জাতীয়

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শাসনামল ও রাজনৈতিক বিতর্ক

  প্রতিনিধি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:০৮:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শাসনামল ও রাজনৈতিক বিতর্ক

মাজহারুল ইসলাম।।শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামল ঘিরে বাংলাদেশে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।রাষ্ট্র পরিচালনা,আইনের শাসন,মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো—এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই মূলত সমর্থন ও সমালোচনার রেখা স্পষ্ট হচ্ছে।

শেখ হাসিনার শাসনামল (২০০৯–২০২৪)

সমর্থকদের অবস্থান

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে—পদ্মা সেতু,ঢাকা মেট্রো রেল,একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিকে এই সময়ের বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়। সমর্থকদের মতে,দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ

মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,এই সময় আইনের শাসন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড,ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতপ্রকাশের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে।বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনা শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রধান কারণ হিসেবে আলোচিত হয়।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (আগস্ট ২০২৪–বর্তমান)

সমর্থকদের অবস্থান

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কার,বিচারব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করার উদ্যোগ নিচ্ছে—এমনটাই সমর্থকদের দাবি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার ইস্যুতে আস্থা ফেরানোর চেষ্টাও এই সরকারের একটি বড় লক্ষ্য বলে তারা মনে করেন।

সমালোচকদের অভিযোগ

তবে সমালোচকদের মতে,বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।দেশের বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিস (গণপিটুনি),রাজনৈতিক মামলা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক অস্থিরতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।বিরোধী মতাদর্শীরা অভিযোগ করছেন,সংস্কারের নামে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীকে টার্গেট করা হচ্ছে,যা নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।

উপসংহার

বিশেষজ্ঞদের মতে,কোনো শাসনামলকে গণতান্ত্রিক না ফ্যাসিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,মতপ্রকাশের অধিকার,মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা—এই সূচকগুলোই মূল বিবেচ্য। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ একটি সংবেদনশীল রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে,যেখানে স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

আমি আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ, বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ রিপোর্ট প্রস্তুত করেছি।
আপনি চাইলে—

ভাষা আরও কঠোর/সম্পাদকীয় ধাঁচে করা

নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের যুক্তি জোরালোভাবে তুলে ধরা

আইনি ধারা, সংবিধানের অনুচ্ছেদ বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড যুক্ত করা

অথবা শিরোনাম আরও আকর্ষণীয়/ভাইরাল উপযোগী করা

—এই যেকোনোভাবে রিপোর্টটি পরিমার্জন করে দিতে পারি।

আরও খবর

Sponsered content