অপরাধ-আইন-আদালত

৭ ধরনের দলিল বাতিল

  প্রতিনিধি ১০ জুলাই ২০২৩ , ৫:৫৩:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে দ্রুতই ‘ভূমি ব্যবহার স্বত্ব আইন’ এবং ‘ভূমি অপরাধ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ প্রণীত হতে যাচ্ছে। নতুন এই আইনে যে ৭ ধরনের দলিল বাতিল হতে যাচ্ছে সেগুলোই আজকের মূল আলোচ্য বিষয়। প্রথমত,রেজিস্ট্রিবিহীন দলিল নিয়ে সামান্য আলোচনা করি।

সাধারণত যে দলিলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসারের কোনো বৈধ সিল ও স্বাক্ষর থাকে না,সরকার কোনো রেজিস্ট্রি ফি পায় না,এসব দলিল নতুন আইন অনুসারে বাতিল হতে যাচ্ছে। বিষয়টির আলোচনার প্রারম্ভে আমাদের দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি সম্পর্কে ভাল ধারণা অর্জন করতে হবে।

বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যেমন- বিক্রয় দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে।জমি ক্রয় করার আগে বায়না দলিল করলে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য জমা দিতে হবে।রেজিস্ট্রি ছাড়া বায়না দলিলের আইনগত মূল্য নেই।বায়না দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে বিক্রয় দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাখিল করতে হবে।হেবা বা দানকৃত সম্পত্তির দলিলও রেজিস্ট্রি করতে হবে।বন্ধককৃত জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে।কোনো ভূমি সম্পত্তি মালিকের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বাটোয়ারা করা এবং ওই বাটোয়ারা বা আপোস বণ্টননামা রেজিস্ট্রি করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে জমি রেজিস্ট্রেশন করতে যা যা লাগে সেগুলোর অন্যতম হলো-বিক্রীত জমির পূর্ণ বিবরণ, দলিলে দাতা-গ্রহীতার পিতা-মাতার নাম,পূর্ণ ঠিকানা এবং সাম্প্রতিককালের পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।যিনি জমি বিক্রয় করবেন,তার নামে অবশ্যই উত্তরাধিকার ছাড়া নামজারি থাকতে হবে।দলিলে বিগত ২৫ বছরের মালিকানা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও কার কাছ থেকে কে ক্রয় করল, সে বিবরণ লেখা থাকতে হবে।সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য,সম্পত্তির চারদিকের সীমানা,নকশা দলিলে থাকতে হবে।যিনি ক্রয় করেছেন তিনি ছাড়া অন্য কারও কাছে এই জমি বিক্রি করা হয়নি মর্মে হলফনামা থাকতে হবে।জমির পর্চাগুলোতে সিএস, এসএ,আরএস মালিকানার ধারাবাহিকতা (কার পরে কে মালিক ছিল) থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ভায়া দলিল সংযুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুসারে রেজিস্ট্রি আইন ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি নিয়ে একটু আলোচনা করা প্রয়োজন।সাধারণত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় রেজিস্ট্রেশন আইন,স্ট্যাম্প আইন,আয়কর আইন,অর্থ আইন ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিধি এবং পরিপত্রের আলোকে।সব দলিলের রেজিস্ট্রি ফি সমান নয়।সরকার বিভিন্ন সময় সমসাময়িক বিবেচনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রি ফি নির্ধারণ করে থাকে।কর দেওয়ারও সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।ভ্যাট ও উৎসে কর সব সময়ই জমির বিক্রেতা প্রদান করবে।আয়কর আইন অনুসারে,এই দুই ধরনের করের পরিমাণ বিক্রেতার আয়ের ওপর নির্ভর করবে। এই কর বিক্রেতার নামে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। উৎসে কর ও ভ্যাট ছাড়া অন্য সব ধরনের কর জমির ক্রেতাকেই পরিশোধ করতে হবে।

সে যাই হোক, তুন ভূমি আইন প্রণীত হলে রেজিস্ট্রিবিহীন দলিল বাতিল হয়ে যাচ্ছে।একই সঙ্গে জাল খতিয়ান ও দলিল সৃষ্টি করলে সেটিও বাতিল বলে পরিগণিত হবে।অনেক সময় আমরা দেখতে পাই যে,সাব-রেজিস্ট্রি অফিস,ভূমি অফিসের গচ্ছিত দলিলগুলো আগুনে পুড়ে গেছে।তখন কিছু সুযোগ সন্ধানী লোক ভূমি অফিসের অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে মিলে জাল খতিয়ান ও দলিল সৃষ্টি করে অন্যের সম্পদ দখল ও ভোগ করে। সে সংক্রান্ত দলিল কার্যকর হবে না।কেউ যদি অন্যের জমির মালিক হওয়ার উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি করে, সেক্ষেত্রে সেই জাল দলিল বাতিল হয়ে যাবে।খাস জমি বেআইনি ভাবে দখল করে নিলে যেমন চর,নদির উপকূলের জমির দলিল করে অনেকেই ভোগ করছেন।এখন থেকে এসব খাস জমির জাল দলিল বাতিল হয়ে যাবে।আপনি কারও কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন,কিন্তু তার যতটুকু অংশ সে পায়,তার ওয়ারিশান সূত্রে তার অধিক লিখে নিয়েছেন।এ ধরনের জমির দলিল কার্যকর হবে না ।

আরও খবর

Sponsered content