জাতীয়

প্রথা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে এনএসআই প্রধান-তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে গোয়েন্দা ও সামরিক মহলে আলোচনা

  প্রতিনিধি ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৫১:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে এনএসআই প্রধান-তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে গোয়েন্দা ও সামরিক মহলে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ইতিহাসে বিরল এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকের সরাসরি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিতি।প্রথমবারের মতো কোনো কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন।

আজ দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে এনএসআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরওয়ার ফরিদ গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান।সেখানে তিনি বিএনপির সদ্য মনোনীত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন।বৈঠকটি দুপুর ১টা ২১ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয় বলে দলীয় ও নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সাধারণত এ ধরনের সংবেদনশীল বৈঠক রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন,ব্যক্তিগত বাসভবন কিংবা উচ্চ নিরাপত্তা-ঘেরা নিরপেক্ষ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।সে তুলনায় সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের উপস্থিতিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ‘প্রথা-বহির্ভূত ও অপ্রত্যাশিত’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

পটভূমি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ দিনের মাথায়,২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মেজর জেনারেল সরওয়ার ফরিদকে এনএসআই-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।এর আগে তাঁকে ঘাটাইলভিত্তিক ১৯তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে বদলির বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।

সামরিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিরক্ষা সূত্রগুলোর দাবি,গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর থেকে একাধিক চাকরিরত ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা সামরিক বিধি ও প্রটোকল উপেক্ষা করে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন,যা সেনাবাহিনীর ভেতরে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার সময় অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মুহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে বিএনপি সভাপতির হাতে টিস্যু পেপার এগিয়ে দিতে দেখা যায়।বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সামরিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে,এই একই সেনা কর্মকর্তা এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার গ্রেফতারের যৌক্তিকতা জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার দিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সেনাবাহিনীর একটি কন্টিনজেন্ট এবং দুইজন সৈনিককে পুষ্পস্তবক বহন ও আনুষ্ঠানিক মার্চ করতে দেখা যায়।সামরিক বিশ্লেষকদের মতে,তিনি তখন কোনো সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় পদে না থাকায় বিষয়টি প্রটোকল বহির্ভূত।

বিশ্লেষণ

তারেক রহমান সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।তবে তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য নন এবং কোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাহী পদেও অধিষ্ঠিত নন।এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কর্মরত ঊর্ধ্বতন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেকেই ‘অতি-উৎসাহী আচরণ’ হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে,এ ধরনের কর্মকাণ্ড সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরপেক্ষতা,শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্বের প্রশ্নে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে,যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

আরও খবর

Sponsered content