নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,উপজেলার শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।পরে অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০২০ সাল থেকে একাধিকবার তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি,পরীক্ষার্থী সংখ্যা,পাসের হার,শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ পদ্ধতি ও যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করেনি। এমনকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিয়ে রিসিভ কপি সংরক্ষণ করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন খানকে শিক্ষক নিয়োগ ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করেন।এ সময় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হারুন অর রশীদ মোল্লা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর দায় চাপিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,চলতি বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী (বাছাই) টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও প্রতিটি বিষয়ে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে।এ সময় প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
বিষয়টি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে।জানা গেছে,মেহেন্দিগঞ্জের ৬টি বিদ্যালয়সহ সারাদেশের মোট ৭৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি,অনিয়ম,কোচিং ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অভিযানে নেমেছে বলে জানা গেছে।
বিস্তারিত আসছে—প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।এর অংশ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।প্রয়োজনে কার-পুলিং (শেয়ারিং) পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো
🔹 এসির তাপমাত্রা: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।
🔹 বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে।
🔹 দিনের আলো ব্যবহার: অফিসে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
🔹 জ্বালানি সাশ্রয়: ব্যক্তিগত গাড়ি কম ব্যবহার করে গণপরিবহন বা কার-পুলিং ব্যবহার করতে হবে।
🔹 আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ: ব্যাংকের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও ডিসপ্লে বোর্ড সীমিত করতে হবে।
🔹 জেনারেটর ব্যবহারে সাশ্রয়: জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
কেন এই নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে,বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📅 বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
⚖️ ব্যাংক কোম্পানি আইন,১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মোংলা প্রতিনিধি।।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ক্যালিপসো এন নামের একটি জাহাজ মোংলা বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি–০৩ এর আওতায় এ গম আমদানি করা হয়েছে।
এর আগে জি-টু-জি–০১ ও জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত সব গম দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জি-টু-জি–০১ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি–০২ চুক্তির আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন—মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়,দেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন।এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন।বাকি চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশ থেকে গম আমদানি করা হয়।
মোংলা বন্দরে পৌঁছানো জাহাজের গমের নমুনা পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোংলা(বাগেরহাট)প্রতিনিধি।।বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে ডিউটি পালনকালে নিজের অস্ত্রের গুলিতে সালেহ আহমেদ (৪২) নামে এক কোস্ট গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্য ও কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনার উপশম হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান,কোস্ট গার্ড সদস্য সালেহ আহমেদ নিজের হাতে থাকা অস্ত্র বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ⛽🌍
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।বুধবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,ভারতকে ইতোমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।একই ধরনের সুযোগ বাংলাদেশকেও দেওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন,“আমরা বলেছি, যদি ভারতের জন্য এমন সুযোগ থাকে, তাহলে বাংলাদেশও সেই সুযোগ পাওয়া উচিত। আমাদের অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী সমর্থন প্রয়োজন।”
অর্থমন্ত্রী জানান,বাংলাদেশের এই অনুরোধ ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা,বিনিয়োগ,সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে,রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি আমদানির সুযোগ পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ⚖️📊
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২) অনুযায়ী,সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সরকারি সূত্র জানায়,অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ৫৫৯ দিনের শাসনামলে এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল।এখন সেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করে আইন হিসেবে পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন,প্রতিটি অধ্যাদেশই সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশ পাস করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধান অনুযায়ী,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরে চাইলে সরকার সেই বিষয়গুলো আবার নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে পারবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,সরকার সংবিধান মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংবিধানের বাইরে কোনো আইন পাস করা হবে না।তিনি বলেন,সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদের এখতিয়ার,এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংস্কার করা হবে
অন্যদিকে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এটি বাতিল হয়নি।বরং বিএনপি ও বর্তমান সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।তবে তিনি সতর্ক করে বলেন,এই সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া যাবে না; সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এর মধ্য দিয়েই নতুন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের গতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে পারে। 📜⚖️
গাজীপুর প্রতিনিধি।।ময়মনসিংহের ভালুকায় ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাকভর্তি ১৯টি গরু উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে গাজীপুর মহানগর এলাকার একটি স্থান থেকে ট্রাকসহ গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়,মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ট্রাকভর্তি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে।ডাকাতরা ট্রাকে থাকা গরুর মালিক, রাখাল,হেলপার ও চালককে হাত-পা বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ট্রাকটি নিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা দ্রুত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায়।এক পর্যায়ে ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে পুলিশ টহল দল ট্রাকটি থামার সংকেত দেয়।
