প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৩০:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (LGRD) খাতে জাতীয় বাজেটে প্রাথমিকভাবে ৪৫ হাজার ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৪২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।এই সংশোধিত বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগ (LGD) পায় ৩৬ হাজার ১০১ কোটি টাকা।এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১৮ হাজার ২১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা,যা গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের কথা।

এই বরাদ্দের আওতায় কুমিল্লায় এলজিইডির প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।প্রকল্প বিশ্লেষণে দেখা যায়,সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মুরাদনগর উপজেলায়—৪৫৩ কোটি টাকা,যা সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার নিজ উপজেলা।দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয় দেবীদ্বার উপজেলায়—৩৩৮ কোটি টাকা,যা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহর এলাকা।
এই অস্বাভাবিক বরাদ্দ ঘিরেই ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাজমুস সাকিব দাবি করেন,২০২৪–২৫ এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৬৪ জেলার মধ্যে সমহারে বরাদ্দ না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি উপজেলায় সিংহভাগ অর্থ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আসিফ মাহমুদ সজিব ও হাসনাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়,এসব এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় উচ্চ ব্যয়বহুল ও অগ্রাধিকারহীন প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে বরাদ্দ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে,যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়।
বাজেট নথি অনুযায়ী,এলজিইডির বরাদ্দ প্রকল্পভিত্তিক হলেও একই দুই অর্থবছরে একই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের বরাদ্দ পাওয়া স্বাভাবিক উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।নেটিজেনদের বড় একটি অংশ দাবি করছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।বিশেষ করে প্রকল্প অনুমোদন,দরপত্র,বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধ—এই চারটি ধাপ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে,যদি প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়,তবে তা হবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অপরাধ, যার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য।









