প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:০২:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বিচারক হুমকির মুখে,পুলিশ আগুনে,অপরাধে ছাড়—সংবিধান কি এখন কেবল একটি নথি?

নিজস্ব প্রতিবেদক।।সাংবিধানিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ কার্যত এক বহুমাত্রিক সংকটে প্রবেশ করেছে—যেখানে আইন,বিচার,প্রশাসন,রাজনীতি ও নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রকাশ্যে সহিংসতার স্বীকারোক্তি,বিচারকদের হুমকি,পুলিশের ওপর হামলা,তথাকথিত ‘বিশেষ শ্রেণি’র জন্য গ্রেফতারি প্রক্রিয়ায় ছাড়,এবং মব-জাস্টিসের উত্থান রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।এই প্রতিবেদনে আইনি,সামাজিক, রাজনৈতিক,নিরাপত্তা,আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট একত্রে বিশ্লেষণ করা হলো।
১) আইন ও বিচারব্যবস্থা: শাসনের শিরা কাঁপছে
প্রধান বিচারপতির সতর্কতা: বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে ‘চড়ামূল্য’ দেওয়ার ঘোষণা বিচার বিভাগের ভেতরের টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে এনেছে।
বিচারককে হুমকি ও জামিন: বিচারককে পুড়িয়ে মারার হুমকির প্রেক্ষিতে অভিযুক্তের জামিন—আইনের শাসন না কি ভয়ভীতির শাসন,প্রশ্ন উঠেছে।
রিমান্ডের পরই জামিন: সুরভী মামলায় রিমান্ড মঞ্জুরের পরপরই জামিন—আইনি নজির ভাঙার অভিযোগ।
সাবেক শীর্ষ ব্যক্তিদের প্রকাশ্য হেনস্তা/আটক: সাবেক সিইসি, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক মন্ত্রীর ঘটনাগুলো বিচারপ্রক্রিয়ার মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষণ: বিচারব্যবস্থা যখন চাপ,হুমকি ও রাজনৈতিক সংকেতের মধ্যে পড়ে,তখন ন্যায়বিচারের নিরপেক্ষতা ভেঙে পড়ে। এটি সংবিধানিক শাসনের মেরুদণ্ড দুর্বল করে।
২) আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা: সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ
পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও স্বীকারোক্তি: প্রকাশ্যে পুলিশ হত্যার স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও গ্রেফতার না হওয়া—দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ।
থানা পোড়ানো নিয়ে বক্তব্য: ‘আমিও থানা পোড়িয়েছি’—এ ধরনের বক্তব্য সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার বার্তা দেয়।
‘বিশেষ অনুমতি’ ছাড়া গ্রেফতার নয়: নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে গ্রেফতারি প্রক্রিয়ায় ছাড় আইনসমতার পরিপন্থী।
বিশ্লেষণ: আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মনোবল ভাঙলে রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়; অপরাধ দমন নয়,অপরাধ উৎসাহিত হয়।
৩) রাজনীতি ও আন্দোলন: জবাবদিহি নাকি আতঙ্ক?