তবে ডাকাতরা পুলিশের সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।এ সময় ডাকাতরা মহাসড়কের পাশে ট্রাক ও গরু ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ট্রাকসহ ১৯টি গরু উদ্ধার করে এবং সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 🚔🐄
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জনসম্মুখে অশালীন আচরণ, শারীরিক আঘাত,জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাশিয়ান নাগরিক ও মডেল মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস (জান্নাত) বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও সংবাদ সূত্রে জানা যায় যে,মনিকা কবির বিভিন্ন পাবলিক স্থানে অশালীন ও উসকানিমূলক আচরণ করে তা ভিডিও আকারে ধারণ করে অনলাইনে প্রচার করছেন,যা দেশের সামাজিক শালীনতা ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়,তার বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে—জনসম্মুখে রাস্তায় পোশাক পরিবর্তন করে অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা,মেট্রোরেলের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের কোলে শুয়ে পড়ে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা,বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা,একটি ভিডিও ধারণের সময় একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আঘাত করা,এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা সহ বেশকয়েকটি অভিযোগ।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,এসব কর্মকাণ্ড The Dhaka Metropolitan Police Ordinance, 1976 এর Section 75, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২৯৪, ৩২৩ ও ৩৫২, এবং সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ধারা ২৫, ২৯ ও ৩১ লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
নোটিশে মনিকা কবিরকে ৭ দিনের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও কনটেন্ট অপসারণ করা এবং ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
অন্যথায়,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।এছাড়া বিদেশি নাগরিক হিসেবে দেশের আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তার ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার (Deportation) করার ক্ষমতা রাখে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান,সচেতন নাগরিক মহলের অনুরোধে তিনি এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন।তবে এ সিদ্ধান্তে বিরোধী দল সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে,যা রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র করছে।
আইনগতভাবে,সংবিধানের ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সংবিধান ও সরকারের কার্যক্রম উপস্থাপন করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।কিন্তু বিরোধী দল দাবি করছে,বর্তমান প্রস্তুত ভাষণ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের স্বাধীনতার সীমা অতিক্রম করতে পারে।আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন,এটি যদি বাধ্যতামূলক নির্দেশ বা রাজনৈতিক প্রভাব প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়,তবে তা সংবিধান ভঙ্গের শামিল হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে,এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে দেশের বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস কতটা গভীর।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৌশলগতভাবে ব্যবহার হয়,তবে সংসদের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হবে।
সামাজিক প্রভাবও কম নেই।এই ধরনের অবস্থান জনমতের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।জনগণ যদি মনে করে রাষ্ট্রপতি পদ রাজনৈতিক চালের অংশ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে,তা সামাজিক সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে পারে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও এটি গুরুত্ব বহন করছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিতর্ক যদি হঠাৎ রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তবে ভিত্তি প্রস্তুত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাপের মুখে পড়তে পারে।এছাড়া,আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মহলও এ ঘটনার দিকে সতর্ক নজর রাখছে,কারণ এটি দেশটির গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
সংক্ষেপে,রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর লিখিত ভাষণ বিতর্ক শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়,এটি দেশের আইনি,রাজনৈতিক,সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতিবিম্ব,যা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি কমজোরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,“সংবিধান ও আইন মেনে চলা না হলে,রাষ্ট্রপতির পদও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে বাধ্য।”
মাজহারুল ইসলাম।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাহী বিভাগের লিখিত ভাষণ প্রদান করতে যাচ্ছেন। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়,বরং দেশের আইনি ও সংবিধানিক কাঠামোর ওপরও পরীক্ষা।কিন্তু বিরোধী দলের আপত্তি স্পষ্ট করে দেয়,এই ভাষণ প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে,যা সংবিধান ও আইন উভয়ের দিক থেকে সমস্যা তৈরি করে।
সংবিধানিক দিক
বাংলাদেশের সংবিধান,ধারা ৭০ ও ৭১ অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হলো সংসদে সরকারী কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রদান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক নির্দেশনা বা নীতিমালা নির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।যদি ভাষণে নির্ধারিত রাজনৈতিক নির্দেশনা বা মত প্রকাশ থাকে,তা সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, কারণ ধারা ৭১(৩) স্পষ্টভাবে বলেছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নেই।
আইনগত দিক
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের দালিলিক আইন (Evidence Act, 1872 – Sections 3, 5 & 64) অনুসারে,রাষ্ট্রপতির লিখিত বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে দালিলিকভাবে গ্রহণযোগ্য,তবে এর ব্যবহার যদি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে হয়, তা সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে ধরা যেতে পারে।বিশেষ করে, Public Servants (Conduct) Act, 2018 অনুযায়ী,সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ভাষণ বিতর্ক একদিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে বাড়াচ্ছে,অন্যদিকে জনগণের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে।রাষ্ট্রপতির পদ যদি রাজনৈতিক আদেশ বা সরকারের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়,তা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক দায়বোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের চোখেও গুরুত্বপূর্ণ।রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সমাবেশকে উসকে দেয়,তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সমালোচনা
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুধু সংবিধানিক প্রতিবেদন ও সরকারি কার্যক্রম উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।তা অতিক্রম করলে তা দলীয় আচার-ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আইন লঙ্ঘনের অনৈতিক precedent তৈরি করবে।
