প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:৪৩:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের স্বপ্ন দেখছেন,তারা হয় ইতিহাস ভুলে গেছেন, নয়তো সচেতনভাবেই দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়—এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা,রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি শক্তি।এই দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন মানে দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার কার্যত খর্ব করা।

জনগণ নির্বিকার থাকবে—এই ধারণা মারাত্মক ভুল
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলেও জনগণ চুপ করে থাকবে—এমন ধারণা বাস্তবতাবিবর্জিত।বাস্তবে এমন নির্বাচন হলে বহু ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পৌঁছানোই প্রশ্নের মুখে পড়বে। কেন্দ্র অবরোধ,ভোট বর্জন ও স্বতঃস্ফূর্ত জনপ্রতিরোধ অস্বাভাবিক কিছু হবে না।কারণ মানুষ জানে—উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার রাজনীতিকে বাদ দিয়ে ভোট মানে প্রহসন।
ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছে জনগণ
ইনুদের মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তদাতাদের ভুল হিসাব ও আত্মতুষ্ট নীতির খেসারত আজ দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি,কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।এই ক্ষোভ যদি নির্বাচনের দিন বিস্ফোরিত হয়,তার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
নিরাপত্তা নয়,বৈধতার সংকটই মূল প্রশ্ন
প্রশাসনিক ভাষণে যতই “নিরাপত্তা নিশ্চিত”-এর কথা বলা হোক,অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া কোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনাই কার্যকর হয় না।প্রার্থী,কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়বে।এটি কেবল আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়—এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন।
উন্নয়নের রাজনীতিকে বাদ দিয়ে ভোট গ্রহণযোগ্য নয়
যে দল সেতু,বিদ্যুৎ,শিক্ষা,ডিজিটাল অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করেছে,তাকে বাদ দিয়ে আয়োজিত নির্বাচন জনগণের চোখে বৈধতা পাবে—এমন ধারণা রাজনৈতিক অজ্ঞতার পরিচয়।
এখনো সময় আছে
দেশকে সংঘাতের পথে ঠেলে না দিয়ে এখনো সংলাপ ও সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।সব প্রধান রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে দেশকে অস্থিতিশীলতা থেকে বাঁচাতে।অন্যথায় ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে—এই একগুঁয়ে সিদ্ধান্তই জাতিকে নতুন সংকটে ঠেলে দিয়েছিল।

















