সারাদেশ

বানারীপাড়া খেয়াঘাট বিএনপির দখলে

  প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ , ২:৪১:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল ব্যুরো।।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বরিশালের বানারীপাড়া খেয়াঘাট দখল করেছে বিএনপি। বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সবুর খান ঘাটটি দখলে নিয়েছেন।উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা পরে এর অংশীদার হন।ইজারাদার মো. আরিফুল হকের অংশীদার হারুন অর রশিদকে তুলে নিয়ে ঘাট হস্তান্তরের কাগজে সই নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বানারীপাড়া পৌর শহর থেকে বাইশারী যাওয়ার পথে এই খেয়াঘাটের মালিক বরিশাল জেলা পরিষদ।সাড়ে ৭৩ লাখ টাকায় গত এপ্রিলে ঘাটটি ইজারা পান আওয়ামী লীগ সমর্থক আরিফুল হক।কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই ঘাটটির নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি।

আরিফুল বলেন, ‘খেয়াঘাট পুনরুদ্ধারে জেলা পরিষদ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিয়েছি,তবে লাভ হয়নি।’ ইজারা পাওয়ার পর মাত্র চার মাস ঘাট পরিচালনা করেছেন এবং দখল হয়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।ইজারাদারের সহযোগীকে তুলে নিয়ে কাগজে সই খেয়াঘাট দখল করায় সবুর খানকে শোকজ করেছে উপজেলা বিএনপি।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের পর আরিফুল পালিয়ে যাওয়ায় জনগণের সুবিধায় কয়েক দিন ঘাটটি পরিচালনা করেছি।পরে আরিফুল লিখিতভাবে ঘাটটি হারুন অর রশিদকে হস্তান্তর করেন।চুক্তির মাধ্যমে হারুন সেই ঘাট হস্তান্তর করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রুছল আমিনকে।এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্তা নেই।’ চুক্তিপত্রে দেখা যায়,মূল ইজারাদার আরিফুল হক গত ১৯ আগষ্ট হারুনকে ঘাট হস্তান্তর করেন।একই দিন হারুন সেটি হস্তান্তর করেন রুহুল আমিনকে।

এ বিষয়ে হারুন বলেন,আমি উপজেলা কৃষক দলের সহসভাপতি।আওয়ামী লীগের সময় টাকা বিনিয়োগ করে আরিফুলের ব্যবসায়িক শরিকদার হই।কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঘাটটি দখল করেন বিএনপির সবুর
খান।প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব আমাকে ছেড়ে দেন আরিফুল।গত ১৯ আগষ্ট সকালে সবুর খানের নেতৃত্বে আমাকে ও ঘাটের কর্মচারীদের মারধর করা হয়।আমাকে তুলে নিয়ে যায় বিএনপি অফিসে।চাপ দিয়ে একটি চুক্তিপত্রে সই করায়। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রিয়াজ মৃধাসহ অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’

হারুন জানান,রুহুল আমিন কয়েকদিন পরিচালনা করার পর সবুর খান আবার ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেন।

তবে রিয়াজ মৃধা বলেন,হারুন খেয়াঘাটটি বিএনপির রুহুল আমিনকে লিখিতভাবে হস্তান্তর করেন।এ ক্ষেত্রে দখলের কিছু হয়নি।’হারুনকে তুলে নিয়ে কাগজে সই নেওয়ার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।সবুরকে শোকজ করার সঙ্গে খেয়াঘাটের ঘটনার সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন রিয়াজ মৃধা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফাতিমা জান্নাতি বলেন,’কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারব না।’এই ঘাট থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ইজারা আদায় হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও খবর

Sponsered content