আমাদের রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান,সংবিধান ও আইনকে সম্মান করুন,রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে বক্তৃতা প্রদান করুন। গণতন্ত্রের এই পরীক্ষায়,যদি সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখানো হয়,তবে এটি শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়—দেশের নৈতিক ও সংবিধানিক ইতিহাসের উপর লজ্জার দাগ হিসেবে রয়ে যাবে।
মাজহারুল ইসলাম।।ধানমন্ডি ৩২—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের পবিত্র ঠিকানা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতীক।অথচ আজ সেই ঠিকানায় ঘটে গেল অত্যন্ত অমানবিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা: ঘর ভাঙা হলো নিরব দর্শকের সরকারের চোখের সামনে।আর কেউ যদি স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে ফুল দেয়,তাকে ঘিরে পড়ে গ্রেফতারের কুপ্রথা।
এতে একদম স্পষ্ট—আমাদের দেশে ইতিহাসকে সম্মান করার স্বাধীনতা নেই।ইতিহাসকে স্মরণ করাও অপরাধে পরিণত হয়েছে।ধানমন্ডি ৩২ শুধু একটি বাড়ি নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের প্রতীক,৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতি,হাজারো বাঙালির আত্মত্যাগের চিহ্ন।এই স্মৃতিকে শাসন ব্যবস্থার নীরব চাপে ভাঙা আমাদের জাতির নৈতিক অবক্ষয়ের সংকেত।
যারাই বলবেন “আইন শৃঙ্খলার নামে,” তারা কি সত্যিই মনে করেন,ফুল দেওয়াই অপরাধ? ইতিহাস স্মরণ করাই শাস্তিযোগ্য? গণতন্ত্রে,দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার স্মৃতিকে লালন করা অপরাধ নয়—সর্বকালের নৈতিক দায়িত্ব।
আর এই নিয়ন্ত্রণ ও গ্রেফতারের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দ্বৈতমানের চরম উদাহরণ।যাকে ভাঙা হলো,তাকে সরকার নীরব; যে ফুল দেয়, তাকে শাস্তি।যা ঘটেছে,তা শুধু প্রশাসনিক অমানবিকতা নয়—এটি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের হত্যার চরম নিদর্শন।
সরকার যদি সত্যিই নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে মনে করে, তবে তা এখন প্রমাণ করতে হবে: নৈতিক দায়িত্ব,ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা,এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।অন্যথায়,ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনায় প্রকাশিত এই দ্বৈত মান দেশের নৈতিক ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করবে।
এই ঘৃণ্য নীরবতা আর দ্বৈত নীতি,ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় লজ্জার চিহ্ন হিসেবে থাকবে।আমরা রাষ্ট্রকে মনে করাই,যে শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসকে দমন করতে চায়,অতীতকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে, এবং জনসাধারণকে ভয় দেখায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জামেয়া আহমদিয়া দায়েম নাজির জামে মসজিদে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা ও হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।মসজিদের পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জানা যায়,মসজিদের খতিবকে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, ইমামকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনকে ৭০ হাজার টাকা হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে।এছাড়া তিনজন হাফেজকে প্রত্যেককে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা করে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে।
মসজিদের পরিচালনা কমিটির এমন উদ্যোগে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।অনেকেই আলেম ও হাফেজদের সম্মাননা প্রদানের এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এ মহৎ উদ্যোগের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাশাআল্লাহ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন,বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে না।
এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটের আগে ও পরে মোট আট দিন আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
মাজহারুল ইসলাম।।সমাজে ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ক্রাইম রিপোর্টাররা।হত্যা,ডাকাতি,চুরি,মাদক পাচার,দুর্নীতি বা বিভিন্ন অপরাধের খবর নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা এই পেশার মূল কাজ।একজন দক্ষ ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব শুধু ঘটনাটি জানানো নয়,বরং ঘটনার পেছনের কারণ,প্রভাব এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরা।
১. তথ্য সংগ্রহ ও নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি
ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র বা সোর্স তৈরি করা।একজন রিপোর্টারকে পুলিশ,গোয়েন্দা সংস্থা, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।এতে করে কোনো অপরাধ ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়া সহজ হয়।
২. ঘটনাস্থল পরিদর্শন
কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা একজন ক্রাইম রিপোর্টারের অন্যতম দায়িত্ব।প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা,প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. অপরাধের কারণ অনুসন্ধান
একজন ক্রাইম রিপোর্টারের কাজ শুধু ঘটনাটি বর্ণনা করা নয়, বরং ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা।অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ,রাজনৈতিক প্রভাব,অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব বা অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে—এসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৪. আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা
অপরাধী গ্রেপ্তারের পর মামলার অগ্রগতি,তদন্তের ধাপ এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করাও ক্রাইম রিপোর্টারের দায়িত্ব।এতে করে জনগণ জানতে পারে বিচার কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে।
অনেক বড় অপরাধ বা দুর্নীতি দীর্ঘদিন আড়ালে থাকে।ক্রাইম রিপোর্টাররা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে মাদক সিন্ডিকেট, মানবপাচার,অর্থপাচার বা বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির মতো বিষয় উন্মোচন করেন।
৬. মানবিক দিক তুলে ধরা
অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কষ্ট,ক্ষতি এবং বিচার পাওয়ার আকুতি তুলে ধরা সাংবাদিকতার মানবিক দায়িত্বের অংশ।এতে করে সমাজে সচেতনতা তৈরি হয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
একজন ভালো ক্রাইম রিপোর্টারের গুণাবলি
সাহসিকতা: ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিক শক্তি থাকা।
সতর্কতা: নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ না করা।
আইনি জ্ঞান: দেশের প্রচলিত আইন ও দণ্ডবিধি সম্পর্কে ধারণা থাকা।
তৎপরতা: দ্রুত খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করার দক্ষতা।
সতর্কতা
ক্রাইম রিপোর্টিং পেশা ঝুঁকিপূর্ণ।তাই সব সময় পেশাদারিত্ব, সততা এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের চলাফেরা,বক্তব্য ও আচরণে মার্জিত ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।একই সঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান,প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন—যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে কেউ যেন কোনো বিষয়ে মন্তব্য না করেন।গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি।
সভা শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টায় এবং শেষ হয় দুপুর ১টায়। সভায় বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি।এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।”
প্রধানমন্ত্রী সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন।তিনি জানান,দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