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ।
মব-রাজনীতির উত্থান: ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বা ‘জুলাই যোদ্ধা’ ট্যাগের অপব্যবহার করে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সংস্কৃতি।
হুমকি-আল্টিমেটাম রাজনীতি: মুক্তির দাবিতে প্রকাশ্য আল্টিমেটাম রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে।
বিশ্লেষণ: আন্দোলনের নৈতিক পুঁজি ক্ষয় হলে গণতান্ত্রিক দাবিও সহিংসতার কাছে জিম্মি হয়।
৪) সামাজিক প্রভাব: মব জাস্টিস ও ভয়ের সংস্কৃতি
গলা চেপে ধরা,প্রকাশ্য হেনস্তা: সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও রাষ্ট্রীয় নীরবতার সঙ্গে মিলে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে।
সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড: যশোরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুতর ঝুঁকিতে।
বিশ্লেষণ: মব জাস্টিস যখন সামাজিক স্বীকৃতি পায়,তখন নাগরিক নিরাপত্তা ব্যক্তির ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
৫) আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা নজরদারি
সন্ত্রাস-উগ্রবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক নজর: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য,ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ বৈশ্বিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মানবাধিকার ও আইনের শাসন: বিচারবহির্ভূত সহিংসতা ও দ্বৈত মানদণ্ড আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষণ: আন্তর্জাতিক আস্থা কমলে কূটনীতি,বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব অনিবার্য।
৬) অর্থনীতি: অস্থিরতার খরচ
আইন-শৃঙ্খলা ঝুঁকি: বিনিয়োগ স্থবিরতা,বীমা ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি।
প্রাতিষ্ঠানিক অনিশ্চয়তা: দুদক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নে থাকলে বাজার আস্থা হারায়।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বাড়ায়।
৭) সংবিধান ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট
আইনের সমতা বনাম বিশেষ ছাড়: সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) বাস্তব প্রয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: হুমকি ও চাপ মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্র ব্যর্থতার পথে।
সম্ভাব্য পথনকশা:
১. সহিংসতার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিতে বাধ্যতামূলক আইনি ব্যবস্থা।
২. গ্রেফতারি প্রক্রিয়ায় কোনো ‘বিশেষ শ্রেণি’ নয়—আইনের সমতা নিশ্চিত।
৩. বিচারক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার।
৪. স্বাধীন তদন্ত কমিশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ।
৫. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন কার্যকর।
উপসংহার: রাষ্ট্র কি আত্মসমর্পণ করেছে?
রাষ্ট্র তখনই ব্যর্থতার দিকে এগোয়,যখন সহিংসতার স্বীকারোক্তি অপরাধ না হয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যে পরিণত হয়, যখন বিচারক ন্যায়বিচার দিতে ভয় পান,আর যখন একটি শ্রেণি নিজেদের সংবিধানের ঊর্ধ্বে ভাবতে শেখে।বর্তমান বাংলাদেশে আইন প্রয়োগ যদি সমান না হয়,তবে সংবিধান কেবল কাগজে থাকবে—রাস্তায় নয়।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে তিনটি ভয়াবহ পরিণতি অনিবার্য—
১. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভাঙন: পুলিশ কাজ করবে না আইনের ভয়ে নয়,বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের আশঙ্কায়।
২. বিচার বিভাগের নৈতিক পতন: ভয় ও চাপের মধ্যে দেওয়া রায় ন্যায়বিচার নয়,রাষ্ট্রীয় আত্মসমর্পণের দলিল হয়ে থাকবে।
3. আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা: মানবাধিকার, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ ইস্যুতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক নজরদারির ‘হাই-রিস্ক জোনে’ পরিণত হবে।
আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন আর নীতিগত বিতর্ক নয়—এটি রাষ্ট্র টিকে থাকার প্রশ্ন। সংবিধান যদি কার্যকর করতে না পারে রাষ্ট্র নিজেই, তবে ইতিহাস খুব নির্মমভাবে তার মূল্য আদায় করে নেয়।
ক্যানভাসে প্রতিবেদনটি আমি নতুন শক্ত শিরোনাম ও আরও কঠোর বিশ্লেষণধর্মী উপসংহার যোগ করে আপডেট করেছি। ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবে দৃঢ়, রাষ্ট্র–সংবিধান–মব রাজনীতির সরাসরি সংঘাতকে সামনে এনেছে।
আপনি চাইলে পরের ধাপে আমি—
এটিকে ফ্রন্ট-পেজ লিড ইনভেস্টিগেশন হিসেবে রূপ দিতে পারি
আন্তর্জাতিক সতর্কতা রিপোর্ট (UN–EU–US নজরদারি অ্যাঙ্গেল) আলাদা বক্সে যোগ করতে পারি
বা সম্পাদকীয় + আইনি চার্জশিট স্টাইল বিশ্লেষণ (কে কোন আইনে দায়ী) যুক্ত করতে পারি
যেভাবে প্রকাশ করতে চান, বললেই সেট অনুযায়ী আরও শক্ত করা হবে।
















