প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:২৯:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশেষ আইনি প্রতিবেদন।।নিজের নামে বাড়ি নেই, ৭৭ মামলায় খালাস—হলফনামায় তারেক রহমান—এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে: যে ব্যক্তি কোনো ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন এবং পরে খালাস পেয়েছেন,তিনি কতদিন পর নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন?এই প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন আইন,সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিধান বিশ্লেষণ।

প্রযোজ্য আইন ও ধারা
১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ,১৯৭২ (RPO)
ধারা ১২(১)(খ) অনুযায়ী,কোনো ব্যক্তি যদি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর বা তার অধিক সাজাপ্রাপ্ত হন,তবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
তবে একই ধারায় বলা হয়েছে,যদি সেই দণ্ড বাতিল হয় বা খালাসপ্রাপ্ত হন,তাহলে অযোগ্যতা কার্যকর থাকে না।
২. বাংলাদেশ সংবিধান—অনুচ্ছেদ ৬৬(২)(ঘ)
কোনো ব্যক্তি আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত হলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারান।
কিন্তু খালাসপ্রাপ্ত হলে সংবিধান অনুযায়ী অযোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়—এক্ষেত্রে আলাদা কোনো ‘কুলিং পিরিয়ড’-এর কথা উল্লেখ নেই।
৩. ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)
আপিল আদালত কর্তৃক সাজা বাতিল বা খালাস প্রদান করা হলে,আগের দণ্ড আইনগতভাবে অকার্যকর হয়ে যায়।
অর্থাৎ,আইনের চোখে ব্যক্তি আর দণ্ডিত নন।
তাহলে প্রশ্ন—কতদিন পর নির্বাচন করা যাবে?
আইনি বিশ্লেষণে দেখা যায়:
❖ খালাসের রায় ঘোষণার দিন থেকেই ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা ফিরে পান।
❖ বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোনো আইন নেই,যেখানে বলা হয়েছে—খালাস পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হবে।
❖ শুধুমাত্র সাজা বহাল থাকাকালীন সময়েই অযোগ্যতা কার্যকর থাকে।
আইনজ্ঞদের মতে,“যেদিন আদালত খালাসের রায় দেন, সেদিন থেকেই আগের সাজা আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশন সাধারণত তিনটি বিষয় যাচাই করে:
১. খালাসের রায়ের সত্যায়িত কপি
২. আপিল বা রিভিশন বিচারাধীন কি না
৩. হলফনামায় তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য আছে কি না
যদি খালাসের রায় চূড়ান্ত হয় এবং আপিল বিচারাধীন না থাকে,তাহলে মনোনয়ন বাতিলের আইনি সুযোগ খুবই সীমিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত
সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ভাষ্য:
> “বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে খালাসের পর নির্বাচন করতে সময়সীমার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।খালাস মানেই যোগ্যতা পুনর্বহাল।”
অপর এক সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ বলেন:
> “নৈতিক প্রশ্ন আলাদা হতে পারে,কিন্তু আইনের চোখে খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি পূর্ণ নাগরিক অধিকার ভোগ করেন।”
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
সমর্থকদের দাবি,খালাস প্রমাণ করে যে মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সমালোচকদের মতে,খালাসের ধরন (সম্মানজনক না কি প্রযুক্তিগত) জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
উপসংহার
সাজাপ্রাপ্ত কোনো মামলায় পরবর্তীতে খালাস পেলে আইন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা না করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যায়।সংবিধান,RPO কিংবা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় এর বিপরীত কোনো বাধা নেই।তবে গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে খালাসের পূর্ণ বিবরণ ও রায়ের কপি প্রকাশ করা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

