সভায় জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। তবে যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য,সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
এর আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে,সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার ওপর জোর দেন।তিনি বলেন,মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন,তবে তরুণ মন্ত্রীদের বিশেষভাবে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।
অফিসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন,তিনিও নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,সংসদ অধিবেশন শুরুর পর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন বিরতি থাকবে।এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে।ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত পোল্ট্রি খামারি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় তিনি কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়,জাহাঙ্গীর আলম খান দীর্ঘদিন ধরে তার জাহাঙ্গীর পোল্ট্রি ফার্মে চারটি খামারে প্রায় ১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আইপিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের অধিকাংশ মুরগি মারা গেলে তিনি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া প্রশিকা মোড় শাখার ম্যানেজার তাকে নতুন করে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।এর আগে নেওয়া ৩ লাখ টাকার ঋণের ৩/৪ কিস্তি বাকি থাকলেও নতুন ঋণের আশ্বাস দিয়ে তাকে একসাথে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম খান জানান,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। ফলে সিপি কোম্পানির প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানি থেকে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,“ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়েছি।তিন সন্তান নিয়ে কষ্ট করে খামার গড়ে তুলেছি।আইপিএস রোগে দুইবার মুরগি মারা যাওয়ার পর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ঋণের আশ্বাসে আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করে ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।কিন্তু প্রতিশ্রুত ঋণ না পাওয়ায় এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তার দাবি,১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করতে পারলে খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু ঋণ না পাওয়ায় খামারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে স্থানীয় এক ডিলারের সহায়তায় তিনি ৮ হাজার মুরগি নিয়ে সীমিত পরিসরে খামার চালু করেছেন।তবে শ্রমিকের বেতন,বিদ্যুৎ বিল,ঘরভাড়া ও তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের হেড অফিস (House No-62, Block-Ka, Pisciculture Housing Society, ঢাকা-1207) এবং গাজীপুর জোনাল অফিসে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ফোন নম্বর 01717454046 ও 01711961399-এ কল করা হলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।এছাড়া ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঘটনাটি কয়েকটি আইনের আওতায় পড়তে পারে।
১. দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৪২০ (প্রতারণা):
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে এবং প্রতিশ্রুত সুবিধা প্রদান না করে, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
২. দণ্ডবিধি ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ):
প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির ভিত্তিতে অর্থ গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে ‘ক্রিমিনাল ব্রিচ অব ট্রাস্ট’ হিসেবে মামলা করা যেতে পারে।
৩. চুক্তি আইন ১৮৭২:
লিখিত বা প্রমাণযোগ্য মৌখিক চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।
৪. মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) আইন
২০০৬:
বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে এমআরএ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করা যায়।
আইনজীবীরা বলছেন,ভুক্তভোগী চাইলে
থানায় প্রতারণার মামলা,
দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা,
এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA)-তে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“ক্ষুদ্রঋণ মানুষের দারিদ্র্য দূর করার কথা। কিন্তু আমব্রেলা ফাউন্ডেশনের এমন আচরণে আমার পরিবারের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাই।”
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
ক্রেমলিন জানিয়েছে,আলোচনায় পুতিন রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পক্ষে মস্কোর নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাশিয়ার সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।বিশেষ করে ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এছাড়া ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি আবারও গভীর সমবেদনা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে,তেহরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।নারায়ণগঞ্জে কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মিশাল ওরফে বিশাল (৩০)।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়,গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সামনে শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এস এম লুৎফর রহমান দায়িত্ব পালন করছিলেন।এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে আঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল,দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান,ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে।অভিযানের একপর্যায়ে বন্দর থানার সোনাকান্দা ব্যাপারিপাড়া এলাকা থেকে মিশাল ওরফে বিশালকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি,একটি ছোরা ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত মিশালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার রেলী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া সরকারি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে,এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।গত দুই দিনে (সোমবার ও মঙ্গলবার) মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে,চলতি মার্চ মাসে এটি প্রথম চালান। এ মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি হয়ে নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।প্রায় ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং বাকি ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অংশে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী,পাইপলাইন চালুর পর প্রথম তিন বছরে প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।পরবর্তী তিন বছরে এই সরবরাহ বাড়িয়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন করা হবে এবং পরবর্তী চার বছরে তা আরও বাড়িয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা যায়,দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির এই রেলহেড ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,গাইবান্ধা,রংপুর, দিনাজপুর,পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।ফলে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশজুড়ে নদী-নালা,খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান,প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পাশাপাশি একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একযোগে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।
