প্রতিনিধি ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:১৬:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।দেশের সামরিক বাহিনী যে কোনো রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সেনাবাহিনী অনেক সময়ে দেশের নিরাপত্তা ও সংহতির রক্ষক হিসেবে কাজ করেছে।কিন্তু আজকাল ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এই কাঠামোর উপর গভীর প্রশ্ন তোলে।

সেনার কমান্ড চেইন একরূপ ও শক্তিশালী হওয়া উচিত। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সেনাবাহিনী সুপ্রিম কম্যান্ড বা হাই কমান্ডের নির্দেশে চলে।কোনো জুনিয়র অফিসারের ভয় বা রাজনৈতিক প্রভাব সিনিয়রদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না।কিন্তু আজকের বাস্তবতা ভিন্ন।সিনিয়রদের কাছে রিপোর্টিংয়ে আতঙ্ক,জুনিয়রদের দোহাই,এবং রাজনৈতিক চাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ফুয়াদের মতো একজন আইনজ্ঞ প্রকাশ্যে সেনাপ্রধানকে হুমকি দিয়েছেন।এমন ঘটনা শুধু বেদনাদায়ক নয়,এটি দেশের রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলার প্রতি অসংখ্যতায় ইঙ্গিত দেয়।পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সেনাপ্রধানকে রাস্তায় হুমকি দেওয়া হলে সেই ব্যক্তির কঠোর শাস্তি নিশ্চিত।বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটলেও তা যেন ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণ বহন করে।
দেশপ্রেম মানে শুধু সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধকেও শক্তিশালী করা।যদি সেনা কমান্ডের অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্ব দুর্বল হয়,যদি সিনিয়র অফিসারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় আশা করা দুঃসাধ্য হয়ে যাবে। পরাজয় নিশ্চিত।
বাংলাদেশ আজ এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যেখানে কর্তৃত্বের ভারসাম্য নষ্ট,ভয় এবং হিসাব-নিকাশ প্রাধান্য পাচ্ছে। এর থেকে উত্তরণ ছাড়া দেশের নিরাপত্তা ও সংহতি ঝুঁকিতে থাকবে।আইন ও শৃঙ্খলার পূর্ণ প্রয়োগ,সিনিয়র হাই কমান্ডের কর্তৃত্ব অক্ষুন্ন রাখা,এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রভাবকে শূন্য করার প্রয়াস—এই তিনটি পদক্ষেপ না নিলে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে।
এটি শুধুই সেনার বিষয় নয়; এটি দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিষয়। সতর্ক হওয়া এখন সময়ের দাবি।

















