প্রতিনিধি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৩৭:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
বিচার বিভাগের ছত্রছায়ায় নারী সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ার গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতকে ঘিরে এক নারী সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় একজন পেশাদার নারী সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে,যা নারী নির্যাতনের পাশাপাশি বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোসাঃ সালমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকায় কর্মরত।পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি কুমিল্লা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শাখা থেকে পলাতক আসামিদের বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করে তা পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করতেন।এ কাজের সূত্রে আদালতের কোর্ট স্টাফ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার পেশাগত যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী,কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতের মুন্সি শাখার পেশকার মোঃ গোলাম কবির একাধিকবার সালমা আক্তারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা স্থাপনের চেষ্টা করেন।একপর্যায়ে বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত কাজের কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও যৌন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত পেশকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠাতে থাকেন এবং পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি,পরবর্তীতে তাকে ভয়ভীতি দেখানো,বাসায় গিয়ে হুমকি দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ দাখিলের পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয় বলে সালমা আক্তার দাবি করেন।২৬ আগস্ট ২০২৫ কুমিল্লা আইনজীবী ভবনে হাজিরা দিতে গেলে তার ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।এরপর তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগও তোলা হয়েছে।ঘটনার সময় সাংবাদিক সহকর্মীরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে সালমা আক্তারকে একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।জামিন পাওয়ার পরও একই ধরনের আরেকটি মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী,দুটি মামলায় তাকে মোট তিন মাস সাত দিন কারাভোগ করতে হয়।
সালমা আক্তারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে,এসব মামলা সম্পূর্ণ প্রতিশোধমূলক এবং তার পূর্বে করা অভিযোগের জেরেই এই হয়রানি।তিনি সংবিধানে প্রদত্ত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
এ ঘটনায় নারী সাংবাদিক মোসাঃ সালমা আক্তার প্রধান বিচারপতি,সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী,মানবাধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পেলে তা প্রকাশ করা হবে।

















