প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০২৪ , ৫:২১:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিভাগের (সিআইডি) সাবেক প্রধান শেখ হিমায়েত হোসেন।চাকরির বয়স ৫৯ হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (অবসর) আইন অনুযায়ী তিনি অবসরে যান; কিন্তু সম্মানী ভাতার টাকা ফেরত দেননি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু যাঁরা ভুয়া সনদ নিয়েছেন,তাঁদের নয়,যাঁরা এসব সনদের জন্য সুপারিশ করেছেন,সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফৌজদারি আইনের ৪১৬ ধারা অনুযায়ী,মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দিলে তা অপরাধ।এ ছাড়া মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য তিন বছর জেল এবং মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দেখিয়ে ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিলে সাত বছর পর্যন্ত জেল হওয়ার কথা; আর মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নেওয়ায় অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের।
২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) নতুন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য ১০ হাজার ৮৯১ জনের নাম সুপারিশ করেছে এবং ২ হাজার ১৯০ জনের নামের গেজেট বাতিল হয়েছে।যাঁরা নতুন করে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন,তাঁদের মধ্যে মেয়র ও সংসদ সদস্যও রয়েছেন। ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল জামুকার সভায় বরিশালের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়।পরের সভায় গাইবান্ধা-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়।
জামুকা সূত্র জানায়,স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতবার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে; আর বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় অন্তুর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বয়স,সংজ্ঞা ও মানদণ্ড পাল্টেছে ১১ বার।
বর্তমানে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন।তা ছাড়া দুই ঈদে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা,বিজয় দিবসে পাঁচ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা ভাতা পান।একজন বছরে সব মিলিয়ে পান প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন,জাল-জালিয়াতি,প্রতারণা ও অসত্য তথ্য দিয়ে যাঁরা সনদ নিয়েছেন,তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ফৌজদারি মামলা করা উচিত।শুধু সনদ বাতিল বা ভাতা আদায় কোনো শাস্তি নয়।

















