প্রতিনিধি ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৫৬:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাবি প্রতিনিধি।।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হান্নানুল ইসলাম।

তদন্ত কর্মকর্তা হান্নানুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আটজনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করা হয়।তাঁদের মধ্যে সাতজনকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ থাকলেও অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। আগের তদন্তে অভিযুক্ত ২১ জনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে ১৭ ডিসেম্বর আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল মিয়া (২৬); মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া (২১); পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মোত্তাকিন সাকিন শাহ (২৪); ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদ (২৩); ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ (২৪), ওয়াজিবুল আলম (২২), ফিরোজ কবির (২৩), আব্দুস সামাদ (২৪), সাকিব রায়হান (২২), ইয়াছিন আলী গাইন (২১), ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম (২২), ফজলে রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার কবির শোভন (২৪), মেহেদী হাসান ইমরান (২৫), রাতুল হাসান (২০), সুলতান মিয়া (২৪), নাসির উদ্দীন (২৩), মোবাশ্বের বিল্লাহ (২৫), শিশির আহমেদ (২২), মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি (২৩), আব্দুল্লাহিল কাফি (২১), শেখ রমজান আলী (২৫), রাশেদ কামাল অনিক (২৩), মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ (২৪), আবু রায়হান (২৩), রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ (২৪), রাব্বিকুল রিয়াদ (২৩) ও আশরাফ আলী মুন্সী (২৬)।
ঘটনার বিবরণ
সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট ১০ সেকেন্ডে তোফাজ্জল হোসেন হলের মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করেন।তিন মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর তিনি হলের খেলার মাঠে প্রবেশ করেন।মাঠে বসার মাত্র ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যেই একদল ছাত্র তাঁকে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করে।পরে তাঁকে হলের মূল ভবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রায় ২৫ মিনিট জেরা ও মারধরের পর একপর্যায়ে কয়েকজন ছাত্র বুঝতে পারেন,মুঠোফোন চুরির ঘটনায় তোফাজ্জলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।এরপর তাঁকে হলের ক্যানটিনে খাবার খাওয়ানো হয়।তবে খাওয়ানোর পর আবারও তাঁকে মারধর করা হয়।শিক্ষকেরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও তোফাজ্জলকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও প্রথমে ব্যর্থ হন।পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
ঘটনার পর ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।নিহত তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে।কয়েক দিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলার আবেদন করেন।আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলার সঙ্গে একত্রে তদন্তের নির্দেশ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা,গণপিটুনি সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

















