অপরাধ-আইন-আদালত

আদালতের সামনে স্লোগান দিয়ে বিচারপতিদের অপসারণ দাবি আদালত অবমাননার শামিল

  প্রতিনিধি ১৭ অক্টোবর ২০২৪ , ১:২১:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

0Shares

জেড আই খান পান্না।।কতিপয় ছাত্র দেশের সর্বোচ্চ আদালত ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়ে যেভাবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিচারপতির বিরুদ্ধে মাইক লাগিয়ে স্লোগান দিয়েছে,যেভাবে মহড়া দিয়েছে,সেটি বিচার বিভাগের জন্য অশনিসংকেত।এ ঘটনার পর হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে বিচারিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কথা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমরা জেনেছি।কেউ কেউ বলছেন,তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।কী কারণে তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ।

বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি ছাত্র বা যে কেউ লিখিত বা হটলাইনের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে জানাতে পারতেন।

কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে তথাকথিত কিছু নেতা-ব্যক্তি সর্বোচ্চ বিচারালয় প্রাঙ্গণে ঢুকে বিচারকদের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য পেশ করেছে,তা আদালত অবমাননার শামিল।স্লোগানে আওয়ামী লীগপন্থি বিচারপতির অপসারণ দাবি করা হয়েছে। যারা এসব দাবি পেশ করেছেন,তাদের প্রমাণ করতে হবে, যাদের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করছেন,তাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে কীভাবে,কতটুকু লাভবান হয়েছে।

অতীতে আমরা দেখেছি,শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো ১৯৯৬ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন,তখন বস্তি উচ্ছেদের মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আদালত অবমাননার রুল জারি করেছিলেন।আমরা এসব দৃষ্টান্ত দেখেছি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগ যদি ছাত্র-সমন্বয়কদের দৃষ্টিতে চলতে যায়,তাহলে এটার স্বাধীনতা সম্পর্কে দেশের প্রত্যেক মানুষ,প্রত্যেক আইনজীবী সন্দিহান হবেন।আইনজীবী হিসেবে আমার সবিনয় নিবেদন,দুর্নীতিগ্রস্ত হলে পরে তাঁকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া উচিত।কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিচারপতি বা ব্যক্তি– যে কারও প্রতি যেন অবিচার করা না হয়।এটি ঠিক হবে না।চলমান মব ভায়োলেন্সের (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সন্ত্রাস) প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে,তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এটি তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে।আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়,দলীয় আনুগত্য আর বিচারকের আসন দুটি এক নয়, ভিন্ন বিষয়। বিচারক হওয়ার পর তাঁর কাজে-কর্মে-চিন্তায় দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থাকে না বা থাকতে পারে না।কারও বিরুদ্ধে যদি এমন কিছু থাকে, সেটা যদি প্রতিফলন হয়,তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।এ ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলই সমাধান দেবে।এ নিয়ে আইনি জটিলতা আছে,সেটা অতি শিগগির কেটে যাবে।

বিচারালয়ে যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে,তাদের আইনজীবী সমাজ আজ হোক,কাল হোক প্রতিহত করবেই।প্রধান বিচারপতির উচিত এহেন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।নয়তো জনগণ আইনজীবীসহ বিচার বিভাগকে আত্মসম্মান ও মর্যাদাহীন বলে মনে করবে।তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই প্রধান বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর থেকে কঠোরতর হতে হবে। বিচারালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণকে বহিরাগতদের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রধান বিচারপতির অবিলম্বে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া আবশ্যক।

লেখক : জ্যেষ্ঠ আইনজীবী

0Shares

আরও খবর

Sponsered content

0 Shares