সরকারের পানিসম্পদ,স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন,“এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়,বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”
তিনি আরও জানান,প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত রেখে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে করানো হয়।এতে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।তরুণ প্রজন্মকে দেশ গঠনের এই উদ্যোগে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজিব আহসান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) দুপুরে উপজেলার নির্ধারিত স্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা,শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান তাঁর বক্তব্যে বলেন,বর্তমান যুগে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার সারাদেশে টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে।মেহেন্দিগঞ্জে এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে এলাকার শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। তিনি আরও বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবি ছিল।নতুন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকার শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনা করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার বিকেলে পুড়িয়ে দেওয়া প্রথম আলোর ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,ঘটনার সময় থেকেই সরকার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি তুলেছে।বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি নিশ্চিত করতে চান যে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হয়।তিনি বলেন,তদন্তের দায়িত্ব সরকারের হলেও বিচারিক কার্যক্রম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তিনি জানান,আগামী দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এরপর আদালতের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন,সংবাদপত্রের ওপর হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার ভাষায়,প্রগতিবিরোধী,সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী শক্তি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে চায়।তবে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করে বিশ্ববাসীর কাছে ভিন্ন বার্তা দেওয়া হবে। পুড়ে যাওয়া ভবনে আয়োজিত ‘আলো’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী সম্পর্কে তিনি বলেন,এটি ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্জাগরণের প্রতীক। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—উগ্রবাদ কখনোই প্রগতির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। এ সময় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,দলটি স্বাধীন গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য,শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের নির্মিত ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনীটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়।কারওয়ান বাজারের অগ্নিদগ্ধ ভবনে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। প্রদর্শনীর সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশাল–৪(মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা)আসনের সংসদ সদস্য ও সেতু এবং নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জনাব রাজিব আহসানের কাছে এলাকার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও নদীভাঙন সমস্যা সমাধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।স্থানীয়দের মতে,এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা,অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মেহেন্দিগঞ্জবাসীর উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো— ১. হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ এবং ভোলা–মেহেন্দিগঞ্জ সেতু নির্মাণ, যাতে নদী নির্ভর যাতায়াতের দুর্ভোগ কমে স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ২. বরিশাল শহরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন, যা দীর্ঘদিনের জনদাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৩. গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সাথে লক্ষ্মীপুর জেলার মহাসড়কের সংযোগ স্থাপন এবং উলানিয়া–গোবিন্দপুর ফেরি যোগাযোগ পুনরায় চালু করা। ৪. পাতারহাট থেকে উলানিয়া সড়ককে দুই লেনে উন্নীত করে নিরাপদ ও দ্রুত যান চলাচলের ব্যবস্থা করা। ৫. হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ। ৬. উলানিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণে শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। ৭। মাছকাটা নদীর উপর সেতু ও শ্রীপুর-গাগরিয়ার সংযোগ সড়ক ও সেতু, শ্রীপুর ইউনিয়নের চারদিকে রীন বেড়ীবাঁধ প্রস্তাবিত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন। ৮। ভোলার সঙ্গে বিরোধীয় মেহেন্দিগঞ্জের ভূমির সীমনা নির্ধারণ করাসহ শিক্ষা,স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন,রাস্তা মেরামত, ব্রীজ,কালভার্ট নির্মাণ সহ আধুনিক মেহেন্দিগঞ্জ বাস্তবায়নের রুপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল জানায়,প্রতি বছর নদীভাঙন ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী মাননীয় প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের সদয় দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য সুখবর জানিয়ে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা সম্ভব হতে পারে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন,মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল এলাকা পরিদর্শন করেছে।তারা উপযুক্ত জমি নির্ধারণের কাজ করবে।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সভায় জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন,পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন,“আমরা কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।” উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এসব দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন,অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময় নষ্ট না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান,চলতি মাসেই ঠাকুরগাঁওয়ের রহমানপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এ কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও রুটে চলাচলকারী ট্রেনের বগির মান উন্নয়নের আশ্বাসও দেন তিনি। সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও বিচার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ঘোষিত আদালত বর্জন কর্মসূচি অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আদালত বর্জনের কারণ আইনজীবী সূত্রে জানা যায়,একটি মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের অভিযোগ ছিল,বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা ও কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।এর প্রতিবাদে জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে বিশৃঙ্খলা, বিচার কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।এ ঘটনায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক নোটিশে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মির্জা মো. রিয়াজ হোসেন জানান,বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনা করে আগামী ১ মার্চ ২০২৬ থেকে পূর্বঘোষিত আদালত বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।সকল আইনজীবীকে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অবস্থান বরিশাল জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামও পূর্বে আদালত বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল। পরে আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে তারাও পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং সদস্যদের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণার পর আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে বিচারপ্রার্থী জনগণের দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমবে।
