সারাদেশ

বরিশালে ইলিশ মোকামের নাম পাল্টে দিলেন ব্যবসায়ীরা

  প্রতিনিধি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ , ৩:০৩:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন নাম ‘শহীদ জিয়া মৎস্য পাইকারি অবতরণ কেন্দ্র’

সুমন চৌধুরী,(বরিশাল)।।বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে ‘ইলিশ মোকাম’ হিসেবে পরিচিত পাইকারি মাছের বাজারের নাম বদলে দিয়েছেন বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীরা।নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘শহীদ জিয়া মৎস্য পাইকারি অবতরণ কেন্দ্র’। এর আগে নাম ছিল ‘বরিশাল জেলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র’।

স্থানীয়রা জানান,দুই দিন আগে মোকামের টিনশেডের সামনে নতুন নামের ব্যানার টানানো হয়েছে।নাম পরিবর্তনকারীদের দাবি,চারদলীয় জোট সরকারের সময় (২০০১-২০০৬) মোকামটির নাম শহীদ জিয়ার নামেই ছিল।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই নাম পরিবর্তন করে।এখন আগের নাম ফিরিয়ে আনা হলো।তবে নাম বদলের বিষয়ে কিছু জানে না ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।নগর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

পোর্ট রোডের ‘ইলিশ মোকাম’ চাঁদা তোলার

একটি জায়গা।আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথমদিকে এটি ছিল মৎস্যজীবী লীগ নেতা খান হাবিবের নিয়ন্ত্রণে।হাবিব ছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের অনুসারী। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এটি নিয়ন্ত্রণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল।তিনি সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ‘প্রধান খলিফা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালে সাদিক আবদুল্লাহ একক আধিপত্য হারালে ‘ইলিশ মোকাম’ আবার খান হাবিবের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।তিনি ইজারা নেন স্ত্রীর নামে।হাবিব সর্বশেষ ছিলেন সদ্য সাবেক মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহর অনুসারী।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খান হাবিব আত্মগোপন করেন।তখন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কয়েক নেতা ইলিশ মোকামে হানা দেন।গত দুই দিন সেখানে খাজনা আদায় বন্ধ থাকে।পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা গিয়ে প্রকৃত ইজারাদারের প্রতিনিধিরা খাজনা আদায় নিশ্চিত করেন। তবে খান হাবিব ও তাঁর অনুসারীরা আত্মগোপনে থাকায় মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদ দখলে নেন বিএনপিন্থিরা।এখন তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে
ইলিশ মোকাম।নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন- মৎস্যজীবী দল মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কামাল সিকদার,৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আনিচুর রহমান মিলন ও ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান মো. কামাল (খান হাবিবের ভাই)।এ ছাড়া সদর উপজেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়েছেন ব্যবসায়ী জহির সিকদার।

বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন জানান, ইলিশ মোকামের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।তবে জহির সিকদার বলেন,উপজেলা পরিষদ থেকে অ্যাসোসিয়েশনের নামে জমি ইজারা নিয়ে মোকাম করা হয়েছে।আর পণ্য ওঠানামার জন্য বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ইজারা দিয়েছে।যেহেতু ব্যবসায়ীরা মোকামের মালিক,তাই নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দপ্তরের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।’

মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন,শহীদ জিয়ার নামে মাছের মোকামের নামকরণ নিয়ে কেউ আলোচনা করেনি।বিষয়টি জানেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তর নগরীর বান্দ রোডে শিশু পার্কের পাশে সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করে।কিন্তু ইলিশ ব্যবসায়ীরা শুরু থেকে সেখানে যাননি।২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর চাপে তারা পোর্ট রোড মোকাম বন্ধ করে সরকারি অবতরণ কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন।কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবার তারা পোর্ট রোডে ফিরে আসেন। সরকারি অবতরণ কেন্দ্রটি ২০১৫ সালে দুটি টাইলস কোম্পানিকে গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়।

বান্দ ব্যবস্থাপক রোড সরকারি অবতরণ কেন্দ্রের লে. কমান্ডার মাসুদ শিকদার জানান,দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারি অবতরণ কেন্দ্রটি চালু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।পোর্ট রোডে মোকাম থাকলে সরকার এক টাকাও রাজস্ব পায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও খবর

Sponsered content