আরও অন্যান্য সংবাদ

ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নামজারি ছাড়াই বিক্রি ও হেবা রেজিস্ট্রির সুযোগ-রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ সংশোধন

  প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:০৯:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নামজারি ছাড়াই বিক্রি ও হেবা রেজিস্ট্রির সুযোগ-রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ সংশোধন

ডেস্ক রিপোর্ট।। ১ জানুয়ারি ২০২৬: রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮–এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে সরকার।নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন থেকে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি,হেবা/দান এবং হেবার ঘোষণা বা দানের ঘোষণাসহ সংশ্লিষ্ট সব দলিল নিজ নামে নামজারি ছাড়াই রেজিস্ট্রি করা যাবে।এই সংশোধনের ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদ ভাঙিয়া থাকা অবস্থায় Registration (Amendment) Ordinance, 2026 জারি করেন।অধ্যাদেশটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

কী পরিবর্তন এলো

সংশোধিত অধ্যাদেশে রেজিস্ট্রেশন আইন,১৯০৮-এর একাধিক ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনটি এসেছে ধারা ৫২ক (Section 52A)–এ। এই ধারায় ‘sale’ শব্দের সঙ্গে হেবা/দান ও দানের ঘোষণার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।ফলে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা বা হেবার ঘোষণা এবং হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী দানের ঘোষণাও এখন রেজিস্ট্রেশনযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল।

এছাড়া বিক্রেতার পাশাপাশি দাতাকেও (donor) সংশ্লিষ্ট ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এর ফলে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নিয়ে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আর নামজারি বাধ্যতামূলক থাকছে না।

সময়সীমা ও প্রশাসনিক সংস্কার

অধ্যাদেশে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার আনা হয়েছে—

ধারা ১৭ক (17A): দলিল উপস্থাপনের সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন করা হয়েছে।

ধারা ২৬: নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময়সীমা ৪ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধারা ৭২ ও ৭৩: নিবন্ধন সংক্রান্ত আপিল ও আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—আপিল ৪৫ দিনের মধ্যে এবং আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ধারা ৬৮: অনুপযুক্ত ফি,কর বা শুল্ক আদায় করে দলিল নিবন্ধন করলে তা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং অনাদায়ী অর্থ তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

ই-রেজিস্ট্রেশনের পথ খুললো

সংশোধনের মাধ্যমে আইনে নতুন পার্ট XIIA সংযোজন করা হয়েছে,যেখানে ধারা ৭৭ক (77A)–এর মাধ্যমে ই-রেজিস্ট্রেশনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিধি অনুযায়ী দলিল উপস্থাপন, গ্রহণ ও নিবন্ধনসহ পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা যাবে।এ লক্ষ্যে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করবে।

আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,এই সংশোধন সাধারণ মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।এতদিন ওয়ারিশদের আগে নামজারি করাতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা,ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ ছিল।নতুন বিধানের ফলে তা কমবে এবং দ্রুত লেনদেন সম্ভব হবে।তবে তারা সতর্ক করে বলেন,রেজিস্ট্রি ও মালিকানা এক বিষয় নয়—ভবিষ্যতে খাজনা প্রদান ও প্রশাসনিক কাজে নামজারি এখনো প্রয়োজন হতে পারে।

কার্যকারিতা

অধ্যাদেশটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে এখন থেকে সারা দেশে সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির দলিল নামজারি ছাড়াই রেজিস্ট্রি করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে,এই সংস্কারের মাধ্যমে ভূমি ও সম্পত্তি লেনদেনে নতুন গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

আরও খবর

Sponsered content