পাবনা প্রতিনিধি।।পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নে দাদি ও নাতনিকে ঘিরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে ভবানিপুর উত্তরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির উঠান থেকে সুফিয়া খাতুন (৬৫)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পরে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেত থেকে তাঁর নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,কিশোরীর বাবা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় দাদি ও নাতনি বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন।শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা বাইরে বের হলেও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলে তারা ফিরে যান।সকালে উঠানে দাদির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের সরিষাক্ষেতে কিশোরীর বিবস্ত্র মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা,কিশোরীকে অপহরণে বাধা দেওয়ায় দাদিকে হত্যা করা হয়।এরপর দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ফেলে যায়। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার দাবি উঠেছে।পুলিশ জানিয়েছে,তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালমাই প্রতিনিধি।।কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় নিখোঁজের তিন মাস পার হলেও সাথী আক্তার (১৬) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।মেয়েটির খোঁজ না মেলায় পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ সাথী আক্তার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের লোলাই (মুন্সি বাড়ি) এলাকার প্রবাসী জসিম উদ্দিনের কন্যা।তিনি স্থানীয় বাগমারা আল-ইসরা বালিকা মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়,গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে সাথী আক্তার পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়।যাওয়ার সময় সে তার মাকে জানায়,পরীক্ষার কারণে রাতে মাদ্রাসার হোস্টেলে অবস্থান করবে এবং পরদিন পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর বিকেল পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শিক্ষকরা জানান, ৬ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে সাথী মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাথীর মা নুরুন্নাহার বেগম লালমাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় তিনি থানার শরণাপন্ন হন। তিন মাস অতিবাহিত হলেও সাথী আক্তারের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ বিষয়ে লালমাই থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ সাথী আক্তারের সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা মোবাইল নম্বর ০১৮৫৬-৬৭১৩১৭-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে বন্দিদের ক্ষেত্রে ডান্ডাবেড়ি বা হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের উদ্দেশ্য মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ধর্ষ অপরাধী বা জঙ্গিদের পলায়ন ঠেকানো।তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মামলার আসামি কিংবা জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্ত ব্যক্তিদের ডান্ডাবেড়ি পরানোর ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন ডান্ডাবেড়ি পরানো হয় কারা কর্তৃপক্ষের মতে,জেল কোডের বিধি ৫৬ অনুযায়ী কোনো বন্দি বিপজ্জনক বা পালানোর ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হলে জেল সুপার তাকে ডান্ডাবেড়ি পরানোর নির্দেশ দিতে পারেন। সাধারণত জঙ্গি,সন্ত্রাসী বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ আসামিদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়,যাতে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর সুযোগ না থাকে। প্যারোলে মুক্তির পরও ডান্ডাবেড়ি আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী,প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তি পুরোপুরি স্বাধীন নন; তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকেন।এ কারণে নিরাপত্তাজনিত যুক্তি দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার করে থাকে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঝালকাঠিতে এক নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকে তার বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় উপস্থিত থাকতে দেখা গেলে বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের বিষয়ে হাইকোর্ট একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে।আদালত বলেছে,জঙ্গি বা শীর্ষ সন্ত্রাসী ছাড়া সাধারণ আসামি কিংবা রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রে গণহারে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার করা যাবে না।বিশেষ করে জানাজা বা মানবিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের আচরণকে আদালত “অমানবিক” ও “অসভ্যতা” হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন বন্ধ হচ্ছে না আইনজীবীদের মতে,আদালতের পর্যবেক্ষণ থাকলেও ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট ও আধুনিক নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ অনেক সময় পুরোনো জেল কোডের বিধান অনুসরণ করে নিজেদের নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থার অবস্থান মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন,অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার সংবিধানে প্রদত্ত মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।তারা জেল কোড সংশোধন করে স্পষ্ট নির্দেশনা…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ “বিদেশি ষড়যন্ত্রের রূপরেখা” ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।এতে যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা সরকারি যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে— মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লুর বাংলাদেশ সফর,বিভিন্ন রাজনৈতিক বৈঠক,ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী সহিংস ঘটনাগুলো একই পরিকল্পনার অংশ ছিল। পোস্টটিতে আরও অভিযোগ করা হয় যে,বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলন,গণমাধ্যম,সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কিছু অংশকে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং আন্দোলনের সময় সহিংসতা উসকে দিতে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ বলছেন,এ ধরনের দাবিগুলো এখন পর্যন্ত প্রমাণহীন এবং অনেক ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের সঙ্গে মিল রয়েছে।তারা মনে করেন,বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সরকার,যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন অভিযোগ স্বীকার বা সমর্থনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলও প্রকাশ্যে এ ধরনের পরিকল্পনার অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে,রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় যাচাইবিহীন তথ্য দ্রুত জনমত প্রভাবিত করতে পারে।