সম্পাদকীয়

২০১৮-এর স্মৃতি আর বিএনপির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

  প্রতিনিধি ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:৫৩:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৮-এর স্মৃতি আর বিএনপির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

মাজহারুল ইসলাম।।২০১৮ সালের নির্বাচন এখনও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর অধ্যায় হিসেবে স্মৃতিতে টিকে আছে। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে, বিএনপির সব প্রার্থী যেন এক অদৃশ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন।মাঠে ছিলেন তাঁরা,তবে কার্যত যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে; বাঁচাও-বাঁচাও চিৎকারে ক্ষণস্থায়ী নিরাপত্তার আকুতি জানাচ্ছিলেন প্রার্থীরা,আর কিছু কুশিলব—যারা নির্বাচনের মাঠে বিএনপিকে নামানোর দায়িত্বে ছিলেন—টাকার বস্তা হাতে হাসাহাসি করছিলেন।ফলাফলের দিকে তাকালে দৃশ্য আরও ভয়ঙ্কর: মোট ২৯৮ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৫টি,যেখানে আওয়ামী লীগ নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছিল ২৫৭ আসনে।

আজ,নির্বাচনের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন আসে—বিএনপি কি বুঝতে পারছে যে ২০১৮ সালের মতো আরেকটি ধোঁকাবাজি তাদের দিকে ধেয়ে আসছে?রাজনৈতিক ইতিহাস আমাদের শেখায়,যে দল নিজস্ব অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়,সেই দল সহজেই চূড়ান্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এবার পরিস্থিতি ভিন্ন নয়।অভ্যন্তরীণ বিভাজন,শেষ মুহূর্তের কুশলতা এবং অনিয়মের সম্ভাবনা—এগুলো যে কোনো সময়ে প্রার্থীদের জীবনেও নির্বাচনের মাঠেও বড়ো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।বিএনপির জন্য এখন প্রয়োজন সতর্ক বিশ্লেষণ, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী সমন্বয়।

যদি সেই শিক্ষা ভুলে যায়,তবে ২০১৮-এর মতো ধোঁকাবাজি শুধু ইতিহাসে নয়,আবারো তাদের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছাবে। নির্বাচনের মাঠে দাঁড়ানো কেবল লড়াই নয়,এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতার পরীক্ষা।বিএনপির দায়িত্ব,রাজনৈতিক সততা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

শেষ কথা: ইতিহাস যত ভয়ঙ্কর হোক না কেন,যারা শিখতে চায় তারা প্রতিটি শিক্ষা থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। বিএনপির শিখনশক্তিই হবে নির্ধারণকারী—তাদের ভোটব্যাংক রক্ষা হবে নাকি আবারও হারবে ২০১৮-এর মতো।

আরও খবর

Sponsered content