প্রতিনিধি ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:১৮:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবের ব্যাপক প্রসারের ফলে এক নতুন ধরনের ‘সাংবাদিক’ শ্রেণির উত্থান ঘটেছে।এদের অনেকেরই নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ,নেই স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা।তবুও বুক চিতিয়ে পরিচয় দেন—“আমি সাংবাদিক।” এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এরা কি সত্যিই সংবাদকর্মী,নাকি ‘ফেসবুক সাংবাদিক’ নামক এক নতুন সামাজিক প্রতারণার রূপ?

কেমন এই ‘ফেসবুক সাংবাদিকতা’?
প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এখন যে কেউ একটি ফেসবুক পেজ খুলে তাতে “নিউজ”, “২৪”, “টিভি” ইত্যাদি শব্দ যুক্ত করে রাতারাতি হয়ে উঠছেন ‘চিফ রিপোর্টার’, ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ কিংবা ‘স্টাফ রিপোর্টার’। মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সরাসরি ফেসবুক লাইভে গিয়ে শুরু হয় কথিত ‘সংবাদ পরিবেশন’।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনেকে নিজের তৈরি ভুয়া আইডি কার্ড ঝুলিয়ে অনায়াসেই ঢুকে পড়ছেন সরকারি-বেসরকারি অফিস,থানা এমনকি আদালত চত্বরে।কোথাও প্রশ্ন করলে দাবি করেন, “আমি মিডিয়া থেকে এসেছি।”
নীতি-নৈতিকতার বালাই নেই
এই তথাকথিত সাংবাদিকদের বড় অংশই সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের ন্যূনতম নীতি-নৈতিকতা মানছেন না।যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুজব,অপপ্রচার কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।ব্যক্তিগত আক্রোশ,রাজনৈতিক পক্ষপাত কিংবা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ‘সংবাদ’ বানানোর অভিযোগও নতুন নয়।
এর ফলে প্রকৃত সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।গণমাধ্যমের প্রতি তৈরি হচ্ছে এক ধরনের অনাস্থা ও বিভ্রান্তি।
নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে,ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা জরুরি হলেও সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।একই সঙ্গে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে—কে প্রকৃত সাংবাদিক,আর কে শুধুই ফেসবুক লাইভ নির্ভর প্রচারক।
অন্যথায় ‘ফেসবুক সাংবাদিকতা’র নামে এই অরাজকতা প্রকৃত সাংবাদিকতা ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

