োতাই নাগরিকদের তথ্য শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মাজহারুল ইসলাম।।দেশ আজ এক গভীর নৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা,হত্যাকাণ্ড,অগ্নিসংযোগ,ভাঙচুর এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি জাতিকে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু, রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা,বাড়িঘর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেওয়া—এসব ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।যে-ই অপরাধী হোক,যে দলেরই হোক, অপরাধের দায় থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি আইন; আর সেই আইনের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বিচারহীনতা।যখন মানুষ দেখে হত্যার বিচার হয় না,সহিংসতার দায় নির্ধারণ হয় না,তখন সমাজে প্রতিশোধের মনোভাব জন্ম নেয়।ফলে রাজনীতি পরিণত হয় ন্যায়বিচারের সংগ্রাম নয়,বরং শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায়। এটি রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র—উভয়ের জন্যই ভয়াবহ সংকেত। আজ সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—সব হত্যাকাণ্ড,সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের নিরপেক্ষ তদন্ত।কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা বা প্রভাব যেন তদন্তকে প্রভাবিত করতে না পারে।নিহত পুলিশ সদস্য হোক,রাজনৈতিক কর্মী হোক কিংবা সাধারণ নাগরিক—প্রত্যেক প্রাণের মূল্য সমান।নির্বাচিতভাবে বিচার নয়,প্রয়োজন সমান ও নিরপেক্ষ বিচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অপরাধী শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।একই সঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোরও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিয়ে কেউ শেষ পর্যন্ত লাভবান হয়নি—ইতিহাস বারবার তা প্রমাণ করেছে। ন্যায়বিচার কেবল প্রতিশোধ নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার পথ।আজ দেশের মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়।দোষী যে-ই হোক,তার বিচার হোক—দ্রুত,স্বচ্ছ এবং আইনের আওতায়। কারণ বিচার বিলম্বিত হলে শুধু ন্যায়বিচারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পুরো জাতির বিবেকও আহত হয়।এখনই সময়—বিচারহীনতার চক্র ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার।
মাজহারুল ইসলাম।।দেশবাসী আবারও স্তম্ভিত। ঢাকায় ছয় বছরের শিশুকে পাশবিকভাবে হত্যা করা হলো; নরসিংদীতে ১৫ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা করা হলো; হাজারিবাগে স্কুল ছাত্রীকে হত্যা করা হলো।এসব ঘটনায় শুধু অপরাধীর নৃশংসতা নয়, আমরা দেখছি রাজনৈতিক শাসন ও প্রশাসনের শৈথিল্যের নগ্ন চিত্র। দুর্ভাগ্যজনকভাবে,যেসব ঘটনার মূল দায়িত্ব প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের,তারা দোষীদের রক্ষা করে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে,এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে। শিশু তাহিয়া হত্যার পরই ঘটনা ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; এখন সেই মামলার পেছনে চাপ সৃষ্টি করে পরিবারকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এ ধরনের কৌশল ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনো সভ্য দেশে সহ্য করা যায় না। দলীয় পদবির ছত্রছায়ায় নির্যাতিতদের দমিয়ে রাখা,অপরাধীকে রক্ষা করা এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করা সভ্য ও গনতান্ত্রিক দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। আমাদের স্পষ্ট দাবি: ১. অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা। ২. স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ৩. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রদান করা। শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।সমাজকে রক্ষা করতে হলে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর এবং নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ ছাড়া কোনো পথ নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন যে দেশের সব বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এবং হাইস্পিড ট্রেনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন,বর্তমান যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী,জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে।সরকারের লক্ষ্য ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। মন্ত্রী সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।সভায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক,পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত এবং জেলার অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তা। এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নরসিংদী প্রতিনিধি।।নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনা বেগমকে হত্যার ঘটনা শোকে দাগ কাটছে।ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় তাকে জোরপূর্বক বাবা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে কিশোরীকে নূরার নেতৃত্বে ৫–৬ জন বখাটে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচারকের দায়িত্ব নেন। অভিযোগ উঠেছে,তিনি অপরাধীদের সঙ্গে আর্থিক রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং ধর্ষিতার বাবা ও পরিবারের ওপর গ্রাম ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করেন। ধর্মীয় ও প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে,অপরাধীরা ১৫ দিন পর কিশোরীকে পুনরায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গণধর্ষণের পর মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ,প্রভাবশালী অপরাধীরা টাকা ও ক্ষমতার বিনিময়ে আইনের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে।ফলে ভিকটিম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতেই মাধবদী থানায় মৃত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। লনরসিংদীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আহম্মদ আলী দেওয়ান, মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি তার ছেলে ইমরান দেওয়ান,ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব,এবায়দুল্লাহ,মোঃ গাফ্ফার মিয়া। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানায়,ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, নরসিংদীর পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সরজমিনে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত কাজ তদারকি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি,উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তৎপর নজরদারি ছাড়া এই ধরনের প্রভাবশালী চক্রের দমন সম্ভব হবে না।তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১:৫২ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৫.৩। ইউরোপীয়-মধ্যপ্রাচ্যীয় ভূ-তাত্ত্বিক কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী,ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো খুলনা জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিলো ৩৫ কিলোমিটার।ভারতের কলকাতা থেকে উৎপত্তিস্থল ১০২ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন।