রির সময় অজ্ঞাতসারে মর্টার শেলটি একটি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন।পরে ব্যবসায়ীটি বস্তুটির অস্বাভাবিক গঠন ও ওজন দেখে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত মর্টার শেলটি দেখতে পুরোনো হলেও এটি এখনো সক্রিয় বা ‘তাজা’ অবস্থায় থাকতে পারে।এ ধরনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে বিষয়টি জানানো হয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শেলটি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করছেন,
“এই বাঙালীকে পারমাণবিক বোমার ভয় দেখিয়ে লাভ আছে?এরা তো বোমা ঘরে রেখে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে!”

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন,এ ধরনের মন্তব্যের আড়ালে যে চরম অবহেলা লুকিয়ে আছে,তা সমাজের জন্য আরও ভয়াবহ।

বিশেষজ্ঞদের মতে,মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত অস্ত্র এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে।অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতা,অসচেতনতা বা লোভের কারণে সেগুলো ভাঙারি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে,যা সরাসরি জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পুনরায় সতর্ক করে জানিয়েছে—কোনো সন্দেহজনক ধাতব বস্তু,গোলা বা বিস্ফোরক মনে হলে তা স্পর্শ বা স্থানান্তর করা যাবে না। অবিলম্বে স্থানীয় থানা বা সামরিক কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ আর মৃত্যুঝুঁকি বহনকারী বিস্ফোরক অবহেলায় রেখে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে আমরা কতটা প্রস্তুত?

আরও খবর

Sponsered content