লেখক ও কলামিস্ট এবং মন্তব্য কলাম:-

এই নির্বাচন ‘গণতন্ত্রের’ নয়—এটা কৃতজ্ঞতার মাশুল আদায়ের মঞ্চ

  প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৭:৫১:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ

এই নির্বাচন ‘গণতন্ত্রের’ নয়—এটা কৃতজ্ঞতার মাশুল আদায়ের মঞ্চ

মাজহারুল ইসলাম।।আর কোনো ভান করার দরকার নেই।আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসছে—এটা নিশ্চিত।জানুয়ারিতেই ঘোষণা আসবে,নির্বাচন হবে এপ্রিলে।আর এই নির্বাচন কোনো আদর্শের লড়াই নয়, এটা ক্ষমতার হিসাব–নিকাশের একটি ঠাণ্ডা চুক্তি।

প্রশ্ন হলো—
বিএনপি (৩০%) আর জামায়াত (৭%) মিলেও যদি আওয়ামী লীগের অর্ধেক ভোট না পায়,তাহলে এই রিস্ক কেন?

কারণ তারা জানে—এই নির্বাচন তারা হারবে না।
আর হারলেও ক্ষমতা হারানোর ভয় নেই। কারণ মাঠ সাজানো,রেফারি নির্ধারিত,আর ফলাফল নিয়ন্ত্রিত।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটা ভিন্ন।

এই নির্বাচন কৃতজ্ঞতার মূল্য পরিশোধের আয়োজন

তারেক রহমান আজ রাজনীতিতে জীবিত—শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়,শারীরিকভাবেও—এটা শেখ হাসিনার দয়ার ফল।এই সত্য যতই বিএনপির কোটি কর্মী-সমর্থক গিলতে না পারুক,তারেক সেটা হাড়ে হাড়ে জানেন।

জান বাঁচানো,নিরাপদে থাকা,দেশে ফেরার পথ খোলা রাখা—সবকিছুই হয়েছে শেখ হাসিনার ‘অনুগ্রহে’।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছিল,মাত্র ১৫ দিন আগেও তারেক ছিলেন একজন অসহায়,কুল-কিনারাহীন মানুষ।কিছুই করার ছিল না তার। শেষমেশ দাঁত চেপে স্ত্রীকে দেশে পাঠাতে হয়েছে।

এই বাস্তবতা বুঝলেই পরিষ্কার হয়—
কেন শেখ হাসিনা বা ভারতের বিরুদ্ধে তারেক রহমানের মুখ থেকে একটাও আগুনঝরা রাজনৈতিক বক্তব্য বের হয় না।
ডিপ্লোমেটিক শব্দের আড়ালে নতজানু রাজনীতি—এর নামই এখন বিএনপির ‘কৌশল’।

জামায়াতের ‘বিপ্লব’ ভেঙে গেছে পাঁচ দিনে

জামায়াত গোপনে ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে।এটা কোনো সাহসী কূটনীতি নয়—এটা আত্মসমর্পণ।

১৫ দিন আগেও জামায়াত বিএনপিকে ঠেলে ঠেলে স্টেজের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল।পরিকল্পনা ছিল শেষ ধাক্কায় বিএনপিকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া।

কিন্তু শেষ পাঁচ দিনে গেইম উল্টে গেছে।

এই পাঁচ দিনেই জামায়াত বুঝেছে—
ওদের একা মাঠে নামার ক্ষমতা নেই।
ভারত,আন্তর্জাতিক শক্তি,এমনকি মাঠের ভেতরের সমীকরণ—সব জায়গায় তারা কোণঠাসা।

ফলে আজ জামায়াতের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
বিএনপির সঙ্গে জোট—এটা আর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা।

জামায়াতের আসল পরিকল্পনা ছিল বিএনপিকে গিলে খাওয়া

জামায়াতের নির্বাচনী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে থাকত মাত্র দুইটা শক্তি—
এক. আওয়ামী লীগ
দুই. জামায়াত

বিএনপি পাঁচ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে জামায়াতের ভেতর বিলীন হয়ে যেত।নেতৃত্ব,সংগঠন,ভোটব্যাংক—সব গ্রাস হতো।

এই রিপোর্টগুলো যখন তারেক রহমানের টেবিলে পৌঁছায়, তখনই বিএনপির চোখ খুলে।তার আগে তারা ছিল অন্ধ ঘোড়ার মতো দৌড়ে ব্যস্ত।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—
বিএনপির ভেতরে কি আদৌ কোনো রাজনৈতিক মস্তিষ্ক আছে?
নাকি সব বোধোদয়ই আসে বাইরের ঠেলায়?

রাজনীতির নিষ্ঠুর সত্য

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর আদর্শের মাঠ নয়।
এটা বেঁচে থাকার লড়াই,হিসাবের খেলা,কৃতজ্ঞতার দেনা শোধের চক্র।

এখানে কখনো শত্রুকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় নিজের প্রয়োজনে,
আবার যাকে বাঁচানো হলো—তার বিরুদ্ধেই দাঁড়াতে হয় লোক দেখানো বিরোধিতায়।

এই নির্বাচন গণতন্ত্রের নয়।
এটা ক্ষমতা ভাগাভাগির এক নোংরা চুক্তির বাস্তবায়ন।

আর জনগণ?
তারা শুধু দর্শক—ভোট নামের একটা টিকিট কেটে নাটকটা দেখবে।

এম মাজহারুল ইসলাম
সাংবাদিক,লেখক ও কলামিস্ট

আরও খবর

Sponsered content