প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:৫৩:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনীতির এক যুগের অবসান ঘটিয়ে ইন্তেকাল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনেরা শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী।স্বামীর শাহাদাতের পর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে আসেন এবং পরবর্তীতে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
পারিবারিক জীবন
বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারে দুই পুত্র—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো।রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও তিনি পরিবারকে কেন্দ্র করে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন বলে নেতাকর্মীরা মনে করেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৮১ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের পর সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসনের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯১-১৯৯৬, ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদি সময় এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে।
শাসন আমল ও রাষ্ট্রীয় অবদান
বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা,নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তাঁর আমলে বেসরকারি খাত সম্প্রসারণ,শিল্পায়ন,অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রপ্তানি খাতে অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষা,নারী ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। পররাষ্ট্রনীতিতে সার্ক ও ওআইসি-সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা জোরদার করার প্রচেষ্টা ছিল উল্লেখযোগ্য।
সংগ্রাম ও কারাবরণ
রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়াকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াননি।দলীয় নেতাকর্মীদের মতে,তাঁর আপসহীন মনোভাব তাঁকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত করেছে।
প্রতিক্রিয়া ও শোক
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে বিএনপি তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।দলীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
উপসংহার
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হলো।সমর্থক ও সমালোচক—সবার কাছেই তিনি একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর জীবন ও নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।















