প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:১১:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার জুলাইযোদ্ধা তাহারিমা জান্নাত সুরভীর বয়স সংক্রান্ত বিভ্রান্তির ঘটনায় মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাজীপুরের কালিয়াকৈর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফজলুল মাহদী এ আদেশ দেন।
আদালত আদেশে বলেন,তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির বয়স নির্ধারণে চরম গাফিলতি ও অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বয়স নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেবল আসামির মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে তাকে ২০ বছর বয়সী উল্লেখ করে পুলিশ ফরওয়ার্ডিং দাখিল করা হয়েছে,যা তদন্তকে বিভ্রান্ত করেছে।
আদালত উল্লেখ করেন,শিশু আইন,২০১৩ অনুযায়ী আইন-সংঘাতে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে সকল এখতিয়ার শিশু আদালতের।ফলে আসামির বয়স নির্ধারণ তদন্তের একটি অপরিহার্য ও মৌলিক দায়িত্ব।এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা স্পষ্ট হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়,গত ২৫ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনী তাহারিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করে টঙ্গী পূর্ব থানায় হেফাজতে রাখে।পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।এ সময় আসামি নিজেকে ২০ বছর বয়সী দাবি করলে তা ‘সরল বিশ্বাসে’ গ্রহণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।পরবর্তীতে শোকজের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
নথি পর্যালোচনায় আরও জানা যায়,২৫ ডিসেম্বর গ্রেফতারের পর ২৮ ডিসেম্বর আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর ২৯ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হলে শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয় ৩১ ডিসেম্বর।সরকারি ছুটি ও আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে শুনানি পিছিয়ে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।ওই দিন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিকালে আসামিপক্ষ থেকে বয়স ১৮ বছরের নিচে—এমন কোনো নির্দিষ্ট আইনি দাবি উত্থাপন করা হয়নি।তবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়স সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়।
শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
আদেশের অনুলিপি গাজীপুরের পুলিশ সুপার,কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
