তবে,তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পনের রেশ অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার এক নারীর অভিযোগ,তার ফুফাতো ভাই ঘুমন্ত অবস্থায় তার প্রতি জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেছে।ঘটনার পর ধর্ষক হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নারীটি স্থানীয় মানুষ এবং পরিবারকে ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে জানায়। তিনি আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে,ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যে কোনো দেরি করা উচিত নয় এবং মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলা দায়ের করা যাবে। মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে “আগামীর রাজনীতি ও করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও -৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজিব আহসান। তিনি বক্তৃতায় আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন। উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দলীয় কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সম্প্রসারণ ও আগামীর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মাজহারুল ইসলাম।।বিচারককের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন, আদালতকক্ষে হট্টগোল,সরকারি নথিপত্র ও মালামাল ভাঙচুর—বরিশালে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। অভিযোগ অনুযায়ী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনসহ একাধিক আইনজীবী আদালতকক্ষে প্রবেশ করে বিচারককে হুমকি দেন,শুনানিতে বাধা সৃষ্টি করেন,এজলাস ভাঙচুর করেন এবং সরকারি কর্মচারীদের ওপর হুমকি প্রদর্শন করেন।ঘটনাস্থলেই বিচারককে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এ ধরনের আচরণ কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; এটি আইনশৃঙ্খলা,বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আদালতের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। বাংলাদেশের সংবিধান ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে না পারলে,বিচারকরা সুশৃঙ্খল পরিবেশে মামলার শুনানি করতে পারবেন না এবং নাগরিকদের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা কমে যাবে। বরিশাল মহানগর দায়রা জজরা তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছেন যে,আইনজীবীরা আদালতের কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন।এজন্য জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।এটি শুধু শাস্তি নয়; এটি একটি প্রতীকী পদক্ষেপ,যা আইনজীবী সমাজকে সতর্ক করছে—আদালতকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দিয়ে প্রভাবিত করা যাবেনা। অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল আইনজীবীরা বিচারক এবং আদালতের মর্যাদা রক্ষায় প্রথম সারিতে থাকা উচিত।কিন্তু ক্ষমতার প্রদর্শনী বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতে হট্টগোল সৃষ্টি করা হলে তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক। এই ঘটনায় রাষ্ট্র ও আদালত দুটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: ১. আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করা যাবে না। ২. পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে সনদ বাতিল ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরিশাল আদালতের ঘটনা শুধুই বরিশালের নয়; এটি দেশের সমস্ত আইনজীবী সমাজকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান।আইন,শৃঙ্খলা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলের সংযম, দায়িত্বশীলতা…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর, বিচারককে হুমকি এবং বিচারকার্যে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ জন সদস্যের পেশাদার সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।একই ঘটনায় হাইকোর্ট নয়জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে।মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 📌 ঘটনার বিস্তারিত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে একটি জামিন মামলার শুনানির সময় আইনজীবীরা হট্টগোল সৃষ্টি করেন। আদালতের বেঞ্চ,টেবিল,মাইক্রোফোন ভাঙচুর করা হয় এবং কজলিস্ট ও মামলা নথি ছিঁড়ে ফেলা হয়। আইনজীবীরা বিচারকের উদ্দেশ্যে হুমকি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। সরকারি কর্মচারীদের ওপর ধাক্কাধাক্কি ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে বিচারক নিরাপত্তার কারণে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ⚖️ মামলা ও আইনি ব্যবস্থা থানা: কোতয়ালী মডেল থান, বরিশাল মামলা নম্বর: ৪৬/২০২৬, জিআর নং ১০৫ আইন: ৪/৫ ধারা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮, ৩৫৩ ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০ প্রধান আসামি: এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন মামলায় আরও ১১ জন আইনজীবীসহ আনুমানিক ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 👮 গ্রেফতার ও আদালতে প্রেরণ পুলিশ জানায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:১৫ মিনিটে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে সাদিকুর রহমান লিংকনকে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার বা তদন্তে বাধা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 🧾 তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে: ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আইনজীবীরা…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ ও মন্তব্য করেছেন,যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন,শেখ হাসিনার সরকারের পতন কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ছিল না; বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অংশ।তার ভাষ্য অনুযায়ী,এই প্রক্রিয়ায় ড. ইউনূস জড়িত ছিলেন বলে তিনি মনে করেন। আলোচনায় তিনি ড. ইউনূসকে “আসল ফ্যাসিস্ট” বলেও মন্তব্য করেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদকে “বৈধ সরকার” হিসেবে উল্লেখ করেন। মোহসিন রশীদ আরও দাবি করেন,শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ায় বিদেশি একটি জনসংযোগ (পিআর) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছিল।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন,রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়েও তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন।তার মতে,রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল,যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এ ধরনের বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে,যেখানে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই বক্তব্যে দাবি করা হয়,রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার আগে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,আগস্টের পর দায়ের হওয়া কথিত ‘মিথ্যা মামলা’ বাতিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির উদ্যোগ নিতে পারেন।এতে বলা হয়েছে,এমন সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। একতরফাভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আদালত বিলুপ্ত কিংবা মামলা বাতিল করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির সরাসরি নেই—এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সরকার, সংসদ বা বিচার বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক পদধারীদের উদ্দেশ করে নানা মতামত ও দাবি সামনে আসছে, যা দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কেরই অংশ। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ সংবাদ :———