প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০২৩ , ৫:৫৯:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
বৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি।।কুড়িগ্রামের রৌমারীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আহম্মদ হোসেন নামে এক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।এ সময় অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন অভিযুক্তরা।

বুধবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শৌলমারী মতিয়ার রহমান (এমআর) স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ।
ভুক্তভোগী আহম্মদ হোসেন উপজেলার পুরারচর এলাকার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি শৌলমারী মতিয়ার রহমান (এমআর) স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
অভিযুক্তরা হলেন,শৌলমারী মতিয়ার রহমান (এমআর) স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলী আকবর, শৌলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ আহম্মদ হোসেন বলেন,২০২২ সালে ৩০ আগস্ট শৌলমারী মতিয়ার রহমান (এমআর) স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম অবসরে যান। পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আহম্মদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী আলী আকবর নামে এক সহকারী প্রধান শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে বসানো পায়তারা করে আসছে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আহম্মদ হোসেনের মনোমানিল্য চলছিল।এরই জেরে বুধবার সকাল ১২টার দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা অধ্যক্ষ আহম্মদ হোসেনকে মারধর করেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের আরও অনেক নেতা-কর্মী হামলায় অংশ নেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,এ সময় প্রতিষ্ঠানের চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্ট্রার খাতাসহ মূল্যবান মালামাল সরিয়ে ফেলেন অভিযুক্তরা।পরে ইউএনও নাহিদ হাসান খানের নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম ও অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মুক্তার হোসেন তালা খুলে দেন।
শৌলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন,ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু আমি কিছু করিনি।
অভিযুক্ত শৌলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা।
পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন,তারা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় করেছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রৌমারী থানার ওসি রূপ কুমার সরকার বলেন,অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি।তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারকে প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে তালা খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।















