প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২১:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগ ও তার সমালোচনার প্রসঙ্গ। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং সংস্কারের কমিশনের চেয়ারম্যান বদরুল আলম মজুমদার দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন।

১. প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আওয়ামী লীগকে অনুরোধ করেছেন,তারা যদি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসতে চায়,তবে প্রথমে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত।তিনি বলেন,রিকনসিলিয়েশন বা রাজনৈতিক পুনর্গঠন সম্ভব হবে শুধুমাত্র এ ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে।
২. নির্বাচন ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি
বদরুল আলম মজুমদার বলেন,নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ,সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্বে জোর দিয়েছেন।
৩. হাইকোর্টে নির্বাচনের স্থগিত চেয়ে রিট
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।রিটে দাবি করা হয়েছে,লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ,গুলি উদ্ধার,এবং সাজাপ্রাপ্ত জেল ও পলাতক আসামীদের হাজির না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখতে হবে।
৪. জুলাই–আগস্ট আন্দোলন ও সহিংসতা
দুই কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন,দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা,সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি মূলত ‘ম্যাটিকুলাস ডিজাইন’ নামে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিহত হন,৫ আগস্ট ক্ষমতা দখল করা হয়।এরপর পুলিশ হত্যা,আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড,শহর ও গ্রামে আগুনসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে।দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বেকারত্ব বৃদ্ধি পায় এবং নাগরিকদের ওপর ঋণের বোঝা চাপানো হয়।প্রধান উপদেষ্টা বলেন,আওয়ামী লীগের একমাত্র ভুল হতে পারে জঙ্গি ও সহিংস আন্দোলন যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়া।
৫. আওয়ামী লীগের অবস্থান
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,তারা কোনো ভুল করেনি,তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।তারা আরও বলেন,জুলাই–আগস্টের আন্দোলন একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রক্রিয়া ছিল এবং তারা দেশ বিক্রি করার কোনো উদ্দেশ্য রাখেনি।
৬. রিকনসিলিয়েশন সম্ভাবনা
দুই কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন,ক্ষমতার লোভে দেশ নিয়ে যে অপকর্ম হয়েছে,তার বিচার একদিন দেশের আদালতে হবে। তবে আওয়ামী লীগ যদি ভুল স্বীকার করে,তাহলে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও রিকনসিলিয়েশন সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,এই বক্তব্য এবং হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন নিয়ে তীব্র আলোচনা এবং বিতর্কের জন্ম দেবে।

















