প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১১:৫১:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানাধীন শ্রীপুরের দাখিলী মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুছাত্রীকে তুলে ভোলায় নিয়ে আটকিয়ে রেখে ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৫জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মাদ রকিবুল ইসলাম নালিশী মামলাটি আমলে নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা রুজু পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার(২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)ভিকটিমের মা ছদ্মনাম খাদিজা বেগম বাদী হয়ে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন।যার এমপি নং ৩৬৮/২০২৫।
বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মোঃ আজগর আলী(পেশকার) বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করছেন।তিনি জানান,মেহেন্দিগঞ্জ থানার শ্রীপুর ইউনিয়নের চরবগী ঈদগাহ এরব দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর ছাত্রীকে ১৬ রমযান তুলে নিয়ে ভোলার দৌলতখান থানার হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক তরিকুল ইসলামের বাসায় দীর্ঘদিন আটকিয়ে রেখে আইয়ূব আলীর ছেলে ইসমাইল ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধর্ষণ করায় সহযোগী সহ ৫জনের বিরুদ্ধে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে আদালতে নালিশি দরখাস্ত দায়ের করেছে।বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মাদ রকিবুল ইসলাম শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর সংশোধিত ২০০৩ এর ৭/৯(খ)/৩০ ধারা সহ প্রমানে যা বর্তাবে রুজু করিয়া মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামীরা হলেনঃ-ভোলার দৌলতখান থানার চরশুভার সৈয়দপুর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আইয়ুব আলী মাঝির ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন (২৬),মোঃ মিরাজ (২৯),মোহম্মদ আলী মাঝির ছেলে আইয়ুব আলী মাঝি(৫৫)
,হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক তরিকুল ইসলাম(৬০),ম্যারেজ রেজিস্ট্রার এ্যান্ড কাজী দৌলতখান পৌরসভা, ভোলাঃ-এস এম জসিম উদ্দিন।
বাদীর পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিন্টু সাংবাদিকদের জানিয়েছে-ভিকটিম ওসিসিতে ভর্তি আছেন। বাদীর অভিযোগ বিচারক আমলে নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসিকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলোঃ-আসামী ইসমাইল মাঝি একজন লম্পট দূঃচরিশ্চিতা পুরুষ বটে।সহজ সরল নাবালিকা মোয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলিয়া বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ধর্ষন করাই আসামীর নেশা ও পেশা বটে।অন্যান্য আসামীরা ইসমাইল মাঝির নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং সকল দুষ্কর্মের সহযোগী বটে।পক্ষান্তরে ভিকটিম বাদীর নাবালিকা কন্যা ও চরবগী ঈদগাহ এ.রব দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর ছাত্রী বটে। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ভিকটিমের জন্ম তারিখ ২০/১০/২০১০ ইংরেজী।অর্থাৎ সাড়ে চৌদ্দ বছরের শিশু শিক্ষার্থী।আসামী ইসমাইল বাদীর ভাসুর পুত্রের আত্মীয়, ভাসুর পুত্রের বিবাহের সময় ভিকটিম আসামীদের বাড়ীতে গেলে পরিচয় হয় এবং কৌশলে ভিকটিমের নিকট হইতে বাদীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর রাখে। বাদীর অবর্তমানে আসামি ইসমাইল বিভিন্ন সময় ভিকটিমকে মোবাইল ফোনে কল করে বিরক্ত করে এবং বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দেয়।এক পর্যায় বাদীর নাবালিকা কন্যা ভিকটিম বাদীর অবর্তমানে আসামী ইসমাইল মাঝির প্রেমের জালে ফেঁসে যায়।গোপনে আসামী ইসমাইল এসে ভিকটিমের সাথে দেখা করত।ভিকটিমকে লঞ্চে করে ভোলা নিয়া আসামী তরিকুল ইসলামের ঘরে নিয়া গিয়া আসামি ইসমাইল মাঝি ভিকটিমকে ধর্ষন করত।
বিষয়টি বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে মান-সম্মানের ভয়ে কাজকে কিছু না বলে আসামী ইসমাইল মাঝির সাথে ভিকটিমকে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।ভিকটিম আসামী ইসমাইল মাঝির সাথে যোগাযোগ না করতে সম্মত হয় এবং আসামী ইসমাইল মাঝির সহিত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।ইহাতে আসামী ইসমাইল ক্ষুব্ধ হয়ে ভিকটিমকে অপহরনের সুযোগ খুজিতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৮ মার্চ মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী হইতে বাহির হইয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়া মাদ্রাসা সড়কের কাকন কাজীর দোকানের সামনে পৌঁছাইলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামী ইসমাইল ভিকটিমকে কৌশলে অপহরন করিয়া শ্রীপুর লঞ্চঘাট হইতে লঞ্চে করিয়া ভোলার ভেদুরিয়া নিয়া যায়।এইখান থেকে আসামী ইসমাইল মাঝি ভিকটিমকে আসামী তরিকুল ইসলামের বাড়ীতে নিয়া রাখে এবং সকল আসামীদের সহযোগিতায় আসামী ইসমাইল মাঝি ঐদিন রাতে অর্থাৎ ইংরেজী ১৮/০৩/২০২৫ তারিখ দিবাগত রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় ইসমাইল মাঝি ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখাইয়া ও ভুল বুঝাইয়া ধর্ষন করে।ভিকটিমকে ধর্ষনের পর কান্নাকাটি করিতে চাইলে আসামীরা ভিকটিমকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি -ধমকি দেয়।কিছু কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়া আসামীরা ঢাকার লঞ্চে উঠাইয়া দেয়। যাহা পরবর্তীতে বাদীর ছেলে ঢাকা হইতে ভিকটিমকে উদ্ধার করিয়া বাড়ী পাঠাইয়া দেয়।ভিকটিম বাড়ী আসায় উল্লেখিত ঘটনা বাদীকে জানাইলে বাদীর স্বামী একজন ড্রেজার কাজ করে অধিকাংশ সময় নদীতে থাকে,বাদিনী একজন দরিদ্র নিরক্ষর মানুষ,উল্লেখিত বিষয় নিয়া আত্মীয়-স্বজনের সাথে আলাপ আলোচনা করিলে দরিদ্র বলিয়া কেহ গুরুত্ব দেয় না পরে বেশ কিছুদিন পর কতক স্বাক্ষী বাদীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলিলে বাদিনী বিগত ইংরেজী ০৮/০৯/২০২৫ তারিখ মেহেন্দিগঞ্জ থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয় নিতে বলে বিধায় মোকদ্দমা দায়ের করিতে কিছুটা বিলম্ব হইল।

















