নেত্রকোনা প্রতিনিধি।।দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল আহমেদকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।গতকাল রোববার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে,পিপুল আহমেদ সম্প্রতি মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ে গিয়ে এক কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। চেয়ার–টেবিল তছনছ করেন।এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গেরও কিছু অভিযোগ রয়েছে।এসব বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ মার্চ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়,দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন পিপুল আহমেদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে না,তা ২১ মার্চ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।সে অনুযায়ী জবাব দিয়েছিলেন পিপুল আহমেদ।কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় রোববার তাঁকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন,মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল আহমেদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।সেই সঙ্গে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক না রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিপলু আহমেদ বলেন,আমি যড়ষন্ত্রের শিকার।যেসব অভিযোগে আমাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে,তা ঠিক নয়।তবুও সংগঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।বিগত সময়ে আমি আন্দোলন–সংগ্রাম করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ২২টি রাজনৈতিক মামলার আসামি করা হয়েছে।নয়বার জেল কেটেছি।তবে আমি আমার মানবিক কাজগুলো চালিয়ে যাব।’