প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৬:১৪:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ডেস্ক রিপোর্ট।। Saquib’s Corner

১. কালানুক্রমিক ঘটনা
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:২৫ মিনিট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র ওসমান হাদী জুমার নামাজ শেষে রিকশায় থাকা অবস্থায় পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন।
চিকিৎসা: প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
২০ ডিসেম্বর ২০২৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়।
২. পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সংবাদ সম্মেলন অনুযায়ী)
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: পুলিশ জানিয়েছে,হত্যাকাণ্ড আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ছিল।
গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি: এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে,এর মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রধান আসামি পলাতক: শুটার ফয়সাল করিম ওরফে রাহুল এবং মোটরসাইকেল চালক আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন।
চার্জশিট: জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহে আদালতে দাখিল করার কথা।
আলামত উদ্ধার: হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
আর্থিক প্রেক্ষাপট: তদন্তে হত্যার পেছনে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ২১৩ কোটি টাকার একটি চেক জব্দ করেছে।
৩. ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিওবার্তা (দুবাই থেকে)
ভিডিওবার্তায় ফয়সাল করিম মাসুদ বলেন:
১. নিজের নির্দোষতা: “হাদী হত্যার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”
২. পরিবারকে রক্ষা: তার পরিবার এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানে না।
৩. প্রকৃত হত্যাকারী: “হাদীর প্রকৃত হত্যাকারী শিবির।”
৪. আর্থিক অভিযোগ: হাদী তার আইটি প্রতিষ্ঠানের দুটি মন্ত্রণালয়ের কাজ পাইয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।
৫. ব্যয় বহন: হাদীর সকল প্রোগ্রামের খরচ তিনি বহন করতেন।
৬. ঘটনার সময় উপস্থিতি: হত্যাকাণ্ডের সময় হোন্ডায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
৭. ন্যায়বিচারের দাবি: “আমি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে ন্যায়বিচার চাই।”
৪. সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ওসমান হাদীর মৃত্যুতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজ শাহবাগে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।
হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রেক্ষাপট দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রীয় শোক ২০ ডিসেম্বর পালিত হয়।
৫. বিশ্লেষণ
পুলিশি তথ্য,গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি এবং উদ্ধারকৃত আলামত থেকে স্পষ্ট যে হত্যাকাণ্ড সুপরিকল্পিত ও পেশাগতভাবে সংগঠিত।
প্রধান আসামিদের পলাতক অবস্থায় থাকা এবং ফয়সাল করিমের ভিডিও দাবির সঙ্গে মিলিয়ে মামলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
অপরাধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিকগুলো এখনও সম্পূর্ণভাবে উদঘাটিত হয়নি।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

















